সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ১১:২৭ এএম

একবারই হবে করোনা টেস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ন, ২৯ জুন ২০২০, সোমবার


একবারই হবে করোনা টেস্ট

ফাইল ফটো

করোনায় পজিটিভ ব্যক্তি চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর তার আর টেস্ট করার দরকার হবে না- এমন গাইডলাইন চূড়ান্ত করে স্বাস্থ্য বিভাগকে দিয়েছেন আইইডিসিআর’র গবেষকরা। শিগগিরই নতুন এই গাইডলাইন কার্যকর হবে বলে আশা করছেন তারা। খবর বিবিসি

আইইডিসিআর’র উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি পজিটিভ শনাক্ত হবে সে আইসোলেশনে থাকবে এবং জ্বর চলে গেলেও যদি তিন দিন প্যারাসিটামল না খাওয়ার পরও তার জ্বর না থাকে তবে সে সুস্থ বলে গণ্য হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে কোন ব্যক্তি পজিটিভ শনাক্ত হবার পর সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে নেগেটিভ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহের তারিখ থেকে মোট ১৩ দিন পর্যন্ত হিসাবে গণ্য করা হবে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই হিসাব হবে ১৪ দিনের বলে নতুন গাইডলাইনে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ পজিটিভ শনাক্ত রোগীর নমুনা সংগ্রহের তারিখ থেকে তাকে নেগেটিভ বলে পরিগণিত করা হবে ১৪ দিন পর।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, যেসব দেশের সক্ষমতা আছে তারা দুটি টেস্ট করাতে পারে কিন্তু আমরা যে খসড়া তৈরি করেছি, তাতে ১৪ দিনের কথা বলা হয়েছে। এর পর সুস্থ হওয়া ব্যক্তিকে নেগেটিভ হিসেবে গণনা করা হবে। তবে কারও জ্বর যদি ১৪ বা ১৫ দিনের মাথায় সেরে যায় তাহলে তারপরের তিন দিন যদি প্যারাসিটামল ছাড়া জ্বর না আসে তাহলে তখন থেকে অর্থাৎ ১৭/১৮ দিন থেকে তিনি সুস্থ বলে গণ্য হবেন।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্রও এটি নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশে এখন কোনো ব্যক্তি পজিটিভ হলে চিকিৎসা নেয়ার পর দুটি আরটি পিসিআর পরীক্ষায় যে নেগেটিভ ফল আসতে হতো, সেটি আগামীতে আর করা হবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়নি।

যদিও ডা. মুশতাক হোসেন আশা করছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এটি ওয়েবসাইটে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, উপসর্গ দেখা দিলে রোগী আইসোলেশনে থাকবেন বা প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হবেন। এরপর সুস্থ হওয়ার পর তার আর কোনো টেস্টের প্রয়োজন নেই। যেসব রোগী জটিল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের টেস্ট করা বা না করার পুরো বিষয়টি সম্পর্কে হাসপাতাল ও চিকিৎসক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রোগী সুস্থ হওয়ার পরেও টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসছে এবং তা নিয়ে রোগী ও হাসপাতালের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে অনেক সময় ডেড ভাইরাসের কারণেও রোগীকে পজিটিভ দেখাতে পারে টেস্টে। সেক্ষেত্রে জ্বর থাকলে তাকে আইসোলেশনেই থাকতে হবে। তবে তার মধ্যে থাকা এই ভাইরাস অন্যদের সংক্রমিত করবে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য নেই। ফলে নতুন করে টেস্টের প্রয়োজন নেই।

২৯ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেবে মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা ৫৭ হাজার ৭৮০ জন। এবং বর্তমান গাইডলাইন অনুযায়ী এদের সবাইকেই সুস্থ হওয়ার ছাড়পত্র পেতে দু’বার করে নেগেটিভ রিপোর্ট পেতে হয়েছে।

নতুন গাইডলাইন কার্যকর হলে ভবিষ্যতে সুস্থ হওয়ার পরে আর টেস্ট করাতে হবে না, ফলে কিট যেমন সাশ্রয় হবে তেমনি নমুনা পরীক্ষার চাপও কমবে বলে মনে করছেন ডা. মুশতাক হোসেন।

স্বাস্থ্য অধিদফপ্তরের কর্মকর্তারা অবশ্য গাইডলাইনটি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন