সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫৯ পিএম

মেয়াদ শেষ হলেও ডাকসুর পরের নির্বাচন পর্যন্ত থাকতে চান নূর-রাব্বানী

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ১২:০১ পূর্বাহ্ন, ২৩ জুন ২০২০, মঙ্গলবার


মেয়াদ শেষ হলেও ডাকসুর পরের নির্বাচন পর্যন্ত থাকতে চান নূর-রাব্বানী

ছবি : সংগৃহীত ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে ২৮ বছরের অচলায়তন ভাঙে ২০১৯ সালের এগারো মার্চ। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচিতরা দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২৩ মার্চ। এরপর নিয়ম অনুযায়ী এই সংসদের এক বছরের মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের ২২ মার্চ। করোনা সংকটে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অতিরিক্ত নব্বই দিন মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়া হয়। অতিরিক্ত সেই মেয়াদকালও শেষ হলো সোমবার।

মেয়াদ শেষ হলেও ডাকসুর দায়িত্বে থাকতে চান ভিপি-জিএস। এক্ষেত্রে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাওয়ার অজুহাত তাদের। তবে, এজিএস সাদ্দাম হোসেন মনে করেন, মেয়াদ শেষ হবার পর পদ ধরে রাখা অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক। নির্বাচনের ধারাবাহিকতা চান তিনি। অন্যদিকে, ডাকসুর নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্রের ৬ এর গ ধারায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ৯০ দিনে মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ বাাতিল হয়ে যাবে।
গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট করে বলা হলেও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ডাকসু ভিপি ও জিএস তাদের দায়িত্ব পালন করে যেতে চান। তাদের দাবি করোনাকালে তারা কাজ করার সুযোগ পাননি, তাই পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তাদের সুযোগ দেয়ার কথা বলছেন তারা।

জানতে চাইলে ডাকসুর সহ-সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমরা নির্দিষ্ট সময়ের দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। তাই আমাদের দাবি, বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমরা যাতে দায়িত্ব পালন করতে পারি। এ বিষয়ে শিগগিরই ডাকসুর সভাপতির সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসবো। তবে অবশ্যই ডাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানাচ্ছি। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ প্রত্যাশা থাকবে।’

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী বলেন, নাই মামার চেয়ে কানা মামা অনেক ভালো। বর্তমান সংসদ বাতিল হয়ে যাওয়ার চেয়ে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এ সংসদ যাতে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে দাবি আমরা উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন করবো। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আমরা নির্দিষ্ট সময়ের দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। সেজন্য পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে চাই।’

এদিকে, নির্বাচনের ধারাবাহিকতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা ধরে রাখতে দায়িত্বে না থাকার পক্ষে মত সহ সাধারণ সম্পাদকের।

এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের বাইরে দায়িত্বে থাকতে চাই, সেটা যদি কেউ মনে করে থাকে তবে সেটা পুরোপুরিভাবে অনৈতিক।

নুরুল হক নুর বলেন, আমরা যদি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেই পরবর্তীতে নির্বাচন হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের যে জায়গাটা সেটা তো থাকবে না।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সকলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পরবর্তীতে ডাকসু নির্বাচনের তারিখ হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রেস রিলিজ দিয়ে জানানো হবে।

প্রধান তিন নেতা ছাড়া ডাকসু অন্য নেতাদেরও আছে ভিন্ন বক্তব্য। তবে নির্বাচনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পক্ষে তাদের মত।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন