শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০, ৭:২০ পিএম

অন্তর্বাসে জীবাণু থাকে

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ৬:১৭ অপরাহ্ন, ৩ জুন ২০২০, বুধবার


অন্তর্বাসে জীবানু থাকে

ছবি : আশনা আরাফ আসিয়া।

অন্তর্বাসে জীবাণু থাকে। তাই ছাদে দিয়ে চক্ষুলজ্জার মাথা খেয়ে এক নারীবাদী এটা নিয়ে গর্ব করে বলছে এটা নারী স্বাধীনতা এবং নারীদের পরাধীনতার প্রতিবাদ সে এটাদিয়েই শুরু করেছে। বাহ! আমি আশ্চর্যচকিত হয়ে রইলাম। কয়েকদিন টাইমলাইনে তার পোস্ট ঘুরছিলো আমি চুপচাপ দেখেও ইগ্নোর করছিলাম। কিন্তু ইগ্নোর আর কতই বা করি? পোস্টটা পড়লাম। কমেন্টও পড়লাম।

লজিক কি ছিলো জানেন?
লজিক ছিলো অন্তর্বাসে জীবাণু থাকে তাই রোদে ভালো করে শুকাতে হবে। বেশতো! তিনি তাই করেছেন। কিন্তু মানুষের শরীরেওতো জীবাণু থাকে। যতই ভালো করে বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা হোক না কেনো! তাহলে কি দুদিন পর তিনি বলবেন একদম কাপড় ছাড়া রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে যাতে সুস্থ থাকা যায়। এতে কে কি বলে বলুক!

বলতেই পারেন।
ইতিপূর্বে একজন নারীবাদী স্বেচ্ছায় একাধিক পুরুষের সঙ্গলাভ করাকে তাদের স্বাধীনতা বলে দাবি করেছেন। এমনকি তার কাছে নাকি এটা যৌণাঙ্গের স্বাধীনতা। হাস্যকর বিষয়ের মধ্যে একটি বিষয় ছিলো আর সেটা হলো উনার কাছে ধর্ষন বিষয়টা ইঞ্জয়িং ছিলো এমনকি তিনি বলেছিলেনও মেয়ারাও ধর্ষণ করতে পারে। কি অদ্ভুত! আপনি বটি দিয়ে মাছ কাটেন কিংবা মাছ দিয়ে বটি যাই-ই বলেননা কেনো টুকরো টুকরো হবে মাছ-ই। এরকম হওয়ার পরেও যদি বলেন আমার অধিকার এটা তাহলে আল্লাহ মাফ করুক। সুস্থ মানসিকতার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুক তাদেরকে।

উনারা বলেন নারীদের পক্ষে কলম চলবেই। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন নারীদেরকে মুক্ত করতে যা যা করা লাগে সবগুলোই করবো। কিন্তু আফসোস কি জানেন যে তাদেরকেই নির্বাসনে যেতে হয়। রাস্তায় মুখ লুকিয়ে ঘুরতে হয়। নারী হয়ে নারীদের কাছেই গালি শুনতে হয়। তারাই পরকিয়া করে, সংসার নষ্ট করে। তারাই একাকীত্বে ভুগে। কুকুর বিড়াল পুষে। নামকরা লোকদেরকে বেডরুমে খুশি করে ড্রয়িংরুমে সেলফি তুলে নিউজপেপারে কলামিস্ট হয়ে পাবলিকের গালি খেয়ে দিন কেটে যায়। এরা নাকি কারো কথা গায়ে লাগায় না। এদের কাছে সব পজিটিভ। এমন পজিটিভ যে নিজের সাথে সবাইকে উলঙ্গ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে একা একাই বসে থাকে। অথচ কাকপক্ষীও এদের দিকে তাকায় না।

নারীবাদী মানে এটা নয় যে আসুন শৃংখলা ভেঙে শৃংখল হই। নিয়ম ভেঙে নিয়ম গড়ি। নিজেকে অন্যের কাছে বিলিয় দিয়ে বলি ব্যক্তিগত ব্যাপার। না, নারীবাদী মানে এই নয় যে পুরুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলবো। প্রাইভেট বিষয়গুলো পাবলিকে বলবো এবং অন্যকেও উৎসাহিত করবো। পরকিয়ায় জড়ানোর জন্য উৎসাহিত করবো আর নাম দিবো ফ্রি মাইন্ড। না এসব মোটেও না।

আমার কাছে নারীবাদী মানে হলো নারীদের সুরক্ষা মেইনটেইনিং নিয়ে কথা বলা। নারীবাদী মানে হলো কোনো নারী যেন নারীর মতো চলাফেরা করতে হ্যারাজ না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখা। তার গোপন বিষয় নিয়ে তাকে লজ্জিত করতে যেন কেউ না পারে সেই বিষয়ে খেয়াল রাখা। কোনো নারী যেন যৌতুকের স্বীকার না হয় তা নিয়ে তৎপর থাকা। কোনোভাবেই যেন নারীদেরকে কেউ অপমান করতে না পারে তা নিয়েও সজাগ থাকা। ভুল করলে ভুল বলা আর মন্দ করলে মন্দ বলা।

নারীবাদীর পরিচয়ে সমাজে নোংরামো ছড়ানো কখনোই উচিত না। আর যদি এমন কেউ চেষ্টাও করে তাহলে পরিণতি কি হবে এটা সবাই জানে। যদিওবা এটাই তাদের কাছে সাকসেস (নাউজুবিল্লাহ)।

শেষে একটা কথাই বলি যেই-ই হোন না কেনো প্রাইভেট বিষয়গুলো প্রাইভেট রাখেন। এতেই সব সুন্দর। পাবলিকে আনলে জোকস ছাড়া আর কিছুই হয় না। যারা নারীবাদী, তারা মনে করেন নারীদের পক্ষেই কথা বলছি তাদের এক তৃতীয়াংশকে নারীরাই পছন্দ করেনা। নামের সাথে একটা গালির টাইটেল লাগিয়েই উচ্চারন করেন। তারা আর কি করবে! এসব নোংরামো করে আলোচনায় আসা যায়। কেন্দ্রবিন্দু হওয়া যায় কিছুদিনের জন্য। কিন্তু এরপর ডাস্টবিনের ময়লাতেও জায়গা হয় না। দিনশেষে মেয়েদের গুন, শালীনতা আর সভ্যতা ছাড়া অন্যকিছুই তাকে নিরাপত্তা দেয়না। আর এসব নষ্ট করে রাস্তার কুকুরী তৈরি করা তাদের মুল উদ্দেশ্য যাতে নিজের পাল্লা ভারী হোক। আল্লাহ মাফ করুক সবাইকে।

লেখিকাঃ আশনা আরাফ আসিয়া

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন