বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০, ২:১৪ এএম

সবার জন্য করোনার ওষুধ ও উপশম নিশ্চিত করার উদ্যোগ

প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক:
প্রকাশিত: ৮:১৫ পূর্বাহ্ন, ১৭ মে ২০২০, রোববার


সবার জন্য করোনার ওষুধ ও উপশম নিশ্চিত করার উদ্যোগ

ছবি : সংগৃহীত ।

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারিসহ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেখভালের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) নেতৃস্থানীয় ভূমিকার প্রতি আস্থা জানাচ্ছে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ। একই সঙ্গে করোনাভাইরাসের উৎস কোথায়, তা জানতেও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির (ডাব্লিউএইচএ)’ দুই দিনব্যাপী সভা শুরু হচ্ছে। সেখানে ‘কভিড-১৯ সাড়াদান’ শীর্ষক প্রস্তাবে এ বিষয়গুলো এসেছে। এ ছাড়া ওই প্রস্তাবে কভিড-১৯-এর প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কার হওয়ার পর সবার জন্য তা ব্যবহারের সুযোগ এবং টিকা আবিষ্কার হওয়ার আগে ওই রোগের উপসর্গগুলো প্রশমনে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের সভায় ডাব্লিউএইচওর সদস্য দেশগুলো ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যোগ দেবে। এতে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি, এটি মোকাবেলায় উদ্যোগ, ডাব্লিউএইচওর নেতৃস্থানীয় ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে। গত শুক্রবার রাতেও প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে জেনেভায় কূটনৈতিক মিশনগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও দর-কষাকষি করেছে।

ওই দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক দপ্তরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এম শামীম আহসান। তিনি গতকাল শনিবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, রবিবার থেকে শুরু হওয়া সভার কোনো একটি পর্যায়ে প্রস্তাবটি উত্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশসহ ৩৯টির মতো দেশ ওই প্রস্তাবে ‘কো-স্পন্সর’ হয়েছে। এ প্রস্তাবটি বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে হচ্ছিল যে ডাব্লিউএইচওর নেতৃত্বের জায়গাটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে এবং সেখানে কোনো সংশয় আসছে কি না। এটি আমাদের মতো দেশের জন্য অবশ্যই ভালো খবর নয়। সে কারণেও আমরা এ সময়টিতে যাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে মানুষের বিশ্বাস থাকে বা বিশ্বাসকে আবারও মানুষ পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করতে পারে, সেই জায়গাগুলোও আমরা সামনে নিয়ে এসেছি। আমাদের সেই উদ্যোগও বেশ ভালোভাবে সফল হয়েছে।

প্রস্তাবটি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্য বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত এম শামীম আহসান বলেন, নভেল করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্বে নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এই অজানা রোগে ব্যক্তি, সমাজ স্থবির, জীবন-জীবিকা ধ্বংস হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে দেখলে আমরা এ কয় মাসে বুঝতে পেরেছি যে আমাদের ভবিষ্যতের যে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা এগুলো অনেকটাই ব্যাহত হবে। প্রধানমন্ত্রী এ রকম ইঙ্গিতও দিয়েছেন। বিশেষ করে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত যে পরিকল্পনা, বৈশ্বিক লক্ষ্য, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) যেগুলো নিয়ে আমরা এগোচ্ছিলাম সেগুলোও আমাদের প্রচেষ্টা অনেক দূর নিয়ে যেত। আর এ অবস্থায় যদি কভিডের চাপ থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে না পারি, তবে সেই লক্ষ্যগুলো প্রায় সুদূর পরাহতই থাকবে।’

সবার জন্য টিকা : রাষ্ট্রদূত এম শামীম আহসান বলেন, বর্তমানে যে ধরনের ব্যবস্থাপনা দিয়ে চেষ্টা করছি, সেটি এখনকার সময়ের জন্য সাময়িক কিছু লাভ হবে। কিন্তু এ রোগটি আবারও ফিরে আসবে বা আসতে পারে এ আশঙ্কা প্রচুর। সে ক্ষেত্রে ‘ভ্যাকসিন’ (টিকা) খুব দরকার।

তিনি বলেন, ওষুধ বা প্রতিষেধক পাওয়া গেলে যেন সবাই সমানভাবে ব্যবহার করতে পারে এবং সেখানে যত দূর সম্ভব দাম কমিয়ে রাখা, পারলে ‘ফ্রি’ (বিনা মূল্যে) দেওয়া যায় কি না, এ ধরনের ভাবনা নিয়ে আমরা এই প্রস্তাবটিতে যোগ দিয়েছিলাম। এখন যে অবস্থায় এসেছে তাতে বলা যায়, আমাদের মূল উদ্দেশ্যগুলো প্রস্তাবে স্থান পেয়েছে। আমরা বেশ বড় কিছু পরিবর্তন আনতে পেরেছি।

‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার’: রাষ্ট্রদূত বলেন, করোনার টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়ার আগে সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে যে লক্ষণগুলো থাকে, সেগুলো উপশম হয় এমন ওষুধের ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার’ প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ প্যালিয়েটিভ কেয়ারের বিষয়টি প্রথমবারের মতো কোনো প্রস্তাবে আমরা খুব সোচ্চারভাবে এনেছি। কারণ যত দিন পর্যন্ত প্রতিষেধক বা মূল চিকিৎসা বা রোগ নিরাময়কারী ওষুধ না আসছে, তত দিন প্যালিয়েটিভ কেয়ার খুব উল্লেখযোগ্য একটি ভূমিকা সমাজে পালন করে। এতে অল্প সময়ে বা কম কষ্টে একজন মানুষ রোগের আক্রমণ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা : রাষ্ট্রদূত বলেন, করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনের সারিতে কাজ করা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী পোশাক-পরিচ্ছদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিশ্চিত করার কথা প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, তাঁদের অবদানের কথা স্বীকার করার পাশাপাশি তাঁরা যে আত্মত্যাগ করছেন, তা প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে এসেছে।

জাতীয় পরিকল্পনা : রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রতিটি দেশকে একটি জাতীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোনোর কথা বলা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের ‘ম্যান্ডেট’ থেকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাহায্য করবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেকোনো প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তায় সরকারের ওপর। অর্থাৎ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর।

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে নিজেদেরই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজনীয় সেই পদক্ষেপগুলো নিতে হবে। তাহলে আমরা মনে করি, আমরা অনেকটাই এগিয়ে যাব এই যুদ্ধে।

মন্তব্য করুন

সর্বশেষ নিউজ

আরো পড়ুন