২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১


৫ হাজার টাকায় ফেরারি আসামি-রোহিঙ্গাদের জন্ম সনদ দিতেন তারা

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৫৯ পিএম

৫ হাজার টাকায় ফেরারি আসামি-রোহিঙ্গাদের জন্ম সনদ দিতেন তারা
৫ হাজার টাকায় ফেরারি আসামি-রোহিঙ্গাদের জন্ম সনদ দিতেন তারা

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার জালকুড়ি পাসপোর্ট অফিসের পাশের তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার ভুয়া সনদ জব্দসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আজ বুধবার সন্ধ্যায় র‍্যাব-২ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের ফজলুল করিম (৩৩), সাইফুল ইসলাম (২৪) ও আজিম হোসেন (২৬), নেত্রকোনার একটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সদস্য মামুন মিয়া (৩৫), ঢাকার একটি সিটি করপোরেশনের মাঈন উদ্দিন (৩৮) ও জাহাঙ্গীর (৩৬)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সিল, সনদের হার্ড কপি ও সফট কপির হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব-২, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা বিনিময়ে সিটি করপোরেশন ও দেশের বিভিন্ন জেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে রোহিঙ্গা, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারি আসামি, দাগী অপরাধী, বয়স কম-বেশি দেখিয়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য আগ্রহী লোকজনের নামে জন্ম সনদ তৈরি করে দেওয়া হত। পরবর্তীতে তারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্ম সনদের তথ্য ভাণ্ডারে থাকা তথ্যের মিল পেলে পাসপোর্ট পেয়ে যেত। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তার নাম, বাবার নাম, বয়স, ঠিকানা পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করলে তাদেরকে বিমানবন্দরে আটকানো যেত না। এভাবে ভুয়া তথ্যে দেশের বেশ কয়টি এলাকার ১৩ থেকে ১৪ জন রোহিঙ্গা জন্ম সনদ নিয়েছে।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে জব্দকৃত ও তাদের কম্পিউটারে রক্ষিত এসব জন্ম সনদ নিবন্ধিত অর্থাৎ আসল। যাদের নামে জন্ম সনদগুলো তৈরি করা হয়েছে সেই সনদ জন্ম সনদ গ্রহণকারী লোকগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা নন। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও উদ্যোক্তা সদস্য, সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের জন্ম মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন কার্যালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট ন্যাশনাল সার্ভার হতে তৈরি করে সরবরাহ করত। এদের নিকট হতে জব্দকৃত কম্পিউটার ও ল্যাপটপের  হার্ডডিস্ক চেক করে প্রচুর জন্ম সনদ ও অনেক হার্ড কপি পাওয়া গেছে যার পরিমাণ ২৫ হাজারের অধিক। এরা আবার রোহিঙ্গাদেরকেও এসব জন্ম সনদ তৈরি করে দিয়ে পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করে।’

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবৈধভাবে জন্ম সনদ তৈরিতে লেনদেনের দুই লক্ষাধিক টাকা, চারটি ল্যাপটপ ও প্রচুর সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে বলেও র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান।

৫ হাজার টাকায় ফেরারি আসামি-রোহিঙ্গাদের জন্ম সনদ দিতেন তারা

প্রতিবেদক নাম: স্টাফ রিপোর্টার: ,

প্রকাশের সময়ঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৫৯ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার জালকুড়ি পাসপোর্ট অফিসের পাশের তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার ভুয়া সনদ জব্দসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আজ বুধবার সন্ধ্যায় র‍্যাব-২ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের ফজলুল করিম (৩৩), সাইফুল ইসলাম (২৪) ও আজিম হোসেন (২৬), নেত্রকোনার একটি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সদস্য মামুন মিয়া (৩৫), ঢাকার একটি সিটি করপোরেশনের মাঈন উদ্দিন (৩৮) ও জাহাঙ্গীর (৩৬)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সিল, সনদের হার্ড কপি ও সফট কপির হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব-২, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা বিনিময়ে সিটি করপোরেশন ও দেশের বিভিন্ন জেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে রোহিঙ্গা, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারি আসামি, দাগী অপরাধী, বয়স কম-বেশি দেখিয়ে বিদেশ যাওয়ার জন্য আগ্রহী লোকজনের নামে জন্ম সনদ তৈরি করে দেওয়া হত। পরবর্তীতে তারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্ম সনদের তথ্য ভাণ্ডারে থাকা তথ্যের মিল পেলে পাসপোর্ট পেয়ে যেত। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তার নাম, বাবার নাম, বয়স, ঠিকানা পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করলে তাদেরকে বিমানবন্দরে আটকানো যেত না। এভাবে ভুয়া তথ্যে দেশের বেশ কয়টি এলাকার ১৩ থেকে ১৪ জন রোহিঙ্গা জন্ম সনদ নিয়েছে।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে জব্দকৃত ও তাদের কম্পিউটারে রক্ষিত এসব জন্ম সনদ নিবন্ধিত অর্থাৎ আসল। যাদের নামে জন্ম সনদগুলো তৈরি করা হয়েছে সেই সনদ জন্ম সনদ গ্রহণকারী লোকগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা নন। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও উদ্যোক্তা সদস্য, সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের জন্ম মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন কার্যালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট ন্যাশনাল সার্ভার হতে তৈরি করে সরবরাহ করত। এদের নিকট হতে জব্দকৃত কম্পিউটার ও ল্যাপটপের  হার্ডডিস্ক চেক করে প্রচুর জন্ম সনদ ও অনেক হার্ড কপি পাওয়া গেছে যার পরিমাণ ২৫ হাজারের অধিক। এরা আবার রোহিঙ্গাদেরকেও এসব জন্ম সনদ তৈরি করে দিয়ে পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করে।’

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবৈধভাবে জন্ম সনদ তৈরিতে লেনদেনের দুই লক্ষাধিক টাকা, চারটি ল্যাপটপ ও প্রচুর সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে বলেও র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান।