২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ২২ মুহররম ১৪৪১


ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে নুসরাতের মা-ভাইয়ের সাক্ষ্য

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫২ পিএম

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে নুসরাতের মা-ভাইয়ের সাক্ষ্য
ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে নুসরাতের মা-ভাইয়ের সাক্ষ্য

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ও ছোট ভাই রাশিদুল হাসান রায়হান সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

সাক্ষ্যে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে নিয়ে আমরা থানায় গিয়েছিলাম। এরপর নুসরাতকে ওসির রুমে ডেকে নিয়ে যায়। ওসির রুমের ভিতরে আমাদের ঢুকতে দেয়নি। এর কিছু সময় পর নুসরাত বের হয়ে আসে। বের হওয়ার পর সে জানায়, তার কথা কেউ একজন ভিডিও রেকর্ড করেছে। ভিডিওটি ৩০ মিনিট পরে ওসি মোয়াজ্জেম ফেসবুকে ছেড়ে দেন বলে জানান নুসরাতের মা।

নুসরাতের ছোট ভাই রাশিদুল হাসান রায়হান আদালতকে বলেন, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মোয়াজ্জেমের রুমে আপুকে ডেকে নেওয়া হয়। আমাদের বাহিরে থাকতে বলে। ওসির রুম থেকে বাহির হওয়ার পর কান্না করতে করতে বলে, ওসি মোয়াজ্জেম তার মুখোশ খুলে আপত্তিকর প্রশ্ন করে। মামালা দায়ের করার পর থানা ত্যাগ করে আমরা চলে আসি। গত ১২ এপ্রিল আমার ফেসবুক দেখলাম আপুকে আপত্তিকর কিছু প্রশ্ন করছে। মামলা করার পর ওসি মোয়াজ্জেম আইনের সহায়তা দিলে আজ আপুকে পরপারে যাওয়া লাগতো না।

এদিন সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ তাদের জেরা করেন। এনিয়ে মামলাটিতে পাঁচ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণকালে কারাগারে থাকা আসামি ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ।

গত ২৭ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই দিনই তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ১৬ জুন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তার হন এবং ১৭ জুন তাকে একই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই বিচারক। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

গত ১৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আসামি মোয়াজ্জেমের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন।

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে নুসরাতের মা-ভাইয়ের সাক্ষ্য

প্রতিবেদক নাম: স্টাফ রিপোর্টার: ,

প্রকাশের সময়ঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫২ পিএম

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ও ছোট ভাই রাশিদুল হাসান রায়হান সাক্ষ্য দিয়েছেন।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

সাক্ষ্যে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে নিয়ে আমরা থানায় গিয়েছিলাম। এরপর নুসরাতকে ওসির রুমে ডেকে নিয়ে যায়। ওসির রুমের ভিতরে আমাদের ঢুকতে দেয়নি। এর কিছু সময় পর নুসরাত বের হয়ে আসে। বের হওয়ার পর সে জানায়, তার কথা কেউ একজন ভিডিও রেকর্ড করেছে। ভিডিওটি ৩০ মিনিট পরে ওসি মোয়াজ্জেম ফেসবুকে ছেড়ে দেন বলে জানান নুসরাতের মা।

নুসরাতের ছোট ভাই রাশিদুল হাসান রায়হান আদালতকে বলেন, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মোয়াজ্জেমের রুমে আপুকে ডেকে নেওয়া হয়। আমাদের বাহিরে থাকতে বলে। ওসির রুম থেকে বাহির হওয়ার পর কান্না করতে করতে বলে, ওসি মোয়াজ্জেম তার মুখোশ খুলে আপত্তিকর প্রশ্ন করে। মামালা দায়ের করার পর থানা ত্যাগ করে আমরা চলে আসি। গত ১২ এপ্রিল আমার ফেসবুক দেখলাম আপুকে আপত্তিকর কিছু প্রশ্ন করছে। মামলা করার পর ওসি মোয়াজ্জেম আইনের সহায়তা দিলে আজ আপুকে পরপারে যাওয়া লাগতো না।

এদিন সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ তাদের জেরা করেন। এনিয়ে মামলাটিতে পাঁচ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণকালে কারাগারে থাকা আসামি ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ।

গত ২৭ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই দিনই তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ১৬ জুন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তার হন এবং ১৭ জুন তাকে একই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন একই বিচারক। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।

গত ১৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আসামি মোয়াজ্জেমের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন।