২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১


তালতলী সোনাকাটা ইকোপার্কের প্রাণীদের খাবার সরবরাহ বন্ধ!

রিপোর্টার নামঃ আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৩০ পিএম

তালতলী সোনাকাটা ইকোপার্কের প্রাণীদের খাবার সরবরাহ বন্ধ!
তালতলী সোনাকাটা ইকোপার্কের প্রাণীদের খাবার সরবরাহ বন্ধ!

বরাদ্দ না থাকায় গত দুই মাস ধরে বরগুনার তালতলী উপকুলীয় সোনাকাটা বনাঞ্চলের টেংরাগিরি ইকোপার্কের প্রাণীদের খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত খাবার সরবরাহ না করলে প্রাণীকুল জীবন সংঙ্কটাপন্ন হয়ে পরবে বলে জানান স্থানীয়রা।

পটুয়াখালী বন উপ-বিভাগীয়  তালতলী রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ১৩ হাজার ৬৩৪ একর জমির উপর তালতলী উপকুলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবস্থিত। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ওই বনাঞ্চলের সোনাকাটা টেংরাগিরি বিটে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয় ইকোট্রারিজম নির্মাণ করে। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইকোট্রারিজমের উদ্বোধন করেন। ওই সময় ইকোট্রারিজমটিতে ৫ টি কুমির, ৯টি হরিণ, ২৬টি শুকর ও ১টি মেছোবাঘ ছিল। খাবার সরবরাহ না থাকায় গত বছর শুকর, কচ্ছপ ও মেছোবাঘ বনে ছেড়ে দেয়া বন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ইকোপার্কে ৫টি কুমির ও ৯ টি হরিন রয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় এ বছর জুলাই ও আগষ্ট থেকে অদ্য (৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত কুমির আর হরিনের খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রাণীকুলের জীবন সংঙ্কটাপন্ন হয়ে পরেছে। বর্তমানে স্থানীয় ও পর্যটকদের দেয়া খাবার খেয়ে বেঁচে আছে প্রাণীরা। কিন্তু চাহিদামত খাবার না পাওয়ায় প্রাণীরা দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে এমনটাই জানান স্থানীয় ও পর্যটকরা।

পর্যটক নজরুল ইসলাম ও মাঈনুল ইসলাম বলেন, কুমিরকে খাবার দেয়ার সাথে সাথে হুমহাম করে খেয়ে ফেলেছে। কত দিনের যেন উপবাস এ কুমিরগুলো? তিনটি কুমির খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে। তিনি আরো বলেন, কুমির গুলো না খেয়ে শুকিয়ে গেছে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আবদুস সালাম বলেন, প্রাণীরা ঠিকমত খাবার পাচ্ছে না। স্থানীয় ও পর্যটকদের খাবার খেয়ে কোনো মতে বেঁচে আছে। দ্রুত খাবার সরবরাহের দাবী জানাই।

টেংরাগিরী (সকিনা) বিটের বিট কর্মকর্তা জাহিদ প্রামানিক বলেন, প্রাণীদের জন্য খাদ্য সরবরাহের অর্থ বরাদ্দ  নেই। জুলাই থেকে  অদ্য (৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে খাবার সরবরাহ করছি। তিনি আরো বলেন, খাবার সরবরাহ না থাকায় শুকুর, মেছো বাঘ ও কচ্ছপ ছেড়ে দেয়া হয়েছে।  

তালতলী রেঞ্জ অফিসার নয়ন মিস্ত্রি বলেন, প্রতি অর্থ বছরে খাবার সরবরাহের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। ওই দরপত্র অনুসারে ঠিকাদার খাবার সরবরাহ করে। কিন্তু এ বছর এখনো দরপত্র আহবান করেনি। এ জন্য সরকারীভাবে খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে আশাকরি অল্পদিনের মধ্যেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। 

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাশ শুভ বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তালতলী সোনাকাটা ইকোপার্কের প্রাণীদের খাবার সরবরাহ বন্ধ!

প্রতিবেদক নাম: আব্দুল্লাহ আল নোমান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: ,

প্রকাশের সময়ঃ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৩০ পিএম

বরাদ্দ না থাকায় গত দুই মাস ধরে বরগুনার তালতলী উপকুলীয় সোনাকাটা বনাঞ্চলের টেংরাগিরি ইকোপার্কের প্রাণীদের খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত খাবার সরবরাহ না করলে প্রাণীকুল জীবন সংঙ্কটাপন্ন হয়ে পরবে বলে জানান স্থানীয়রা।

পটুয়াখালী বন উপ-বিভাগীয়  তালতলী রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ১৩ হাজার ৬৩৪ একর জমির উপর তালতলী উপকুলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবস্থিত। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ওই বনাঞ্চলের সোনাকাটা টেংরাগিরি বিটে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয় ইকোট্রারিজম নির্মাণ করে। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইকোট্রারিজমের উদ্বোধন করেন। ওই সময় ইকোট্রারিজমটিতে ৫ টি কুমির, ৯টি হরিণ, ২৬টি শুকর ও ১টি মেছোবাঘ ছিল। খাবার সরবরাহ না থাকায় গত বছর শুকর, কচ্ছপ ও মেছোবাঘ বনে ছেড়ে দেয়া বন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ইকোপার্কে ৫টি কুমির ও ৯ টি হরিন রয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় এ বছর জুলাই ও আগষ্ট থেকে অদ্য (৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত কুমির আর হরিনের খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রাণীকুলের জীবন সংঙ্কটাপন্ন হয়ে পরেছে। বর্তমানে স্থানীয় ও পর্যটকদের দেয়া খাবার খেয়ে বেঁচে আছে প্রাণীরা। কিন্তু চাহিদামত খাবার না পাওয়ায় প্রাণীরা দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে এমনটাই জানান স্থানীয় ও পর্যটকরা।

পর্যটক নজরুল ইসলাম ও মাঈনুল ইসলাম বলেন, কুমিরকে খাবার দেয়ার সাথে সাথে হুমহাম করে খেয়ে ফেলেছে। কত দিনের যেন উপবাস এ কুমিরগুলো? তিনটি কুমির খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে। তিনি আরো বলেন, কুমির গুলো না খেয়ে শুকিয়ে গেছে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আবদুস সালাম বলেন, প্রাণীরা ঠিকমত খাবার পাচ্ছে না। স্থানীয় ও পর্যটকদের খাবার খেয়ে কোনো মতে বেঁচে আছে। দ্রুত খাবার সরবরাহের দাবী জানাই।

টেংরাগিরী (সকিনা) বিটের বিট কর্মকর্তা জাহিদ প্রামানিক বলেন, প্রাণীদের জন্য খাদ্য সরবরাহের অর্থ বরাদ্দ  নেই। জুলাই থেকে  অদ্য (৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে খাবার সরবরাহ করছি। তিনি আরো বলেন, খাবার সরবরাহ না থাকায় শুকুর, মেছো বাঘ ও কচ্ছপ ছেড়ে দেয়া হয়েছে।  

তালতলী রেঞ্জ অফিসার নয়ন মিস্ত্রি বলেন, প্রতি অর্থ বছরে খাবার সরবরাহের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। ওই দরপত্র অনুসারে ঠিকাদার খাবার সরবরাহ করে। কিন্তু এ বছর এখনো দরপত্র আহবান করেনি। এ জন্য সরকারীভাবে খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে আশাকরি অল্পদিনের মধ্যেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। 

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাশ শুভ বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।