২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ২২ মুহররম ১৪৪১


গাজীপুরে অপহরন মামলার আসামী কথিত যুবলীগ নেতা দিপু গ্রেফতার

রিপোর্টার নামঃ জাহিদ হাসান জিহাদ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩০ পিএম

গাজীপুরে অপহরন মামলার আসামী কথিত যুবলীগ নেতা দিপু গ্রেফতার
গাজীপুরে অপহরন মামলার আসামী কথিত যুবলীগ নেতা দিপু গ্রেফতার

গাজীপুরে আলোচিত ফজলু অপহরন ও নিখোজ হওয়ার দেড় বছর পর এই  মামলার এজাহার নামীয় ১ নং আসামি কথিত যুবলীগ নেতা শাহিনুর রহমান দিপু (২৯)কে গাজীপুর সিআইডি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গাজীপুর সি আই ডি পুলিশের এস আই আজাদ গোপন সংবাদের ভিওিতে খবর পেয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের গেটের সামনে থেকে দিপুকে গ্রেফতার করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এই আজাদ প্রতিদিনের কাগজ'কে জানান, গ্রেফতারকৃত শাহিনুর রহমান দিপু এই মামলার এজাহার নামীয় আসামী এবং সে  সোমবার গাজীপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

উল্লেখ্য গত ২৪ মে ২০১৮ইং রাত থেকে নিখোঁজ। ফজলুর মা অজুফা বেগম ২৮মে ২০১৮ইং এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়রি (নং ২০৫৬) করেন। এরপরও ফজলু উদ্ধার না হওয়ায় তার মা অজুফা বেগম বাদী হয়ে গত ১২জুন ২০১৮ইং গাজীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গুম-খুনের অভিযোগে সিআর মামলাটি (নং ১৮) দায়ের করেন। তবে পুলিশ ফজলুকে এ পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি।

এ বিষয়ে তৎকালীন কোনাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেন বলেছিলেন ফজলু একটি অপহরণ মামলার আসামী এবং ঐ মামলায় ২ জন আসামি মোটরসাইকেল সহ গ্রেফতার হয়, মোটরসাইকেল টি ছিল দিপুর। ২৮মে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়রি করার আগে থেকেই সে পলাতক রয়েছে। এর মাসখানেক আগে গত ২৭ এপ্রিল অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জয়দেবপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার (নং ১৪৩) ৩নং আসামী ফজলু। তাই সে গা ঢাকা দিয়েছে। তখন থেকেই তাকে গ্রেফতারের জন্য খুঁজছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, ফজলু মিয়া গত ৩ বছর ধরে ১নং আসামী শাহিনুর ইসলাম দিপুর ইন্টারনেট ব্যবসার কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। ইন্টারনেট ব্যবসার আড়ালে দিপু বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম সহ মাদক ব্যবসা ফজলুকে দিয়ে করাতো। ফজলুর সাথে উঠতি বয়সের কিছু উশৃঙ্খল ছেলে চলাফেরা করতো। তাদেরকে নিয়ে চুরি ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপকর্ম করতো এবং মাদকের ব্যবসা করতো। অল্প দিনেই দিপুর নেতৃত্বে এলাকায় ফজলু গ্যাং নামে আলোচনায় আসে। 

 ফজলু বাইমাইল এলাকায় জনৈক কামরুজ্জামানের ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বাস করে। দিপুর পিতা শফিকুল ইসলাম শফি মামলার ৪নং আসামী। ফজলুকে দিপু মুঠোফোনে গত ২৪ মে রাতে ভাড়াবাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে ফজলু নিখোঁজ রয়েছে। ফজলু নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পূর্বে দিপুর সাথে ফজলুর বিভিন্ন বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ফজলুর বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে আসামীরা বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকী দেয়। বলে, ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে ফজলুকে জীবিত ফেরত দিবে।

এদিকে বাবা কথিত আওয়ামীলীগ নেতা, ছেলে যুবলীগের খাতায় রাতারাতি নাম লিখিয়ে এমন কোন অপরাধ নাই যে করে না, অপরদিকে দিপুর আপন বড় ভাই জিকু স্থানীয় বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। বেশ কিছুদিন আগে দিপুর বড় ভাই জিকু একটি ফেন্সিডিলের চালান সহ কুমিল্লার চান্দিনা পুলিশের হাতে আটক হয়। বর্তমান জিকু মাদক মামলায় জামিনে রয়েছে। জিকূও এই মামলার আসামি।

গাজীপুরে অপহরন মামলার আসামী কথিত যুবলীগ নেতা দিপু গ্রেফতার

প্রতিবেদক নাম: জাহিদ হাসান জিহাদ ,

প্রকাশের সময়ঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩০ পিএম

গাজীপুরে আলোচিত ফজলু অপহরন ও নিখোজ হওয়ার দেড় বছর পর এই  মামলার এজাহার নামীয় ১ নং আসামি কথিত যুবলীগ নেতা শাহিনুর রহমান দিপু (২৯)কে গাজীপুর সিআইডি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গাজীপুর সি আই ডি পুলিশের এস আই আজাদ গোপন সংবাদের ভিওিতে খবর পেয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের গেটের সামনে থেকে দিপুকে গ্রেফতার করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এই আজাদ প্রতিদিনের কাগজ'কে জানান, গ্রেফতারকৃত শাহিনুর রহমান দিপু এই মামলার এজাহার নামীয় আসামী এবং সে  সোমবার গাজীপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

উল্লেখ্য গত ২৪ মে ২০১৮ইং রাত থেকে নিখোঁজ। ফজলুর মা অজুফা বেগম ২৮মে ২০১৮ইং এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়রি (নং ২০৫৬) করেন। এরপরও ফজলু উদ্ধার না হওয়ায় তার মা অজুফা বেগম বাদী হয়ে গত ১২জুন ২০১৮ইং গাজীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গুম-খুনের অভিযোগে সিআর মামলাটি (নং ১৮) দায়ের করেন। তবে পুলিশ ফজলুকে এ পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি।

এ বিষয়ে তৎকালীন কোনাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেন বলেছিলেন ফজলু একটি অপহরণ মামলার আসামী এবং ঐ মামলায় ২ জন আসামি মোটরসাইকেল সহ গ্রেফতার হয়, মোটরসাইকেল টি ছিল দিপুর। ২৮মে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়রি করার আগে থেকেই সে পলাতক রয়েছে। এর মাসখানেক আগে গত ২৭ এপ্রিল অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জয়দেবপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার (নং ১৪৩) ৩নং আসামী ফজলু। তাই সে গা ঢাকা দিয়েছে। তখন থেকেই তাকে গ্রেফতারের জন্য খুঁজছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, ফজলু মিয়া গত ৩ বছর ধরে ১নং আসামী শাহিনুর ইসলাম দিপুর ইন্টারনেট ব্যবসার কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। ইন্টারনেট ব্যবসার আড়ালে দিপু বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম সহ মাদক ব্যবসা ফজলুকে দিয়ে করাতো। ফজলুর সাথে উঠতি বয়সের কিছু উশৃঙ্খল ছেলে চলাফেরা করতো। তাদেরকে নিয়ে চুরি ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপকর্ম করতো এবং মাদকের ব্যবসা করতো। অল্প দিনেই দিপুর নেতৃত্বে এলাকায় ফজলু গ্যাং নামে আলোচনায় আসে। 

 ফজলু বাইমাইল এলাকায় জনৈক কামরুজ্জামানের ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বাস করে। দিপুর পিতা শফিকুল ইসলাম শফি মামলার ৪নং আসামী। ফজলুকে দিপু মুঠোফোনে গত ২৪ মে রাতে ভাড়াবাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে ফজলু নিখোঁজ রয়েছে। ফজলু নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পূর্বে দিপুর সাথে ফজলুর বিভিন্ন বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ফজলুর বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে আসামীরা বাদী ও স্বাক্ষীদের হুমকী দেয়। বলে, ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে ফজলুকে জীবিত ফেরত দিবে।

এদিকে বাবা কথিত আওয়ামীলীগ নেতা, ছেলে যুবলীগের খাতায় রাতারাতি নাম লিখিয়ে এমন কোন অপরাধ নাই যে করে না, অপরদিকে দিপুর আপন বড় ভাই জিকু স্থানীয় বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। বেশ কিছুদিন আগে দিপুর বড় ভাই জিকু একটি ফেন্সিডিলের চালান সহ কুমিল্লার চান্দিনা পুলিশের হাতে আটক হয়। বর্তমান জিকু মাদক মামলায় জামিনে রয়েছে। জিকূও এই মামলার আসামি।