২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ২২ মুহররম ১৪৪১


মুসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনা থেকে পাঁচ শিক্ষা

রিপোর্টার নামঃ প্রতিদিনের কাগজ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৩১ পিএম

মুসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনা থেকে পাঁচ শিক্ষা
মুসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনা থেকে পাঁচ শিক্ষা

আশুরা তথা ১০ মুহাররম পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের যুগ থেকেই বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে বিশেষভাবে সম্মানিত। এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, এ দিন নবী হযরত মুসা (আ.) ও বনী ইসরাইল ফেরাউনের নির্যা তন থেকে  মুক্ত হয়ে নিরাপদে মিসর ত্যাগ করে।এই ঘটনায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিকভাবে ইহুদিরা এইদিন রোযা পালন করে আসছে। অপরদিকে মুসলমানরাও রাসূল (সা.) এর নির্দেশনা অনুযায়ী এই দিন নফল রোযা আদায় করেন।ফেরাউন ও হযরত মুসা (আ.) এর এই ইতিহাসে আমাদের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এ নিবন্ধে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

১. নিজের দায়িত্ব পালনহযরত মুসা (আ.) অলসভাবে বসে থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন মুজিযার অপেক্ষা করেননি। তিনি বসে থেকে আল্লাহর কাছে দুআ করে ফেরাউনকে শায়েস্তা করার কথা বলতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তার ব্যক্তিগত ক্ষমতার মধ্যে সকল প্রকার চেষ্টার সুযোগকে কাজে লাগিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যখন সমুদ্র ও ফেরাউনের বাহিনীর দ্বারা তিনি তার সঙ্গীদেরসহ ঘেরাও হয়ে গেলেন, তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে মুজিযার নিদর্শন হিসেবে সমুদ্র ভাগ হয়ে তার মধ্য দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি হয়ে যায়, যাতে করে মুসা (আ.) ও তার সঙ্গীরা সাগর পাড়ি দিয়ে মিসর ত্যাগ করার মাধ্যমে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে পারেন।

আমাদের জীবন কারণ ও ফলাফলেরই সমন্বয়। এই জীবনেও অনেক মুজিযা ঘটে। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব হলো আমাদের ক্ষমতার মধ্যে সকল প্রচেষ্টার বাস্তবায়ন করা এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর উপর নির্ভর করা।

২. আল্লাহর উপর ভরসামুসা (আ.) ও তার সঙ্গীরা ছিলেন নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি। হয় ফেরাউনের সেনাবাহিনী তাদেরকে পেছন থেকে আ ক্রমন করে হ ত্যা করতো অথবা তা থেকে বাঁচতে তাদের সামনে সাগরের উত্তাল তরঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হতো। এসবকিছু সত্ত্বেও মুসা (আ.) আল্লাহর ওয়াদা থেকে নিরাশ হননি।

দ্বিমুখী এই সংকটের সময় মুসা (আ.) এর কিছু অনুসারী আশা হারিয়ে ফেলেছিল। তারা বলতে থাকে, “আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম।” [সূরা শুআরা, আয়াত:৬১]

কিন্তু মুসা (আ.) ছিলেন সকল প্রকার সংশয় থেকে মুক্ত। তিনি তার জাতিকে আশ্বস্ত করার জন্য বলেন, “কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন।” [সূরা শুআরা, আয়াত:৬২]এবং পরবর্তীতে আল্লাহ সাগরের মাঝে রাস্তা তৈরি করে দিয়ে মুসা (আ.) ও বনী ইসরাইলের মুক্তির পথ করে দিয়েছিলেন।আমাদেরও কখনো উচিত নয় আল্লাহর উপর থেকে ভরসা হারানো। যদিও আমরা অনেক সময় এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি, যাতে আমাদের মনে হতে পারে তা থেকে বের হওয়ার কোন রাস্তাই নেই, কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত আল্লাহর সাহায্য সর্বদাই প্রস্তুত আছে। তিনি যদি সাগরের মধ্য দিয়ে মুসা (আ.) ও বনী ইসরাইলকে বের করে নিতে পারেন, তবে তিনি আমাদেরও সাহায্য করতে পারবেন। আমাদের উচিত তার সাহায্যের উপর নির্ভর করা ও আশা রাখা।

৩. মুজিযাযদিও মুজিযা শুধু নবী-রাসূলদের জন্যই নির্ধারিত, আমরাও আমাদের জীবনে অনেক সময় এই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি। আমাদের জীবনে অনেক সময় এমন প্রতিকূলতার সৃষ্টি হয়, যা থেকে আমরা বাহ্যিক উত্তরণের কোন পথ খুঁজে পাই না। কিন্তু এ থেকেও আল্লাহর সাহায্যে এমন অবিশ্বাস্যভাবে আমরা মুক্ত হতে পারি, পৃথিবীর সাধারণ অভিজ্ঞতায় যার পরিমাপ করা সম্ভব নয়।সুতরাং বিশ্বাসী হিসেবে সবসময় আমাদের আল্লাহর সাহায্যের উপর আস্থা রাখা কর্তব্য।

৪. গুনাহ থেকে বাঁচাযখন বনী ইসরাইল মিসরে ফেরাউনের কঠোর নি র্যাতনের শিকার হয়ে আল্লাহর আদেশ পালনে অপারগ হয়ে ওঠে এবং স্বাধীনভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, আল্লাহ তখন মুসা (আ.) কে মিসর ত্যাগ করে অন্য ভূখন্ডে হিজরত করার নির্দেশ দেন।

তেমনিভাবে আমাদের উচিত গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য গুনাহের সহায়ক অবস্থা, পরিবেশ, বস্তু ও ব্যক্তি থেকে নিজেরা হিজরত করা। যাতে করে এসকল কিছু আল্লাহর আদেশ পালনে আমাদের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে।

৫. সময় থাকতে পরিবর্তনফেরাউন যখন সাগর পাড়ি দিয়ে যাওয়া বনী ইসরাইলকে ধরতে একই পথ ধরে আসে, আল্লাহ তখন সমুদ্রকে আবার আগের অবস্থায় নিয়ে যান এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মারেন।

সমুদ্রের ঢেউয়ে ফেরাউন যখন হাবুডুবু খাচ্ছিল, তখন সে চিৎকার করে বলে, “আমি ঈমান আনছি তার প্রতি, বনী ইসরাইল যাকে বিশ্বাস করে তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, আর আমি হচ্ছি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৯০)কিন্তু তার এই শেষ মুহূর্তের ঈমান আল্লাহ কবুল করেননি, কেননা ইতোমধ্যেই সে মৃত্যুর ওপারের জগতে পা রেখে ফেলেছিল এবং তার কাছে সত্যের সকল পর্দা খুলে গিয়েছিল।সুতরাং বিশ্বাসী হিসেবে আমাদের কখনোই বিলম্ব করা উচিত হবে না। মৃত্যু এসে আমাদের গ্রাস করার আগেই আমাদের জান্নাতের উপযোগী হয়ে তৈরি হওয়া প্রয়োজন।আল্লাহর রহমতের ভান্ডার বিশাল এবং আমাদের ক্ষমার জন্য তার দরজা সর্বদাই খোলা। আমাদের উচিত শুধু তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।

মুসা (আ.) ও ফেরাউনের ঘটনা থেকে পাঁচ শিক্ষা

প্রতিবেদক নাম: প্রতিদিনের কাগজ ,

প্রকাশের সময়ঃ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৩১ পিএম

আশুরা তথা ১০ মুহাররম পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদের যুগ থেকেই বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে বিশেষভাবে সম্মানিত। এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, এ দিন নবী হযরত মুসা (আ.) ও বনী ইসরাইল ফেরাউনের নির্যা তন থেকে  মুক্ত হয়ে নিরাপদে মিসর ত্যাগ করে।এই ঘটনায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিকভাবে ইহুদিরা এইদিন রোযা পালন করে আসছে। অপরদিকে মুসলমানরাও রাসূল (সা.) এর নির্দেশনা অনুযায়ী এই দিন নফল রোযা আদায় করেন।ফেরাউন ও হযরত মুসা (আ.) এর এই ইতিহাসে আমাদের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এ নিবন্ধে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

১. নিজের দায়িত্ব পালনহযরত মুসা (আ.) অলসভাবে বসে থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন মুজিযার অপেক্ষা করেননি। তিনি বসে থেকে আল্লাহর কাছে দুআ করে ফেরাউনকে শায়েস্তা করার কথা বলতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তার ব্যক্তিগত ক্ষমতার মধ্যে সকল প্রকার চেষ্টার সুযোগকে কাজে লাগিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যখন সমুদ্র ও ফেরাউনের বাহিনীর দ্বারা তিনি তার সঙ্গীদেরসহ ঘেরাও হয়ে গেলেন, তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে মুজিযার নিদর্শন হিসেবে সমুদ্র ভাগ হয়ে তার মধ্য দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি হয়ে যায়, যাতে করে মুসা (আ.) ও তার সঙ্গীরা সাগর পাড়ি দিয়ে মিসর ত্যাগ করার মাধ্যমে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে পারেন।

আমাদের জীবন কারণ ও ফলাফলেরই সমন্বয়। এই জীবনেও অনেক মুজিযা ঘটে। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব হলো আমাদের ক্ষমতার মধ্যে সকল প্রচেষ্টার বাস্তবায়ন করা এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহর উপর নির্ভর করা।

২. আল্লাহর উপর ভরসামুসা (আ.) ও তার সঙ্গীরা ছিলেন নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি। হয় ফেরাউনের সেনাবাহিনী তাদেরকে পেছন থেকে আ ক্রমন করে হ ত্যা করতো অথবা তা থেকে বাঁচতে তাদের সামনে সাগরের উত্তাল তরঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হতো। এসবকিছু সত্ত্বেও মুসা (আ.) আল্লাহর ওয়াদা থেকে নিরাশ হননি।

দ্বিমুখী এই সংকটের সময় মুসা (আ.) এর কিছু অনুসারী আশা হারিয়ে ফেলেছিল। তারা বলতে থাকে, “আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম।” [সূরা শুআরা, আয়াত:৬১]

কিন্তু মুসা (আ.) ছিলেন সকল প্রকার সংশয় থেকে মুক্ত। তিনি তার জাতিকে আশ্বস্ত করার জন্য বলেন, “কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন।” [সূরা শুআরা, আয়াত:৬২]এবং পরবর্তীতে আল্লাহ সাগরের মাঝে রাস্তা তৈরি করে দিয়ে মুসা (আ.) ও বনী ইসরাইলের মুক্তির পথ করে দিয়েছিলেন।আমাদেরও কখনো উচিত নয় আল্লাহর উপর থেকে ভরসা হারানো। যদিও আমরা অনেক সময় এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি, যাতে আমাদের মনে হতে পারে তা থেকে বের হওয়ার কোন রাস্তাই নেই, কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত আল্লাহর সাহায্য সর্বদাই প্রস্তুত আছে। তিনি যদি সাগরের মধ্য দিয়ে মুসা (আ.) ও বনী ইসরাইলকে বের করে নিতে পারেন, তবে তিনি আমাদেরও সাহায্য করতে পারবেন। আমাদের উচিত তার সাহায্যের উপর নির্ভর করা ও আশা রাখা।

৩. মুজিযাযদিও মুজিযা শুধু নবী-রাসূলদের জন্যই নির্ধারিত, আমরাও আমাদের জীবনে অনেক সময় এই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারি। আমাদের জীবনে অনেক সময় এমন প্রতিকূলতার সৃষ্টি হয়, যা থেকে আমরা বাহ্যিক উত্তরণের কোন পথ খুঁজে পাই না। কিন্তু এ থেকেও আল্লাহর সাহায্যে এমন অবিশ্বাস্যভাবে আমরা মুক্ত হতে পারি, পৃথিবীর সাধারণ অভিজ্ঞতায় যার পরিমাপ করা সম্ভব নয়।সুতরাং বিশ্বাসী হিসেবে সবসময় আমাদের আল্লাহর সাহায্যের উপর আস্থা রাখা কর্তব্য।

৪. গুনাহ থেকে বাঁচাযখন বনী ইসরাইল মিসরে ফেরাউনের কঠোর নি র্যাতনের শিকার হয়ে আল্লাহর আদেশ পালনে অপারগ হয়ে ওঠে এবং স্বাধীনভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, আল্লাহ তখন মুসা (আ.) কে মিসর ত্যাগ করে অন্য ভূখন্ডে হিজরত করার নির্দেশ দেন।

তেমনিভাবে আমাদের উচিত গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য গুনাহের সহায়ক অবস্থা, পরিবেশ, বস্তু ও ব্যক্তি থেকে নিজেরা হিজরত করা। যাতে করে এসকল কিছু আল্লাহর আদেশ পালনে আমাদের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে।

৫. সময় থাকতে পরিবর্তনফেরাউন যখন সাগর পাড়ি দিয়ে যাওয়া বনী ইসরাইলকে ধরতে একই পথ ধরে আসে, আল্লাহ তখন সমুদ্রকে আবার আগের অবস্থায় নিয়ে যান এবং ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সমুদ্রে ডুবিয়ে মারেন।

সমুদ্রের ঢেউয়ে ফেরাউন যখন হাবুডুবু খাচ্ছিল, তখন সে চিৎকার করে বলে, “আমি ঈমান আনছি তার প্রতি, বনী ইসরাইল যাকে বিশ্বাস করে তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, আর আমি হচ্ছি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৯০)কিন্তু তার এই শেষ মুহূর্তের ঈমান আল্লাহ কবুল করেননি, কেননা ইতোমধ্যেই সে মৃত্যুর ওপারের জগতে পা রেখে ফেলেছিল এবং তার কাছে সত্যের সকল পর্দা খুলে গিয়েছিল।সুতরাং বিশ্বাসী হিসেবে আমাদের কখনোই বিলম্ব করা উচিত হবে না। মৃত্যু এসে আমাদের গ্রাস করার আগেই আমাদের জান্নাতের উপযোগী হয়ে তৈরি হওয়া প্রয়োজন।আল্লাহর রহমতের ভান্ডার বিশাল এবং আমাদের ক্ষমার জন্য তার দরজা সর্বদাই খোলা। আমাদের উচিত শুধু তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।