২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১


বিদআতের বেড়াজালে আশুরা, আশুরা আমাদের করণীয়-

রিপোর্টার নামঃ মোস্তাফিজুর রহমান রফিকী | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৪৩ পিএম

বিদআতের বেড়াজালে আশুরা, আশুরা আমাদের করণীয়-
বিদআতের বেড়াজালে আশুরা, আশুরা আমাদের করণীয়-

আরবী বা হিজরী প্রথম মাসের নাম হচ্ছে মুহাররম আর মুহাররমের দশ তারিখ কে আশুরা বলা হয়।

আশুরা ইসলাম ধর্মে শুরুত্বপুর্ণ এজন্য যেহেতু আল্লাহ তাআলা মুহাররম কে কোরআন মাজিদে গুরুত্বপূর্ণ করেছেন।

কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

ﺇﻥ ﻋﺪﺓ ﺍﻟﺸﻬﻮﺭ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺛﻨﺎ ﻋﺸﺮ ﺷﻬﺮﺍ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻮﻡ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ ﻭﺍﻷﺭﺽ ﻣﻨﻬﺎ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺣﺮﻡ، ﺫﻟﻚ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﻘﻴﻢ - ﻓﻼ ﺗﻈﻠﻤﻮﺍ ﻓﻴﻬﻦ ﺃﻧﻔﺴﻜﻢ -

নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলার বিধানে ও গণনায় মাসের সংখ্যা ১২। যেদিন থেকে তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি মাস হচ্ছে সম্মানিত মাস। এটাই প্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অবিচার করো না।

[সূরা তওবাঃ আ-৩৬]

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমানে আশুরার এ দিবসটি বিদআতের বেড়াজালে নিমজ্জিত।

এবং আফসোসের বিষয় হল আমাদের সমাজে হাজারো কুসংস্কার আশুরা কে ঘিরে রেখেছে।

যেখানে আশুরার দিনে করণীয় সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্পষ্ট হাদীস রয়েছে, কিন্তু আজ এ দিবসটি বিদআতের বেড়াজালে আবদ্ধ।

তার কারণ হচ্ছে আশুরা সম্পর্কে দুই ধরণের বর্ণনা রয়েছে।

[এক] কুরআন সুন্নাহর আলোকে

[দুই] ইতিহাসের আলোকে।

কোরআন সুন্নাহর আলোকে আমল নির্ধারিত হয়।

কিন্তু বর্তমান সময়ে আশুরা কে কেন্দ্র করে যে সমস্ত কর্মকান্ড হয়ে থাকে,তা অধিকাংশ বিকৃত ইতিহাস নির্ভর।

কেমন বিকৃত ইতিহাস নির্ভর!?

এ সম্পর্কে তিনটি উদাহরণ পেশ করছি।

[এক নাম্বার]হচ্ছে প্রাচ্যবিদদের লিখিত ইসলামের ইতিহাস, সেখানে লেখা আছে-

এদিন হযরত ইউসুফ(আঃ)জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন,

হযরত ইয়াকুব(আঃ) চোখের জ্যোতি ফিরে পেয়েছিলেন,হযরত ইউনুস(আঃ) মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

এবং এই দিনেই কিয়ামত সংগঠিত হবে।

কোরআন হাদিসে এসব কথার কোন

ভিত্তি নেই। এগুলো জাল বানোয়াট বর্ণনা।

বিস্তারিত দেখুন: আলআছারুল মারফূআ।

মা সাবাতা বিসসুন্নাহ ফী আইয়ামিস সানাহ,

এদিন সম্পর্কে কোরআন সুন্নাহর সঠিক বর্ণনা হচ্ছে-

এদিন আল্লাহ তাআলার কুদরত প্রকাশ করেছেন।এবং বনী ইসরাইল কে,ফেরাউন এর কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।

[দ্বিতীয়] নাম্বার যে উদাহরণ টি দিতে চাই তা হচ্ছে,

বাংলাপিডিয়া-বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত জাতীয় জ্ঞানকোষ,

সেখানে আশুরা শব্দের আলোচনায় লেখা আছে,আশুরার গুরুত্ব কারবালায় ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের কারণ।

[তৃতীয়] নাম্বার যে উদাহরণ টি দিতে চাই তা হচ্ছে,

উইকিপিডিয়া,যাকে উন্মুক্ত বিশ্বকোষ বলা হয়ে থাকে।

যা ইদানিং জানার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় একটি মাধ্যম ধরা হয়।

উইকিপিডিয়াতে আশুরা সম্পর্কে বলা আছে-

জনপ্রিয় ধারণায় আশুরা একটি শোকাবহ দিন।

সন্দেহ নেই উপরের দুটো সংজ্ঞা'ই অস্পষ্ট এবং ও অপুর্ণাঙ্গ।

হ্যা,কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিটি মুসলমান কে আহত করে ব্যথিত করে।

তাই বলে ইসলাম ধর্মে আশুরার গুরুত্ব কারবালা কেন্দ্রীক নয়।

আর এই করাবালা কে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি বিদআত হয়ে থাকে।

আশুরা আসলেই আমাদের দেশের প্রায় এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়,ইমাম হাসান(রাঃ)ইমাম হোসাইন (রা) উপলক্ষ করে নানা রকম অমানবিক অযৌক্তিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে-যেমন তাজিয়া মিছিল করা,জারিগান গাওয়া,কৃত্রিম শোকের ছায়ায় কালো কাপড় পরিধান করা,নিরামিষ আহার করা,

ইমাম হোসাইনের মুহাব্বাতে নিজ বক্ষে পিঠে ছুরিকাঘাত করা,হায় হাসান হায় হোসাইন বলে বিলাপ করা,

এবং পরস্পরে রক্তারক্তির মাধ্যমে কারবালা ঘটনা কে বিকৃতি রুপে রূপায়িত করা।

এরকম আরো নানা ভ্রান্ত রুসুম,রেওয়াজ, চালু আছে।

এ সমম্ত কর্মকাণ্ড ইসলামী শরীয়তে সম্পুর্ন বিদআত,নাজায়েজ ।

বিস্তারিত দেখুন:ইমদাদুল ফাতাওয়া/আহসানুল ফাতাওয়া

সুতরাং আমাদের করণীয় হল এদিনের সব রকমের বিদআত থেকে বেঁচে থাকা,

এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআনে কারীমে এরশাদ করেন-

َﺍ ﺁﺗَﺎﻛُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻓَﺨُﺬُﻭﻩُ ﻭَﻣَﺎ ﻧَﻬَﺎﻛُﻢْ ﻋَﻨْﻪُ ﻓَﺎﻧْﺘَﻬُﻮﺍ "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের কাছে যা এনেছেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা বর্জন কর।"

বিদআত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

“ ﻭﺷﺮ ﺍﻷﻣﻮﺭ ﻣﺤﺪﺛﺎﺗﻬﺎ ، ﻭﻛﻞ ﺑﺪﻋﺔ ﺿﻼﻟﺔ .” ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ

আর সবচেয়ে খারাপ বস্তু হচ্ছে বিদআত, আর প্রত্যেক

বিদআত গোমরাহী। [সহীহ মুসলিম: ১৪৪১]

আর এই দিনের আমল সম্পর্কে

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

ﺻﻴﺎﻡ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭﺍﺀ ﺃﺣﺘﺴﺐ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻥ ﻳﻜﻔﺮ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﻗﺒﻠﻪ -

আমি আশা করি- আশুরার রোযার কারণে আল্লাহ তা’আলা অতীতের এক বছরের (সগীরাহ) গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন।

[সহীহ মুসলিমঃ হা-১১৬২, সুনানে তিরমিযীঃ হা-৭৫২]

আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’

তাই,আশুরার রোযার সঙ্গে ৯ মুহাররমের অথবা ১১মুহারমের রোযা রাখাও ভালো।।

মোট কথা এদিন নফল রোজা,দোয়া ইসতেগফার এবং সব রকমের বিদআত থেকে বেঁচে থাকা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কোরআন সুন্নাহ মেনে চলার তাওফিক দান করুন।

___________

লেখক-শিক্ষার্থী, জামিয়া গহপুর,সিলেট।

মেশকাত (স্নাতকোত্তর)

বিদআতের বেড়াজালে আশুরা, আশুরা আমাদের করণীয়-

প্রতিবেদক নাম: মোস্তাফিজুর রহমান রফিকী ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৪৩ পিএম

আরবী বা হিজরী প্রথম মাসের নাম হচ্ছে মুহাররম আর মুহাররমের দশ তারিখ কে আশুরা বলা হয়।

আশুরা ইসলাম ধর্মে শুরুত্বপুর্ণ এজন্য যেহেতু আল্লাহ তাআলা মুহাররম কে কোরআন মাজিদে গুরুত্বপূর্ণ করেছেন।

কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-

ﺇﻥ ﻋﺪﺓ ﺍﻟﺸﻬﻮﺭ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺛﻨﺎ ﻋﺸﺮ ﺷﻬﺮﺍ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻮﻡ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﺴﻤﺎﻭﺍﺕ ﻭﺍﻷﺭﺽ ﻣﻨﻬﺎ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺣﺮﻡ، ﺫﻟﻚ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﺍﻟﻘﻴﻢ - ﻓﻼ ﺗﻈﻠﻤﻮﺍ ﻓﻴﻬﻦ ﺃﻧﻔﺴﻜﻢ -

নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলার বিধানে ও গণনায় মাসের সংখ্যা ১২। যেদিন থেকে তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি মাস হচ্ছে সম্মানিত মাস। এটাই প্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অবিচার করো না।

[সূরা তওবাঃ আ-৩৬]

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমানে আশুরার এ দিবসটি বিদআতের বেড়াজালে নিমজ্জিত।

এবং আফসোসের বিষয় হল আমাদের সমাজে হাজারো কুসংস্কার আশুরা কে ঘিরে রেখেছে।

যেখানে আশুরার দিনে করণীয় সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্পষ্ট হাদীস রয়েছে, কিন্তু আজ এ দিবসটি বিদআতের বেড়াজালে আবদ্ধ।

তার কারণ হচ্ছে আশুরা সম্পর্কে দুই ধরণের বর্ণনা রয়েছে।

[এক] কুরআন সুন্নাহর আলোকে

[দুই] ইতিহাসের আলোকে।

কোরআন সুন্নাহর আলোকে আমল নির্ধারিত হয়।

কিন্তু বর্তমান সময়ে আশুরা কে কেন্দ্র করে যে সমস্ত কর্মকান্ড হয়ে থাকে,তা অধিকাংশ বিকৃত ইতিহাস নির্ভর।

কেমন বিকৃত ইতিহাস নির্ভর!?

এ সম্পর্কে তিনটি উদাহরণ পেশ করছি।

[এক নাম্বার]হচ্ছে প্রাচ্যবিদদের লিখিত ইসলামের ইতিহাস, সেখানে লেখা আছে-

এদিন হযরত ইউসুফ(আঃ)জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন,

হযরত ইয়াকুব(আঃ) চোখের জ্যোতি ফিরে পেয়েছিলেন,হযরত ইউনুস(আঃ) মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

এবং এই দিনেই কিয়ামত সংগঠিত হবে।

কোরআন হাদিসে এসব কথার কোন

ভিত্তি নেই। এগুলো জাল বানোয়াট বর্ণনা।

বিস্তারিত দেখুন: আলআছারুল মারফূআ।

মা সাবাতা বিসসুন্নাহ ফী আইয়ামিস সানাহ,

এদিন সম্পর্কে কোরআন সুন্নাহর সঠিক বর্ণনা হচ্ছে-

এদিন আল্লাহ তাআলার কুদরত প্রকাশ করেছেন।এবং বনী ইসরাইল কে,ফেরাউন এর কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।

[দ্বিতীয়] নাম্বার যে উদাহরণ টি দিতে চাই তা হচ্ছে,

বাংলাপিডিয়া-বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত জাতীয় জ্ঞানকোষ,

সেখানে আশুরা শব্দের আলোচনায় লেখা আছে,আশুরার গুরুত্ব কারবালায় ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের কারণ।

[তৃতীয়] নাম্বার যে উদাহরণ টি দিতে চাই তা হচ্ছে,

উইকিপিডিয়া,যাকে উন্মুক্ত বিশ্বকোষ বলা হয়ে থাকে।

যা ইদানিং জানার জন্য ব্যাপক জনপ্রিয় একটি মাধ্যম ধরা হয়।

উইকিপিডিয়াতে আশুরা সম্পর্কে বলা আছে-

জনপ্রিয় ধারণায় আশুরা একটি শোকাবহ দিন।

সন্দেহ নেই উপরের দুটো সংজ্ঞা'ই অস্পষ্ট এবং ও অপুর্ণাঙ্গ।

হ্যা,কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিটি মুসলমান কে আহত করে ব্যথিত করে।

তাই বলে ইসলাম ধর্মে আশুরার গুরুত্ব কারবালা কেন্দ্রীক নয়।

আর এই করাবালা কে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি বিদআত হয়ে থাকে।

আশুরা আসলেই আমাদের দেশের প্রায় এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়,ইমাম হাসান(রাঃ)ইমাম হোসাইন (রা) উপলক্ষ করে নানা রকম অমানবিক অযৌক্তিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে-যেমন তাজিয়া মিছিল করা,জারিগান গাওয়া,কৃত্রিম শোকের ছায়ায় কালো কাপড় পরিধান করা,নিরামিষ আহার করা,

ইমাম হোসাইনের মুহাব্বাতে নিজ বক্ষে পিঠে ছুরিকাঘাত করা,হায় হাসান হায় হোসাইন বলে বিলাপ করা,

এবং পরস্পরে রক্তারক্তির মাধ্যমে কারবালা ঘটনা কে বিকৃতি রুপে রূপায়িত করা।

এরকম আরো নানা ভ্রান্ত রুসুম,রেওয়াজ, চালু আছে।

এ সমম্ত কর্মকাণ্ড ইসলামী শরীয়তে সম্পুর্ন বিদআত,নাজায়েজ ।

বিস্তারিত দেখুন:ইমদাদুল ফাতাওয়া/আহসানুল ফাতাওয়া

সুতরাং আমাদের করণীয় হল এদিনের সব রকমের বিদআত থেকে বেঁচে থাকা,

এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআনে কারীমে এরশাদ করেন-

َﺍ ﺁﺗَﺎﻛُﻢُ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝُ ﻓَﺨُﺬُﻭﻩُ ﻭَﻣَﺎ ﻧَﻬَﺎﻛُﻢْ ﻋَﻨْﻪُ ﻓَﺎﻧْﺘَﻬُﻮﺍ "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের কাছে যা এনেছেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা বর্জন কর।"

বিদআত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

“ ﻭﺷﺮ ﺍﻷﻣﻮﺭ ﻣﺤﺪﺛﺎﺗﻬﺎ ، ﻭﻛﻞ ﺑﺪﻋﺔ ﺿﻼﻟﺔ .” ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ

আর সবচেয়ে খারাপ বস্তু হচ্ছে বিদআত, আর প্রত্যেক

বিদআত গোমরাহী। [সহীহ মুসলিম: ১৪৪১]

আর এই দিনের আমল সম্পর্কে

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

ﺻﻴﺎﻡ ﻳﻮﻡ ﻋﺎﺷﻮﺭﺍﺀ ﺃﺣﺘﺴﺐ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻥ ﻳﻜﻔﺮ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﻗﺒﻠﻪ -

আমি আশা করি- আশুরার রোযার কারণে আল্লাহ তা’আলা অতীতের এক বছরের (সগীরাহ) গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন।

[সহীহ মুসলিমঃ হা-১১৬২, সুনানে তিরমিযীঃ হা-৭৫২]

আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’

তাই,আশুরার রোযার সঙ্গে ৯ মুহাররমের অথবা ১১মুহারমের রোযা রাখাও ভালো।।

মোট কথা এদিন নফল রোজা,দোয়া ইসতেগফার এবং সব রকমের বিদআত থেকে বেঁচে থাকা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কোরআন সুন্নাহ মেনে চলার তাওফিক দান করুন।

___________

লেখক-শিক্ষার্থী, জামিয়া গহপুর,সিলেট।

মেশকাত (স্নাতকোত্তর)