২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ২২ মুহররম ১৪৪১


চলমান অচলাবস্থায় বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল ও সংকুচিত করছে ‘কাশ্মীরে কোন স্বপ্ন দেখতে নেই’, বললেন কাশ্মীরি

রিপোর্টার নামঃ লিহান লিমা: | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:১৯ পিএম

চলমান অচলাবস্থায় বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল ও সংকুচিত করছে ‘কাশ্মীরে কোন স্বপ্ন দেখতে নেই’, বললেন কাশ্মীরি
চলমান অচলাবস্থায় বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল ও সংকুচিত করছে কাশ্মীরিরা ‘কাশ্মীরে কোন স্বপ্ন দেখতে নেই’, বললেন কাশ্মীরি বধূ

গত ৫ আগস্ট থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান কারফিউ, কড়া নিরাপত্তা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বাতিল হচ্ছে কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান। মার্কেট ও বাজার বন্ধ থাকায় বিয়ের কেনাকাটা করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে রাধুঁনি ও কসাই মেলানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়েডিং সাপ্লায়ার ও ইভেন্ট ম্যানেজারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এএফপি

প্রায় এক বছর ধরে নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছিলেন কাশ্মীরের আরশি নিশার। তবে এখন তিনি বিয়েতে আগত অতিথিদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন। তাদের মার্কেটিং ম্যানেজার বিয়েতে তিন দিনের জাঁকজমকপূর্ণ পরিকল্পনা করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ মেকআপ পর্ব, সঙ্গীত ও অতিথি আপ্যায়ন পর্ব। এই পর্বে প্রায় ৭’শরও বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ করা হয়। পরিবেশন করা হয় ১০ থেকে ১৫ পদের বিখ্যাত কাশ্মীরি ‘ওয়াজওয়ান’। কিন্তু বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শতশত কাশ্মীরি পরিবারের মতো নিশারও নিজের বিয়ের এই আড়ম্বরপূর্ণ পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এখন নির্ধারিত দিয়ে ৪০ জন অতিথিকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। তবে এ’কজনও ঠিকমতো পৌঁছাতে পারবেন কি না তা নিশ্চিত নন তিনি।

২৯ বছরের নিশার বলেন, ‘আমি নিজের বিয়ে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু পরিস্থিতির কারণে এটি এখন আর উদযাপন করতে পারছি না। আমাদের ৫ বছরের সম্পর্ক মেনে নিতে পরিবারকে বোঝাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। এখন আমাদের সুখের সময় ছিলো। কিন্তু ‘কাশ্মীরে কোন স্বপ্ন দেখতে নেই।’ এখন আমাদের পরিকল্পনা খুবই ছোট কিন্তু এটাই ভালোভাবে করতে পারবো কি না তা নিয়ে আমি ও আমার পরিবার উদ্বিগ্ন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশ্মীরের স্থানীয় টিভি চ্যানেলে বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত করার শতশত নোটিশ প্রচার করা হয়েছে। সরকারী নিরাপত্তা বাহিনী এখনো রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা ব্যক্তিগত যানবাহন রাস্তায় উঠলেই তা বন্ধ করে দিচ্ছেন।

সামাজিক মর্যাদা নিয়ে সচেতন কাশ্মীরিদের কাছে বিয়ে হলো নিজেদের সম্পদ, আতিথেয়তা ও ভদ্রতা জানান দেয়ার একটি মাধ্যম। কাশ্মীরি বিয়েতে সাধারণত ১ হাজার ৫০০জন অতিথি থাকেন, ব্যয় হয়ে থাকে প্রায় ৩০ হাজার ডলার। বিলাল নামের এক যুবক বলেন, পরিবারগুলো বছরের পর বছর ধরে বিয়ের জন্য অর্থ জমা করে। অনেক বাবা-মা সন্তান জন্মের পরপরই তাদের বিয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। বিলাল জানান, এই মাসে তার ভাইয়ের বিয়েতে মাত্র ১৫ শতাংশ অতিথি এসেছিলো। যা তাদের পরিবারের জন্য ছিলো খুবই হৃদয়বিদারক।

বোন তাহমিনার বিয়ের কয়েকদিন পূর্বে মুনতাজির বলেন, বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় গহনা, পোশাক ও অন্যান্য দ্রব্যাদি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। মুনতাজির জানান, টেইলরের কাছে পোশাকের অর্ডার দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু দোকান বন্ধ, এবং তার সঙ্গে যোগাযোগের কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না।

চলমান অচলাবস্থায় বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল ও সংকুচিত করছে ‘কাশ্মীরে কোন

প্রতিবেদক নাম: লিহান লিমা: ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:১৯ পিএম

গত ৫ আগস্ট থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান কারফিউ, কড়া নিরাপত্তা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বাতিল হচ্ছে কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান। মার্কেট ও বাজার বন্ধ থাকায় বিয়ের কেনাকাটা করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে রাধুঁনি ও কসাই মেলানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়েডিং সাপ্লায়ার ও ইভেন্ট ম্যানেজারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এএফপি

প্রায় এক বছর ধরে নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছিলেন কাশ্মীরের আরশি নিশার। তবে এখন তিনি বিয়েতে আগত অতিথিদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন। তাদের মার্কেটিং ম্যানেজার বিয়েতে তিন দিনের জাঁকজমকপূর্ণ পরিকল্পনা করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ মেকআপ পর্ব, সঙ্গীত ও অতিথি আপ্যায়ন পর্ব। এই পর্বে প্রায় ৭’শরও বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ করা হয়। পরিবেশন করা হয় ১০ থেকে ১৫ পদের বিখ্যাত কাশ্মীরি ‘ওয়াজওয়ান’। কিন্তু বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শতশত কাশ্মীরি পরিবারের মতো নিশারও নিজের বিয়ের এই আড়ম্বরপূর্ণ পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এখন নির্ধারিত দিয়ে ৪০ জন অতিথিকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। তবে এ’কজনও ঠিকমতো পৌঁছাতে পারবেন কি না তা নিশ্চিত নন তিনি।

২৯ বছরের নিশার বলেন, ‘আমি নিজের বিয়ে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু পরিস্থিতির কারণে এটি এখন আর উদযাপন করতে পারছি না। আমাদের ৫ বছরের সম্পর্ক মেনে নিতে পরিবারকে বোঝাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। এখন আমাদের সুখের সময় ছিলো। কিন্তু ‘কাশ্মীরে কোন স্বপ্ন দেখতে নেই।’ এখন আমাদের পরিকল্পনা খুবই ছোট কিন্তু এটাই ভালোভাবে করতে পারবো কি না তা নিয়ে আমি ও আমার পরিবার উদ্বিগ্ন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশ্মীরের স্থানীয় টিভি চ্যানেলে বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল বা স্থগিত করার শতশত নোটিশ প্রচার করা হয়েছে। সরকারী নিরাপত্তা বাহিনী এখনো রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা ব্যক্তিগত যানবাহন রাস্তায় উঠলেই তা বন্ধ করে দিচ্ছেন।

সামাজিক মর্যাদা নিয়ে সচেতন কাশ্মীরিদের কাছে বিয়ে হলো নিজেদের সম্পদ, আতিথেয়তা ও ভদ্রতা জানান দেয়ার একটি মাধ্যম। কাশ্মীরি বিয়েতে সাধারণত ১ হাজার ৫০০জন অতিথি থাকেন, ব্যয় হয়ে থাকে প্রায় ৩০ হাজার ডলার। বিলাল নামের এক যুবক বলেন, পরিবারগুলো বছরের পর বছর ধরে বিয়ের জন্য অর্থ জমা করে। অনেক বাবা-মা সন্তান জন্মের পরপরই তাদের বিয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। বিলাল জানান, এই মাসে তার ভাইয়ের বিয়েতে মাত্র ১৫ শতাংশ অতিথি এসেছিলো। যা তাদের পরিবারের জন্য ছিলো খুবই হৃদয়বিদারক।

বোন তাহমিনার বিয়ের কয়েকদিন পূর্বে মুনতাজির বলেন, বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় গহনা, পোশাক ও অন্যান্য দ্রব্যাদি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। মুনতাজির জানান, টেইলরের কাছে পোশাকের অর্ডার দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু দোকান বন্ধ, এবং তার সঙ্গে যোগাযোগের কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না।