২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১


বাড়ছে ডিভোর্স, ৭০ শতাংশই দিচ্ছেন নারীরা

রিপোর্টার নামঃ ইউএনবি | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৬ পিএম

বাড়ছে ডিভোর্স, ৭০ শতাংশই দিচ্ছেন নারীরা
বাড়ছে ডিভোর্স, ৭০ শতাংশই দিচ্ছেন নারীরা

খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) জুলাই পর্যন্ত গত সাড়ে ১০ বছরে ১৪ হাজার ৮৮টি বিয়ে বিচ্ছেদের তথ্য জমা পড়েছে। এ পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে, সেখানে বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিয়ে বিচ্ছেদে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব, পরকীয়া, নারী-পুরুষের উভয়ের ভারসাম্যহীন উচ্চাভিলাসী মনোভাব, পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক ভাবধারার অনুকরণ, সাংসারিক বন্ধনের প্রতি উদাসিনতা, নারীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পারিবারিক অভিযোজনের আপোসহীন মনোভাবের কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের সচিব আজমুল হক বলেন, গত ১০ বছরে ১৪ হাজার ৮৮টি বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৯৩২টি, ২০১০ সালে ৯৩৩, ২০১১ সালে ১০৭৪, ২০১২ সালে ১১৮১, ২০১৩ সালে ১২৫৪, ২০১৪ সালে ১৪১৯, ২০১৫ সালে ১৪০৪, ২০১৬ সালে ১৪৮৭, ২০১৭ সালে ১৫৯৫, ২০১৮ সালে ১৭১৯ এবং ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ১০২০টি বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। তালাক দেওয়া পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি। সেখানে শতকরা ৩০ ভাগ পুরুষ এবং নারীর সংখ্যা শতকরা ৭০ ভাগ। 

সাত বছর আগে স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়া আছিয়া বেগম বলেন, কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে পরিবারের পছন্দে তার বিয়ে হয়। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে এবং তার আচরণ স্বাভাবিকভাবে নিতে না পারায় তালাক দেন তিনি। সাত বছর চলে গেলেও পরে আর সংসার হয়নি। বর্তমানে তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও হতাশার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক ‍বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, ‘নিজের পছন্দে আমার বিয়ে হয়। কিন্তু সারাক্ষণ স্বামীর সন্দেহ ও পারিবারিক হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারিনি, যার কারণে স্বামীকে তালাক দেই।’

খুলনা সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব, নারী-পুরুষের উভয়ের ভারসাম্যহীন উচ্চভিলাসী মনোভাব, পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক ভাবধারার অনুকরণ, সাংসারিক বন্ধনের প্রতি উদাসিনতা, পারিবারিক অভিযোজনের আপোসহীন মনোভাবের কারণে বিবাহ-বিচ্ছেদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, সমাজে নারীদের আত্মমর্যদা, কর্মপরিধি ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ। পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে তারা পেশাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বামীর ওপর ভরসা করতে চান না। এ অবস্থায় পরিবারে সমস্যা তৈরি হলে তারা বিয়ে বিচ্ছেদের দিকে যাচ্ছেন বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, ডিভোর্সের প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ছে। তারা বেড়ে উঠছে ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান হিসেবে, যা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা এক ধরনের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগে। তাদের জীবন হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক।

বিয়ে বিচ্ছেদ প্রতিকারে পারিবার গঠন ও পারিবারিক সম্পর্ক তৈরিতে বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রকাশ চন্দ্র। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন, বাঙালি সংস্কৃতি মননে গভীর চেতনায় লালন, অপসংস্কৃতিকে প্রতিহতকরণ, স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের মর্যাদা দেয়া প্রভৃতি মানসিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হ্রাস করা সম্ভব।

বাড়ছে ডিভোর্স, ৭০ শতাংশই দিচ্ছেন নারীরা

প্রতিবেদক নাম: ইউএনবি ,

প্রকাশের সময়ঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৬ পিএম

খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) জুলাই পর্যন্ত গত সাড়ে ১০ বছরে ১৪ হাজার ৮৮টি বিয়ে বিচ্ছেদের তথ্য জমা পড়েছে। এ পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে, সেখানে বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিয়ে বিচ্ছেদে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব, পরকীয়া, নারী-পুরুষের উভয়ের ভারসাম্যহীন উচ্চাভিলাসী মনোভাব, পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক ভাবধারার অনুকরণ, সাংসারিক বন্ধনের প্রতি উদাসিনতা, নারীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পারিবারিক অভিযোজনের আপোসহীন মনোভাবের কারণে বিয়ে বিচ্ছেদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের সচিব আজমুল হক বলেন, গত ১০ বছরে ১৪ হাজার ৮৮টি বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৯৩২টি, ২০১০ সালে ৯৩৩, ২০১১ সালে ১০৭৪, ২০১২ সালে ১১৮১, ২০১৩ সালে ১২৫৪, ২০১৪ সালে ১৪১৯, ২০১৫ সালে ১৪০৪, ২০১৬ সালে ১৪৮৭, ২০১৭ সালে ১৫৯৫, ২০১৮ সালে ১৭১৯ এবং ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ১০২০টি বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। তালাক দেওয়া পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি। সেখানে শতকরা ৩০ ভাগ পুরুষ এবং নারীর সংখ্যা শতকরা ৭০ ভাগ। 

সাত বছর আগে স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়া আছিয়া বেগম বলেন, কলেজ শিক্ষকের সঙ্গে পরিবারের পছন্দে তার বিয়ে হয়। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে এবং তার আচরণ স্বাভাবিকভাবে নিতে না পারায় তালাক দেন তিনি। সাত বছর চলে গেলেও পরে আর সংসার হয়নি। বর্তমানে তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও হতাশার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক ‍বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, ‘নিজের পছন্দে আমার বিয়ে হয়। কিন্তু সারাক্ষণ স্বামীর সন্দেহ ও পারিবারিক হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারিনি, যার কারণে স্বামীকে তালাক দেই।’

খুলনা সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব, নারী-পুরুষের উভয়ের ভারসাম্যহীন উচ্চভিলাসী মনোভাব, পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক ভাবধারার অনুকরণ, সাংসারিক বন্ধনের প্রতি উদাসিনতা, পারিবারিক অভিযোজনের আপোসহীন মনোভাবের কারণে বিবাহ-বিচ্ছেদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, সমাজে নারীদের আত্মমর্যদা, কর্মপরিধি ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বেড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ। পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে তারা পেশাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বামীর ওপর ভরসা করতে চান না। এ অবস্থায় পরিবারে সমস্যা তৈরি হলে তারা বিয়ে বিচ্ছেদের দিকে যাচ্ছেন বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।

এই বিশ্লেষক আরও বলেন, ডিভোর্সের প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ছে। তারা বেড়ে উঠছে ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান হিসেবে, যা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা এক ধরনের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগে। তাদের জীবন হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক।

বিয়ে বিচ্ছেদ প্রতিকারে পারিবার গঠন ও পারিবারিক সম্পর্ক তৈরিতে বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রকাশ চন্দ্র। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন, বাঙালি সংস্কৃতি মননে গভীর চেতনায় লালন, অপসংস্কৃতিকে প্রতিহতকরণ, স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কের মর্যাদা দেয়া প্রভৃতি মানসিকতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ হ্রাস করা সম্ভব।