২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ২২ মুহররম ১৪৪১


এবার সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ পাচ্ছেন না ইসির উপসচিবরা

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৪ এএম

এবার সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ পাচ্ছেন না ইসির উপসচিবরা
এবার সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ পাচ্ছেন না ইসির উপসচিবরা

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জে সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ সুবিধা দিলেও উপসচিবদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা বাতিলের বিষয়ে মতামত দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, উপসচিব বা সমপর্যায় ও তদুর্ধ্ব কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকার প্রদানের আদেশ বাতিল করতে হবে।

সূত্র জানায়, ২৮ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসনের বাইরেও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব এবং তদুর্ধ্ব কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত গাড়ি কেনার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ১৯ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট অনু বিভাগের উপসচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এটি বাতিল করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারের উপসচিব থেকে শুরু করে তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা গাড়িসেবা নগদায়নের সুবিধা পাচ্ছেন। এর আওতায় উপসচিবরা গাড়ি কেনার জন্য বিনাসুদে এককালীন ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এ গাড়ি পরিচালনার জন্য মাসে ভাতা পাবেন ৫০ হাজার টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কর্মরত উপসচিব বা সমপর্যায়ের এবং তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য এ সুবিধা চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে সম্মতিও দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্ত ইসির সে প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

ইসি সচিবালয়ে কর্মরত উপসচিবদের জন্য এ সুবিধার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কর্মরত উপসচিব বা সমপর্যায়ের এবং তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনুকূলে সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকারকরণ এবং সুদমুক্ত অগ্রিম ও গাড়িসেবা নগদায়নের নীতিমালা চূড়ান্তকরণের পূর্বে অর্থ বিভাগের সম্মতি গ্রহণ করা হয়নি।

এতে আরও বলা হয়, অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামোং দ্যা ডিফারেন্ট মিনিস্টার্স অ্যান্ড ডিভিশনস (সিডিউল ১ অব দ্যা রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬) এর ফাইন্যান্স ডিভিশন অংশের ক্রমিক নম্বর-৭ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯ এর ১২ ধারা মোতাবেক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়িসেবা নগদায়ন নীতিমালা ২০১৯ জারির আগে অর্থ বিভাগের সম্মতি নেয়া প্রয়োজন ছিল।

এ ছাড়াও এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ২৮ এপ্রিলের স্মারকে প্রদত্ত মতামতের সঙ্গে অর্থ বিভাগ একমত নয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, সার্বিক বিষয় পর্যালোচনান্তে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে উপযুক্ত বিষয়ে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব বা সমপর্যায়ের ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়িসেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০১৯ এবং সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকার প্রদানের আদেশ বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের (যাদের জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে পদায়ন করা হয় না) সুদমুক্ত গাড়ির ঋণ (১ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ) সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বিভিন্ন স্তরের ৭৫ কর্মকর্তার পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল। ৫১৭ জন সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল ২ হাজার। ৯ জন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চতুর্থ গ্রেড দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২৯ জনকে উপসচিব পদে (পঞ্চম গ্রেড) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ৩৭ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল।

সূত্র জানায়, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সচিবদের ধরা হলেও ২০১৭ সালের জুনে উপসচিবদেরও সরকারি গাড়ি ব্যবহারের দিক থেকে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গাড়িসেবা নগদায়নের সুবিধাও পাচ্ছেন তারা। এর আওতায় উপসচিবরা গাড়ি কেনার জন্য বিনাসুদে এককালীন ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এ গাড়ি পরিচালনার জন্য মাসে ভাতা পাবেন ৫০ হাজার টাকা। বিনা সুদে সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক হওয়ার এবং সরকারি খরচে গাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণ করার এমন সুযোগ সব কর্মকর্তাই পেতে চান। কিন্তু উপসচিবদের এ সুযোগ দেয়া হলেও প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া অন্যান্য ক্যাডারের একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের এর আওতায় আনা হয়নি।

২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম এবং গাড়িসেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০১৭ (সংশোধিত)’ প্রণয়ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই নীতিমালা অনুযায়ী, গাড়ি কেনার জন্য ঋণ পেতে হলে সরকারি কর্মকর্তাকে আগে সার্বক্ষণিক গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হতে হবে। চাকরি জীবনে একবারই সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে, যা সর্বোচ্চ ১২০টি সমান কিস্তিতে শোধ করা যাবে।

ঋণ নেয়ার পর প্রতি মাসের বেতন থেকে সরকার কিস্তির টাকা কেটে রাখবে। চাকরির মেয়াদকালে সব টাকা আদায় না হলে তা সংশ্লষ্টি কর্মকর্তার গ্র্যাচুইটি বা পেনশনের টাকা থেকে কেটে রাখা হবে। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত এককালীন ৩০ লাখ টাকা ঋণের ওপর এক শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়। ফলে প্রাধিকারপ্রাপ্ত অর্থাৎ সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম-সচিব ও উপসচিবদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ৩০ লাখ টাকার ঋণ নিতে ৩০ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

সরকারের উপসচিবদের গাড়ি সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিভিন্ন ক্যাডারের সমমানের কর্মকর্তারা। সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করে তারাও সরকারের কাছে একই সুবিধা দাবি করেছেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) সমন্বয় কমিটি, বিসিএস ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা গাড়ি সুবিধা চেয়েছেন। শিক্ষা, কৃষিসহ প্রতিটি ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাসোসিয়েশন একই দাবি জানানিয়েছেন। বিভিন্ন ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠনের নেতাদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এবার সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ পাচ্ছেন না ইসির উপসচিবরা

প্রতিবেদক নাম: স্টাফ রিপোর্টার: ,

প্রকাশের সময়ঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৪ এএম

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জে সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ সুবিধা দিলেও উপসচিবদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা বাতিলের বিষয়ে মতামত দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, উপসচিব বা সমপর্যায় ও তদুর্ধ্ব কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকার প্রদানের আদেশ বাতিল করতে হবে।

সূত্র জানায়, ২৮ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসনের বাইরেও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব এবং তদুর্ধ্ব কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত গাড়ি কেনার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ১৯ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট অনু বিভাগের উপসচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এটি বাতিল করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারের উপসচিব থেকে শুরু করে তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা গাড়িসেবা নগদায়নের সুবিধা পাচ্ছেন। এর আওতায় উপসচিবরা গাড়ি কেনার জন্য বিনাসুদে এককালীন ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এ গাড়ি পরিচালনার জন্য মাসে ভাতা পাবেন ৫০ হাজার টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কর্মরত উপসচিব বা সমপর্যায়ের এবং তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য এ সুবিধা চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে সম্মতিও দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্ত ইসির সে প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

ইসি সচিবালয়ে কর্মরত উপসচিবদের জন্য এ সুবিধার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কর্মরত উপসচিব বা সমপর্যায়ের এবং তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনুকূলে সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকারকরণ এবং সুদমুক্ত অগ্রিম ও গাড়িসেবা নগদায়নের নীতিমালা চূড়ান্তকরণের পূর্বে অর্থ বিভাগের সম্মতি গ্রহণ করা হয়নি।

এতে আরও বলা হয়, অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামোং দ্যা ডিফারেন্ট মিনিস্টার্স অ্যান্ড ডিভিশনস (সিডিউল ১ অব দ্যা রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬) এর ফাইন্যান্স ডিভিশন অংশের ক্রমিক নম্বর-৭ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯ এর ১২ ধারা মোতাবেক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়িসেবা নগদায়ন নীতিমালা ২০১৯ জারির আগে অর্থ বিভাগের সম্মতি নেয়া প্রয়োজন ছিল।

এ ছাড়াও এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ২৮ এপ্রিলের স্মারকে প্রদত্ত মতামতের সঙ্গে অর্থ বিভাগ একমত নয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, সার্বিক বিষয় পর্যালোচনান্তে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে উপযুক্ত বিষয়ে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব বা সমপর্যায়ের ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম ও গাড়িসেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০১৯ এবং সার্বক্ষণিক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকার প্রদানের আদেশ বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের (যাদের জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে পদায়ন করা হয় না) সুদমুক্ত গাড়ির ঋণ (১ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ) সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বিভিন্ন স্তরের ৭৫ কর্মকর্তার পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল। ৫১৭ জন সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল ২ হাজার। ৯ জন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে চতুর্থ গ্রেড দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২৯ জনকে উপসচিব পদে (পঞ্চম গ্রেড) এবং সিনিয়র সহকারী সচিব পদে ৩৭ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল।

সূত্র জানায়, প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সচিবদের ধরা হলেও ২০১৭ সালের জুনে উপসচিবদেরও সরকারি গাড়ি ব্যবহারের দিক থেকে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গাড়িসেবা নগদায়নের সুবিধাও পাচ্ছেন তারা। এর আওতায় উপসচিবরা গাড়ি কেনার জন্য বিনাসুদে এককালীন ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এ গাড়ি পরিচালনার জন্য মাসে ভাতা পাবেন ৫০ হাজার টাকা। বিনা সুদে সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক হওয়ার এবং সরকারি খরচে গাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণ করার এমন সুযোগ সব কর্মকর্তাই পেতে চান। কিন্তু উপসচিবদের এ সুযোগ দেয়া হলেও প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া অন্যান্য ক্যাডারের একই পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের এর আওতায় আনা হয়নি।

২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম এবং গাড়িসেবা নগদায়ন নীতিমালা, ২০১৭ (সংশোধিত)’ প্রণয়ন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই নীতিমালা অনুযায়ী, গাড়ি কেনার জন্য ঋণ পেতে হলে সরকারি কর্মকর্তাকে আগে সার্বক্ষণিক গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হতে হবে। চাকরি জীবনে একবারই সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে, যা সর্বোচ্চ ১২০টি সমান কিস্তিতে শোধ করা যাবে।

ঋণ নেয়ার পর প্রতি মাসের বেতন থেকে সরকার কিস্তির টাকা কেটে রাখবে। চাকরির মেয়াদকালে সব টাকা আদায় না হলে তা সংশ্লষ্টি কর্মকর্তার গ্র্যাচুইটি বা পেনশনের টাকা থেকে কেটে রাখা হবে। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত এককালীন ৩০ লাখ টাকা ঋণের ওপর এক শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়। ফলে প্রাধিকারপ্রাপ্ত অর্থাৎ সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম-সচিব ও উপসচিবদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ৩০ লাখ টাকার ঋণ নিতে ৩০ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।

সরকারের উপসচিবদের গাড়ি সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিভিন্ন ক্যাডারের সমমানের কর্মকর্তারা। সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করে তারাও সরকারের কাছে একই সুবিধা দাবি করেছেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) সমন্বয় কমিটি, বিসিএস ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তারা গাড়ি সুবিধা চেয়েছেন। শিক্ষা, কৃষিসহ প্রতিটি ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাসোসিয়েশন একই দাবি জানানিয়েছেন। বিভিন্ন ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠনের নেতাদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।