২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১


ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আসামের লাখ লাখ বাঙালি

রিপোর্টার নামঃ আন্তর্জাতিক ডেস্ক: | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৫৫ পিএম

ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আসামের লাখ লাখ বাঙালি
ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আসামের লাখ লাখ বাঙালি

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পক্ষের উদ্বেগের মধ্যেই কাল শুক্রবার প্রকাশ হবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)। ইতোমধ্যে এই তালিকার খসড়া থেকে বাদ পড়েছে রাজ্যটির প্রায় দুই লাখ মানুষ, যাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলমান। আরও অনেকের নামও হয়তো বাদ পড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আর এই তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই ওই ব্যক্তিদের সেখানে চিহ্নিত করা হচ্ছে বিদেশি হিসেবে। ফলে এনআরসি ঘোষণা হলে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে ভীষণ আতঙ্কে দিন পার করছেন তারা। এই তালিকা ঘোষিত হলে আসামে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, এনআরসি থেকে বাদ পড়া মানুষদের উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এর আগে ভারতের কেন্দ্রে এবং আসাম রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতারা প্রথমে হুমকি দিয়েছিলেন, এনআরসিতে যাদের নাম থাকবে না তারা বিদেশি বলে চিহ্নিত হবে। এসব মানুষকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু কোথায়? ভারত সরকারের অভিযোগ ছিল, এই অবৈধ অভিবাসীরা সবাই বাংলাদেশ থেকে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে, আসামে তাদের কোনো নাগরিক নেই। ভারতে অবাঞ্ছিত এই মানুষদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ারও প্রশ্নই ওঠে না।

ফলে এনআরসিতে শেষ পর্যন্ত যাদের নাম উঠবে না, তাদের হয়তো আপাতত আটক রাখা হবে সরকারি ডিটেনশন ক্যাম্পে। আসামের বিভিন্ন জেলায় যে জেলখানা আছে, এতদিন সেগুলো এই অ-নাগরিকদের বন্দিশিবির হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি বিরাট বিরাট এলাকাজুড়ে সম্প্রতি নতুন করে তৈরি হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্প। যতদিন না এসব মানুষের প্রকৃত নাগরিকত্ব নির্ধারিত হচ্ছে, সেখানেই হয়তো আটক রাখা হবে এদের।

যদিও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক খবরে জানায়, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছে, যাদের নাম এনআরসি তালিকায় উঠবে না, তারা সঙ্গে সঙ্গেই বিদেশিতে পরিণত হবে না। তা সত্ত্বেও আসামের বহু মানুষ জানেন না তারা ১ সেপ্টেম্বর কী করবেন। মন্ত্রণালয় বলছে, তালিকাছুটরা যাতে এনআরসিভুক্ত হতে পারে, সে জন্য বিদেশি ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদনের ব্যাপারে সব ধরনের সাহায্য করা হবে।

গত ১৯ আগস্ট দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনআরসি নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল ও রাজ্যের শীর্ষ আমলারা। বৈঠকে রাজ্যের তরফ থেকে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। একটি সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশি ট্রাইব্যুনালই কেবল কাউকে বিদেশি ঘোষণা করতে পারে। সোনওয়াল ইঙ্গিত দিয়েছেন, এনআরসি আপডেট প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন উঠলে পরে সরকার কোনো আইন আনতে পারে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি যে, এনআরসির ধাক্কা সামলাতে সে আইনে কী থাকবে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আসামের লাখ লাখ বাঙালি

প্রতিবেদক নাম: আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ,

প্রকাশের সময়ঃ ৩০ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৫৫ পিএম

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পক্ষের উদ্বেগের মধ্যেই কাল শুক্রবার প্রকাশ হবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)। ইতোমধ্যে এই তালিকার খসড়া থেকে বাদ পড়েছে রাজ্যটির প্রায় দুই লাখ মানুষ, যাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলমান। আরও অনেকের নামও হয়তো বাদ পড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আর এই তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই ওই ব্যক্তিদের সেখানে চিহ্নিত করা হচ্ছে বিদেশি হিসেবে। ফলে এনআরসি ঘোষণা হলে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে ভীষণ আতঙ্কে দিন পার করছেন তারা। এই তালিকা ঘোষিত হলে আসামে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, এনআরসি থেকে বাদ পড়া মানুষদের উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এর আগে ভারতের কেন্দ্রে এবং আসাম রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতারা প্রথমে হুমকি দিয়েছিলেন, এনআরসিতে যাদের নাম থাকবে না তারা বিদেশি বলে চিহ্নিত হবে। এসব মানুষকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু কোথায়? ভারত সরকারের অভিযোগ ছিল, এই অবৈধ অভিবাসীরা সবাই বাংলাদেশ থেকে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে, আসামে তাদের কোনো নাগরিক নেই। ভারতে অবাঞ্ছিত এই মানুষদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ারও প্রশ্নই ওঠে না।

ফলে এনআরসিতে শেষ পর্যন্ত যাদের নাম উঠবে না, তাদের হয়তো আপাতত আটক রাখা হবে সরকারি ডিটেনশন ক্যাম্পে। আসামের বিভিন্ন জেলায় যে জেলখানা আছে, এতদিন সেগুলো এই অ-নাগরিকদের বন্দিশিবির হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি বিরাট বিরাট এলাকাজুড়ে সম্প্রতি নতুন করে তৈরি হয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্প। যতদিন না এসব মানুষের প্রকৃত নাগরিকত্ব নির্ধারিত হচ্ছে, সেখানেই হয়তো আটক রাখা হবে এদের।

যদিও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক খবরে জানায়, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিয়েছে, যাদের নাম এনআরসি তালিকায় উঠবে না, তারা সঙ্গে সঙ্গেই বিদেশিতে পরিণত হবে না। তা সত্ত্বেও আসামের বহু মানুষ জানেন না তারা ১ সেপ্টেম্বর কী করবেন। মন্ত্রণালয় বলছে, তালিকাছুটরা যাতে এনআরসিভুক্ত হতে পারে, সে জন্য বিদেশি ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদনের ব্যাপারে সব ধরনের সাহায্য করা হবে।

গত ১৯ আগস্ট দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এনআরসি নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল ও রাজ্যের শীর্ষ আমলারা। বৈঠকে রাজ্যের তরফ থেকে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। একটি সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশি ট্রাইব্যুনালই কেবল কাউকে বিদেশি ঘোষণা করতে পারে। সোনওয়াল ইঙ্গিত দিয়েছেন, এনআরসি আপডেট প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন উঠলে পরে সরকার কোনো আইন আনতে পারে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি যে, এনআরসির ধাক্কা সামলাতে সে আইনে কী থাকবে।