১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


ফরিদপুরে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ২

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০১৯, ১০:১৭ পিএম

ফরিদপুরে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ২
ফরিদপুরে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ২

ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের কাইচাইল মধ্যপাড়া দারুল উলুম মাদরাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার মৃত আবু বক্করের ছেলে রওশন আলী মিয়া (৫২) ও একই এলাকার রায়হান মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়া (২৫)।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ঠান্ডুর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া হৃদয়ের বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে আজও এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিতে আহতদের প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা দুইজনই ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক।

আহত অবস্থায় রায়হান উদ্দিন মিয়া (৬৫), আনিস মীর (২০), গোলাম রসুল বিপ্লব (৩০), গোলাম মওলা (৩০), আবুল কালাম (৩৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে আনিস মিয়া (২৪), ফারুক মাতুব্বর (৪০), চুন্নু মিয়া (৪৮), সুমন মিয়া (২৮) ও বাবলু মিয়াকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়া ও তার ভাই হাসান মিয়া একটি মাইক্রোবাসে করে এলাকায় আসেন। এ সময় তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে ওই মাদরাসা প্রাঙ্গণে কোরবানির আয়োজন নিয়ে পরামর্শ করছিলেন। এ অবস্থায় গাড়ির মধ্যে থেকে তার সমর্থকদের ওপর নির্বিচারে গুলি করে পালিয়ে যায় হানিফ মিয়া। এ ঘটনায় তার দুই সমর্থক নিহত এবং আটজন আহত হন।

তিনি আরও বলেন, ‘হানিফ মিয়া নিজে সর্টগান থেকে এ গুলি চালিয়েছে।’

কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়ার ভাই জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মিয়া বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া। তিনি তার ভাইসহ পাঁচজন একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসেন কোরবানি দিতে। মাদরাসা এলাকায় এলে চেয়ারম্যানের চাচা রওশন, রুস্তম, রায়হান, মাওলা ও বিপ্লবসহ ১০/১২ জন লোক তাদের বাধা দেয়। তারা গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তাদের ওপর কাঠ, লাঠি নিয়ে হামলা করে। তারাও কাঠ লাঠি কেড়ে নিয়ে পাল্টা হামলা করে। এক সময় গুলির ঘটনা ঘটে।

তিনি দাবি করে বলেন, এ সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি তার ভাই হানিফসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তারা ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হবেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাইচাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ফরিদপুরে আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ২

প্রতিবেদক নাম: স্টাফ রিপোর্টার: ,

প্রকাশের সময়ঃ ১০ আগস্ট ২০১৯, ১০:১৭ পিএম

ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের কাইচাইল মধ্যপাড়া দারুল উলুম মাদরাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার মৃত আবু বক্করের ছেলে রওশন আলী মিয়া (৫২) ও একই এলাকার রায়হান মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়া (২৫)।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ঠান্ডুর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া হৃদয়ের বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে আজও এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিতে আহতদের প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা দুইজনই ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক।

আহত অবস্থায় রায়হান উদ্দিন মিয়া (৬৫), আনিস মীর (২০), গোলাম রসুল বিপ্লব (৩০), গোলাম মওলা (৩০), আবুল কালাম (৩৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে আনিস মিয়া (২৪), ফারুক মাতুব্বর (৪০), চুন্নু মিয়া (৪৮), সুমন মিয়া (২৮) ও বাবলু মিয়াকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়া ও তার ভাই হাসান মিয়া একটি মাইক্রোবাসে করে এলাকায় আসেন। এ সময় তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে ওই মাদরাসা প্রাঙ্গণে কোরবানির আয়োজন নিয়ে পরামর্শ করছিলেন। এ অবস্থায় গাড়ির মধ্যে থেকে তার সমর্থকদের ওপর নির্বিচারে গুলি করে পালিয়ে যায় হানিফ মিয়া। এ ঘটনায় তার দুই সমর্থক নিহত এবং আটজন আহত হন।

তিনি আরও বলেন, ‘হানিফ মিয়া নিজে সর্টগান থেকে এ গুলি চালিয়েছে।’

কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়ার ভাই জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হাসান মিয়া বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া। তিনি তার ভাইসহ পাঁচজন একটি প্রাইভেটকার নিয়ে এলাকায় আসেন কোরবানি দিতে। মাদরাসা এলাকায় এলে চেয়ারম্যানের চাচা রওশন, রুস্তম, রায়হান, মাওলা ও বিপ্লবসহ ১০/১২ জন লোক তাদের বাধা দেয়। তারা গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তাদের ওপর কাঠ, লাঠি নিয়ে হামলা করে। তারাও কাঠ লাঠি কেড়ে নিয়ে পাল্টা হামলা করে। এক সময় গুলির ঘটনা ঘটে।

তিনি দাবি করে বলেন, এ সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি তার ভাই হানিফসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তারা ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হবেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাইচাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।