১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


ঈদের রূপচর্চার সমাধান

রিপোর্টার নামঃ লাইফস্টাইল ডেস্ক: | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০৫:০৩ পিএম

ঈদের রূপচর্চার সমাধান
ঈদের রূপচর্চার সমাধান

রূপচর্চা নিয়ে মেয়েরা সবসময়ই একটা ভাবনার মধ্যে থাকেন। কখন কিভাবে সাজবেন তা নিয়ে চিন্তার অন্ত নেই। রূপচর্চা বা সাজগোজ এমন একটা বিষয়, যা আবহাওয়া, পরিবেশ কিংবা পোশাকের ওপর নির্ভর করে ব্যবস্থা নিতে হয়। এখন চলছে বর্ষাকাল। সেই সঙ্গে রয়েছে তীব্র ও ভ্যাপসা গরম। এই ঋতুতে মেয়েরা রূপচর্চা করেন বৃষ্টি আর তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখেই। এবারের ঈদের রূপচর্চা তাই গরম আর বৃষ্টিকে বিবেচনায় রেখে করতে হবে। ঈদের রূপচর্চা সম্পর্কে টিপস দিয়েছেন সাবেক চিত্রনায়িকা ও আন্না’স মেকওভার এর স্বত্বাধিকারী বিউটি এক্সপার্ট নাহিদা আশরাফ আন্না।


সারাদিন শত কাজের ব্যস্ততায় থাকতে থাকতে ত্বকের অবস্থা খুবই বাজে হয়ে যায়। বিশেষ করে এই গরমের দিনগুলোতে। সারাদিনের কাজের ক্লান্তি, রোদের তীব্রতা এবং ধুলোবালির ছাপ পড়ে যায় ত্বকে। আর কোরবানী ঈদে তো আমাদের আপুদের কাজের শেষ নাই।

দিন শেষে ঈদের দিন বেড়ানোর কথা থাকলে ত্বকের এই বাজে অবস্থা দেখে অনেকের তাই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। তবে এতে শংকিত হওয়ার কিছু নেই। এই সমস্যা সমাধানও রয়েছে। মাত্র ১৫ মিনিট ব্যয় করে ত্বকের উজ্জলতা আনা যায় খুব সহজে। ত্বকও হবে নরম এবং কোমল। জেনে নিন ত্বকের উজ্জ্বলতা মাত্র ১৫ মিনিটে ফিরিয়ে আনার সহজ দুটি পদ্ধতি।

প্রথম পদ্ধতি :

একটি বাটিতে একটি ডিমের সাদা অংশ নিন, এতে দুই টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়ে গরম পানির ভাপ নিন ৩/৪ মিনিট। এরপর ডিম ও লেবুর মাস্কটি লাগান ত্বকে। ১০-১২ মিনিট পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে মুছে ফেলুন। ফিরে আসবে ত্বকের শুভ্রতা ও উজ্জলতা।

দ্বিতীয় পদ্ধতি :

একটি বাটিতে এক টেবিল চামচ ময়দা নিন। এতে এক টেবিল চামচ মধু এবং পরিমাণ মতো দুধ দিয়ে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। খুব ভালো করে মেশাবেন, যেনো পেস্টটি একটু পাতলা ধরনের হয়। এরপর পেস্টটি একটি ব্রাশের সাহায্যে মুখ ও গলার ত্বকে লাগান। চাইলে হাতে ও পায়েও লাগাতে পারেন। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মাস্কটি ধুয়ে ফেলুন। এরপর সামান্য ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এতে সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে মুখমণ্ডলের ত্বক।


ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে মুখমণ্ডলের ব্ল্যাক হেড রিমুভ করা খুবই জরুরী।

ব্ল্যাকহেড বিষয়টির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। বিশেষ করে নাকের পাশের অংশে এটি বেশিই হয়ে থাকে এবং জায়গাটিকে বেশ কালচে করে ফেলে। মূলত বিভিন্ন ধরনের ময়লা, তেল আর মেদ থেকে ক্ষরিত রসের সমন্বয়ে এক ধরনের কালো দাগ গড়ে তোলে নাকের পাশে, ঠোঁটের নিচে, থুতনিতে এবং কপালে। আর এটি শক্ত হয়ে ত্বকের ছিদ্রপথ বন্ধ করে ফেলে। এগুলোই ব্ল্যাকহেড নামে বিশেষ পরিচিত।

১. প্রথমত, আপনার ত্বকের বিভিন্ন মরা চামড়া, যেগুলো ত্বকের ছিদ্রপথ বন্ধ করে ফেলে – এটা নির্মূল করুন। এর জন্য ভালো একটি ডিপ ফেস ক্লিনার ব্যবহার করুন।

২. এরপরে পরিস্কার করা মুখে গরম পানির ভাব দিয়ে ১০ মিনিট স্টিম করুন। এতে ত্বকের ব্ল্যাকহেডগুলো নরম হয়ে যাবে। ফলে এগুলো নির্মূল করা বেশ সহজ হয়ে যাবে।

৩. এক কাপ পানিতে চার টেবিল চামচ বেকিং সোডা পেস্ট করে মুখে লাগান। পেস্টটি মুখে ১০ মিনিট রাখার পরে হালকাভাবে ধুয়ে নিন। বেকিং সোডা ত্বকে থাকা বিভিন্ন ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করে। তবে মুখটি ধোয়ার জন্য হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

শুধু মুখের কেয়ার নিলে তো হবে না এবার আসা যাক চুলের কেয়ার এ।


শুধু বড় চুল মানেই যে সুন্দর, এই ধারনা টা কিন্তু ভুল

নিয়মিত পরিচর্যা করে ছোট বা মাঝারি চুলকেও নজরকাড়া করে তোলা সম্ভব। দুঃখজনক হলেও কথাটা সত্য যে, আমরা তখনই চুলের পরিচর্যা শুরু করি, যখন আমাদের চুলের সমস্যা প্রখর ভাবে দেখা দেয়। কিন্তু সমস্যা শুরু হওয়ার আগে থেকেই নিয়মিত রুটিন মাফিক চুলের যত্ন নিলে খুশকি, চুলের নির্জীবতা এবং চুল পরার মত সমস্যাগুলো এড়ানো সম্ভব। আর ঈদের আগে চুল কে সুন্দর ঝলমলে করে তুলুন নিচের নিয়মগুলো মেনে।

চুলের যত্নে হেয়ার মাস্ক :

চুল সিল্কি করতে চাইলে ডিম ফেটিয়ে তাতে লেবুর রস মিশিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

ডিম এবং মধুর মাস্ক চুলের ভলিউম বাড়াতে সাহায্য করে। মাথার তালু ঠাণ্ডা রাখার একটি অব্যর্থ উপাদান হলো আলভেরার শাঁস বা জুস। এর সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

পেঁয়াজের রস চুল গজাতে সাহায্য করে। ১৫ দিনে একবার মাথার তালুতে তুলোয় করে পেঁয়াজের রস লাগাবেন।

যারা কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে চান না, তারা রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেটার পানি ছেঁকে শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।


এ তো গেল চুলের বাইরের যত্নের কথা। ভালো চুল পেতে হলে খাওয়া দাওয়াতেও নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রোটিন যেমন – মাছ, ডিম এবং ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার চুলের জন্য খুব ভালো। শাক সবজি এবং ফলও খেতে হবে প্রচুর। পেটের সমস্যা থেকে অনেক সময় চুল পড়ে। তাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার, আয়রন মেশিন, কার্লার, স্প্রে, হেয়ার চক, হেয়ার কালার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ডাক্তারের এর সঙ্গে আলোচনা করে ভিটামিন বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যেতে পারে।

এবার ঈদের মেকআপ নিয়ে কিছু সমাধান : 

প্রাইমার

প্রাইমার ব্যবহার ত্বককে মসৃণ করে। এটি ত্বককে মেকআপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তোলে। মনে করুন – মেকআপের জন্য যে বেজটা আমরা নিই, এটা হলো তার বেজ। প্রাইমার ফাউন্ডেশনটাকে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারে। যদি আপনি মনে করেন যে, আপনার মেকআপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না, তাহলে ভালো মানের প্রাইমার কেনার সময় হয়ে এসেছে।

পাউডার

মুখমন্ডলে ফাউন্ডেশন ধরে রাখার আরেকটি উপায় হলো পাউডার ব্যবহার করা। ট্রান্সলুসেন্ট, কমপ্যাক্ট, টু ওয়ে কেক – যেকোনো লিকুইড মেকআপের স্থায়িত্বের জন্য পাউডার লাগানো প্রয়োজন। বিবি ক্রিম, ফাউন্ডেশন অথবা কনসিলার লাগানোর পর পাউডার লাগান।


সেটিং স্প্রে

সেটিং স্প্রে ইতিমধ্যেই পাশ্চাত্যে জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে। এটি ব্যবহারে মেকআপ ফেটে যায় না, মলিন হয় না এবং গলে যায় না। বেজ, লিপস্টিক, চোখের মেকআপ অনেকক্ষণ ধরে রাখার জন্য সেটিং স্প্রে ভালো কাজ করে।

লিপ লাইনার

যাদের ঠোঁটে লিপস্টিক বেশিক্ষণ থাকে না, তারা লিপ লাইনার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। লিপস্টিক লাগানোর আগে একই রঙের লিপ লাইনার পুরো ঠোঁটে লাগিয়ে নেওয়া যায়। ভিন্ন রং আনতে চাইলে অন্য আরেকটি রঙের লিপ লাইনার লাগিয়ে দেখতে পারেন।

লিপ বাম

ফাটা ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানোর পরামর্শ কোনো রূপবিশেষজ্ঞের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। লিপস্টিক লাগানোর আগে ঠোঁটকে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজ করে নিতে হবে। কিন্তু তাই বলে ঠোঁটে লিপ বাম লাগিয়ে লিপস্টিক লাগাতে যাবেন না। লিপ বামের তেল পিচ্ছিল বেজ তৈরি করে। যে কারণে ঠোঁটের ওপর লিপস্টিকের টিকে থাকা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণে লিপ বাম লাগানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। অথবা লিপ বামের তেলটা টিস্যু দিয়ে তুলে ফেলুন।


ঈদের রূপচর্চার সমাধানপ্রিউল্লিখিত টিপসগুলো পালন করলে আপনি নিজেই নিজের ঈদের রূপচর্চায় নিজের সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে পারবেন। আবার বাড়াতেও পারবেন। আর যদি আমার কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নিতে চান, তাহলে চলে আসুন বেইলী রোডস্থ আমার আন্না’স মেকওভার স্টুডিওতে। ধন্যবাদ সবাইকে।

প্রিয় পাঠক, ঈদ হয়ে উঠুক সবার জন্যে আনন্দময়

Anna’s makeover studio এর পক্ষ থেকে সবাই কে শুভেচ্ছা

ঈদের রূপচর্চার সমাধান

প্রতিবেদক নাম: লাইফস্টাইল ডেস্ক: ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০৫:০৩ পিএম

রূপচর্চা নিয়ে মেয়েরা সবসময়ই একটা ভাবনার মধ্যে থাকেন। কখন কিভাবে সাজবেন তা নিয়ে চিন্তার অন্ত নেই। রূপচর্চা বা সাজগোজ এমন একটা বিষয়, যা আবহাওয়া, পরিবেশ কিংবা পোশাকের ওপর নির্ভর করে ব্যবস্থা নিতে হয়। এখন চলছে বর্ষাকাল। সেই সঙ্গে রয়েছে তীব্র ও ভ্যাপসা গরম। এই ঋতুতে মেয়েরা রূপচর্চা করেন বৃষ্টি আর তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখেই। এবারের ঈদের রূপচর্চা তাই গরম আর বৃষ্টিকে বিবেচনায় রেখে করতে হবে। ঈদের রূপচর্চা সম্পর্কে টিপস দিয়েছেন সাবেক চিত্রনায়িকা ও আন্না’স মেকওভার এর স্বত্বাধিকারী বিউটি এক্সপার্ট নাহিদা আশরাফ আন্না।


সারাদিন শত কাজের ব্যস্ততায় থাকতে থাকতে ত্বকের অবস্থা খুবই বাজে হয়ে যায়। বিশেষ করে এই গরমের দিনগুলোতে। সারাদিনের কাজের ক্লান্তি, রোদের তীব্রতা এবং ধুলোবালির ছাপ পড়ে যায় ত্বকে। আর কোরবানী ঈদে তো আমাদের আপুদের কাজের শেষ নাই।

দিন শেষে ঈদের দিন বেড়ানোর কথা থাকলে ত্বকের এই বাজে অবস্থা দেখে অনেকের তাই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। তবে এতে শংকিত হওয়ার কিছু নেই। এই সমস্যা সমাধানও রয়েছে। মাত্র ১৫ মিনিট ব্যয় করে ত্বকের উজ্জলতা আনা যায় খুব সহজে। ত্বকও হবে নরম এবং কোমল। জেনে নিন ত্বকের উজ্জ্বলতা মাত্র ১৫ মিনিটে ফিরিয়ে আনার সহজ দুটি পদ্ধতি।

প্রথম পদ্ধতি :

একটি বাটিতে একটি ডিমের সাদা অংশ নিন, এতে দুই টেবিল চামচ তাজা লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়ে গরম পানির ভাপ নিন ৩/৪ মিনিট। এরপর ডিম ও লেবুর মাস্কটি লাগান ত্বকে। ১০-১২ মিনিট পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে মুছে ফেলুন। ফিরে আসবে ত্বকের শুভ্রতা ও উজ্জলতা।

দ্বিতীয় পদ্ধতি :

একটি বাটিতে এক টেবিল চামচ ময়দা নিন। এতে এক টেবিল চামচ মধু এবং পরিমাণ মতো দুধ দিয়ে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। খুব ভালো করে মেশাবেন, যেনো পেস্টটি একটু পাতলা ধরনের হয়। এরপর পেস্টটি একটি ব্রাশের সাহায্যে মুখ ও গলার ত্বকে লাগান। চাইলে হাতে ও পায়েও লাগাতে পারেন। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মাস্কটি ধুয়ে ফেলুন। এরপর সামান্য ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এতে সুন্দর ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে মুখমণ্ডলের ত্বক।


ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে মুখমণ্ডলের ব্ল্যাক হেড রিমুভ করা খুবই জরুরী।

ব্ল্যাকহেড বিষয়টির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। বিশেষ করে নাকের পাশের অংশে এটি বেশিই হয়ে থাকে এবং জায়গাটিকে বেশ কালচে করে ফেলে। মূলত বিভিন্ন ধরনের ময়লা, তেল আর মেদ থেকে ক্ষরিত রসের সমন্বয়ে এক ধরনের কালো দাগ গড়ে তোলে নাকের পাশে, ঠোঁটের নিচে, থুতনিতে এবং কপালে। আর এটি শক্ত হয়ে ত্বকের ছিদ্রপথ বন্ধ করে ফেলে। এগুলোই ব্ল্যাকহেড নামে বিশেষ পরিচিত।

১. প্রথমত, আপনার ত্বকের বিভিন্ন মরা চামড়া, যেগুলো ত্বকের ছিদ্রপথ বন্ধ করে ফেলে – এটা নির্মূল করুন। এর জন্য ভালো একটি ডিপ ফেস ক্লিনার ব্যবহার করুন।

২. এরপরে পরিস্কার করা মুখে গরম পানির ভাব দিয়ে ১০ মিনিট স্টিম করুন। এতে ত্বকের ব্ল্যাকহেডগুলো নরম হয়ে যাবে। ফলে এগুলো নির্মূল করা বেশ সহজ হয়ে যাবে।

৩. এক কাপ পানিতে চার টেবিল চামচ বেকিং সোডা পেস্ট করে মুখে লাগান। পেস্টটি মুখে ১০ মিনিট রাখার পরে হালকাভাবে ধুয়ে নিন। বেকিং সোডা ত্বকে থাকা বিভিন্ন ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করে। তবে মুখটি ধোয়ার জন্য হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

শুধু মুখের কেয়ার নিলে তো হবে না এবার আসা যাক চুলের কেয়ার এ।


শুধু বড় চুল মানেই যে সুন্দর, এই ধারনা টা কিন্তু ভুল

নিয়মিত পরিচর্যা করে ছোট বা মাঝারি চুলকেও নজরকাড়া করে তোলা সম্ভব। দুঃখজনক হলেও কথাটা সত্য যে, আমরা তখনই চুলের পরিচর্যা শুরু করি, যখন আমাদের চুলের সমস্যা প্রখর ভাবে দেখা দেয়। কিন্তু সমস্যা শুরু হওয়ার আগে থেকেই নিয়মিত রুটিন মাফিক চুলের যত্ন নিলে খুশকি, চুলের নির্জীবতা এবং চুল পরার মত সমস্যাগুলো এড়ানো সম্ভব। আর ঈদের আগে চুল কে সুন্দর ঝলমলে করে তুলুন নিচের নিয়মগুলো মেনে।

চুলের যত্নে হেয়ার মাস্ক :

চুল সিল্কি করতে চাইলে ডিম ফেটিয়ে তাতে লেবুর রস মিশিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

ডিম এবং মধুর মাস্ক চুলের ভলিউম বাড়াতে সাহায্য করে। মাথার তালু ঠাণ্ডা রাখার একটি অব্যর্থ উপাদান হলো আলভেরার শাঁস বা জুস। এর সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

পেঁয়াজের রস চুল গজাতে সাহায্য করে। ১৫ দিনে একবার মাথার তালুতে তুলোয় করে পেঁয়াজের রস লাগাবেন।

যারা কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে চান না, তারা রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেটার পানি ছেঁকে শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।


এ তো গেল চুলের বাইরের যত্নের কথা। ভালো চুল পেতে হলে খাওয়া দাওয়াতেও নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রোটিন যেমন – মাছ, ডিম এবং ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার চুলের জন্য খুব ভালো। শাক সবজি এবং ফলও খেতে হবে প্রচুর। পেটের সমস্যা থেকে অনেক সময় চুল পড়ে। তাই সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার, আয়রন মেশিন, কার্লার, স্প্রে, হেয়ার চক, হেয়ার কালার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় ডাক্তারের এর সঙ্গে আলোচনা করে ভিটামিন বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া যেতে পারে।

এবার ঈদের মেকআপ নিয়ে কিছু সমাধান : 

প্রাইমার

প্রাইমার ব্যবহার ত্বককে মসৃণ করে। এটি ত্বককে মেকআপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তোলে। মনে করুন – মেকআপের জন্য যে বেজটা আমরা নিই, এটা হলো তার বেজ। প্রাইমার ফাউন্ডেশনটাকে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারে। যদি আপনি মনে করেন যে, আপনার মেকআপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না, তাহলে ভালো মানের প্রাইমার কেনার সময় হয়ে এসেছে।

পাউডার

মুখমন্ডলে ফাউন্ডেশন ধরে রাখার আরেকটি উপায় হলো পাউডার ব্যবহার করা। ট্রান্সলুসেন্ট, কমপ্যাক্ট, টু ওয়ে কেক – যেকোনো লিকুইড মেকআপের স্থায়িত্বের জন্য পাউডার লাগানো প্রয়োজন। বিবি ক্রিম, ফাউন্ডেশন অথবা কনসিলার লাগানোর পর পাউডার লাগান।


সেটিং স্প্রে

সেটিং স্প্রে ইতিমধ্যেই পাশ্চাত্যে জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে। এটি ব্যবহারে মেকআপ ফেটে যায় না, মলিন হয় না এবং গলে যায় না। বেজ, লিপস্টিক, চোখের মেকআপ অনেকক্ষণ ধরে রাখার জন্য সেটিং স্প্রে ভালো কাজ করে।

লিপ লাইনার

যাদের ঠোঁটে লিপস্টিক বেশিক্ষণ থাকে না, তারা লিপ লাইনার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। লিপস্টিক লাগানোর আগে একই রঙের লিপ লাইনার পুরো ঠোঁটে লাগিয়ে নেওয়া যায়। ভিন্ন রং আনতে চাইলে অন্য আরেকটি রঙের লিপ লাইনার লাগিয়ে দেখতে পারেন।

লিপ বাম

ফাটা ঠোঁটে লিপস্টিক লাগানোর পরামর্শ কোনো রূপবিশেষজ্ঞের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। লিপস্টিক লাগানোর আগে ঠোঁটকে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজ করে নিতে হবে। কিন্তু তাই বলে ঠোঁটে লিপ বাম লাগিয়ে লিপস্টিক লাগাতে যাবেন না। লিপ বামের তেল পিচ্ছিল বেজ তৈরি করে। যে কারণে ঠোঁটের ওপর লিপস্টিকের টিকে থাকা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণে লিপ বাম লাগানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। অথবা লিপ বামের তেলটা টিস্যু দিয়ে তুলে ফেলুন।


ঈদের রূপচর্চার সমাধানপ্রিউল্লিখিত টিপসগুলো পালন করলে আপনি নিজেই নিজের ঈদের রূপচর্চায় নিজের সৌন্দর্য্য ধরে রাখতে পারবেন। আবার বাড়াতেও পারবেন। আর যদি আমার কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ নিতে চান, তাহলে চলে আসুন বেইলী রোডস্থ আমার আন্না’স মেকওভার স্টুডিওতে। ধন্যবাদ সবাইকে।

প্রিয় পাঠক, ঈদ হয়ে উঠুক সবার জন্যে আনন্দময়

Anna’s makeover studio এর পক্ষ থেকে সবাই কে শুভেচ্ছা