১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


৩ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে জামিন পেলেন যমুনা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুর

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০১:২৮ এএম

৩ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে জামিন পেলেন যমুনা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুর
৩ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে জামিন পেলেন যমুনা ব্যাংকের সাবেক

চেক প্রতারণার কারণে বোরাক রিয়েল এস্টেটের করা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দী যমুনা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের সাজা ও অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে এক লিভ টু আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

শর্তে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আালতে বোরাক রিয়েল এস্টেটের পাওনা মোট সাড়ে ৭ কোটি টাকার মধ্যে কোম্পানিটির অনুকূলে ৩ কোটি টাকা জমা দিতে হবে। ব্যর্থতায় তার জামিন বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে চেম্বার বিচারপতি এই লিভ টু আপিলের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

বোরাক রিয়েল এস্টেটের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ ও অ্যাডভোকেট এস এম বকস কল্লোল। আরিফুর রহমানের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন লস্কর ও সেলিনা হোসেন।

এর আগে গত ২৫ জুন আরিফুর রহমান এই মামলায় গ্রেপ্তার হন।তখন থেকেই তিনি কারাবন্দী ছিলেন।

জানা যায়, ২০১০ সালে বোরাক রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে ১৫ কোটি টাকার একটি প্রতারণামূলক চেক দেন যমুনা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান। চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পরে তার হিসাবে ওই টাকা না থাকায় চেকটি ফেরত (বাউন্স হয়) আসে। পরে ২০১১ সালে বোরাক রিয়েল এস্টেট কর্তৃপক্ষ এন আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় চেক প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মামলার বিচার শেষে আরিফুর রহমানকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ১৫ কোটি বোরাক রিয়েল এস্টেটকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং জরিমানা হিসেবে ৫০ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ারও আদেশ দেন আদালত।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আরিফুর রহমান ২০১৬ সালেই হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১৭ সালের ১১ জুলাই হাইকোর্ট আরিফুর রহমানের আপিল খারিজ করে চতুর্থ মহানগর অতিরিক্ত দায়রা জজ আালতের রায় বহাল রাখেন। রায়ে হাইকোর্ট আরিফুর রহমানকে ৪৫ দিনের মধ্যে জরিমানাসহ বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে তাকে চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু বকেয়া অর্থ পরিশোধ ও আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় গত বছরের ২৭ মে চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ মামলাটি ছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ২৫ জুন মোট ছয় থেকে সাতটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এই আসামিকে ধানমন্ডি থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। পরে আদালত তার জামিন আবেদন নাকোচ করে কারাগারে প্রেরণ করেন।

৩ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে জামিন পেলেন যমুনা ব্যাংকের সাবেক

প্রতিবেদক নাম: স্টাফ রিপোর্টার: ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০১:২৮ এএম

চেক প্রতারণার কারণে বোরাক রিয়েল এস্টেটের করা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দী যমুনা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের সাজা ও অর্থদণ্ডের বিরুদ্ধে এক লিভ টু আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

শর্তে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আালতে বোরাক রিয়েল এস্টেটের পাওনা মোট সাড়ে ৭ কোটি টাকার মধ্যে কোম্পানিটির অনুকূলে ৩ কোটি টাকা জমা দিতে হবে। ব্যর্থতায় তার জামিন বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে চেম্বার বিচারপতি এই লিভ টু আপিলের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

বোরাক রিয়েল এস্টেটের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ ও অ্যাডভোকেট এস এম বকস কল্লোল। আরিফুর রহমানের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন লস্কর ও সেলিনা হোসেন।

এর আগে গত ২৫ জুন আরিফুর রহমান এই মামলায় গ্রেপ্তার হন।তখন থেকেই তিনি কারাবন্দী ছিলেন।

জানা যায়, ২০১০ সালে বোরাক রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে ১৫ কোটি টাকার একটি প্রতারণামূলক চেক দেন যমুনা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান। চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পরে তার হিসাবে ওই টাকা না থাকায় চেকটি ফেরত (বাউন্স হয়) আসে। পরে ২০১১ সালে বোরাক রিয়েল এস্টেট কর্তৃপক্ষ এন আই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় চেক প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মামলার বিচার শেষে আরিফুর রহমানকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ১৫ কোটি বোরাক রিয়েল এস্টেটকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং জরিমানা হিসেবে ৫০ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ারও আদেশ দেন আদালত।

এই রায়ের বিরুদ্ধে আরিফুর রহমান ২০১৬ সালেই হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১৭ সালের ১১ জুলাই হাইকোর্ট আরিফুর রহমানের আপিল খারিজ করে চতুর্থ মহানগর অতিরিক্ত দায়রা জজ আালতের রায় বহাল রাখেন। রায়ে হাইকোর্ট আরিফুর রহমানকে ৪৫ দিনের মধ্যে জরিমানাসহ বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে তাকে চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু বকেয়া অর্থ পরিশোধ ও আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় গত বছরের ২৭ মে চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ মামলাটি ছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ২৫ জুন মোট ছয় থেকে সাতটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত এই আসামিকে ধানমন্ডি থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। পরে আদালত তার জামিন আবেদন নাকোচ করে কারাগারে প্রেরণ করেন।