১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


এবার পশুর চিকিৎসায় হাটে থাকবে আড়াই হাজার মেডিকেল টিম

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১০:১৩ এএম

এবার পশুর চিকিৎসায় হাটে থাকবে আড়াই হাজার মেডিকেল টিম
এবার পশুর চিকিৎসায় হাটে থাকবে আড়াই হাজার মেডিকেল টিম

এবার সারাদেশে কোরবানির হাটের পশুর চিকিৎসায় আড়াই হাজার ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে। মেডিকেল টিমগুলো ঢাকার হাটগুলোতে ঈদের আগে তিনদিন এবং ঢাকার বাইরে পাঁচদিন অবস্থান করবে বলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে জানা গেছে।

আগামী ১২ আগস্ট দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এ উৎসবে সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করে তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।

দেশে এবার এক কোটি আট লাখ গবাদিপশু কোরবানি হতে পারে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ কে এম মুনিরুল হক বলেন, বরাবরের মতো এবারও কোরবানি পশুর হাটগুলোতে আমাদের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে। হাটে হাসিল ঘরের পাশেই বসবে মেডিকেল টিম। মেডিকেল টিমের পুরো কাজের দায়িত্বটা মূলত প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের।

ভারত থেকে যাতে সীমান্ত দিয়ে দেশে গরু না ঢোকে সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে জানিয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, ‘এবার দেশি গরুতে চাহিদা পূরণ হয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আমরা মনে করছি।’

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, ‘ঢাকায় প্রত্যেকটি পশুর হাটে আমাদের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে। ঢাকায় ২৫টি হাটে ২৭টি মেডিকেল টিম থাকবে। গাবতলী ও বছিলা হাটে দুটি করে মেডিকেল টিম থাকবে। অন্যান্য হাটগুলোতে একটি করে টিম থাকবে।’

সারাদেশের হাটগুলোতে আড়াই হাজার মেডিকেল টিম থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় এনলিস্টেড হাটের বাইরে আমরা যাব না। ঢাকার প্রতিটি মেডিকেল টিমে পাঁচজন করে থাকবেন। ঢাকার বাইরের টিমে দুজন বা জনবল থাকা সাপেক্ষে টিমে লোক থাকবে।’

মহাপরিচালক আরও বলেন, ঢাকায় ২৫টি হাটে আগামী ৯, ১০, ১১ আগস্ট এবং ঢাকার বাইরে আরও দুদিন আগে থেকে মেডিকেল টিমগুলো সেবা দেবে।’

মেডিকেল টিমের সেবাগুলো তুলে ধরে হীরেশ রঞ্জন বলেন, ‘হাটে আনার সময় যদি কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়ে, সেটাকে চিকিৎসা দেবে টিম। এছাড়া যারা গরু নিয়ে আসেন তারা যদি কোনো পরামর্শ চান সেটাও দেয়া হবে। অনেক সময় দেখা যায় গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে গরু আহত হয়, দুই গরু মারামারি করে আহত হয়। এ গরুগুলোকে চিকিৎসা দেবে মেডিকেল টিম।’

‘পশুর জন্য প্রয়োজনীয় এমন জরুরি কিছু ওষুধ থাকবে, আহত গরুকে সেলাই দেয়া লাগলে সেই সব ম্যাটেরিয়াল থাকবে।’

মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজাকরণ প্রতিরোধের বিষয়ে আমরা সারা বছরই তদারকি করি। এখন বাংলাদেশে এ প্র্যাকটিসটা হয় না বলেই মনে করি। তারপরও আমাদের মনিটরিং থাকে, হাটেও এ বিষয়ে আমাদের মনিটরিং থাকবে।’

কোরবানির হাটে জেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সাপোর্ট দেব।’

হীরেশ রঞ্জন বলেন, ‘এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, পথে যাতে গরুবাহী ট্রাক আটকানো না হয়, চাঁদাবাজির শিকার না হয়- তাদের সেই বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি। ফেরি পারাপারে যাতে গরুবাহী ট্রাককে অগ্রাধিকার দেয়া হয় সেজন্যও বলা হয়েছে।’

দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা এক কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছর কোরবানি হয়েছিল এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদিপশু। সেই হিসাবে আমরা ধরে নিয়েছি দেড় থেকে ২ শতাংশ চাহিদা বাড়বে। এবার গবাদিপশুর চাহিদা এক কোটি আট লাখের মতো। তারপরও গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আমরা মনে করছি।’

‘সাম্প্রতিক বন্যা গবাদিপশুর জোগান ও দামের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না’ জানিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ডিজি বলেন, ‘বন্যাদুর্গত এলাকায় গবাদিপশুর খাবার সরবরাহ করে প্রাথমিক ধাক্কাটা আমরা সামলিয়ে উঠেছি।’

এবার পশুর চিকিৎসায় হাটে থাকবে আড়াই হাজার মেডিকেল টিম

প্রতিবেদক নাম: স্টাফ রিপোর্টার: ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১০:১৩ এএম

এবার সারাদেশে কোরবানির হাটের পশুর চিকিৎসায় আড়াই হাজার ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে। মেডিকেল টিমগুলো ঢাকার হাটগুলোতে ঈদের আগে তিনদিন এবং ঢাকার বাইরে পাঁচদিন অবস্থান করবে বলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে জানা গেছে।

আগামী ১২ আগস্ট দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এ উৎসবে সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর নামে পশু কোরবানি করে তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।

দেশে এবার এক কোটি আট লাখ গবাদিপশু কোরবানি হতে পারে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ কে এম মুনিরুল হক বলেন, বরাবরের মতো এবারও কোরবানি পশুর হাটগুলোতে আমাদের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে। হাটে হাসিল ঘরের পাশেই বসবে মেডিকেল টিম। মেডিকেল টিমের পুরো কাজের দায়িত্বটা মূলত প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের।

ভারত থেকে যাতে সীমান্ত দিয়ে দেশে গরু না ঢোকে সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে জানিয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, ‘এবার দেশি গরুতে চাহিদা পূরণ হয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আমরা মনে করছি।’

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, ‘ঢাকায় প্রত্যেকটি পশুর হাটে আমাদের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে। ঢাকায় ২৫টি হাটে ২৭টি মেডিকেল টিম থাকবে। গাবতলী ও বছিলা হাটে দুটি করে মেডিকেল টিম থাকবে। অন্যান্য হাটগুলোতে একটি করে টিম থাকবে।’

সারাদেশের হাটগুলোতে আড়াই হাজার মেডিকেল টিম থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় এনলিস্টেড হাটের বাইরে আমরা যাব না। ঢাকার প্রতিটি মেডিকেল টিমে পাঁচজন করে থাকবেন। ঢাকার বাইরের টিমে দুজন বা জনবল থাকা সাপেক্ষে টিমে লোক থাকবে।’

মহাপরিচালক আরও বলেন, ঢাকায় ২৫টি হাটে আগামী ৯, ১০, ১১ আগস্ট এবং ঢাকার বাইরে আরও দুদিন আগে থেকে মেডিকেল টিমগুলো সেবা দেবে।’

মেডিকেল টিমের সেবাগুলো তুলে ধরে হীরেশ রঞ্জন বলেন, ‘হাটে আনার সময় যদি কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়ে, সেটাকে চিকিৎসা দেবে টিম। এছাড়া যারা গরু নিয়ে আসেন তারা যদি কোনো পরামর্শ চান সেটাও দেয়া হবে। অনেক সময় দেখা যায় গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে গরু আহত হয়, দুই গরু মারামারি করে আহত হয়। এ গরুগুলোকে চিকিৎসা দেবে মেডিকেল টিম।’

‘পশুর জন্য প্রয়োজনীয় এমন জরুরি কিছু ওষুধ থাকবে, আহত গরুকে সেলাই দেয়া লাগলে সেই সব ম্যাটেরিয়াল থাকবে।’

মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজাকরণ প্রতিরোধের বিষয়ে আমরা সারা বছরই তদারকি করি। এখন বাংলাদেশে এ প্র্যাকটিসটা হয় না বলেই মনে করি। তারপরও আমাদের মনিটরিং থাকে, হাটেও এ বিষয়ে আমাদের মনিটরিং থাকবে।’

কোরবানির হাটে জেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সাপোর্ট দেব।’

হীরেশ রঞ্জন বলেন, ‘এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, পথে যাতে গরুবাহী ট্রাক আটকানো না হয়, চাঁদাবাজির শিকার না হয়- তাদের সেই বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি। ফেরি পারাপারে যাতে গরুবাহী ট্রাককে অগ্রাধিকার দেয়া হয় সেজন্যও বলা হয়েছে।’

দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা এক কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত বছর কোরবানি হয়েছিল এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদিপশু। সেই হিসাবে আমরা ধরে নিয়েছি দেড় থেকে ২ শতাংশ চাহিদা বাড়বে। এবার গবাদিপশুর চাহিদা এক কোটি আট লাখের মতো। তারপরও গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আমরা মনে করছি।’

‘সাম্প্রতিক বন্যা গবাদিপশুর জোগান ও দামের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না’ জানিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ডিজি বলেন, ‘বন্যাদুর্গত এলাকায় গবাদিপশুর খাবার সরবরাহ করে প্রাথমিক ধাক্কাটা আমরা সামলিয়ে উঠেছি।’