১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


মালয়েশিয়ায় শ্রমিককে আটকে রেখে বাংলাদেশে মুক্তিপণ আদায় করতেন তারা

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০৯:২৩ পিএম

মালয়েশিয়ায় শ্রমিককে আটকে রেখে বাংলাদেশে মুক্তিপণ আদায় করতেন তারা
মালয়েশিয়ায় শ্রমিককে আটকে রেখে বাংলাদেশে মুক্তিপণ আদায় করতেন তারা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিককে অপহরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হামিদ হোসেন (২৪) ও তার সহযোগী আমান উল্লাহ (৪৩)।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শারমিন জাহান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, পাবনা জেলার শহীদুল ইসলাম ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মালয়েশিয়ায় গমন করেন। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর মাহবুব হোসেন নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মাহবুব হোসেন তাকে কাজ দেওয়ার কথা বলে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অন্য সহযোগীদের মাধ্যমে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে এবং নির্যাতন করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশে থাকা তার স্বজনদের মোবাইলে ফোন করে ভিকটিমের আর্তনাদ শুনিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। তার কথামতো বাধ্য হয়ে মুক্তিপণের ভিকটিমের স্বজনরা বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার পর চক্রটি তাকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার পরে শহীদুল ইসলামের ভাই একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।

সেই মামলাটি তদন্তকারি সংস্থা সিআইডির সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আবু সাঈদের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে।

শারমিন জাহান আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে টেকনাফ থানা এলাকার বাসিন্দা মাহবুব হোসেন মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করে কিছু সহযোগীদের মাধ্যমে একটি চক্র তৈরি করেছে। সেই চক্রের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় থাকা অসহায় মানুষদেরকে ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলে কৌশলে ডেকে নিয়ে তাদের অপহরণ করে। তারপর তাদের নির্যাতন করে স্বজনদের মোবাইলে ফোন করে অপহৃতদের আর্তনাদ শুনিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। স্বজনরা ভিকটিমকে বাঁচানোর জন্য দাবিকৃত অর্থ দিতে সম্মত হলে বাংলাদেশে অবস্থানরত তার সহযোগীদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় ভিকটিমের স্বজনের কাছ থেকে আসামিরা আটটি বিকাশ হিসাবে মোট দুই লাখ টাকা গ্রহণ করে। উক্ত বিকাশ নম্বর সমূহের মধ্যে চারটি সিম খোরশেদের নামে রেজিস্ট্রিকৃত, একটি সিম হামিদের নামে রেজিস্ট্রিতৃক এবং বাকি রেজিস্ট্রিকৃত সিমগুলোর বিকাশ হিসাব বর্তমানে মালয়শিয়ায় পলাতক অত্র মামলার অন্যতম আসামি মাহাবুবের নামে পরিচালিত হয়।

সিআইডি সূত্রে আরও জানা যায়, আসামিরা মাহবুবের নির্দেশে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আটককৃত আসামি আমান উল্লাহ আমান বর্তমানে মাহবুব স্টোর নামে দোকানটির পরিচালনা করেন। তিনি খোরশেদ ও মাহবুব নামের নিবন্ধিত সব সিম দিয়ে ব্যবসা এবং সব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

মালয়েশিয়ায় শ্রমিককে আটকে রেখে বাংলাদেশে মুক্তিপণ আদায় করতেন তারা

প্রতিবেদক নাম: স্টাফ রিপোর্টার: ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০৯:২৩ পিএম

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিককে অপহরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট সিআইডি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হামিদ হোসেন (২৪) ও তার সহযোগী আমান উল্লাহ (৪৩)।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শারমিন জাহান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, পাবনা জেলার শহীদুল ইসলাম ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মালয়েশিয়ায় গমন করেন। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর মাহবুব হোসেন নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মাহবুব হোসেন তাকে কাজ দেওয়ার কথা বলে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অন্য সহযোগীদের মাধ্যমে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে এবং নির্যাতন করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশে থাকা তার স্বজনদের মোবাইলে ফোন করে ভিকটিমের আর্তনাদ শুনিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। তার কথামতো বাধ্য হয়ে মুক্তিপণের ভিকটিমের স্বজনরা বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার পর চক্রটি তাকে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনার পরে শহীদুল ইসলামের ভাই একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।

সেই মামলাটি তদন্তকারি সংস্থা সিআইডির সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আবু সাঈদের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে।

শারমিন জাহান আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে টেকনাফ থানা এলাকার বাসিন্দা মাহবুব হোসেন মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করে কিছু সহযোগীদের মাধ্যমে একটি চক্র তৈরি করেছে। সেই চক্রের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় থাকা অসহায় মানুষদেরকে ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলে কৌশলে ডেকে নিয়ে তাদের অপহরণ করে। তারপর তাদের নির্যাতন করে স্বজনদের মোবাইলে ফোন করে অপহৃতদের আর্তনাদ শুনিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। স্বজনরা ভিকটিমকে বাঁচানোর জন্য দাবিকৃত অর্থ দিতে সম্মত হলে বাংলাদেশে অবস্থানরত তার সহযোগীদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় ভিকটিমের স্বজনের কাছ থেকে আসামিরা আটটি বিকাশ হিসাবে মোট দুই লাখ টাকা গ্রহণ করে। উক্ত বিকাশ নম্বর সমূহের মধ্যে চারটি সিম খোরশেদের নামে রেজিস্ট্রিকৃত, একটি সিম হামিদের নামে রেজিস্ট্রিতৃক এবং বাকি রেজিস্ট্রিকৃত সিমগুলোর বিকাশ হিসাব বর্তমানে মালয়শিয়ায় পলাতক অত্র মামলার অন্যতম আসামি মাহাবুবের নামে পরিচালিত হয়।

সিআইডি সূত্রে আরও জানা যায়, আসামিরা মাহবুবের নির্দেশে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আটককৃত আসামি আমান উল্লাহ আমান বর্তমানে মাহবুব স্টোর নামে দোকানটির পরিচালনা করেন। তিনি খোরশেদ ও মাহবুব নামের নিবন্ধিত সব সিম দিয়ে ব্যবসা এবং সব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।