১৮, আগস্ট, ২০১৯, রোববার | | ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


ডেঙ্গুতে ঢাবি ছাত্রের মৃত্যু, ২২ ঘণ্টায় হাসপাতালের বিল ১ লাখ ৮৬ হাজার!

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০১৯, ১০:৩৩ পিএম

ডেঙ্গুতে ঢাবি ছাত্রের মৃত্যু, ২২ ঘণ্টায় হাসপাতালের বিল ১ লাখ ৮৬ হাজার!
ডেঙ্গুতে ঢাবি ছাত্রের মৃত্যু, ২২ ঘণ্টায় হাসপাতালের বিল ১ লাখ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবীর স্বাধীনকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর ২২ ঘণ্টারও কম সময়ে বিল এসেছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৭৪ টাকা। এত কম সময়ে কীভাবে এত টাকা বিল হলো, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফিরোজের পরিবারসহ তার সহপাঠীরা।

এদিকে বিল নিয়ে কথা বলতে গেলে কয়েক জায়গায় ঘুরিয়েও কোনো তথ্য দিতে পারেনি স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ফিরোজের বড় ভাই মো. ফজলুল করীম বলেন, ‘কেবল কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার। একদিনও পার হয়নি। এর ভেতরে কী করে এত টাকা খরচ হলো, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না।’ হাসপাতালগুলো রোগীদের অসহায়ত্ব নিয়ে ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফজলুল করীম জানান, তারা দুই ভাই, দুই বোন। তিনি সবার বড়। মধ্যে দুই বোনের পরে সবার ছোট ছিল ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘ছোট ভাইকে খুব আশা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেই ভাইটা মারা গেল বড় ভাই-বোনদের রেখে। এ শোক আমাদের কাটবার নয়।’

মৃত ফিরোজ কবীর স্বাধীনের হাসপাতালের বিল থেকে দেখা যায়, ওষুধ বাবদ ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৩২১ টাকা ৫১ পয়সা, ল্যাবরেটরি চার্জ ৭৩ হাজার ৮৩৬ টাকা, মেডিক্যাল হসপিটাল সাপ্লাইতে বিল হয়েছে ১০ হাজার ২১৯ টাকা এবং বাকি টাকা অন্যান্য কয়েকটি খাতে ধরা হয়েছে।

ফিরোজের দুলাভাই হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সে ২০ থেকে ২১ ঘণ্টা ছিল সেখানে (স্কয়ার হাসপাতাল)। এর ভেতরে এত টাকা কী করে হলো, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না। যদিও তারা প্রথমে আমাদের বলেছিল, আইসিইউতে বিল আসতে পারে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো। সেই হিসাবে আমরা প্রথমেই ডিপোজিট করেছিলাম ৫৭ হাজার টাকা। কিন্তু এত টাকা বিলের হিসাব আমরা এখন মেলাতে পারছি না।’

বিলের বিষয়ে জানতে স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফয়সালের মোবাইলে একাধিক বার কল করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে স্কয়ার হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসের নাম্বারে ফোন করা হলে সেখানে থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে লাশ নিতে স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন ঢাবির প্রক্টর প্রফেসর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। কীভাবে বিলের বিষয়টি সমাধান হলো জানতে চাইলে তিনি আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘হল প্রভোস্ট, হল সংসদের প্রতিনিধিরা বিষয়টি মিমাংসা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে।’

এর আগে গতকাল শুক্রবার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে মারা যান ফিরোজ। এরও আগের গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাতে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে স্কয়ারে আনা হয়েছিল।

ডেঙ্গুতে ঢাবি ছাত্রের মৃত্যু, ২২ ঘণ্টায় হাসপাতালের বিল ১ লাখ

প্রতিবেদক নাম: স্টাফ রিপোর্টার: ,

প্রকাশের সময়ঃ ২৭ জুলাই ২০১৯, ১০:৩৩ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবীর স্বাধীনকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর ২২ ঘণ্টারও কম সময়ে বিল এসেছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৭৪ টাকা। এত কম সময়ে কীভাবে এত টাকা বিল হলো, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফিরোজের পরিবারসহ তার সহপাঠীরা।

এদিকে বিল নিয়ে কথা বলতে গেলে কয়েক জায়গায় ঘুরিয়েও কোনো তথ্য দিতে পারেনি স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ফিরোজের বড় ভাই মো. ফজলুল করীম বলেন, ‘কেবল কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার। একদিনও পার হয়নি। এর ভেতরে কী করে এত টাকা খরচ হলো, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না।’ হাসপাতালগুলো রোগীদের অসহায়ত্ব নিয়ে ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফজলুল করীম জানান, তারা দুই ভাই, দুই বোন। তিনি সবার বড়। মধ্যে দুই বোনের পরে সবার ছোট ছিল ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘ছোট ভাইকে খুব আশা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেই ভাইটা মারা গেল বড় ভাই-বোনদের রেখে। এ শোক আমাদের কাটবার নয়।’

মৃত ফিরোজ কবীর স্বাধীনের হাসপাতালের বিল থেকে দেখা যায়, ওষুধ বাবদ ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৩২১ টাকা ৫১ পয়সা, ল্যাবরেটরি চার্জ ৭৩ হাজার ৮৩৬ টাকা, মেডিক্যাল হসপিটাল সাপ্লাইতে বিল হয়েছে ১০ হাজার ২১৯ টাকা এবং বাকি টাকা অন্যান্য কয়েকটি খাতে ধরা হয়েছে।

ফিরোজের দুলাভাই হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সে ২০ থেকে ২১ ঘণ্টা ছিল সেখানে (স্কয়ার হাসপাতাল)। এর ভেতরে এত টাকা কী করে হলো, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না। যদিও তারা প্রথমে আমাদের বলেছিল, আইসিইউতে বিল আসতে পারে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো। সেই হিসাবে আমরা প্রথমেই ডিপোজিট করেছিলাম ৫৭ হাজার টাকা। কিন্তু এত টাকা বিলের হিসাব আমরা এখন মেলাতে পারছি না।’

বিলের বিষয়ে জানতে স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফয়সালের মোবাইলে একাধিক বার কল করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে স্কয়ার হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসের নাম্বারে ফোন করা হলে সেখানে থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে লাশ নিতে স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন ঢাবির প্রক্টর প্রফেসর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। কীভাবে বিলের বিষয়টি সমাধান হলো জানতে চাইলে তিনি আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘হল প্রভোস্ট, হল সংসদের প্রতিনিধিরা বিষয়টি মিমাংসা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে।’

এর আগে গতকাল শুক্রবার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে মারা যান ফিরোজ। এরও আগের গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাতে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে স্কয়ারে আনা হয়েছিল।