২৩, আগস্ট, ২০১৯, শুক্রবার | | ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


মেয়েটা ডিভোর্সি!

রিপোর্টার নামঃ আশনা_আরাফ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০১৯, ০৬:৪৬ পিএম

মেয়েটা ডিভোর্সি!
প্রতিকী ছবি

সে নিজেই ডিভোর্স দিয়েছে। তার মানে এই না যে তার অন্যকোথাও কোনো কানেকশন আছে। হতে পারে সংসারটা তার মনের মতো হয়নি। সে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে টিকিয়ে রাখতে। টিকে থাকতে। হয়তো পারেনি কোনো কারনে তাই সেপারেশনকে বেছে নিয়েছে। ডিভোর্স পেপারে সাইন করে মুক্তি দিয়েছে গলায় কাঁটার মতো আটকে থাকা সম্পর্ককে। যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে একা একা একটু প্রাণ খুলে বাঁচার সুযোগ দিয়েছে উভয়কে।।

আর এদিকে সমাজ তাকে নষ্টা, কুলটা, পরকিয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করছে। কিন্তু মেয়েটার কোনো মাথা ব্যথা নেই। সে এর চেয়েও জঘন্য জীবন দেখেছে বলেই ডিভোর্স পেপারে সাইন করেছে।

ডিভোর্সের কথা শুনলেই মানুষ আঁতকে ওঠে। অনেকেতো ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার ভয়ে কখনো আওয়াজ তুলে না। প্রতিবাদ করেনা। মরে যেতে চায় তবুও ডিভোর্স না। তাহলে ভেবে দেখুন এটা কতটা ভয়ংকর একটা ডিসিশন হতে পারে মানুষের জীবনে? ডিভোর্স পেপারে সাইন করা চারটিখানা কথা নয় তবুও যারা করে তারাই জানে এর কষ্টটা কেমন। আর হ্যাঁ, যে মেয়েটা এতো সাহস সঞ্চয় করে নিজে থেকে ডিভোর্স দিয়ে এসেছে তাকে আপনি যতই যা বলুন সে পরোয়া করেনা এগুলোর কারন সে বাঁচতে শিখে গেছে সকল নেগেটিভিটিকে উপেক্ষা করে। অযথা বকবক করে মস্তিষ্কের ক্ষয় সমাজের ঐ মানুষদের হচ্ছে যারা নির্যাতনে মরতে ভালবাসে কিন্তু একাকী আত্মসম্মানে নয়।

মেয়েটিকে তার স্বামী ডিভোর্স দিয়েছে। 

আর আপনি শুরু করেছেন নিজের অনুমানের প্রকাশ। আসলে কি, আপনার প্রবলেম না এটা। প্রবলেমটা পুরো সমাজের যেখানে আপনার মাইন্ড বিল্ড আপ হয়েছে। যা ভালো হলে ভালো আর মন্দ হলে মন্দ। মেয়েটার প্রবলেম খুঁজতে গিয়ে ভুলেই যাচ্ছেন ছেলেটার প্রবলেমও থাকতে পারে। ছেলেটা হয়তো তার যোগ্য না কিংবা দুজনেই একে অপরের সাথে সুখী না। তাই ডিভোর্স দিয়েছে মিউচুয়ালে৷ এদিকে মানুষ শুরু করে সমালোচনা। সব ছেড়ে মেয়েটার ফিউচার পাস্ট সব ঘাটাঘাটি শুরু করে দেয়। অদ্ভুত! তার প্রেজেন্ট সময়ে সাহস দরকার, অনুপ্রেরণা দরকার কারও৷ অতীত বা বর্তমানের বিশ্লেষণ নয়৷

কথার আঘাতে বাঁচতে দেয়না তাকে। 

ডিভোর্স যেন পাপ।

চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করুন। 

সেপারেশন কোনো পাপ নয়। তবে পাপের উদ্দেশ্যে সেপারেশন পাপের চেয়েও জঘন্য। কেউ যদি কাউকে ছেড়ে আসতে চায় বা কাউকে ছাড়া বাঁচতে চায় তাহলে তাকে সেভাবেই বাঁচতে দিন। জোর করে বেঁধে কি হবে জীবনটা যদি উপভোগ্য না হয়ে অভিশপ্ত হয়ে যায়?

কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত না। ডিভোর্সের ব্যাপারেতো কখনোই না কারণ এটা সবচেয়ে স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত বিষয়ের একটি। এসময় মানুষ এমনিতেই অনেক বড় ট্রমায় থাকে। বেরিয়ে আসতে সময় লাগে। তাকে বেরিয়ে আসতে দেন। নিজেকে তার জায়গায় রেখে একবার ভেবে দেখুন সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

পারলে কারো জীবনে অনুপ্রেরণা হয়ে বাঁচুন। অনুশোচনা করার মতো কাজ থেকেই বিরত থাকাই শ্রেয়।

ডিভোর্স নেয়া পাপ নয়। ভুল মানুষের সাথে জড়িয়ে থেকে নিজেকে কষ্ট দেয়াটাই পাপ।

লেখাঃ #আশনা_আরাফ।



( এই বিভাগের লেখা একান্তই লেখকের মতামত, এই লেখার সাথে প্রতিদিনের কাগজ' এর কোন সংপৃক্ততা নাই।)

মেয়েটা ডিভোর্সি!

প্রতিবেদক নাম: আশনা_আরাফ ,

প্রকাশের সময়ঃ ২৭ জুলাই ২০১৯, ০৬:৪৬ পিএম

সে নিজেই ডিভোর্স দিয়েছে। তার মানে এই না যে তার অন্যকোথাও কোনো কানেকশন আছে। হতে পারে সংসারটা তার মনের মতো হয়নি। সে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে টিকিয়ে রাখতে। টিকে থাকতে। হয়তো পারেনি কোনো কারনে তাই সেপারেশনকে বেছে নিয়েছে। ডিভোর্স পেপারে সাইন করে মুক্তি দিয়েছে গলায় কাঁটার মতো আটকে থাকা সম্পর্ককে। যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে একা একা একটু প্রাণ খুলে বাঁচার সুযোগ দিয়েছে উভয়কে।।

আর এদিকে সমাজ তাকে নষ্টা, কুলটা, পরকিয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করছে। কিন্তু মেয়েটার কোনো মাথা ব্যথা নেই। সে এর চেয়েও জঘন্য জীবন দেখেছে বলেই ডিভোর্স পেপারে সাইন করেছে।

ডিভোর্সের কথা শুনলেই মানুষ আঁতকে ওঠে। অনেকেতো ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার ভয়ে কখনো আওয়াজ তুলে না। প্রতিবাদ করেনা। মরে যেতে চায় তবুও ডিভোর্স না। তাহলে ভেবে দেখুন এটা কতটা ভয়ংকর একটা ডিসিশন হতে পারে মানুষের জীবনে? ডিভোর্স পেপারে সাইন করা চারটিখানা কথা নয় তবুও যারা করে তারাই জানে এর কষ্টটা কেমন। আর হ্যাঁ, যে মেয়েটা এতো সাহস সঞ্চয় করে নিজে থেকে ডিভোর্স দিয়ে এসেছে তাকে আপনি যতই যা বলুন সে পরোয়া করেনা এগুলোর কারন সে বাঁচতে শিখে গেছে সকল নেগেটিভিটিকে উপেক্ষা করে। অযথা বকবক করে মস্তিষ্কের ক্ষয় সমাজের ঐ মানুষদের হচ্ছে যারা নির্যাতনে মরতে ভালবাসে কিন্তু একাকী আত্মসম্মানে নয়।

মেয়েটিকে তার স্বামী ডিভোর্স দিয়েছে। 

আর আপনি শুরু করেছেন নিজের অনুমানের প্রকাশ। আসলে কি, আপনার প্রবলেম না এটা। প্রবলেমটা পুরো সমাজের যেখানে আপনার মাইন্ড বিল্ড আপ হয়েছে। যা ভালো হলে ভালো আর মন্দ হলে মন্দ। মেয়েটার প্রবলেম খুঁজতে গিয়ে ভুলেই যাচ্ছেন ছেলেটার প্রবলেমও থাকতে পারে। ছেলেটা হয়তো তার যোগ্য না কিংবা দুজনেই একে অপরের সাথে সুখী না। তাই ডিভোর্স দিয়েছে মিউচুয়ালে৷ এদিকে মানুষ শুরু করে সমালোচনা। সব ছেড়ে মেয়েটার ফিউচার পাস্ট সব ঘাটাঘাটি শুরু করে দেয়। অদ্ভুত! তার প্রেজেন্ট সময়ে সাহস দরকার, অনুপ্রেরণা দরকার কারও৷ অতীত বা বর্তমানের বিশ্লেষণ নয়৷

কথার আঘাতে বাঁচতে দেয়না তাকে। 

ডিভোর্স যেন পাপ।

চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করুন। 

সেপারেশন কোনো পাপ নয়। তবে পাপের উদ্দেশ্যে সেপারেশন পাপের চেয়েও জঘন্য। কেউ যদি কাউকে ছেড়ে আসতে চায় বা কাউকে ছাড়া বাঁচতে চায় তাহলে তাকে সেভাবেই বাঁচতে দিন। জোর করে বেঁধে কি হবে জীবনটা যদি উপভোগ্য না হয়ে অভিশপ্ত হয়ে যায়?

কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত না। ডিভোর্সের ব্যাপারেতো কখনোই না কারণ এটা সবচেয়ে স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত বিষয়ের একটি। এসময় মানুষ এমনিতেই অনেক বড় ট্রমায় থাকে। বেরিয়ে আসতে সময় লাগে। তাকে বেরিয়ে আসতে দেন। নিজেকে তার জায়গায় রেখে একবার ভেবে দেখুন সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

পারলে কারো জীবনে অনুপ্রেরণা হয়ে বাঁচুন। অনুশোচনা করার মতো কাজ থেকেই বিরত থাকাই শ্রেয়।

ডিভোর্স নেয়া পাপ নয়। ভুল মানুষের সাথে জড়িয়ে থেকে নিজেকে কষ্ট দেয়াটাই পাপ।

লেখাঃ #আশনা_আরাফ।



( এই বিভাগের লেখা একান্তই লেখকের মতামত, এই লেখার সাথে প্রতিদিনের কাগজ' এর কোন সংপৃক্ততা নাই।)