২০, আগস্ট, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


লন্ডনে জুয়ার নেশায় স্ত্রীকে হত্যা করল বাংলাদেশি

রিপোর্টার নামঃ নিউজ ডেস্ক ।। প্রতিদিনের কাগজ' | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৯:১৬ এএম

লন্ডনে জুয়ার নেশায় স্ত্রীকে হত্যা করল বাংলাদেশি
লন্ডনে জুয়ার নেশায় স্ত্রীকে হত্যা করল বাংলাদেশি

চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনে নিজ ফ্ল্যাটের বেডরুমে খুন হন তিন সন্তানের জননী আসমা বেগম। সিলেটের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আটঘর গ্রামের মেয়ে আসমা বেগমকে (৩১) বিয়ে করে ২০০৭ সালে লন্ডনে নিয়ে আসেন তার স্বামী জালাল উদ্দীন।

পপলারের সিটি আইসলেন্ড ওয়ের একটি কাউন্সিল ফ্লাটে স্বামী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন তিন সন্তানের জননী আসমা বেগম। আসমার স্বামী রেস্টুরেন্টের শেফ জালাল উদ্দীন ধীরে ধীরে জুয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন আসমা বেগম এবং তার ঘাতক স্বামী জালাল উদ্দীন জুয়া খেলায় টাকা খোয়ানো নিয়ে ঝগড়া করে। পরের দিন সকালে আবার ঝগড়া চলাকালে জালাল উদ্দিন স্ত্রী আসমার ওপর ছুরি নিয়ে চড়াও হয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে খুন করে।

নিহত আসমা বেগমের স্বজনরা জানান, জালাল পেশাদার জুয়াড়ী ছিলেন। জুয়ার অর্থ জোগাতে সন্তানদের চাইন্ড বেনিফিটের টাকাও তিনি কেড়ে নিতেন স্ত্রীর কাছ থেকে। আসমা বিভিন্ন সময় স্বামীকে জুয়ার নেশা থেকে ফেরাতে বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তবে স্বজনরা জানিয়েছেন, ওইদিন (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটা থেকে চারটা পর্যন্ত আসমা ও তার ঘাতক স্বামী জালাল ঘরে ছিলেন। এ সময়ের মধ্যেই আসমাকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে লাশ বেডরুমের ওয়ারড্রোবে ঢুকিয়ে দেন জালাল।

প্রসিকিউটর জানান, লন্ডনের জুয়া ঘর উইলিয়াম হিল এর পূর্ব লন্ডনের একটি শাখায় জালাল উদ্দীন নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানকার লোকজন তাকে ‘এ্যাংরি ইন্ডিয়ান’ বলে জানতেন। সে একবারে জুয়ার মেশিনে ১০০০ পাউন্ড পর্যন্ত হারতেন।

স্ত্রীকে ৫৮ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি জালাল উদ্দীন (৪৭)। বুধবার লন্ডনে তার বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। শুনানিতে জালাল আদালতকে বলেছেন, তার জুয়া খেলার আসক্তির বিষয়টি দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা বেগমের কাছে ধরা পড়ে যায়।

এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে জালাল নিজ ঘরে কুপিয়ে হত্যা করেন। আসমাকে খুনের আগের দিন আসমার অ্যাকাউন্ট থেকে দুইশ পাউন্ড তুলে নেন জালাল। জালাল আদালতকে বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি একপর্যায়ে জুয়া খেলাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

মামলার শুনানিকালে প্রসিকিউটর ডেনিয়েল রবিনসন কিউসি আদালতকে বলেন, তিন সন্তানের জননী আসমা বেগমকে ছুরি দিয়ে জঘন্যভাবে আঘাত করা হয় অন্তত ৫৮ বার। পোস্টমর্টেমের সময়ে ডাক্তাররা আসমা বেগমের শরীরে মোট কতটা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে তা পুরোপুরি গণনা করতে পারেননি বলেও কোর্টকে জানান রবিনসন। -জাগো নিউজ

লন্ডনে জুয়ার নেশায় স্ত্রীকে হত্যা করল বাংলাদেশি

প্রতিবেদক নাম: নিউজ ডেস্ক ।। প্রতিদিনের কাগজ' ,

প্রকাশের সময়ঃ ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৯:১৬ এএম

চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনে নিজ ফ্ল্যাটের বেডরুমে খুন হন তিন সন্তানের জননী আসমা বেগম। সিলেটের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আটঘর গ্রামের মেয়ে আসমা বেগমকে (৩১) বিয়ে করে ২০০৭ সালে লন্ডনে নিয়ে আসেন তার স্বামী জালাল উদ্দীন।

পপলারের সিটি আইসলেন্ড ওয়ের একটি কাউন্সিল ফ্লাটে স্বামী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন তিন সন্তানের জননী আসমা বেগম। আসমার স্বামী রেস্টুরেন্টের শেফ জালাল উদ্দীন ধীরে ধীরে জুয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন আসমা বেগম এবং তার ঘাতক স্বামী জালাল উদ্দীন জুয়া খেলায় টাকা খোয়ানো নিয়ে ঝগড়া করে। পরের দিন সকালে আবার ঝগড়া চলাকালে জালাল উদ্দিন স্ত্রী আসমার ওপর ছুরি নিয়ে চড়াও হয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে খুন করে।

নিহত আসমা বেগমের স্বজনরা জানান, জালাল পেশাদার জুয়াড়ী ছিলেন। জুয়ার অর্থ জোগাতে সন্তানদের চাইন্ড বেনিফিটের টাকাও তিনি কেড়ে নিতেন স্ত্রীর কাছ থেকে। আসমা বিভিন্ন সময় স্বামীকে জুয়ার নেশা থেকে ফেরাতে বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তবে স্বজনরা জানিয়েছেন, ওইদিন (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা দুইটা থেকে চারটা পর্যন্ত আসমা ও তার ঘাতক স্বামী জালাল ঘরে ছিলেন। এ সময়ের মধ্যেই আসমাকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে লাশ বেডরুমের ওয়ারড্রোবে ঢুকিয়ে দেন জালাল।

প্রসিকিউটর জানান, লন্ডনের জুয়া ঘর উইলিয়াম হিল এর পূর্ব লন্ডনের একটি শাখায় জালাল উদ্দীন নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানকার লোকজন তাকে ‘এ্যাংরি ইন্ডিয়ান’ বলে জানতেন। সে একবারে জুয়ার মেশিনে ১০০০ পাউন্ড পর্যন্ত হারতেন।

স্ত্রীকে ৫৮ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যার দায় স্বীকার করে নিয়েছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি জালাল উদ্দীন (৪৭)। বুধবার লন্ডনে তার বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। শুনানিতে জালাল আদালতকে বলেছেন, তার জুয়া খেলার আসক্তির বিষয়টি দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা বেগমের কাছে ধরা পড়ে যায়।

এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে জালাল নিজ ঘরে কুপিয়ে হত্যা করেন। আসমাকে খুনের আগের দিন আসমার অ্যাকাউন্ট থেকে দুইশ পাউন্ড তুলে নেন জালাল। জালাল আদালতকে বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি একপর্যায়ে জুয়া খেলাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

মামলার শুনানিকালে প্রসিকিউটর ডেনিয়েল রবিনসন কিউসি আদালতকে বলেন, তিন সন্তানের জননী আসমা বেগমকে ছুরি দিয়ে জঘন্যভাবে আঘাত করা হয় অন্তত ৫৮ বার। পোস্টমর্টেমের সময়ে ডাক্তাররা আসমা বেগমের শরীরে মোট কতটা আঘাতের চিহ্ন রয়েছে তা পুরোপুরি গণনা করতে পারেননি বলেও কোর্টকে জানান রবিনসন। -জাগো নিউজ