১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


সন্তানের মন বুঝতে যা করবেন

রিপোর্টার নামঃ প্রতিদিনের কাগজ রিপোর্ট | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৯, ০১:১৯ পিএম

সন্তানের মন বুঝতে যা করবেন
সন্তানের মন বুঝতে যা করবেন

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নাবালিকাকে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটচ্ছে কিমোররা, আবার রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা করছে কিশোরীরা। একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। সন্তানের মানসিক হতাশা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ অভিভাবকদের কপালে। চেষ্টা করেও কি বদলানো যাচ্ছে না এই পরিস্থিতি? ভেবে দেখেছেন কি কখনো এজন্য আসলে দায়টা কার? ভুলটা কোথাও অভিভাবকদেরই নয় তো?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভালো বাবা মার কোনো সংজ্ঞা হয় না। এটা একটা লম্বা সফর। কয়েকটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে সন্তানের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেন আপনিও। 

সন্তানের ১২-১৭ বছর বয়সে অভিভাবকরা খানিকটা সচেতন হলেই বোধহয় বাঁচানো যাবে ছোট ছোট প্রাণগুলোকে। কাজেই প্রথমে সন্তানকে বুঝতে শিখুন; আর সে অনুসারে শুধরে নিন নিজেকে। বয়োঃসন্ধির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনার সন্তানের হাতটা ধরুন শক্ত করে।

প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিৎ সন্তানের শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক পরিবর্তনের বিষয়টি খেয়াল রাখা। কাজেই পেরিন্টিং স্টাইলেও এবার পরিবর্তন আনা দরকার। ছোটবেলায় যেভাবে শাসন করতেন, তার ধরন বদলে ফেলতে হবে।

সন্তানের সব কথা খুব মন দিয়ে শুনতে হবে। আপাত সেগুলো যতই অযৌক্তিক মনে হোক না কেন। তার পরেও সে কী বলছে বা কী বলতে চাই সেটা আগে শুনতে হবে, বিচার করতে হবে। তারপরই আপনার বক্তব্য তুলে ধরুন তার সামনে। তবে আপনার মতামত ওর ওপর চাপিয়ে দেবেন না। 

কোনো কাজ করা নিয়ে সন্তানের সামনে এক কথা বারবার বলবেন না। এই সময়টায় আপনার কথায় বৈচিত্র খুঁজতে থাকে অপরিণত মন। অন্যথায় বেঁকে বসতে পারে আপনার সন্তান।

অতিরিক্ত মারধর করবেন না। এতে পাল্টা আক্রমণ করতে পারে আপনার সন্তানও। তার চেয়ে কথা বলে, আলোচনার মাধ্যমে আপনার কথাগুলো ওকে বোঝান। 

সপ্তাহে অন্তত একটা দিন সময় বাঁচিয়ে রাখুন পারিবারিক বৈঠিকের জন্য। এই দিনটায় সন্তানের মুখোমুখি বসে তার অভাব-অভিযোগগুলো নিয়ে পারস্পরিক আলোচনা করুন বাড়ির সবাই। এক্ষেত্রে ওর মন বুঝতে সুবিধা হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তার থেকে আড়াল করার প্রয়োজন নেই। বরং আলোচনা করুন। রাজনীতি ইত্যাদি বিষয় তার মতামত জানতে চান। এতে ওর মানসিক বিকাশ হবে। 

যৌনতা নিয়ে বিভিন্ন ট্যাবু ভেঙে বেরিয়ে আসুন। কোনো ব্যাপারেই হঠাৎ করে সীমারেখা টানতে যাবেন না। তার চেয়ে বরং বিশ্লেষণের মাধ্যেমে ওর সামনে এ বিষয়ে একটা চিত্র তুলে ধরুন। মনে রাখবেন, কোনো বিষয় থেকে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেই সেই বিষয়ের প্রতি তার ঝোঁক বেড়ে যাবে।

বাবা-মা কখনো বন্ধু হতে পারে না। আপনি তার "বন্ধু স্থানীয়" বা "বন্ধুর মতো" হতে পারেন। তবে বন্ধু কখনো নয়। সে হয়তো আপনাকে সমস্ত কথা বলবে না। তবে এমন একটা বাতাবরণ তৈরি করুন যাতে তার যে কোনো সমস্যার বেশিরভাগটাই আপনাকে এসে নির্দ্বিধায় বলতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার প্রতিক্রিয়াও মার্জিত হওয়া প্রয়োজন।  

ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা না করিয়ে বিভিন্নরকম শারীরিক খেলাধূলায় তাকে উৎসাহ দেওয়া ভালো। এতে তার মন হালকা হবে। অনুভূতিগুলো প্রকাশ পাবে। বাইরের জগতে মিশতে তাকে উৎসাহ দেবেন।

আপনি আপনার সন্তানের কাছ থেকে সম্মান আশা করবেন এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু আপনি কি খেয়াল করেছেন তার সঙ্গে আপনি কেমন ব্যবহার করেন? খেয়াল রাখুন! তাকেও তার প্রাপ্য সম্মান দিন। তাতেই যথার্থ সম্মান ফেরত পাবেন আপনিও। বয়সের ফারাকের কারণে দু'জনের পছন্দ মিলবে না কখনো। তার পরেও তার পছন্দের প্রতি আগ্রহ দেখালে বিপরীতে আপনিও গুরুত্ব পাবেন।

এই বয়সের বাচ্চারা একটু বেশিই অভিমানী হয়। কাজেই আপনার বাক্যচয়ন, শব্দ চয়নে গুরুত্ব দেয়া দরকার। নির্দেশ না দিয়ে অনুরোধ করুন। এতে ফল পাবেন। বাবা-মাও যে তার ওপর নির্ভর করছেন সেটা তাকে বোঝান। 

সন্তান কী ধরনের বই পড়ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, কী ধরনের ওয়েবসিরিজে আশক্ত সেসব দিক খেয়াল রাখুন। তার স্মার্টফোনেও নজর রাখুন। পাশাপাশি তার কথাবার্তাও খেয়াল করুন। তবে কোনো বিষয়ে নির্দেশ চাপিয়ে দেবেন না।

বয়োঃসন্ধি এমন একটা সময়, যখন অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানের গতিবিধি বুঝতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। যদি মনে হয় আপনার সন্তান আপনার কাছ থেকে কোনো কথা লুকিয়ে রেখেছে, তখন তাকে এমন কারো কাছে নিয়ে যান; যিনি তার মানসিক পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম।


সন্তানের মন বুঝতে যা করবেন

প্রতিবেদক নাম: প্রতিদিনের কাগজ রিপোর্ট ,

প্রকাশের সময়ঃ ১৬ জুলাই ২০১৯, ০১:১৯ পিএম

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নাবালিকাকে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটচ্ছে কিমোররা, আবার রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা করছে কিশোরীরা। একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। সন্তানের মানসিক হতাশা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ অভিভাবকদের কপালে। চেষ্টা করেও কি বদলানো যাচ্ছে না এই পরিস্থিতি? ভেবে দেখেছেন কি কখনো এজন্য আসলে দায়টা কার? ভুলটা কোথাও অভিভাবকদেরই নয় তো?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভালো বাবা মার কোনো সংজ্ঞা হয় না। এটা একটা লম্বা সফর। কয়েকটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে সন্তানের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেন আপনিও। 

সন্তানের ১২-১৭ বছর বয়সে অভিভাবকরা খানিকটা সচেতন হলেই বোধহয় বাঁচানো যাবে ছোট ছোট প্রাণগুলোকে। কাজেই প্রথমে সন্তানকে বুঝতে শিখুন; আর সে অনুসারে শুধরে নিন নিজেকে। বয়োঃসন্ধির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনার সন্তানের হাতটা ধরুন শক্ত করে।

প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিৎ সন্তানের শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক পরিবর্তনের বিষয়টি খেয়াল রাখা। কাজেই পেরিন্টিং স্টাইলেও এবার পরিবর্তন আনা দরকার। ছোটবেলায় যেভাবে শাসন করতেন, তার ধরন বদলে ফেলতে হবে।

সন্তানের সব কথা খুব মন দিয়ে শুনতে হবে। আপাত সেগুলো যতই অযৌক্তিক মনে হোক না কেন। তার পরেও সে কী বলছে বা কী বলতে চাই সেটা আগে শুনতে হবে, বিচার করতে হবে। তারপরই আপনার বক্তব্য তুলে ধরুন তার সামনে। তবে আপনার মতামত ওর ওপর চাপিয়ে দেবেন না। 

কোনো কাজ করা নিয়ে সন্তানের সামনে এক কথা বারবার বলবেন না। এই সময়টায় আপনার কথায় বৈচিত্র খুঁজতে থাকে অপরিণত মন। অন্যথায় বেঁকে বসতে পারে আপনার সন্তান।

অতিরিক্ত মারধর করবেন না। এতে পাল্টা আক্রমণ করতে পারে আপনার সন্তানও। তার চেয়ে কথা বলে, আলোচনার মাধ্যমে আপনার কথাগুলো ওকে বোঝান। 

সপ্তাহে অন্তত একটা দিন সময় বাঁচিয়ে রাখুন পারিবারিক বৈঠিকের জন্য। এই দিনটায় সন্তানের মুখোমুখি বসে তার অভাব-অভিযোগগুলো নিয়ে পারস্পরিক আলোচনা করুন বাড়ির সবাই। এক্ষেত্রে ওর মন বুঝতে সুবিধা হবে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তার থেকে আড়াল করার প্রয়োজন নেই। বরং আলোচনা করুন। রাজনীতি ইত্যাদি বিষয় তার মতামত জানতে চান। এতে ওর মানসিক বিকাশ হবে। 

যৌনতা নিয়ে বিভিন্ন ট্যাবু ভেঙে বেরিয়ে আসুন। কোনো ব্যাপারেই হঠাৎ করে সীমারেখা টানতে যাবেন না। তার চেয়ে বরং বিশ্লেষণের মাধ্যেমে ওর সামনে এ বিষয়ে একটা চিত্র তুলে ধরুন। মনে রাখবেন, কোনো বিষয় থেকে তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেই সেই বিষয়ের প্রতি তার ঝোঁক বেড়ে যাবে।

বাবা-মা কখনো বন্ধু হতে পারে না। আপনি তার "বন্ধু স্থানীয়" বা "বন্ধুর মতো" হতে পারেন। তবে বন্ধু কখনো নয়। সে হয়তো আপনাকে সমস্ত কথা বলবে না। তবে এমন একটা বাতাবরণ তৈরি করুন যাতে তার যে কোনো সমস্যার বেশিরভাগটাই আপনাকে এসে নির্দ্বিধায় বলতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার প্রতিক্রিয়াও মার্জিত হওয়া প্রয়োজন।  

ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা না করিয়ে বিভিন্নরকম শারীরিক খেলাধূলায় তাকে উৎসাহ দেওয়া ভালো। এতে তার মন হালকা হবে। অনুভূতিগুলো প্রকাশ পাবে। বাইরের জগতে মিশতে তাকে উৎসাহ দেবেন।

আপনি আপনার সন্তানের কাছ থেকে সম্মান আশা করবেন এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু আপনি কি খেয়াল করেছেন তার সঙ্গে আপনি কেমন ব্যবহার করেন? খেয়াল রাখুন! তাকেও তার প্রাপ্য সম্মান দিন। তাতেই যথার্থ সম্মান ফেরত পাবেন আপনিও। বয়সের ফারাকের কারণে দু'জনের পছন্দ মিলবে না কখনো। তার পরেও তার পছন্দের প্রতি আগ্রহ দেখালে বিপরীতে আপনিও গুরুত্ব পাবেন।

এই বয়সের বাচ্চারা একটু বেশিই অভিমানী হয়। কাজেই আপনার বাক্যচয়ন, শব্দ চয়নে গুরুত্ব দেয়া দরকার। নির্দেশ না দিয়ে অনুরোধ করুন। এতে ফল পাবেন। বাবা-মাও যে তার ওপর নির্ভর করছেন সেটা তাকে বোঝান। 

সন্তান কী ধরনের বই পড়ছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, কী ধরনের ওয়েবসিরিজে আশক্ত সেসব দিক খেয়াল রাখুন। তার স্মার্টফোনেও নজর রাখুন। পাশাপাশি তার কথাবার্তাও খেয়াল করুন। তবে কোনো বিষয়ে নির্দেশ চাপিয়ে দেবেন না।

বয়োঃসন্ধি এমন একটা সময়, যখন অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানের গতিবিধি বুঝতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। যদি মনে হয় আপনার সন্তান আপনার কাছ থেকে কোনো কথা লুকিয়ে রেখেছে, তখন তাকে এমন কারো কাছে নিয়ে যান; যিনি তার মানসিক পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম।