২২, আগস্ট, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


বিবাহ-বিচ্ছেদের মহামারি: নেপথ্যের কারণ নিয়ে যা বলছেন আলেমরা

রিপোর্টার নামঃ ধর্ম ডেস্ক: | আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯, ০৭:২২ পিএম

বিবাহ-বিচ্ছেদের মহামারি: নেপথ্যের কারণ নিয়ে যা বলছেন আলেমরা
বিবাহ-বিচ্ছেদের মহামারি: নেপথ্যের কারণ নিয়ে যা বলছেন আলেমরা

বিবাহ। একটি সুন্নত আমল। সুস্থ জীবনধারা ও চলমান পৃথিবীর স্থিতিশীলতার জন্য বিবাহ প্রথার প্রচলন করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন সুখময়, সুন্দর ও স্থায়ী হওয়ার জন্য বিবাহের ক্ষেত্রে ইসলাম কুফুর বিধান প্রণয়ন করেছে। তবে বিয়ে পরবর্তী সময়ে যদি কখনো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য দেখা দেয় এবং পারস্পরিক সংসার যাপন করা দূরহ হয়ে ওঠে তাহলে উত্তম পদ্ধতিতে তালাক প্রদানের বিধান রেখেছে শরিয়ত। অবশ্য হাদীসে তালাককে বৈধ কাজ সমুহের মাঝে সবচেয়ে নিম্নমানের কাজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। শরিয়ত তালাক প্রদানে অনুৎসাহিত করেছে।

তবে বর্তমানে তালাক বা বিবাহ-বিচ্ছেদ মহামারি আকার ধারণ করেছে। ঘর-সংসার এখন বালির ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ছে। ঢাকার গত ৬ মাসের হিসাব বলছে, ঢাকায় প্রতি ৫০ মিনিটে একটি সংসার ভাঙার আবেদন জমা পড়েছে। সারা দেশের চিত্রও এর চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়।

লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে, তালাক বা বিচ্ছেদের এই আবেদন পুরুষের চেয়ে নারীরা করছেন বেশি। এই বেশির মাত্রা ঢাকার কোনো কোনো এলাকায় দ্বিগুণ-তিন গুণ পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।

ঢাকার সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তালাকের আবেদন জমা পড়েছে মোট ৪৫৫৭ টি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিটি কর্পোরেশনে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া ছাড়াও ঘর ভাঙার ঘটনার সংখ্যা কম নয়। বিভিন্ন মাদরাসার ফতোয়া বিভাগে আগত আবেদন ও জিজ্ঞাসার নথি সমন্বয় করলে এ সংখ্যা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দাঁড়াতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানীতে তালাক প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ প্রসঙ্গে কথা বললে দারুল উলূম মাদরাসা মিরপুরের উস্তায মাওলানা খুবাইব জানান, বিবাহের ক্ষেত্রে শরিয়ত কুফুর( সমতা) বিধান দিয়েছে। দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দিয়ে আরো কিছু বিষয় লক্ষ্য করতে বলেছে। সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সুখময় দাম্পত্য-জীবনের জন্য যেগুলো অত্যাবশ্যক। কিন্তু বর্তমানে বিয়ের সময় সেগুলোর প্রতি বিবেচনা করা হয় না তেমন। তাই বিবাহ-বিচ্ছেদের প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে। এছাড়াও আরো কিছু কারণ আছে। সেগুলো থাকবেই। নতুবা তালকের বিধানই প্রবর্তন করা হতো না। তবে মানুষের দ্বীন থেকে দূরে সরে যাওয়াটাই ব্যাপকহারে বিবাহ-বিচ্ছেদসহ অন্যান্য দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

রাজধানীর এক প্রখ্যাত ইফতা বিভাগের উস্তাযের সাথে কথা বললে তিনি ইসলাম টাইমসকে জানান, বিবাহ-বিচ্ছেদ প্রবণতা বৃদ্ধির বেশ কয়েকটি কারণ আছে। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা না থাকা বিশেষত তালাকের ব্যাপারে মানুষের অজ্ঞতা বিবাহ-বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ। ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে না পেরে অনেকে গালির মতো তালাক দিয়ে বসে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে যে সকল ফতোয়া চাওয়া হয় তার অধিকাংশই হলো পুনরায় কীভাবে একত্রে ঘর-সংসার করা যায় সে বিষয়ে। মানুষ আসলে বিচ্ছেদের জন্যই তালাক দেয় না। তালাক প্রদানের পরিণতি না জানা থাকার কারণেই সামান্য সামান্য কারণে রাগের মাথায় তালাক দিয়ে দেয়।

স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের দায়িত্ব, কর্তব্য সম্পর্কে অজ্ঞতা, অবহেলা নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি করে। এই মনোমালিন্য থেকেও পরবর্তীতে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন এই আলেম।

মাওলানা খুবাইব বলেন, বিবাহ-বিচ্ছেদের এই যে মহামারি এর পরিণতি ভয়াবহ। দেশ ও সমাজের জন্য এটা হুমকি স্বরূপ। এতে সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। পিতা-মাতার সঠিক পরিচর্যা ছাড়া সন্তানরা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। -ইসলাম টাইমস

বিবাহ-বিচ্ছেদের মহামারি: নেপথ্যের কারণ নিয়ে যা বলছেন আলেমরা

প্রতিবেদক নাম: ধর্ম ডেস্ক: ,

প্রকাশের সময়ঃ ১১ জুলাই ২০১৯, ০৭:২২ পিএম

বিবাহ। একটি সুন্নত আমল। সুস্থ জীবনধারা ও চলমান পৃথিবীর স্থিতিশীলতার জন্য বিবাহ প্রথার প্রচলন করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন সুখময়, সুন্দর ও স্থায়ী হওয়ার জন্য বিবাহের ক্ষেত্রে ইসলাম কুফুর বিধান প্রণয়ন করেছে। তবে বিয়ে পরবর্তী সময়ে যদি কখনো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য দেখা দেয় এবং পারস্পরিক সংসার যাপন করা দূরহ হয়ে ওঠে তাহলে উত্তম পদ্ধতিতে তালাক প্রদানের বিধান রেখেছে শরিয়ত। অবশ্য হাদীসে তালাককে বৈধ কাজ সমুহের মাঝে সবচেয়ে নিম্নমানের কাজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। শরিয়ত তালাক প্রদানে অনুৎসাহিত করেছে।

তবে বর্তমানে তালাক বা বিবাহ-বিচ্ছেদ মহামারি আকার ধারণ করেছে। ঘর-সংসার এখন বালির ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়ছে। ঢাকার গত ৬ মাসের হিসাব বলছে, ঢাকায় প্রতি ৫০ মিনিটে একটি সংসার ভাঙার আবেদন জমা পড়েছে। সারা দেশের চিত্রও এর চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়।

লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে, তালাক বা বিচ্ছেদের এই আবেদন পুরুষের চেয়ে নারীরা করছেন বেশি। এই বেশির মাত্রা ঢাকার কোনো কোনো এলাকায় দ্বিগুণ-তিন গুণ পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।

ঢাকার সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত তালাকের আবেদন জমা পড়েছে মোট ৪৫৫৭ টি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিটি কর্পোরেশনে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া ছাড়াও ঘর ভাঙার ঘটনার সংখ্যা কম নয়। বিভিন্ন মাদরাসার ফতোয়া বিভাগে আগত আবেদন ও জিজ্ঞাসার নথি সমন্বয় করলে এ সংখ্যা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দাঁড়াতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজধানীতে তালাক প্রদানের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ প্রসঙ্গে কথা বললে দারুল উলূম মাদরাসা মিরপুরের উস্তায মাওলানা খুবাইব জানান, বিবাহের ক্ষেত্রে শরিয়ত কুফুর( সমতা) বিধান দিয়েছে। দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দিয়ে আরো কিছু বিষয় লক্ষ্য করতে বলেছে। সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সুখময় দাম্পত্য-জীবনের জন্য যেগুলো অত্যাবশ্যক। কিন্তু বর্তমানে বিয়ের সময় সেগুলোর প্রতি বিবেচনা করা হয় না তেমন। তাই বিবাহ-বিচ্ছেদের প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে। এছাড়াও আরো কিছু কারণ আছে। সেগুলো থাকবেই। নতুবা তালকের বিধানই প্রবর্তন করা হতো না। তবে মানুষের দ্বীন থেকে দূরে সরে যাওয়াটাই ব্যাপকহারে বিবাহ-বিচ্ছেদসহ অন্যান্য দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

রাজধানীর এক প্রখ্যাত ইফতা বিভাগের উস্তাযের সাথে কথা বললে তিনি ইসলাম টাইমসকে জানান, বিবাহ-বিচ্ছেদ প্রবণতা বৃদ্ধির বেশ কয়েকটি কারণ আছে। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা না থাকা বিশেষত তালাকের ব্যাপারে মানুষের অজ্ঞতা বিবাহ-বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ। ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে না পেরে অনেকে গালির মতো তালাক দিয়ে বসে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে যে সকল ফতোয়া চাওয়া হয় তার অধিকাংশই হলো পুনরায় কীভাবে একত্রে ঘর-সংসার করা যায় সে বিষয়ে। মানুষ আসলে বিচ্ছেদের জন্যই তালাক দেয় না। তালাক প্রদানের পরিণতি না জানা থাকার কারণেই সামান্য সামান্য কারণে রাগের মাথায় তালাক দিয়ে দেয়।

স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের দায়িত্ব, কর্তব্য সম্পর্কে অজ্ঞতা, অবহেলা নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি করে। এই মনোমালিন্য থেকেও পরবর্তীতে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন এই আলেম।

মাওলানা খুবাইব বলেন, বিবাহ-বিচ্ছেদের এই যে মহামারি এর পরিণতি ভয়াবহ। দেশ ও সমাজের জন্য এটা হুমকি স্বরূপ। এতে সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। পিতা-মাতার সঠিক পরিচর্যা ছাড়া সন্তানরা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। -ইসলাম টাইমস