২০, আগস্ট, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


দেহ ব্যবসার ভয়ঙ্কর ব্যাধি আজ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে!

রিপোর্টার নামঃ আন্তর্জাতিক ডেস্ক: | আপডেট: ০৬ জুলাই ২০১৯, ১২:৩৭ এএম

দেহ ব্যবসার ভয়ঙ্কর ব্যাধি আজ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে!
দেহ ব্যবসার ভয়ঙ্কর ব্যাধি আজ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে!

খুব খারাপ লাগে,সত্যিই খুব খারাপ লাগে যখন দেখি যে মেয়ে গুলোকে চোখের সামনে বড় হতে দেখলাম,তারা পৃথিবীর আদিমতম ব্যাবসাটির সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এদের কি কোনভাবে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা যায়না?

এখন তো কলকাতা শহরের চারপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো এই সব ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে।তবে, ‘পারিশ্রমিক’ নয়। ওঁদের ভাষায়, ‘ডোনেশন’! ঘণ্টা প্রতি দরে কিংবা সারা রাতের চুক্তি। সেসবও সাইটেই পরিষ্কার করে দেওয়া রয়েছে। সবচেয়ে কম খরচ কলেজ পড়ুয়া বা গৃহবধূদের ক্ষেত্রে। সবচেয়ে বেশি খসবে ‘স্ট্রাগলিং অ্যাক্ট্রেস’ আর ‘ভিআইপি মডেল’-দের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে। ঘণ্টায় প্রায় এক লক্ষ টাকা। সারা রাতের জন্য কিছুটা ছাড়ে, দু’লাখ! আবার ক’বার সঙ্গম হবে, তার উপর নির্ভর করেও কখনও কখনও হিসেব কষা হয়ে থাকে।

শহর কলকাতায় দেহ ব্যবসায় নাবালিকাদের ব্যবহার বাড়ছে৷ সোনাগাছি বা ওই ধরনের ঘোষিত এলাকায় নয়, এই প্রবণতা বাড়ছে ব্যক্তিগত পরিসরে৷ লজ, স্পা, ম্যাসাজ পার্লার এমনকি ঘর ভাড়া নিয়ে অথবা কিনে দেহব্যবসা চালানোর চক্র রীতিমতো সক্রিয় শহরে৷ সেখানে নাবালিকাদের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে৷ একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সোনাগাছিতে ০.৮ শতাংশ নাবালিকার উপস্থিতি রয়েছে৷ সেখানে এই ধরনের ব্যক্তিগত পরিসরে নাবালিকাদের সংখ্যা প্রায় ১৮ শতাংশ৷ গত দু’বছর ধরে ৪,১৪৩ যৌনকর্মী এবং ব্যক্তিগত পরিসরের চলে এমন প্রায় ৪০টি এমন চক্রের ১৩১ জন যৌনকর্মীর মতামতের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে৷ সমীক্ষকরা জানাচ্ছেন, নাবালিকাদের জোর করে বা চাকরি , ভালো জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে যারা এই পেশায় আনছে তাদের ৮০ শতাংশই মহিলা৷ ১৫ থেকে ১৭ বছরের মেয়েরাই মূল নিশানা৷ রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তীর কথায়, ‘এই রিপোর্ট আরও গভীর ভাবে অনুধাবন করতে হবে৷ তারপর আমরা এর প্রেক্ষিতে সরকার ও প্রশাসনকে আমাদের সুপারিশ জানাব৷’ যদিও রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের উদ্যোগকে প্রশংসা করা হয়েছে এই রিপোর্টে৷ পাচার বন্ধ এবং নাবালিকা যৌনকর্মীদের মূল স্রোতে ফেরানোর ক্ষেত্রে পুলিশ-প্রশাসন যথেষ্ট উদ্যোগী—এমনটাই জানানো হয়েছে রিপোর্টে৷

তবে স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও এই ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে। পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাজ্য-রাজধানীর বুকে কীভাবে চলছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কলগার্লের ব্যবসা? ফেসবুক ফ্রেন্ডস ফাইন্ডারে মুনমুন নাম তালাশ করলেই, সাদা পাতিয়ালা পরনে, টালিগঞ্জেক এক মহিলাকে পাওয়া যাবে৷ গৃহবধূ বলে পরিচয় দেওয়া এই ফেসবুক ইউজার নিজের ওয়ালেই স্বীকার করেছেন, তিনি দেহ ব্যবসা করেন৷ এই জাল ইউজার আদতে একজন যুবক৷ ফেসবুকের মাধ্যমে কলগার্ল সরবরাহ করেন সুদূর হায়দরাবাদ থেকে এই শহর কলকাতাতেও৷ ফেসবুকের ‘দেওয়াল’ এবং ইনবক্স চ্যাটের মাধ্যমেই তিন মহিলা সংগ্রহ করেন, ক্লাইন্ট ধরেন৷ নিশ্চিন্ত এবং নিরাপদে৷মুনমুনের মতো পুনের নাতাশাও ফেসবুকের মাধ্যমেই কলকাতায় কলগার্লের ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছেন৷ তবে, তার ক্লাইন্ট ধরার পদ্ধতিটা একটু অন্য ধরনের৷ এই জাল প্রোফাইলের সঙ্গে বন্ধুত্বস্থাপনের পর অনলাইন চ্যাটের মাধ্যমে সে পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেয়৷ধীরে ধীরে সেই আলাপ পৌঁছয় যৌনতা প্রসঙ্গে৷ এরপরেই কলগার্ল সরবরাহ করার হাতছানি মেলে৷ ১৬ থেকে ৪০-এর কলেজ পড়ুয়া কিংবা গৃহবধূ, সব ধরনের কলগার্লই তিনি সরবরাহ করতে পারেন৷ স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুকের কল্যাণে মিলে যায় ‘মালদার’ ক্লাইন্টও৷

শুধু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেই নয়, সরাসরি ক্লাইট ধরতেও কলগার্লের একাংশ ফেসবুকের নিরাপদ ব্যবস্থাকেই বেছে নিয়েছে৷ অত্যাধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির হাত ধরেই কলতাতায় জাঁকিয়ে চলছে এই আধুনিক যৌন ব্যবসা৷ কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শহরতলির মেয়েরাও ফেসবুকের মাধ্যমে এইপথে রোজগার করছে৷ দীপান্বিতা নিজেকে হুগলির মেয়ে বলে পরিচয় নিয়ে ফেসবুকের বন্ধুদের আহ্বান জানাচ্ছে৷ তবে, তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, ফেসবুকের এই প্রোফাইলটি জাল৷ সঙ্গের স্বল্পবাসের যৌনতা ভরা ছবিগুলি তাঁরই৷ এই ছবিই তাঁর ক্লাইন্ট ধরতে সুবিধা করে বলেই স্বীকার করেন৷ তিনি জানালেন, তাঁর মতো অনেক মেয়েই জাল প্রোফাইলের মাধ্যমে রোজগার করছেন৷ এতে সুবিধা হচ্ছে সরাসরি ক্লাইন্ট ধরতে পারায় ‘দালালি’ বা মধ্যস্থতাকারীকে কোনও কমিশন দিতে হয় না৷

তবে এই ভয়ঙ্কর ব্যাধি আজ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।

দেহ ব্যবসার ভয়ঙ্কর ব্যাধি আজ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে!

প্রতিবেদক নাম: আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৬ জুলাই ২০১৯, ১২:৩৭ এএম

খুব খারাপ লাগে,সত্যিই খুব খারাপ লাগে যখন দেখি যে মেয়ে গুলোকে চোখের সামনে বড় হতে দেখলাম,তারা পৃথিবীর আদিমতম ব্যাবসাটির সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এদের কি কোনভাবে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা যায়না?

এখন তো কলকাতা শহরের চারপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো এই সব ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে।তবে, ‘পারিশ্রমিক’ নয়। ওঁদের ভাষায়, ‘ডোনেশন’! ঘণ্টা প্রতি দরে কিংবা সারা রাতের চুক্তি। সেসবও সাইটেই পরিষ্কার করে দেওয়া রয়েছে। সবচেয়ে কম খরচ কলেজ পড়ুয়া বা গৃহবধূদের ক্ষেত্রে। সবচেয়ে বেশি খসবে ‘স্ট্রাগলিং অ্যাক্ট্রেস’ আর ‘ভিআইপি মডেল’-দের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে। ঘণ্টায় প্রায় এক লক্ষ টাকা। সারা রাতের জন্য কিছুটা ছাড়ে, দু’লাখ! আবার ক’বার সঙ্গম হবে, তার উপর নির্ভর করেও কখনও কখনও হিসেব কষা হয়ে থাকে।

শহর কলকাতায় দেহ ব্যবসায় নাবালিকাদের ব্যবহার বাড়ছে৷ সোনাগাছি বা ওই ধরনের ঘোষিত এলাকায় নয়, এই প্রবণতা বাড়ছে ব্যক্তিগত পরিসরে৷ লজ, স্পা, ম্যাসাজ পার্লার এমনকি ঘর ভাড়া নিয়ে অথবা কিনে দেহব্যবসা চালানোর চক্র রীতিমতো সক্রিয় শহরে৷ সেখানে নাবালিকাদের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে৷ একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সোনাগাছিতে ০.৮ শতাংশ নাবালিকার উপস্থিতি রয়েছে৷ সেখানে এই ধরনের ব্যক্তিগত পরিসরে নাবালিকাদের সংখ্যা প্রায় ১৮ শতাংশ৷ গত দু’বছর ধরে ৪,১৪৩ যৌনকর্মী এবং ব্যক্তিগত পরিসরের চলে এমন প্রায় ৪০টি এমন চক্রের ১৩১ জন যৌনকর্মীর মতামতের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে৷ সমীক্ষকরা জানাচ্ছেন, নাবালিকাদের জোর করে বা চাকরি , ভালো জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে যারা এই পেশায় আনছে তাদের ৮০ শতাংশই মহিলা৷ ১৫ থেকে ১৭ বছরের মেয়েরাই মূল নিশানা৷ রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তীর কথায়, ‘এই রিপোর্ট আরও গভীর ভাবে অনুধাবন করতে হবে৷ তারপর আমরা এর প্রেক্ষিতে সরকার ও প্রশাসনকে আমাদের সুপারিশ জানাব৷’ যদিও রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের উদ্যোগকে প্রশংসা করা হয়েছে এই রিপোর্টে৷ পাচার বন্ধ এবং নাবালিকা যৌনকর্মীদের মূল স্রোতে ফেরানোর ক্ষেত্রে পুলিশ-প্রশাসন যথেষ্ট উদ্যোগী—এমনটাই জানানো হয়েছে রিপোর্টে৷

তবে স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও এই ব্যবসা রমরমিয়ে চলছে। পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাজ্য-রাজধানীর বুকে কীভাবে চলছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কলগার্লের ব্যবসা? ফেসবুক ফ্রেন্ডস ফাইন্ডারে মুনমুন নাম তালাশ করলেই, সাদা পাতিয়ালা পরনে, টালিগঞ্জেক এক মহিলাকে পাওয়া যাবে৷ গৃহবধূ বলে পরিচয় দেওয়া এই ফেসবুক ইউজার নিজের ওয়ালেই স্বীকার করেছেন, তিনি দেহ ব্যবসা করেন৷ এই জাল ইউজার আদতে একজন যুবক৷ ফেসবুকের মাধ্যমে কলগার্ল সরবরাহ করেন সুদূর হায়দরাবাদ থেকে এই শহর কলকাতাতেও৷ ফেসবুকের ‘দেওয়াল’ এবং ইনবক্স চ্যাটের মাধ্যমেই তিন মহিলা সংগ্রহ করেন, ক্লাইন্ট ধরেন৷ নিশ্চিন্ত এবং নিরাপদে৷মুনমুনের মতো পুনের নাতাশাও ফেসবুকের মাধ্যমেই কলকাতায় কলগার্লের ব্যবসা জাঁকিয়ে বসেছেন৷ তবে, তার ক্লাইন্ট ধরার পদ্ধতিটা একটু অন্য ধরনের৷ এই জাল প্রোফাইলের সঙ্গে বন্ধুত্বস্থাপনের পর অনলাইন চ্যাটের মাধ্যমে সে পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প জুড়ে দেয়৷ধীরে ধীরে সেই আলাপ পৌঁছয় যৌনতা প্রসঙ্গে৷ এরপরেই কলগার্ল সরবরাহ করার হাতছানি মেলে৷ ১৬ থেকে ৪০-এর কলেজ পড়ুয়া কিংবা গৃহবধূ, সব ধরনের কলগার্লই তিনি সরবরাহ করতে পারেন৷ স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুকের কল্যাণে মিলে যায় ‘মালদার’ ক্লাইন্টও৷

শুধু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেই নয়, সরাসরি ক্লাইট ধরতেও কলগার্লের একাংশ ফেসবুকের নিরাপদ ব্যবস্থাকেই বেছে নিয়েছে৷ অত্যাধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির হাত ধরেই কলতাতায় জাঁকিয়ে চলছে এই আধুনিক যৌন ব্যবসা৷ কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শহরতলির মেয়েরাও ফেসবুকের মাধ্যমে এইপথে রোজগার করছে৷ দীপান্বিতা নিজেকে হুগলির মেয়ে বলে পরিচয় নিয়ে ফেসবুকের বন্ধুদের আহ্বান জানাচ্ছে৷ তবে, তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, ফেসবুকের এই প্রোফাইলটি জাল৷ সঙ্গের স্বল্পবাসের যৌনতা ভরা ছবিগুলি তাঁরই৷ এই ছবিই তাঁর ক্লাইন্ট ধরতে সুবিধা করে বলেই স্বীকার করেন৷ তিনি জানালেন, তাঁর মতো অনেক মেয়েই জাল প্রোফাইলের মাধ্যমে রোজগার করছেন৷ এতে সুবিধা হচ্ছে সরাসরি ক্লাইন্ট ধরতে পারায় ‘দালালি’ বা মধ্যস্থতাকারীকে কোনও কমিশন দিতে হয় না৷

তবে এই ভয়ঙ্কর ব্যাধি আজ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।