২২, আগস্ট, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্তে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান

রিপোর্টার নামঃ প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:২৯ পিএম

শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্তে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান
শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্তে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এই দাবি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বানও জানান।


সংসদের বৈঠকে যখন জিয়াউদ্দীন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।


প্রশ্নফাঁস ও ঘুষ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমি দাবি করছি, অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর ব্যর্থতা, দুর্নীতি, অনিয়ম স্বীকার করে নিয়ে পদত্যাগ করুন। না হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, তাঁকে (শিক্ষামন্ত্রী) বরখাস্ত করে শিক্ষা খাতের উন্নতির জন্য গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য আপনি নতুন মন্ত্রী নিয়োগ করুন।’


এ সময় সাংসদের অনেকে টেবিল চাপড়ে জিয়াউদ্দীনের বক্তব্যকে সমর্থন জানান।


জিয়াউদ্দীন আহমেদের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী এটা শুনেছেন। তিনি তাঁর বিবেক-বিবেচনায় যেটুকু করা প্রয়োজন, জাতির স্বার্থে অবশ্যই তা করবেন।’


এসএসসিসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমালোচনা করে জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রতিদিন পত্রিকায় আসছে। এটা মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রশ্নফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করার পরও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।


বিরোধী দলের এই সাংসদ আরও বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ছে। ছাত্ররা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে বেরিয়ে আসছে, কিন্তু কিছুই পারে না। তারা বাংলাও লিখতে পারে না, ইংরেজিও লিখতে পারে না। এ–ই যদি পরিস্থিতি হয়, তাহলে কার কাছে আমরা দেশটি রেখে যাব?’


জিয়াউদ্দীন দাবি করেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজিতে চাকরির দরখাস্তও লিখতে পারেন না। গোল্ডেন জিপিএ পেয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন না। শিক্ষার গুণগত মান অর্জন করা যাচ্ছে না।


শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী কয়েক দিন আগে কর্মকর্তাদের বৈঠকে বলেছেন, “আপনারা ঘুষ খান, তবে সহনীয় পর্যায় ঘুষ খাবেন।” এটা বলার পরে কি উনি মন্ত্রী থাকতে পারেন? যখন মন্ত্রী ঘুষের কথা বলেন, তখন তাঁর কথা তো আর কেউ শুনবেন না। তাঁর সচিব শুনবেন না, অধীন কেউ শুনবে না। তিনি তো ঘুষকে উৎসাহিত করছেন। তাহলে কীভাবে কঠোরভাবে প্রশ্নফাঁস বন্ধ করবেন তা বোধগম্য নয়।’


এ সময় জিয়াউদ্দীন নিজের মোবাইল ফোন দেখিয়ে বলেন, ইউটিউবে শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য আছে।


শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্তে প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান

প্রতিবেদক নাম: প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:২৯ পিএম

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এই দাবি জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বানও জানান।


সংসদের বৈঠকে যখন জিয়াউদ্দীন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।


প্রশ্নফাঁস ও ঘুষ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমি দাবি করছি, অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর ব্যর্থতা, দুর্নীতি, অনিয়ম স্বীকার করে নিয়ে পদত্যাগ করুন। না হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, তাঁকে (শিক্ষামন্ত্রী) বরখাস্ত করে শিক্ষা খাতের উন্নতির জন্য গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য আপনি নতুন মন্ত্রী নিয়োগ করুন।’


এ সময় সাংসদের অনেকে টেবিল চাপড়ে জিয়াউদ্দীনের বক্তব্যকে সমর্থন জানান।


জিয়াউদ্দীন আহমেদের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী এটা শুনেছেন। তিনি তাঁর বিবেক-বিবেচনায় যেটুকু করা প্রয়োজন, জাতির স্বার্থে অবশ্যই তা করবেন।’


এসএসসিসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সমালোচনা করে জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রতিদিন পত্রিকায় আসছে। এটা মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রশ্নফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করার পরও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।


বিরোধী দলের এই সাংসদ আরও বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ছে। ছাত্ররা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে বেরিয়ে আসছে, কিন্তু কিছুই পারে না। তারা বাংলাও লিখতে পারে না, ইংরেজিও লিখতে পারে না। এ–ই যদি পরিস্থিতি হয়, তাহলে কার কাছে আমরা দেশটি রেখে যাব?’


জিয়াউদ্দীন দাবি করেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজিতে চাকরির দরখাস্তও লিখতে পারেন না। গোল্ডেন জিপিএ পেয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন না। শিক্ষার গুণগত মান অর্জন করা যাচ্ছে না।


শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী কয়েক দিন আগে কর্মকর্তাদের বৈঠকে বলেছেন, “আপনারা ঘুষ খান, তবে সহনীয় পর্যায় ঘুষ খাবেন।” এটা বলার পরে কি উনি মন্ত্রী থাকতে পারেন? যখন মন্ত্রী ঘুষের কথা বলেন, তখন তাঁর কথা তো আর কেউ শুনবেন না। তাঁর সচিব শুনবেন না, অধীন কেউ শুনবে না। তিনি তো ঘুষকে উৎসাহিত করছেন। তাহলে কীভাবে কঠোরভাবে প্রশ্নফাঁস বন্ধ করবেন তা বোধগম্য নয়।’


এ সময় জিয়াউদ্দীন নিজের মোবাইল ফোন দেখিয়ে বলেন, ইউটিউবে শিক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য আছে।