২৩, আগস্ট, ২০১৯, শুক্রবার | | ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


বদহজমের কারণ ও নিরাময়ে পরামর্শ

রিপোর্টার নামঃ স্বাস্থ্য ডেস্ক: | আপডেট: ২৩ জুন ২০১৯, ০৯:২২ এএম

বদহজমের কারণ ও নিরাময়ে পরামর্শ
বদহজমের কারণ ও নিরাময়ে পরামর্শ

হরমোন ও ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ কোনো অসুখের উপসর্গ হিসেবে বদহজম হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হজমে সহায়ক নয়, এমন খাদ্য গ্রহণে বদহজম হয়। খাদ্য গ্রহণের পদ্ধতিগত সমস্যার কারণেও বদহজম হতে পারে।

বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা করতে পারে এমন খাদ্যতালিকায় আছে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত বা অনেক বেশি রসুন দেওয়া তরকারি, ভারী খাদ্য, বিশেষ করে ক্রিম ও মাখন দেওয়া ইত্যাদি। কাঁচা ফল, আধাসিদ্ধ মাংস, ডিম, অতিরিক্ত চা পান, মদ্যপান ও ধূমপান হজমের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

এসব খাদ্য হজম করতে এবং পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে পৌঁছতে অনেক বেশি সময় নেয়। গৃহীত খাদ্য ও পাকস্থলীর নিঃসৃত অ্যাসিড অন্ত্রে না গিয়ে দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে আটকা পড়ে থাকে। এতে করে অ্যাসিড পাকস্থলী থেকে শোষিত হয় এবং বুকজ্বালা করে।

কিছু লোকের ক্ষেত্রে শুধু তাড়াহুড়া করে ঠিকমতো না চিবিয়ে খাদ্যের গ্রাস গলধঃকরণ করার ফলে বদহজম হয়। কারো অসুস্থ দাঁতও বদহজমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উপসর্গ : কারো পেটব্যথা হয়, কারো পায়ুপথে বায়ু নির্গমনের পরিমাণ বেড়ে যায়, কারো পেটে এক ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়, কারো কারো ঢেঁকুর উঠতে থাকে। তবে এসব উপসর্গ বদহজমের কারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

পাকস্থলীর ওপরের অংশে ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এরপর হয় বমি, বায়ু এবং পেট ভার বা পেট ভর্তি হয়ে থাকার মতো অনুভূতি। এতে বদহজমকারী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। ঢেকুর ওঠা বা বুক জ্বালাপোড়া করা স্বাভাবিক।

অনেকের কণ্ঠস্বর এ সময় কর্কশ হয়। অতিরিক্ত লালা ঝরার মতো অবস্থা হয় এবং হেঁচকি ও ঢেঁকুর ওঠে। যারা দীর্ঘদিন ধরে বদহজমের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জিহ্বা শুকনো থাকে। জিহ্বার ওপর দিকে বাদামি শ্যাওলার মতো জমে এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ থাকে।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা : দীর্ঘদিনের বদহজমের রোগী, যাদের একই সঙ্গে অন্য কোনো অসুখ, যেমন-হায়াটাস হার্নিয়া, পেপটিক আলসার, পাকস্থলী বা অন্ত্রের ক্যানসার ইত্যাদি আছে, তাদের কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে নিতে হবে। যদি বদহজমের কারণ দ্রুত ও ঠিকমতো না ঠেকানো যায়, তবে তাকে ঠিকমতো ও পরিমিত সময় নিয়ে চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে।

খেতে বসে তাড়াহুড়া করা ঠিক নয়। অনেক প্রাপ্তবয়স্কের দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে বদহজম হয়। তাদের এটি খাওয়া যাবে না। যার হঠাৎ একবার বদহজম হয়েছে, তাকে দুটো অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট খাইয়ে দিলেই চলবে।

হায়াটাস হার্নিয়ার রোগীর নিয়মিত অ্যান্টাসিড খাওয়া ও কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য বর্জন করা উচিত। পেপটিক আলসারের রোগীর এ থেকে রক্ষা পেতে অ্যাসিড নিঃসরণ কমানোর ওষুধ, ঘা কমানোর ওষুধ ও একই সঙ্গে যেসব কারণে এ অবস্থা হচ্ছে, সেসব দূর করতে হবে। অধিকাংশ বদহজমের রোগীকে একটি বা দুটি অ্যান্টাসিড দিয়েই ভালো রাখা সম্ভব। তবে তাদের কিছু স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ প্রণালি বাতলে দিতে হবে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় শাহবাগ, ঢাকা­

বদহজমের কারণ ও নিরাময়ে পরামর্শ

প্রতিবেদক নাম: স্বাস্থ্য ডেস্ক: ,

প্রকাশের সময়ঃ ২৩ জুন ২০১৯, ০৯:২২ এএম

হরমোন ও ডায়াবেটিস রোগ বিশেষজ্ঞ কোনো অসুখের উপসর্গ হিসেবে বদহজম হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে হজমে সহায়ক নয়, এমন খাদ্য গ্রহণে বদহজম হয়। খাদ্য গ্রহণের পদ্ধতিগত সমস্যার কারণেও বদহজম হতে পারে।

বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে হজমে সমস্যা করতে পারে এমন খাদ্যতালিকায় আছে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত বা অনেক বেশি রসুন দেওয়া তরকারি, ভারী খাদ্য, বিশেষ করে ক্রিম ও মাখন দেওয়া ইত্যাদি। কাঁচা ফল, আধাসিদ্ধ মাংস, ডিম, অতিরিক্ত চা পান, মদ্যপান ও ধূমপান হজমের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

এসব খাদ্য হজম করতে এবং পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে পৌঁছতে অনেক বেশি সময় নেয়। গৃহীত খাদ্য ও পাকস্থলীর নিঃসৃত অ্যাসিড অন্ত্রে না গিয়ে দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে আটকা পড়ে থাকে। এতে করে অ্যাসিড পাকস্থলী থেকে শোষিত হয় এবং বুকজ্বালা করে।

কিছু লোকের ক্ষেত্রে শুধু তাড়াহুড়া করে ঠিকমতো না চিবিয়ে খাদ্যের গ্রাস গলধঃকরণ করার ফলে বদহজম হয়। কারো অসুস্থ দাঁতও বদহজমের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উপসর্গ : কারো পেটব্যথা হয়, কারো পায়ুপথে বায়ু নির্গমনের পরিমাণ বেড়ে যায়, কারো পেটে এক ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়, কারো কারো ঢেঁকুর উঠতে থাকে। তবে এসব উপসর্গ বদহজমের কারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

পাকস্থলীর ওপরের অংশে ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এরপর হয় বমি, বায়ু এবং পেট ভার বা পেট ভর্তি হয়ে থাকার মতো অনুভূতি। এতে বদহজমকারী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। ঢেকুর ওঠা বা বুক জ্বালাপোড়া করা স্বাভাবিক।

অনেকের কণ্ঠস্বর এ সময় কর্কশ হয়। অতিরিক্ত লালা ঝরার মতো অবস্থা হয় এবং হেঁচকি ও ঢেঁকুর ওঠে। যারা দীর্ঘদিন ধরে বদহজমের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জিহ্বা শুকনো থাকে। জিহ্বার ওপর দিকে বাদামি শ্যাওলার মতো জমে এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ থাকে।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা : দীর্ঘদিনের বদহজমের রোগী, যাদের একই সঙ্গে অন্য কোনো অসুখ, যেমন-হায়াটাস হার্নিয়া, পেপটিক আলসার, পাকস্থলী বা অন্ত্রের ক্যানসার ইত্যাদি আছে, তাদের কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে নিতে হবে। যদি বদহজমের কারণ দ্রুত ও ঠিকমতো না ঠেকানো যায়, তবে তাকে ঠিকমতো ও পরিমিত সময় নিয়ে চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে।

খেতে বসে তাড়াহুড়া করা ঠিক নয়। অনেক প্রাপ্তবয়স্কের দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যে বদহজম হয়। তাদের এটি খাওয়া যাবে না। যার হঠাৎ একবার বদহজম হয়েছে, তাকে দুটো অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট খাইয়ে দিলেই চলবে।

হায়াটাস হার্নিয়ার রোগীর নিয়মিত অ্যান্টাসিড খাওয়া ও কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য বর্জন করা উচিত। পেপটিক আলসারের রোগীর এ থেকে রক্ষা পেতে অ্যাসিড নিঃসরণ কমানোর ওষুধ, ঘা কমানোর ওষুধ ও একই সঙ্গে যেসব কারণে এ অবস্থা হচ্ছে, সেসব দূর করতে হবে। অধিকাংশ বদহজমের রোগীকে একটি বা দুটি অ্যান্টাসিড দিয়েই ভালো রাখা সম্ভব। তবে তাদের কিছু স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ প্রণালি বাতলে দিতে হবে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় শাহবাগ, ঢাকা­