২০, আগস্ট, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ: অন্তহীন প্রাণের পথচলায় অবিচল

রিপোর্টার নামঃ স্বাধীন চৌধুরী ।। প্রতিদিনের কাগজ' | আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯, ০৯:১৯ পিএম

ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ: অন্তহীন প্রাণের পথচলায় অবিচল
ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ: অন্তহীন প্রাণের পথচলায় অবিচল

আশির দশক; সারা বাংলাদেশে কাব্য আন্দোলন, সাহিত্য সংগঠন, লিটলম্যাগ চর্চার উন্মুল সময়। এ দশকের গোঁড়ায়, ২১ মে ১৯৮০ ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ এর পথচলা শুরু। এরপর দীর্ঘ ৩৯ বছরের পথচলায় এই সংগঠন তার নানামুখী কর্মকান্ড দিয়ে শুধু অত্র অঞ্চলের নয়, সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সাহিত্যের আঙ্গিনা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।

ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ এর স্লোগান: ‘সুন্দরের জন্য লড়াই’ এবং ব্রত হচ্ছে: লেখকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, লেখকদের আশ্রয় ও সম্মিলনের সুযোগ তৈরী করা। এ লক্ষ্যে ‘স্বরচিত’ সাহিত্যপত্র ও ‘বীক্ষণ’ পাঠচক্র ছাড়াও সংগঠনের সাহিত্যানুষ্ঠান, সাহিত্য সম্মেলন, কবিতার কর্মশালা, গুণীজন সম্মাননা, আবুল মনসুর আহম্মদ সাহিত্য পুরস্কার এ কর্মকান্ডগুলো প্রায় নিয়মিত হয়ে আসছে। তবে সকল কর্মকান্ডকে ছাপিয়ে সংগঠনের প্রাণভোমরা হয়ে উঠে ১৯৮৩ সনে চালু হওয়া ‘বীক্ষণ পাঠচক্র’ প্রকল্পটি। যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতি সপ্তাহে বিরতিহীনভাবে আসর পরিচালনার ক্ষেত্রে যে কোন ভাষাভাষির মানুষের পাঠচক্রের ইতিহাসে এক বিষ্ময়কর রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে বীক্ষণ। গত শুক্রবার (১৪ জুন, ২০১৯) যথারীতি এর ১৮৪০ তম সাপ্তাহিক আসরটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠন পরিচালনায় ১৯ সদস্যের একটি কার্যনিবাহী কমিটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একটি সাধারণ সভায় অধিক সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে ২ বছরের জন্য গঠিত হয়ে থাকে। সংগঠনের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৮১ জন। গত ৮ জুন ২০১৯ ঈদউত্তর ছুটির দিনে ৬২ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সংগঠনের সাধারণ সভা ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় মুসলিম ইন্সটিটিউটে দুপুর সাড়ে বারোটায় সদস্যগণের তথ্য নবায়ন ফরম পূরণ, বকেয়া চাঁদা প্রদান এবং উপস্থিতি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সাধারণ সভার কাজ আরম্ভ হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠন সভাপতি কবি ফরিদ আহমদ দুলাল। সভায় যথারীতি সংগঠন সাধারণ সম্পাদক কবি ইয়াজদানী কোরায়শী কমিটির কার্যকালের সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় সংগঠনের সাফল্য-ব্যর্থতার স্বরূপ তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের একাংশে তিনি বিগত সময়ে সংগঠন সংশ্লিষ্ট যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১ মিনিট নিরবতা পালনের আহবান জানান। তিনি সংগঠনের আয়-ব্যয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণী তুলে ধরেন। এরপর উপস্থিত সদস্যবৃন্দ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের উপর আলোচনায় অংশ নেন। তারা নানা বিষয়ে পর্যালোচনা ও মতামত প্রদান করেন।

সভার দ্বিতীয় অংশে সভাপতি বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে জানিয়ে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ১০ মিনিটের বিরতি দিয়ে উপস্থিত সদস্যবৃন্দের মাঝ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল আহবান করেন। বিরতির পর তার কাছে ৪টি প্যানেল ভিন্ন ভিন্ন ৪ জন সদস্য জমা দেন। সভাপতি সেগুলো গ্রহণ করে সকলের সামনে উন্মোচন করেন। সে সময় তিনি উলে­খ করেন, গৃহীত ৪টি প্যানেলের একটি প্যানেলে উলে­খিত প্রতিটি প্রার্থীর নামের পাশে সম্মতি স্বাক্ষর ও প্রস্তাবকের নাম-স্বাক্ষর যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ আছে। বাকী ৩ টি প্যানেলে ঘুরে-ফিরে একই নামের কয়েকজনের উলে­খসহ প্যানেলে কোন সম্মতি স্বাক্ষর বা প্রস্তাবকের নাম-স্বাক্ষর উলে­খ করা হয় নি। উপস্থাপিত প্যানেলগুলোর মধ্যে ১টি বাদে অন্য ৩টি প্যানেলকে তিনি অসম্পূর্ণ বিবেচনা করে বাতিল বলে ঘোষণা দেন। যে প্যানেলটিতে সকল প্রার্থীর সম্মতি স্বাক্ষর ও প্রস্তাবকের নাম ছিল-সেটিকে বিজয়ী ঘোষণা করা যায় বলে মত দেন।

এ পর্যায়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ এবং গৃহীত প্যানেলটি যখন ঘোষণা দিতে যান ঠিক তখনই ৩/৪ জন সদস্য আকষ্মিক দাঁড়িয়ে উচ্চ শব্দে কথা বলা শুরু করেন। তারা বাতিলকৃত প্যানেলগুলোকে বিবেচনায় আনার জন্য চেঁচামেচি শুরু করে দিলে সভাপতি তাঁর বক্তব্য প্রদানে একটু থেমে যান। তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করে বলেন, ‘অসম্পূর্ণ প্যানেলগুলো যারা দিয়েছেন তারা ভুল করেছেন এবং তাদের এই ভুলের জন্য অবশ্যই পরবর্তী ২ বছর অপেক্ষা করতে হবে’।

সাধারণ সভার সভাপতি আবারও তাদেরকে থামানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে অসুস্থতা বোধ করে বাইরে চলে যান। পরবর্তীতে ফিরে এসে হৈ-চৈ এর মধ্যেই তিনি ৩ মাসের জন্য সভা স্থগিতের ঘোষনা দেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তার কথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেন। পরিস্থিতির প্রতিক‚লতা সাপেক্ষে তখন তিনি উপস্থিত সদস্যবৃন্দকে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলটির পক্ষে কতজন আছেন তা হাত তুলে সমর্থন যাচাইয়ের ঘোষণা দেন।

সভাস্থলে উপস্থিত ৪৪ জন সদস্য হাত তুলে তখন উক্ত প্যানেলের পক্ষে রায় দিলে তিনি সাধারণ সম্পাদককে প্যানেলটি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে সভা সমাপ্তির ঘোষণা না করেই বেরিয়ে যান। এ সময় গৃহীত প্যানেলটির প্রস্তাবক সেটি পাঠ করে হাউজকে শোনান। হাউজে এই প্যানেল সমর্থক সদস্যবৃন্দ সবাই তখন উপস্থিত ছিলেন এবং তারা করতালি দিয়ে প্যানেলটিকে স্বাগত জানান। অতঃপর আনন্দঘন পরিবেশে ফটোসেশন ও মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে নবগঠিত প্যানেলের সভাপতি আনোয়ারা সুলতানা আনু এবং সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন চৌধুরীর ধন্যবাদসূচক বক্তব্যের পর সাধারণ সভার পরিসমাপ্তি ঘটে।

অন্যদিকে সভা শেষ হবার কিছুক্ষণ পর কবি ফরিদ আহমদ দুলাল কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সদস্যকে নিয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কবি মুশাররাফ করিমের বাসায় গিয়ে অযাচিতভাবে একটি ফেইসবুক লাইভে যুক্ত হন। যেখানে তিনি সভাপরবর্তী নবগঠিত প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছবি সম্বলিত একটি পোস্টের বিরোধিতা করে বলেন- ‘আমি কোন প্যানেলকে ঘোষনা করতে বলিনি এবং আমি ৩ মাসের স্থগিত আদেশ দিয়ে এসেছি’। তার এই বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাতিলকৃত প্যানেলের কতিপয় সদস্য খুবই আক্রমণাত্বক ভাষায় এই প্যানেলের প্রতি এবং সংগঠনের কর্মকান্ড নিয়ে খারাপ ভাষায় বিষোদগার শুরু করেন। তাতে এক পর্যায়ে যুক্ত হন সাহিত্য সংসদের সদস্য নন এবং সংগঠন ধারণা বিরোধী কিছু মানুষজন। সভাপতি নিজেও এরপর অনেকের মন্তব্যে সায় প্রদান এবং নতুন করে উষ্কে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যহত রাখেন। এখনো তিনি তার ফেইসবুক পোস্টে এই কমিটির বৈধতা নিয়ে একটি পক্ষাবলম্বন করছেন, যে পক্ষের বাতিল হওয়া প্যানেলে তিনি সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।

আমরা সংগঠনের সম্মান ও মর্যাদার স্বার্থে এমন কুরুচিপূর্ণ ফেইসবুক বচসাকে এড়িয়ে গেছি। কিন্তু ফেইসবুক পরিস্থিতির এমন কুটচালের চূড়ান্ত অবস্থায় সকলকে সার্বিক পরিস্থিতি না জানালে ভুল বুঝবার অবকাশ তৈরী হতে পারে বিধায় অবশেষে বিস্তারিত তুলে ধরা হল।

কবি ফরিদ আহমদ দুলাল এতদিনকার প্রাচীন সমৃদ্ধ এই সংগঠনটিকে সকলের হাসির পাত্র এবং মন্তব্যের ইস্যু করে তুলেছেন বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমেও এ বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। সংগঠনের অন্তঃপ্রাণ সদস্যবৃন্দ ও বর্তমান নবগঠিত কমিটি এ পর্যায়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চান যে- অতীতেও ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে- ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে- কিন্তু কখনোই তা সদস্যের বাইরে কেউ জানতেন না।গত ৮ জুন তারিখে কবি ফরিদ আহমদ দুলাল সভাটি যথাযথভাবে পরিচালনা করলে এমন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না। পরবর্তিতে তিনি ফেইসবুকে লাইভ করে নিজেকে একটি পক্ষের হিসাবে ঘোষণা প্রদানের মাধ্যমে বিরোধ মিটানোর বদলে বিরোধকে উস্কে দিয়ে উস্কানী দাতাদের দল ভারী করে সংগঠনের ভাবমূর্তি বিনষ্টের প্রয়াস পেয়েছেন।

আমরা গণমাধ্যম ও সচেতন সামাজিক নেতৃত্বের প্রতি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ঘোষিত নির্বাচিত কমিটিকে সহযোগিতা প্রদানের আহবান জানাচ্ছি। সেই সাথে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সকল সদস্য, বীক্ষণ অংশগ্রহণকারী, বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের সকলের প্রতি আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। অবকাঠামো হারিয়ে ফেলা অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতির মধ্যে গত এক দশক ধরে কোন রকমে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এই সংগঠনটি নিশ্চয়ই সকল ভুল বোঝাবুঝিকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কারো প্রতি বিরাগ নয়, অনুরাগ-ভালবাসা নিয়ে সকলে মিলে সংগঠনের ভাবমূর্তিকে সমুন্বত রেখে সাহিত্যের পক্ষে আসুন কাজ করে যাই।

ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ: অন্তহীন প্রাণের পথচলায় অবিচল

প্রতিবেদক নাম: স্বাধীন চৌধুরী ।। প্রতিদিনের কাগজ' ,

প্রকাশের সময়ঃ ১৬ জুন ২০১৯, ০৯:১৯ পিএম

আশির দশক; সারা বাংলাদেশে কাব্য আন্দোলন, সাহিত্য সংগঠন, লিটলম্যাগ চর্চার উন্মুল সময়। এ দশকের গোঁড়ায়, ২১ মে ১৯৮০ ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ এর পথচলা শুরু। এরপর দীর্ঘ ৩৯ বছরের পথচলায় এই সংগঠন তার নানামুখী কর্মকান্ড দিয়ে শুধু অত্র অঞ্চলের নয়, সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সাহিত্যের আঙ্গিনা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।

ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ এর স্লোগান: ‘সুন্দরের জন্য লড়াই’ এবং ব্রত হচ্ছে: লেখকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, লেখকদের আশ্রয় ও সম্মিলনের সুযোগ তৈরী করা। এ লক্ষ্যে ‘স্বরচিত’ সাহিত্যপত্র ও ‘বীক্ষণ’ পাঠচক্র ছাড়াও সংগঠনের সাহিত্যানুষ্ঠান, সাহিত্য সম্মেলন, কবিতার কর্মশালা, গুণীজন সম্মাননা, আবুল মনসুর আহম্মদ সাহিত্য পুরস্কার এ কর্মকান্ডগুলো প্রায় নিয়মিত হয়ে আসছে। তবে সকল কর্মকান্ডকে ছাপিয়ে সংগঠনের প্রাণভোমরা হয়ে উঠে ১৯৮৩ সনে চালু হওয়া ‘বীক্ষণ পাঠচক্র’ প্রকল্পটি। যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতি সপ্তাহে বিরতিহীনভাবে আসর পরিচালনার ক্ষেত্রে যে কোন ভাষাভাষির মানুষের পাঠচক্রের ইতিহাসে এক বিষ্ময়কর রেকর্ডের জন্ম দিয়েছে বীক্ষণ। গত শুক্রবার (১৪ জুন, ২০১৯) যথারীতি এর ১৮৪০ তম সাপ্তাহিক আসরটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠন পরিচালনায় ১৯ সদস্যের একটি কার্যনিবাহী কমিটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একটি সাধারণ সভায় অধিক সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে ২ বছরের জন্য গঠিত হয়ে থাকে। সংগঠনের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৮১ জন। গত ৮ জুন ২০১৯ ঈদউত্তর ছুটির দিনে ৬২ জন সদস্যের উপস্থিতিতে সংগঠনের সাধারণ সভা ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় মুসলিম ইন্সটিটিউটে দুপুর সাড়ে বারোটায় সদস্যগণের তথ্য নবায়ন ফরম পূরণ, বকেয়া চাঁদা প্রদান এবং উপস্থিতি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সাধারণ সভার কাজ আরম্ভ হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠন সভাপতি কবি ফরিদ আহমদ দুলাল। সভায় যথারীতি সংগঠন সাধারণ সম্পাদক কবি ইয়াজদানী কোরায়শী কমিটির কার্যকালের সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় সংগঠনের সাফল্য-ব্যর্থতার স্বরূপ তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের একাংশে তিনি বিগত সময়ে সংগঠন সংশ্লিষ্ট যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১ মিনিট নিরবতা পালনের আহবান জানান। তিনি সংগঠনের আয়-ব্যয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণী তুলে ধরেন। এরপর উপস্থিত সদস্যবৃন্দ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের উপর আলোচনায় অংশ নেন। তারা নানা বিষয়ে পর্যালোচনা ও মতামত প্রদান করেন।

সভার দ্বিতীয় অংশে সভাপতি বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে জানিয়ে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ১০ মিনিটের বিরতি দিয়ে উপস্থিত সদস্যবৃন্দের মাঝ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল আহবান করেন। বিরতির পর তার কাছে ৪টি প্যানেল ভিন্ন ভিন্ন ৪ জন সদস্য জমা দেন। সভাপতি সেগুলো গ্রহণ করে সকলের সামনে উন্মোচন করেন। সে সময় তিনি উলে­খ করেন, গৃহীত ৪টি প্যানেলের একটি প্যানেলে উলে­খিত প্রতিটি প্রার্থীর নামের পাশে সম্মতি স্বাক্ষর ও প্রস্তাবকের নাম-স্বাক্ষর যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ আছে। বাকী ৩ টি প্যানেলে ঘুরে-ফিরে একই নামের কয়েকজনের উলে­খসহ প্যানেলে কোন সম্মতি স্বাক্ষর বা প্রস্তাবকের নাম-স্বাক্ষর উলে­খ করা হয় নি। উপস্থাপিত প্যানেলগুলোর মধ্যে ১টি বাদে অন্য ৩টি প্যানেলকে তিনি অসম্পূর্ণ বিবেচনা করে বাতিল বলে ঘোষণা দেন। যে প্যানেলটিতে সকল প্রার্থীর সম্মতি স্বাক্ষর ও প্রস্তাবকের নাম ছিল-সেটিকে বিজয়ী ঘোষণা করা যায় বলে মত দেন।

এ পর্যায়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ এবং গৃহীত প্যানেলটি যখন ঘোষণা দিতে যান ঠিক তখনই ৩/৪ জন সদস্য আকষ্মিক দাঁড়িয়ে উচ্চ শব্দে কথা বলা শুরু করেন। তারা বাতিলকৃত প্যানেলগুলোকে বিবেচনায় আনার জন্য চেঁচামেচি শুরু করে দিলে সভাপতি তাঁর বক্তব্য প্রদানে একটু থেমে যান। তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করে বলেন, ‘অসম্পূর্ণ প্যানেলগুলো যারা দিয়েছেন তারা ভুল করেছেন এবং তাদের এই ভুলের জন্য অবশ্যই পরবর্তী ২ বছর অপেক্ষা করতে হবে’।

সাধারণ সভার সভাপতি আবারও তাদেরকে থামানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে অসুস্থতা বোধ করে বাইরে চলে যান। পরবর্তীতে ফিরে এসে হৈ-চৈ এর মধ্যেই তিনি ৩ মাসের জন্য সভা স্থগিতের ঘোষনা দেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তার কথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেন। পরিস্থিতির প্রতিক‚লতা সাপেক্ষে তখন তিনি উপস্থিত সদস্যবৃন্দকে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলটির পক্ষে কতজন আছেন তা হাত তুলে সমর্থন যাচাইয়ের ঘোষণা দেন।

সভাস্থলে উপস্থিত ৪৪ জন সদস্য হাত তুলে তখন উক্ত প্যানেলের পক্ষে রায় দিলে তিনি সাধারণ সম্পাদককে প্যানেলটি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়ে সভা সমাপ্তির ঘোষণা না করেই বেরিয়ে যান। এ সময় গৃহীত প্যানেলটির প্রস্তাবক সেটি পাঠ করে হাউজকে শোনান। হাউজে এই প্যানেল সমর্থক সদস্যবৃন্দ সবাই তখন উপস্থিত ছিলেন এবং তারা করতালি দিয়ে প্যানেলটিকে স্বাগত জানান। অতঃপর আনন্দঘন পরিবেশে ফটোসেশন ও মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে নবগঠিত প্যানেলের সভাপতি আনোয়ারা সুলতানা আনু এবং সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন চৌধুরীর ধন্যবাদসূচক বক্তব্যের পর সাধারণ সভার পরিসমাপ্তি ঘটে।

অন্যদিকে সভা শেষ হবার কিছুক্ষণ পর কবি ফরিদ আহমদ দুলাল কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সদস্যকে নিয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কবি মুশাররাফ করিমের বাসায় গিয়ে অযাচিতভাবে একটি ফেইসবুক লাইভে যুক্ত হন। যেখানে তিনি সভাপরবর্তী নবগঠিত প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছবি সম্বলিত একটি পোস্টের বিরোধিতা করে বলেন- ‘আমি কোন প্যানেলকে ঘোষনা করতে বলিনি এবং আমি ৩ মাসের স্থগিত আদেশ দিয়ে এসেছি’। তার এই বক্তব্য দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাতিলকৃত প্যানেলের কতিপয় সদস্য খুবই আক্রমণাত্বক ভাষায় এই প্যানেলের প্রতি এবং সংগঠনের কর্মকান্ড নিয়ে খারাপ ভাষায় বিষোদগার শুরু করেন। তাতে এক পর্যায়ে যুক্ত হন সাহিত্য সংসদের সদস্য নন এবং সংগঠন ধারণা বিরোধী কিছু মানুষজন। সভাপতি নিজেও এরপর অনেকের মন্তব্যে সায় প্রদান এবং নতুন করে উষ্কে দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যহত রাখেন। এখনো তিনি তার ফেইসবুক পোস্টে এই কমিটির বৈধতা নিয়ে একটি পক্ষাবলম্বন করছেন, যে পক্ষের বাতিল হওয়া প্যানেলে তিনি সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।

আমরা সংগঠনের সম্মান ও মর্যাদার স্বার্থে এমন কুরুচিপূর্ণ ফেইসবুক বচসাকে এড়িয়ে গেছি। কিন্তু ফেইসবুক পরিস্থিতির এমন কুটচালের চূড়ান্ত অবস্থায় সকলকে সার্বিক পরিস্থিতি না জানালে ভুল বুঝবার অবকাশ তৈরী হতে পারে বিধায় অবশেষে বিস্তারিত তুলে ধরা হল।

কবি ফরিদ আহমদ দুলাল এতদিনকার প্রাচীন সমৃদ্ধ এই সংগঠনটিকে সকলের হাসির পাত্র এবং মন্তব্যের ইস্যু করে তুলেছেন বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমেও এ বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। সংগঠনের অন্তঃপ্রাণ সদস্যবৃন্দ ও বর্তমান নবগঠিত কমিটি এ পর্যায়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চান যে- অতীতেও ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক হয়েছে- ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে- কিন্তু কখনোই তা সদস্যের বাইরে কেউ জানতেন না।গত ৮ জুন তারিখে কবি ফরিদ আহমদ দুলাল সভাটি যথাযথভাবে পরিচালনা করলে এমন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না। পরবর্তিতে তিনি ফেইসবুকে লাইভ করে নিজেকে একটি পক্ষের হিসাবে ঘোষণা প্রদানের মাধ্যমে বিরোধ মিটানোর বদলে বিরোধকে উস্কে দিয়ে উস্কানী দাতাদের দল ভারী করে সংগঠনের ভাবমূর্তি বিনষ্টের প্রয়াস পেয়েছেন।

আমরা গণমাধ্যম ও সচেতন সামাজিক নেতৃত্বের প্রতি আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন ঘোষিত নির্বাচিত কমিটিকে সহযোগিতা প্রদানের আহবান জানাচ্ছি। সেই সাথে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সকল সদস্য, বীক্ষণ অংশগ্রহণকারী, বাংলাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের সকলের প্রতি আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। অবকাঠামো হারিয়ে ফেলা অস্বাভাবিক একটি পরিস্থিতির মধ্যে গত এক দশক ধরে কোন রকমে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এই সংগঠনটি নিশ্চয়ই সকল ভুল বোঝাবুঝিকে অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কারো প্রতি বিরাগ নয়, অনুরাগ-ভালবাসা নিয়ে সকলে মিলে সংগঠনের ভাবমূর্তিকে সমুন্বত রেখে সাহিত্যের পক্ষে আসুন কাজ করে যাই।