১৮, আগস্ট, ২০১৯, রোববার | | ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


অন্য স্বাদের বিরল একটি "ঈদ"

রিপোর্টার নামঃ মনির উল আলম ফিরোজ | আপডেট: ১৫ জুন ২০১৯, ১২:২৫ পিএম

অন্য স্বাদের বিরল একটি
অন্য স্বাদের বিরল একটি "ঈদ"

তখন আমি অষ্টম শ্রেনীতে পড়ি ! ক্ষয়ে যাওয়া পড়ন্ত শৈশবের শেষ প্রান্তে দূরন্ত কৈশোর আমার অবয়বে উঁকি দিচ্ছে দিচ্ছে ভাব ! বছরের মাঝ বরাবর শুরু হওয়া রোজার শেষ অঙ্কে ঈদের অনাবিল অকৃত্রিম আনন্দ যেন হাতছানি দিচ্ছে ! মা বাবা সহ অন্য ভাই গুলি সবাই আমাদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ! এ দিকে আমি বাসায় থাকা "লজিং মাস্টারের" সাথে কথা দিয়েছি এইবার তার সাথে উনাদের গ্রামের বাড়িতে যাবো "ঈদ" করার জন্য ! যেমন কথা তেমন কাজ ! ঈদের ২/১ দিন আগে এক সকাল বেলা "শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের" সাথে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি এক প্রকার অন্য সকলের( মা বাবা ভাই ) অনিচ্ছা স্বত্বেও ! আসলে এটা ছিলো দূরন্ত কৈশোরের দ্বারে পা দেওয়া একজন অর্বাচীনের অজানা অচেনা কিছুর প্রতি প্রবল স্বাভাবিক এক আকর্ষণ !

যাইহোক,মা বাবার অকৃত্রিম আদর স্নেহ উপেক্ষা করে "শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের" হাত ধরে চোখে চিক চিক করা পানি ঢাকতে মাথা নিচু করে এক "হৃদয় ছেঁড়া" দৃশ্যের ঘটনার জন্ম দিয়ে আরেক "রোমাঞ্চকর" অজানা অচেনা গন্তব্যের পথে রওয়ানা হলাম ! আমি সেই সময় লুঙ্গী সার্ট পরতে বেশি পছন্দ করতাম ! যদিও প্যান্ট সার্টও ছিলো ! তবুও কেন জানি আমি "লুঙ্গী সার্ট" পরেই যাত্রা শুরু করলাম ! বিষয়টি এখনো আমাকে একাকি হাসায় !

স্যারের হাত ধরে হেঁটে হেঁটে বাসার অতি নিকটে এলাম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ! স্টেশনে এসেই আমার চক্ষু চড়কগাছ ! এতো মানুষ এতো ভীড় আমার জীবনে দেখিনি ! আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম ! আর অমনি বিদায়ের সময় মায়ের "অশ্রুসজল" চক্ষু জোড়া আমার হৃদয় স্পটে ভেসে উঠলো ! বুকটার ভিতর হু হু করে উঠলো অজানা এক আশঙ্কায় ! আমার এমন ভাবনার ফাঁকেই বেশ লম্বা সুঠাম দেহের "স্যার" আমার হাত ধরে ভীড় ভেঙ্গে কখন যে ট্রেনে উঠে গেলেন টেরই পেলাম না ! ট্রেনের ভিতরে অবস্থা আরো খারাপ ! যেমন চাপাচাপি করে সিগারেটের প্যাকেটের ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকা "সিগারেট গুলির" মত 'ঠাঁসাঠাসি' করে সবাই অনড় অবস্থান নিয়েছে !অগত্যা আমিও স্যারের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকলাম! আমার দম বন্ধ হওয়ার দশা হলো !

এই অবস্থয় কতক্ষন ছিলাম জানিনা হঠাত জোরে এক হাতে টান পেয়ে দেখি "স্যার" তার বাম হাত দিয়ে আমার ডান ধরে ভীষণ ভিড় ঠেলে আমাকে টানছেন ট্রেনের দরজার দিকে ! অর্থাৎ ট্রেন স্টেশনে এসে গিয়েছে। হুড়াহুড়ি করে সব মানুষ একসাথেই নামছে ! এদিকে স্যারের শক্ত হাতে ধরা আমি মানুষের সামান্য ফাঁক ফোকর গলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আর অন্য হাতে আমার লুঙ্গীর গিঁটে শক্ত করে ধরছিলাম যাতে খুলে না যায় ! কিছুক্ষন পর হঠাত জোরে এক টানে এবং ট্রেনের ভিতর থেকে "দয়ালু-হৃদয়" কোন একজনের প্রচন্ড ধাক্কায় এক প্রকার উড়ে গিয়ে "স্যারের" উপরে পড়লাম ! স্যার আমার আগেই ট্রেনের বাহিরে ছিটকে পড়েছিলেন ! স্যার ও আমি তখন ট্রেনের বাহিরে চলে এসেছি ! কিন্তু আমি সম্পূর্ণ "উদোম" গায়ে ছিলাম ! আমার গায়ের জামা টার বুতাম গুলি ছিঁড়ে স্যারের হাতেই পেঁচিয়ে ছিলো ! যাক "স্যার" কোন রকমে বুতাম ছেঁড়া জামাটা আবার পরিয়ে দিলেন !

স্যার একটি "টং" দোকান থেকে কলা কিনলেন তা খেয়ে একটু শক্তি সঞ্চয় করে স্যারের পিছনে পিছনে হাঁটা দিলাম !একটু দূর হেঁটে গিয়ে নৌকা করে ছোট্ট একটি শান্ত সুবোধ নদী পার হলাম ! অতঃপর একটা উঁচু রাস্তা ধরে কিছুক্ষন হেঁটে ঢালু এক জায়গায় বেয়ে একেবারে নিচে নেমে বিশাল বিলের মধ্যে ধান খেতের একটু চড়া "আইল" দিয়ে স্যারের খানিক টা পিছনে হাঁটছিলাম ! হঠাত স্যার সেই "আইলের" মাঝে বেশ লম্বা ২ ফিট গভীর জলাশয়ে বা "ডোবায়" নেমে লুঙ্গী হাঁটুর একটু উপরে উঠিয়ে পিছনে না তাকিয়ে প্রায় পার হয়েই গেলেন ! এদিকে আমি পানিতে যত নামছি আমার "ইজ্জত" তত উন্মোচিত হতে লাগলো ! আমি লুঙ্গী উঠাতে উঠাতে একেবারে বুক বরাবর পানির সাথে সমান্তরাল করে নিয়ে এলাম আর আমার ইজ্জতও তখন পানির নিচে চলে গেলো ! সামনে স্যারের দিকে আমার 'অসহায় চাহনি' দিয়েও ডাক দিলাম না,স্যারও তাকালেন না ! অবশেষে লুঙ্গী এভাবে উঠিয়ে নামিয়ে "ঈজ্জত" এর হাবুডুবু করে ছোট্ট জলাশয় টি পার হলাম ! অতঃপর "স্যার" একটু মৃদু হাস্যে পিছনে "প্রিয় ছাত্রের" দিকে তাকিয়ে আবারও সামনে হাঁটতে লাগলেন ! এতক্ষণে বুঝলাম কেন "স্যার" আমার জলাশয় পার হওয়ার সময় পিছনে তাকান নি ? কারন ঐ অবস্থায় এক মুহূর্তের দৃষ্টিতে যদি তার "প্রিয় ছাত্রের ইজ্জত" চোখে পড়ে যায় তাহলে ছাত্রটি খুব লজ্জা পাবে যে !

আরো কিছুক্ষন হাঁটার পর ময়মসিংহের দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যারের গ্রামের বাড়ি গিয়ে উঠলাম ! উঠান পেরিয়ে স্যারের চৌচালা টিনের ঘরে ঢুকে পরনের ভেজা কাপড় পরিবর্তন করার পর স্যার উঠানের এককোণে একটি গাছের নিচে একটি "টুল" দিলেন বসার জন্য। ইতিমধ্যে 'স্যার' সবার সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। স্যারের ছোট ২য় ভাই "মোহাম্মদ আলী'' কে ডেকে বললেন দ্যাখ,সে তোর সাথে একই ক্লাশে পড়ে ! আমি তাকিয়ে দেখলাম "মোহাম্মদ আলী"কে সে একজন বিশাল লম্বা মোটা আকৃতির পূর্ণ বয়সী মানুষ! মনে মনে ভাবলাম নাহ এর সাথে আমার বন্ধুত্ব হবে না ! বাঁধা হলো আমাদের দুজনের দৈহিক আকারের বিশাল ব্যবধান ! ইতিমধ্যে স্যারের একেবারে ছোট ভাই ক্লাশ ফাইভে পড়ুয়া তার সাথে ভাব জমিয়ে নিলাম ! স্যারও তাকে নির্দেশ দিলেন আমার সাথে ঘুরে বেড়ানোর সঙ্গী হিসেবে ! আর একদিন দিন পরেই ঈদ তাই স্যারের ভাই টিকে পেয়ে মনে একটু আনন্দের ঝিলিক দেখা দিলো !

ঈদের দিন সকালে স্যারদের 'দিঘি' নামক কচুরিপানায় পূর্ণ ছোট্ট একটি ডোবায় কাদা পানিতে ডুব দিয়ে সর্বাঙ্গে কাদা মাখা শরীর দেখে কিংকর্তব্য বিমূড় হয়ে গেলাম ! পরে চাপ কলের পানিতে শরীরে লেগে থাকা কাদা পরিষ্কার করে নতুন জামা পরে ঈদগাহে স্বল্প সংখ্যক নামাজীদের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করলাম ! এবং দানবক্সেও "চারআনা" পয়সা দিলাম। অতঃপর স্যারের ছোট ভাইটির সাথে গ্রামের পথ ঘুরে তাদের বাড়িতে আসলাম ! আর এইদিকে আমার ভিতরে খুব বড় কিছু হারাবার বেদনা ভরা ঢেউয়ের তোলপাড় চলছে ! কারন সেই ঈদটি ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় আপনজন ছাড়াই শুধু সদ্য কৈশোরে পা দেয়া এক অর্বাচীনের একটু ভুল সিদ্ধান্তের ! ঐ বয়সের অনাবিল আনন্দের যেখানে হৈ হুল্লুড় করে বেড়ানো ঈদ ! সেখানে

অন্য স্বাদের বিরল একটি "ঈদ"

প্রতিবেদক নাম: মনির উল আলম ফিরোজ ,

প্রকাশের সময়ঃ ১৫ জুন ২০১৯, ১২:২৫ পিএম

তখন আমি অষ্টম শ্রেনীতে পড়ি ! ক্ষয়ে যাওয়া পড়ন্ত শৈশবের শেষ প্রান্তে দূরন্ত কৈশোর আমার অবয়বে উঁকি দিচ্ছে দিচ্ছে ভাব ! বছরের মাঝ বরাবর শুরু হওয়া রোজার শেষ অঙ্কে ঈদের অনাবিল অকৃত্রিম আনন্দ যেন হাতছানি দিচ্ছে ! মা বাবা সহ অন্য ভাই গুলি সবাই আমাদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ! এ দিকে আমি বাসায় থাকা "লজিং মাস্টারের" সাথে কথা দিয়েছি এইবার তার সাথে উনাদের গ্রামের বাড়িতে যাবো "ঈদ" করার জন্য ! যেমন কথা তেমন কাজ ! ঈদের ২/১ দিন আগে এক সকাল বেলা "শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের" সাথে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি এক প্রকার অন্য সকলের( মা বাবা ভাই ) অনিচ্ছা স্বত্বেও ! আসলে এটা ছিলো দূরন্ত কৈশোরের দ্বারে পা দেওয়া একজন অর্বাচীনের অজানা অচেনা কিছুর প্রতি প্রবল স্বাভাবিক এক আকর্ষণ !

যাইহোক,মা বাবার অকৃত্রিম আদর স্নেহ উপেক্ষা করে "শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের" হাত ধরে চোখে চিক চিক করা পানি ঢাকতে মাথা নিচু করে এক "হৃদয় ছেঁড়া" দৃশ্যের ঘটনার জন্ম দিয়ে আরেক "রোমাঞ্চকর" অজানা অচেনা গন্তব্যের পথে রওয়ানা হলাম ! আমি সেই সময় লুঙ্গী সার্ট পরতে বেশি পছন্দ করতাম ! যদিও প্যান্ট সার্টও ছিলো ! তবুও কেন জানি আমি "লুঙ্গী সার্ট" পরেই যাত্রা শুরু করলাম ! বিষয়টি এখনো আমাকে একাকি হাসায় !

স্যারের হাত ধরে হেঁটে হেঁটে বাসার অতি নিকটে এলাম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ! স্টেশনে এসেই আমার চক্ষু চড়কগাছ ! এতো মানুষ এতো ভীড় আমার জীবনে দেখিনি ! আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম ! আর অমনি বিদায়ের সময় মায়ের "অশ্রুসজল" চক্ষু জোড়া আমার হৃদয় স্পটে ভেসে উঠলো ! বুকটার ভিতর হু হু করে উঠলো অজানা এক আশঙ্কায় ! আমার এমন ভাবনার ফাঁকেই বেশ লম্বা সুঠাম দেহের "স্যার" আমার হাত ধরে ভীড় ভেঙ্গে কখন যে ট্রেনে উঠে গেলেন টেরই পেলাম না ! ট্রেনের ভিতরে অবস্থা আরো খারাপ ! যেমন চাপাচাপি করে সিগারেটের প্যাকেটের ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকা "সিগারেট গুলির" মত 'ঠাঁসাঠাসি' করে সবাই অনড় অবস্থান নিয়েছে !অগত্যা আমিও স্যারের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকলাম! আমার দম বন্ধ হওয়ার দশা হলো !

এই অবস্থয় কতক্ষন ছিলাম জানিনা হঠাত জোরে এক হাতে টান পেয়ে দেখি "স্যার" তার বাম হাত দিয়ে আমার ডান ধরে ভীষণ ভিড় ঠেলে আমাকে টানছেন ট্রেনের দরজার দিকে ! অর্থাৎ ট্রেন স্টেশনে এসে গিয়েছে। হুড়াহুড়ি করে সব মানুষ একসাথেই নামছে ! এদিকে স্যারের শক্ত হাতে ধরা আমি মানুষের সামান্য ফাঁক ফোকর গলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আর অন্য হাতে আমার লুঙ্গীর গিঁটে শক্ত করে ধরছিলাম যাতে খুলে না যায় ! কিছুক্ষন পর হঠাত জোরে এক টানে এবং ট্রেনের ভিতর থেকে "দয়ালু-হৃদয়" কোন একজনের প্রচন্ড ধাক্কায় এক প্রকার উড়ে গিয়ে "স্যারের" উপরে পড়লাম ! স্যার আমার আগেই ট্রেনের বাহিরে ছিটকে পড়েছিলেন ! স্যার ও আমি তখন ট্রেনের বাহিরে চলে এসেছি ! কিন্তু আমি সম্পূর্ণ "উদোম" গায়ে ছিলাম ! আমার গায়ের জামা টার বুতাম গুলি ছিঁড়ে স্যারের হাতেই পেঁচিয়ে ছিলো ! যাক "স্যার" কোন রকমে বুতাম ছেঁড়া জামাটা আবার পরিয়ে দিলেন !

স্যার একটি "টং" দোকান থেকে কলা কিনলেন তা খেয়ে একটু শক্তি সঞ্চয় করে স্যারের পিছনে পিছনে হাঁটা দিলাম !একটু দূর হেঁটে গিয়ে নৌকা করে ছোট্ট একটি শান্ত সুবোধ নদী পার হলাম ! অতঃপর একটা উঁচু রাস্তা ধরে কিছুক্ষন হেঁটে ঢালু এক জায়গায় বেয়ে একেবারে নিচে নেমে বিশাল বিলের মধ্যে ধান খেতের একটু চড়া "আইল" দিয়ে স্যারের খানিক টা পিছনে হাঁটছিলাম ! হঠাত স্যার সেই "আইলের" মাঝে বেশ লম্বা ২ ফিট গভীর জলাশয়ে বা "ডোবায়" নেমে লুঙ্গী হাঁটুর একটু উপরে উঠিয়ে পিছনে না তাকিয়ে প্রায় পার হয়েই গেলেন ! এদিকে আমি পানিতে যত নামছি আমার "ইজ্জত" তত উন্মোচিত হতে লাগলো ! আমি লুঙ্গী উঠাতে উঠাতে একেবারে বুক বরাবর পানির সাথে সমান্তরাল করে নিয়ে এলাম আর আমার ইজ্জতও তখন পানির নিচে চলে গেলো ! সামনে স্যারের দিকে আমার 'অসহায় চাহনি' দিয়েও ডাক দিলাম না,স্যারও তাকালেন না ! অবশেষে লুঙ্গী এভাবে উঠিয়ে নামিয়ে "ঈজ্জত" এর হাবুডুবু করে ছোট্ট জলাশয় টি পার হলাম ! অতঃপর "স্যার" একটু মৃদু হাস্যে পিছনে "প্রিয় ছাত্রের" দিকে তাকিয়ে আবারও সামনে হাঁটতে লাগলেন ! এতক্ষণে বুঝলাম কেন "স্যার" আমার জলাশয় পার হওয়ার সময় পিছনে তাকান নি ? কারন ঐ অবস্থায় এক মুহূর্তের দৃষ্টিতে যদি তার "প্রিয় ছাত্রের ইজ্জত" চোখে পড়ে যায় তাহলে ছাত্রটি খুব লজ্জা পাবে যে !

আরো কিছুক্ষন হাঁটার পর ময়মসিংহের দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্যারের গ্রামের বাড়ি গিয়ে উঠলাম ! উঠান পেরিয়ে স্যারের চৌচালা টিনের ঘরে ঢুকে পরনের ভেজা কাপড় পরিবর্তন করার পর স্যার উঠানের এককোণে একটি গাছের নিচে একটি "টুল" দিলেন বসার জন্য। ইতিমধ্যে 'স্যার' সবার সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। স্যারের ছোট ২য় ভাই "মোহাম্মদ আলী'' কে ডেকে বললেন দ্যাখ,সে তোর সাথে একই ক্লাশে পড়ে ! আমি তাকিয়ে দেখলাম "মোহাম্মদ আলী"কে সে একজন বিশাল লম্বা মোটা আকৃতির পূর্ণ বয়সী মানুষ! মনে মনে ভাবলাম নাহ এর সাথে আমার বন্ধুত্ব হবে না ! বাঁধা হলো আমাদের দুজনের দৈহিক আকারের বিশাল ব্যবধান ! ইতিমধ্যে স্যারের একেবারে ছোট ভাই ক্লাশ ফাইভে পড়ুয়া তার সাথে ভাব জমিয়ে নিলাম ! স্যারও তাকে নির্দেশ দিলেন আমার সাথে ঘুরে বেড়ানোর সঙ্গী হিসেবে ! আর একদিন দিন পরেই ঈদ তাই স্যারের ভাই টিকে পেয়ে মনে একটু আনন্দের ঝিলিক দেখা দিলো !

ঈদের দিন সকালে স্যারদের 'দিঘি' নামক কচুরিপানায় পূর্ণ ছোট্ট একটি ডোবায় কাদা পানিতে ডুব দিয়ে সর্বাঙ্গে কাদা মাখা শরীর দেখে কিংকর্তব্য বিমূড় হয়ে গেলাম ! পরে চাপ কলের পানিতে শরীরে লেগে থাকা কাদা পরিষ্কার করে নতুন জামা পরে ঈদগাহে স্বল্প সংখ্যক নামাজীদের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করলাম ! এবং দানবক্সেও "চারআনা" পয়সা দিলাম। অতঃপর স্যারের ছোট ভাইটির সাথে গ্রামের পথ ঘুরে তাদের বাড়িতে আসলাম ! আর এইদিকে আমার ভিতরে খুব বড় কিছু হারাবার বেদনা ভরা ঢেউয়ের তোলপাড় চলছে ! কারন সেই ঈদটি ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় আপনজন ছাড়াই শুধু সদ্য কৈশোরে পা দেয়া এক অর্বাচীনের একটু ভুল সিদ্ধান্তের ! ঐ বয়সের অনাবিল আনন্দের যেখানে হৈ হুল্লুড় করে বেড়ানো ঈদ ! সেখানে