২০, আগস্ট, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজেই রোগি’বেতন-ভাতা উত্তোলন নেই চিকিৎসক

রিপোর্টার নামঃ নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি | আপডেট: ২৬ মে ২০১৯, ১২:৫৪ পিএম

বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজেই রোগি’বেতন-ভাতা উত্তোলন নেই চিকিৎসক
বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজেই রোগি’বেতন-ভাতা উত্তোলন নেই চিকিৎসক

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিগত ৯ বছর আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় ডাক্তার, যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য জনবল না থাকায় এলাকাবাসী কাংক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কয়েক মাস আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল কবীর স্থানীয় সাংবাদিকদের জোর গলায় বলেছিলেন,সময়মত সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা কাংক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাবেন রোগিরা। কিন্তু সে নিজেও বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মস্থলে প্রতিদিন আসেন না। বাকি গাইনিসহ যেসব ডাক্তারেরা রয়েছে তারা থাকেন রাজশাহী জেলা শহরের নিজ নিজ বাসাবাড়িতে। এছাড়া অন্যরা যোগদান দেখালেও প্রেষণ ও সংযুক্তি নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন কেউ কেউ। আর এ কারণেই প্রান্তিক মানুষজন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে লাখ লাখ লোকজন।  

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত উপজেলা হাসপাতালের করুণ চিত্র যেনো দেখার কেই নাই। স্থানীয়রা বলছেন,উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে কাঙ্খিত সেবা মিলছেন। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই পাশের ক্লিনিক-হাসপাতালে যাচ্ছেন। এসব ক্লিনিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,রাজশাহীর জেলার সর্ব বৃহতম বাগমারা উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে উপজেলা গঠিত।

এই উপজেলায় লক্ষ লক্ষ জনগণের বসবাস। কিন্তু এখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশায় চিকিৎসা সেবায় নেমে এসেছে বিপর্যয়। কয়েকজন চিকিৎসক দিয়ে বর্তমানে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা সেবা। ২০১২ সালে ১২ জানুয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় ঘটা করে উদ্বোধন করেন স্থানীয় এমপি এনামুল হক।  তবে প্রতিষ্ঠানটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেও।  বর্তমানের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন ডাক্তারের স্থলে একজন গাইনিসহ তিনজন ডাক্তার রয়েছে। তারা ঠিকমত কর্মস্থলে আসেন না। কিন্তু তারা বেতন ভাতাসহ অন্য সুবিধা ঠিকি ভুগ করেন। এছাড়া এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫টি পরিচ্ছনন কর্মী পদের একজনও নেই, মিডওয়াইফ পদের ৬ জনবলের কোন লোক নেই। একই ভাবে দুইটি আয়ার পদের একজনও নেই। পরিমিত নার্স থাকলেও নেই কোন ওয়ার্ড বয়। ডেন্টাল ইউনিট ও আলট্রসনী  ইউনিট থাকলেও কোন ডাক্তার নেই। ফলে এলাকাবাসী কাঙ্খতি সেবা পাচ্ছেন না। এছাড়া সিজারিয়ান ও অজ্ঞান করার কোন ডাক্তার থাকে না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ইসিজির আওতা ভুক্ত হওয়া সত্বেও জুনিয়র কনসালটেন্ট বা প্রশিক্ষন প্রাপ্ত অ্যানেথেটিস্ট এর পদে লোক না থাকায় উপজেলার প্রসূতি প্রসবের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে রয়েছে।

জনসাধারণের প্রতি বর্তমান সরকার সেবা কর্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা বললেও অদৃশ্য কারণে তা এলাকার লোক উপেক্ষিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। বিশেষ করে ২৪ জন ডাক্তারের স্থলে ৩ জন ডাক্তার, পরিচ্ছিনন কর্মীবিহীন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে দিনের পর দিন গ্রামগঞ্জের হতদরিদ্র রোগীরা সরকারি ভাবে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ভিটামাটি বিক্রি করে ছুটছেন শহর ও গ্রামগঞ্জে গড়ে উঠা অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক গুলোতে। সেখানেও তারা চিকিৎসার নামে প্রতারিত হচ্ছেন। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বাগমারায় যেন কোন অরাজগতা চলছে। ফলে নজর দারীর অভাবে ভেঙ্গে পড়েছে  এই এলাকার সরকারি চিকিৎসা সেবা।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল কবীরের সাথে বাগমারা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা সিভিল সার্জন বলেছেন,চিকিৎসক সংকটের কারেনে সেবা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। কিন্তু নতুন চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে চিকিৎসক সংকট থাকবেনা।

বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিজেই রোগি’বেতন-ভাতা উত্তোলন নেই চিকিৎসক

প্রতিবেদক নাম: নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি ,

প্রকাশের সময়ঃ ২৬ মে ২০১৯, ১২:৫৪ পিএম

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিগত ৯ বছর আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় ডাক্তার, যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য জনবল না থাকায় এলাকাবাসী কাংক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কয়েক মাস আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল কবীর স্থানীয় সাংবাদিকদের জোর গলায় বলেছিলেন,সময়মত সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা কাংক্ষিত চিকিৎসা সেবা পাবেন রোগিরা। কিন্তু সে নিজেও বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মস্থলে প্রতিদিন আসেন না। বাকি গাইনিসহ যেসব ডাক্তারেরা রয়েছে তারা থাকেন রাজশাহী জেলা শহরের নিজ নিজ বাসাবাড়িতে। এছাড়া অন্যরা যোগদান দেখালেও প্রেষণ ও সংযুক্তি নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন কেউ কেউ। আর এ কারণেই প্রান্তিক মানুষজন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে লাখ লাখ লোকজন।  

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত উপজেলা হাসপাতালের করুণ চিত্র যেনো দেখার কেই নাই। স্থানীয়রা বলছেন,উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে কাঙ্খিত সেবা মিলছেন। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই পাশের ক্লিনিক-হাসপাতালে যাচ্ছেন। এসব ক্লিনিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,রাজশাহীর জেলার সর্ব বৃহতম বাগমারা উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে উপজেলা গঠিত।

এই উপজেলায় লক্ষ লক্ষ জনগণের বসবাস। কিন্তু এখানকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেহাল দশায় চিকিৎসা সেবায় নেমে এসেছে বিপর্যয়। কয়েকজন চিকিৎসক দিয়ে বর্তমানে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা সেবা। ২০১২ সালে ১২ জানুয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় ঘটা করে উদ্বোধন করেন স্থানীয় এমপি এনামুল হক।  তবে প্রতিষ্ঠানটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেও।  বর্তমানের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন ডাক্তারের স্থলে একজন গাইনিসহ তিনজন ডাক্তার রয়েছে। তারা ঠিকমত কর্মস্থলে আসেন না। কিন্তু তারা বেতন ভাতাসহ অন্য সুবিধা ঠিকি ভুগ করেন। এছাড়া এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫টি পরিচ্ছনন কর্মী পদের একজনও নেই, মিডওয়াইফ পদের ৬ জনবলের কোন লোক নেই। একই ভাবে দুইটি আয়ার পদের একজনও নেই। পরিমিত নার্স থাকলেও নেই কোন ওয়ার্ড বয়। ডেন্টাল ইউনিট ও আলট্রসনী  ইউনিট থাকলেও কোন ডাক্তার নেই। ফলে এলাকাবাসী কাঙ্খতি সেবা পাচ্ছেন না। এছাড়া সিজারিয়ান ও অজ্ঞান করার কোন ডাক্তার থাকে না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ইসিজির আওতা ভুক্ত হওয়া সত্বেও জুনিয়র কনসালটেন্ট বা প্রশিক্ষন প্রাপ্ত অ্যানেথেটিস্ট এর পদে লোক না থাকায় উপজেলার প্রসূতি প্রসবের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে রয়েছে।

জনসাধারণের প্রতি বর্তমান সরকার সেবা কর্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা বললেও অদৃশ্য কারণে তা এলাকার লোক উপেক্ষিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। বিশেষ করে ২৪ জন ডাক্তারের স্থলে ৩ জন ডাক্তার, পরিচ্ছিনন কর্মীবিহীন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে দিনের পর দিন গ্রামগঞ্জের হতদরিদ্র রোগীরা সরকারি ভাবে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ভিটামাটি বিক্রি করে ছুটছেন শহর ও গ্রামগঞ্জে গড়ে উঠা অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক গুলোতে। সেখানেও তারা চিকিৎসার নামে প্রতারিত হচ্ছেন। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বাগমারায় যেন কোন অরাজগতা চলছে। ফলে নজর দারীর অভাবে ভেঙ্গে পড়েছে  এই এলাকার সরকারি চিকিৎসা সেবা।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল কবীরের সাথে বাগমারা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জেলা সিভিল সার্জন বলেছেন,চিকিৎসক সংকটের কারেনে সেবা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। কিন্তু নতুন চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে চিকিৎসক সংকট থাকবেনা।