১৯, মে, ২০১৯, রোববার | | ১৪ রমজান ১৪৪০

নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, বললেন হাইকোর্ট

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ১৫ মে ২০১৯, ০২:২২ পিএম

নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, বললেন হাইকোর্ট
নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, বললেন হাইকোর্ট

খাদ্যে ভেজাল মেশানোর সঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করে দিয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সে যেই হউক তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অসুস্থ জাতি নিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত। হাইকোর্ট বলেন, কোন কোন কোম্পানির দুধ ক্ষতিকর তা জানতে চায় মানুষ।

বুধবার (১৫ মে) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ দুধ ও দইয়ে রাসায়নিক পাওয়া সংক্রান্ত আবেদনের শুনানিতে এসব কথা বলেন। কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দইয়ে ভেজাল বা রাসায়নিক দ্রব্য পাওয়া গেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের নাম-ঠিকানা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

১৫ মে’র মধ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে এ তালিকা দাখিল করতে বলা হয়েছিল। আজকে বিএসটিআই এবং নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরের দুই কর্মকতা আদালতে হাজির হয়ে সময় আবেদন করেন। পরে তাদেরকে ২৩ জুন পর্যন্ত সময় দেন আদালত। ওই দিন তাদেরকে দুধ ও দইয়ের সকল পরীক্ষা সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেন দাখিল করতে বলা হয়েছে। 

একইসঙ্গে আদালত ন্যাশানাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরীর প্রধান প্রফেসর  শাহনিলা ফেরদৌসীকে আগামী ২১ মে  সকাল সাড়ে ১০ সময় আদালতে শরীরে উপস্থিত হয়ে তার রিপোর্টটি আদালতে জমা দিতে আদেশ দেন।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে দুধ-দইয়ে অনুজীব,  কীটনাশক ও সীসার বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই আদালতে উল্লেখিত দুধ ও দইয়ের প্রস্তুতিকারী প্রতিষ্ঠানের নাম প্রদানসহ শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল।  

শুনানি শেষে আদালত বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক অনুজীবসহ দুধ-দই উৎপাদনকারীদের শাস্তি হতে হবে। সাধারণ মানুষকেও এই জানিয়ে সচেতন করতে হবে। রিপোর্টের বিষয় ওয়েবসাইটেও দিতে হবে। 

দুদকের আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব ওকালতনামাসহ এপিয়ার হয়ে আদালতকে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই জড়িত কোম্পানির নাম না দেওয়ায় দুদক কাজ শুরু করতে পারছে না বলে আদালতকে জানান।

আদালত দেখেন গত ১১ ফেব্রুয়ারি আদেশে ন্যাশানাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরীর প্রধান প্রফেসর শাহনিলা ফেরদৌসীকে নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে তার গবেষণালব্দ রিপোর্টটি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেননি। 

এর আগে,  আদালত  ১১ ফেব্রুয়ারি সোমবার দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ও দৈনিক কালের কন্ঠে দুধ-দইয়ে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার অনুজীব, কীটনাশক, সিসা, Lead, pesticides in milk, গরুর দুধে ও বিষের ভয়, শিরোনামে রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল দিয়েছিলেন এবং তিন মাসের মধ্যে কমিটি গঠন  করে ব্যবস্থ নিতে আদেশ দিয়েছিলেন। 

গত ৮ মে কোর্টে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানান তারা ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করেছেন। কোর্ট  কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে রিপোর্ট দিতে বলেছিলেন এবং আগামী ১৫ মে পরবর্তী শুনানির জন্য ধার্য করেন। 

আজ ফুড সেফটি অথোরিটির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইয়ের পক্ষে আইনজীবী সরকার এম আর হাসান ( মামুন),দুদকের  পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।  রাষ্ট্রপক্ষে  ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। 

উল্লেখ্য, ১১ ফেব্রুয়ারি আদালত দুধ ও দইয়ের উৎপাদনকারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কেন সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না সেই মর্মে  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্ব প্রণোদিত হয়ে রুল করে কারণ জানতে চান। এই মর্মে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে কি ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হলো তার অগ্রগতি প্রতিবেদন  জানতে আদেশ দেন। রুলের বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান,  খাদ্য সচিব, স্বরাষ্ট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব,  মৎস্য ও প্রাণী  সচিব ও কৃষি সচিব  চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিবেন। একই সময়ে দুদকের চেয়ারম্যান এই বিষয়ে কি ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছেন তাও জানানোর আদেশ হয়।    

ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি তাদের এক গবেষণা তথ্য অনুযায়ী গরুর দুধে অ্যান্টিবায়োটিক, দইয়ে ক্ষতিকর সিসা ও গো-খাদ্যেও মাত্রারিক্ত কীটনাশকসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পাওয়া গেছে বলে জানায়। 

এই বিষয়গুলো মানবদেহের দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক, মানুষের কিডনি, যকৃতসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, এই কারণেই আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে জনস্বার্থে এই রুল জারি করেছিলেন ।