১৮, আগস্ট, ২০১৯, রোববার | | ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


ঢাকার কাছে একদিনে ঘুরে আসার ১০টি ভ্রমণ স্থান

রিপোর্টার নামঃ নিউজ ডেস্ক ।। প্রতিদিনের কাগজ' | আপডেট: ১২ মে ২০১৯, ০৭:০৮ পিএম

ঢাকার কাছে একদিনে ঘুরে আসার ১০টি ভ্রমণ স্থান
ঢাকার কাছে একদিনে ঘুরে আসার ১০টি ভ্রমণ স্থান

যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে আবদ্ধ থাকতে কে চায়! কিন্তু চাইলেই কি আর দায়িত্ব ও কর্তব্যের বেড়াজাল থেকে নিজেদের বের করে নিয়া আসা যায়? যে পরিবার পরিজনদের ভাল রাখতে আমরা প্রতিনিয়তই ছুটে চলেছি, কর্মব্যস্ততায় আজ তাদেরকেই সময় দিতে পারছিনা। সাপ্তাহিক ছুটিটাও একটি প্ল্যানের অভাবে অগোছালো ভাবে কাটে যায়। সময়ের অভাবে যারা আপনজনদের সাথে সুন্দর সময় কাটানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের জন্যই চারপাশের এই আয়োজন। চলুন জেনে নেয়া যাক ঢাকার আশেপাশে ভ্রমণ স্থান সম্পর্কে। ঢাকার কাছে বেড়ানোর জায়গা গুলো থেকে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায়। এই সুন্দর জায়গা ও রিসোর্ট গুলোতে আপনি পরিবার ও প্রিয়জন নিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন সহজেই।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ: সাতটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিয়ে গৌরবের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখতে আপনাকে যেতে হবে ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে। জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ভবন একেক জন উত্তরাধিকারীদের আভিজাত্যের নিদর্শন। বর্তমানে বাড়িটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তত্বাবধানে রয়েছে। এই জমিদার বাড়ির একটি ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে যাদুঘর। ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আরিচা বা মানিকগঞ্জগামী বাসে করে সাটুরিয়া বাস স্টপে নেমে সিএনজি বা রিকশা করে জমিদার বাড়ি চলে যেতে পারবেন।

নুহাশ পল্লী, গাজীপুর: হুমাহুন আহমেদকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছুই নেই। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি গল্পের জাদুকর হিসাবে খ্যাত। ইচ্ছে হলে আপনি এই কবির স্পর্শে লালিত নন্দন কানন নুহাশ পল্লী থেকে ঘুরে আসতে পারেন। যেখানে কবি তার কল্পনার সমস্ত কিছুই এখানে বাস্তবে রুপ দিয়ে গেছেন। এখানে আছে বৃষ্টি বিলাস, ভুত বিলাস নামের বাড়ি, ট্রি হাউজ, বিভিন্ন ভাস্কর্য্য, প্রায় ৩০০ প্রজাতির বিভিন্ন গাছের বাগান। আর নুহাশ পল্লীর লিচু তলায় কবির সমাধিস্থল দেখে আসতে আপনাকে যেতে হবে গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে। ঢাকা হতে বাসে করে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে নেমে সেখান থেকে টেম্পো, রিকশা অথবা সিএনজিতে করে নুহাশ পল্লী যাওয়া যায়।


পানাম নগর, নারায়নগঞ্জ: যদি ঐতিহ্যের কাছাকাছি একটা দিন কাটাতে চান তবে নির্দ্বিধায় ঘুরে আসতে পারেন “হারানো নগরী” হিসাবে খ্যাত পানাম নগর বা পানাম সিটি থেকে। মূল সড়কের দুপাশ জুড়ে বেড়ে উঠা প্রাচীন নগরীর মায়াজাল আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে। বার ভূঁইয়া প্রধান ঈসা খাঁ কতৃক নির্মিত এই পানাম নগরীতে হেটে বেড়ালে হয়তো আপনি নিজেকে ১৫শতকে খুঁজে পেতে পারেন। ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ কিংবা বোরাকের বাসে করে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নেমে ব্যাটারী চালিত অটোতে কিংবা রিকশায় করে পানাম নগরীতে যেতে পারবেন।


মহেরা জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল: সুরম্য ও সংরক্ষিত মহেরা জমিদার বাড়ি দেখতে আপনাকে যেতে হবে টাঙ্গাইল থেকে ১৮ কিলোমিটার আগে অবস্থিত নাটিয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডে। মহেরা জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার সাথে সাথে সেখানে অবস্থিত পার্ক, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ঘুরে আসতে পারেন। জমিদার বাড়ির আকর্ষনীয় ভবন আপনাকে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন ভাবে পরিচয় ঘটাবে।


মৈনট ঘাট, ঢাকা: অল্প সময়ের অবসরে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট। দোহার উপজেলায় অবস্থিত এই ঘাটের সুপ্রস্থ চর আপনাকে সাগরের বেলাভূমির কথা মনে করিয়ে দেবে। এছাড়াও এখানকার সূর্যাস্তের সুন্দর দৃশ্য আপনার চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন। এছাড়াও পদ্মার ইলিশ কিংবা নৌকায় ঘুরার ইচ্ছা থাকলে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে যমুনা ডিলাক্স পরিবহণের বাসে করে দোহারের মৈনট ঘাট কাটিয়ে যেতে পারেন একটি সুন্দর বিকাল।


সাদুল্লাহপুর গোলাপ বাগান, ঢাকা: সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামটি বর্তমানে গোলাপ গ্রাম নামে পরিচিত। এখানে বছরজুড়েই গোলাপের গন্ধে ভরে থাকে সারা গ্রাম। বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান ছাড়াও এখানে রজনীগন্ধা, জারভারা ও গ্লাডিওলাসের বাগান রয়েছে। ঢাকার সিংহভাগ গোলাপের চাহিদা এই গ্রামের উৎপাদন থেকেই মেটানো হয়। এক দিনের অবসরে বেড়িয়ে আসতে পারেন গোলাপের এই রাজ্য থেকে। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় নর্থ টাওয়ারের কাছ থেকে লেগুনায় করে দিয়াবাড়ি আসতে হবে। সেখান থেকে মেইনরোডে এগিয়ে লোকাল গাড়িতে বিরুলিয়া ব্রিজ পর্যন্ত গিয়ে আরেকটি অটো ভাড়া করে চলে আসুন সাদুল্লাহপুর গোলাপ গ্রামে।


বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, গাজীপুর: বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। এই পার্কে প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য প্রাণীদের বিচরণ দেখতে সারা বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। এছাড়াও এখানে রয়েছে পাখিশালা, প্রজাপতি সাফারি, জিরাফ ফিডিং স্পট, অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, বোটিং, লেইক জোন, আইল্যান্ড, প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেন আরো অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর সমারোহ। গাজীপুরের বাঘের বাজার থেকে রিকশা বা অটোরিকশা ভাড়া করে সহজেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক যাওয়া যায়।


পদ্মা রিসোর্ট, মুন্সিগঞ্জ: ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় গড়ে তোলা হয়েছে পদ্মা রিসোর্ট। শহরের কোলাহল ছেড়ে ঢাকার পাশে পদ্মার পাড়ে একটি দিন কাটানো আপনার মনকে প্রশান্তি এনে দেবে। পদ্মার বুকে নৌকায় ঘুরোঘুরি ছাড়াও চাইলে ফিশিং করে কাটিয়ে দিতে পারেন একটি বিকাল।

গুলিস্থান থেকে গ্রেট বিক্রমপুর পরিবহনের বাসে চড়ে মাওয়া ফেরী ঘাট থেকে লৌহজং চৌরাস্তা মোড় দিয়ে রিক্সা বা অটোরিক্সা নিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ মিনিটে পৌঁছে যেতে পারবেন পদ্মা রিসোর্টে।


শালবন বিহার, কুমিল্লা: ঢাকা থেকে বাসে করে কুমিল্লা যেতে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগে। অল্প সময়েই বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থান থেকে ঘুরে আসতে পারেন। শালবন বিহার ছাড়াও এখানে রয়েছে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, ময়নামতি প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর, লালমাই পাহাড় এবং ব্লু-ওয়াটার পার্ক (পিকনিক স্পট)। আর সুযোগ থাকলে মাতৃভান্ডারের বিখ্যাত রসমালাই খেয়ে আসতে পারেন।


ড্রিম হলিডে পার্ক, নরসিংদী: নরসিংদী জেলার পাঁচদোনার চৈতাবাতে প্রায় ৬০ একর জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে ড্রিম হলিডে পার্ক। পার্কটিতে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় রাইড ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি, মায়াবি স্পট, কৃত্রিম অভয়্যারণ্য, ডুপ্লেক্স কটেজ এবং কৃত্রিম পর্বত যা এখানে আগত দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। এছাড়াও এই পার্কে রয়েছে ওয়াটার পুল যেখানে কান পাতলে সমুদ্রের গর্জন অনুভব করা যায়। ঢাকা টু সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পার্কটিতে আসতে হলে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া অথবা সিলেটের যেকোনো বাসে চড়ে সরাসরি পার্কের সামনে নামতে পারবেন।

ঢাকার কাছে একদিনে ঘুরে আসার ১০টি ভ্রমণ স্থান

প্রতিবেদক নাম: নিউজ ডেস্ক ।। প্রতিদিনের কাগজ' ,

প্রকাশের সময়ঃ ১২ মে ২০১৯, ০৭:০৮ পিএম

যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে আবদ্ধ থাকতে কে চায়! কিন্তু চাইলেই কি আর দায়িত্ব ও কর্তব্যের বেড়াজাল থেকে নিজেদের বের করে নিয়া আসা যায়? যে পরিবার পরিজনদের ভাল রাখতে আমরা প্রতিনিয়তই ছুটে চলেছি, কর্মব্যস্ততায় আজ তাদেরকেই সময় দিতে পারছিনা। সাপ্তাহিক ছুটিটাও একটি প্ল্যানের অভাবে অগোছালো ভাবে কাটে যায়। সময়ের অভাবে যারা আপনজনদের সাথে সুন্দর সময় কাটানো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের জন্যই চারপাশের এই আয়োজন। চলুন জেনে নেয়া যাক ঢাকার আশেপাশে ভ্রমণ স্থান সম্পর্কে। ঢাকার কাছে বেড়ানোর জায়গা গুলো থেকে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায়। এই সুন্দর জায়গা ও রিসোর্ট গুলোতে আপনি পরিবার ও প্রিয়জন নিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন সহজেই।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ: সাতটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিয়ে গৌরবের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখতে আপনাকে যেতে হবে ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে। জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ভবন একেক জন উত্তরাধিকারীদের আভিজাত্যের নিদর্শন। বর্তমানে বাড়িটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তত্বাবধানে রয়েছে। এই জমিদার বাড়ির একটি ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে যাদুঘর। ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আরিচা বা মানিকগঞ্জগামী বাসে করে সাটুরিয়া বাস স্টপে নেমে সিএনজি বা রিকশা করে জমিদার বাড়ি চলে যেতে পারবেন।

নুহাশ পল্লী, গাজীপুর: হুমাহুন আহমেদকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছুই নেই। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি গল্পের জাদুকর হিসাবে খ্যাত। ইচ্ছে হলে আপনি এই কবির স্পর্শে লালিত নন্দন কানন নুহাশ পল্লী থেকে ঘুরে আসতে পারেন। যেখানে কবি তার কল্পনার সমস্ত কিছুই এখানে বাস্তবে রুপ দিয়ে গেছেন। এখানে আছে বৃষ্টি বিলাস, ভুত বিলাস নামের বাড়ি, ট্রি হাউজ, বিভিন্ন ভাস্কর্য্য, প্রায় ৩০০ প্রজাতির বিভিন্ন গাছের বাগান। আর নুহাশ পল্লীর লিচু তলায় কবির সমাধিস্থল দেখে আসতে আপনাকে যেতে হবে গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে। ঢাকা হতে বাসে করে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে নেমে সেখান থেকে টেম্পো, রিকশা অথবা সিএনজিতে করে নুহাশ পল্লী যাওয়া যায়।


পানাম নগর, নারায়নগঞ্জ: যদি ঐতিহ্যের কাছাকাছি একটা দিন কাটাতে চান তবে নির্দ্বিধায় ঘুরে আসতে পারেন “হারানো নগরী” হিসাবে খ্যাত পানাম নগর বা পানাম সিটি থেকে। মূল সড়কের দুপাশ জুড়ে বেড়ে উঠা প্রাচীন নগরীর মায়াজাল আপনাকে মুগ্ধ করে রাখবে। বার ভূঁইয়া প্রধান ঈসা খাঁ কতৃক নির্মিত এই পানাম নগরীতে হেটে বেড়ালে হয়তো আপনি নিজেকে ১৫শতকে খুঁজে পেতে পারেন। ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ কিংবা বোরাকের বাসে করে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নেমে ব্যাটারী চালিত অটোতে কিংবা রিকশায় করে পানাম নগরীতে যেতে পারবেন।


মহেরা জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল: সুরম্য ও সংরক্ষিত মহেরা জমিদার বাড়ি দেখতে আপনাকে যেতে হবে টাঙ্গাইল থেকে ১৮ কিলোমিটার আগে অবস্থিত নাটিয়াপাড়া বাস স্ট্যান্ডে। মহেরা জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার সাথে সাথে সেখানে অবস্থিত পার্ক, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ঘুরে আসতে পারেন। জমিদার বাড়ির আকর্ষনীয় ভবন আপনাকে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন ভাবে পরিচয় ঘটাবে।


মৈনট ঘাট, ঢাকা: অল্প সময়ের অবসরে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট। দোহার উপজেলায় অবস্থিত এই ঘাটের সুপ্রস্থ চর আপনাকে সাগরের বেলাভূমির কথা মনে করিয়ে দেবে। এছাড়াও এখানকার সূর্যাস্তের সুন্দর দৃশ্য আপনার চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন। এছাড়াও পদ্মার ইলিশ কিংবা নৌকায় ঘুরার ইচ্ছা থাকলে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে যমুনা ডিলাক্স পরিবহণের বাসে করে দোহারের মৈনট ঘাট কাটিয়ে যেতে পারেন একটি সুন্দর বিকাল।


সাদুল্লাহপুর গোলাপ বাগান, ঢাকা: সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামটি বর্তমানে গোলাপ গ্রাম নামে পরিচিত। এখানে বছরজুড়েই গোলাপের গন্ধে ভরে থাকে সারা গ্রাম। বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান ছাড়াও এখানে রজনীগন্ধা, জারভারা ও গ্লাডিওলাসের বাগান রয়েছে। ঢাকার সিংহভাগ গোলাপের চাহিদা এই গ্রামের উৎপাদন থেকেই মেটানো হয়। এক দিনের অবসরে বেড়িয়ে আসতে পারেন গোলাপের এই রাজ্য থেকে। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় নর্থ টাওয়ারের কাছ থেকে লেগুনায় করে দিয়াবাড়ি আসতে হবে। সেখান থেকে মেইনরোডে এগিয়ে লোকাল গাড়িতে বিরুলিয়া ব্রিজ পর্যন্ত গিয়ে আরেকটি অটো ভাড়া করে চলে আসুন সাদুল্লাহপুর গোলাপ গ্রামে।


বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, গাজীপুর: বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। এই পার্কে প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্য প্রাণীদের বিচরণ দেখতে সারা বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। এছাড়াও এখানে রয়েছে পাখিশালা, প্রজাপতি সাফারি, জিরাফ ফিডিং স্পট, অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, বোটিং, লেইক জোন, আইল্যান্ড, প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেন আরো অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর সমারোহ। গাজীপুরের বাঘের বাজার থেকে রিকশা বা অটোরিকশা ভাড়া করে সহজেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক যাওয়া যায়।


পদ্মা রিসোর্ট, মুন্সিগঞ্জ: ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় গড়ে তোলা হয়েছে পদ্মা রিসোর্ট। শহরের কোলাহল ছেড়ে ঢাকার পাশে পদ্মার পাড়ে একটি দিন কাটানো আপনার মনকে প্রশান্তি এনে দেবে। পদ্মার বুকে নৌকায় ঘুরোঘুরি ছাড়াও চাইলে ফিশিং করে কাটিয়ে দিতে পারেন একটি বিকাল।

গুলিস্থান থেকে গ্রেট বিক্রমপুর পরিবহনের বাসে চড়ে মাওয়া ফেরী ঘাট থেকে লৌহজং চৌরাস্তা মোড় দিয়ে রিক্সা বা অটোরিক্সা নিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ মিনিটে পৌঁছে যেতে পারবেন পদ্মা রিসোর্টে।


শালবন বিহার, কুমিল্লা: ঢাকা থেকে বাসে করে কুমিল্লা যেতে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগে। অল্প সময়েই বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থান থেকে ঘুরে আসতে পারেন। শালবন বিহার ছাড়াও এখানে রয়েছে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, ময়নামতি প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর, লালমাই পাহাড় এবং ব্লু-ওয়াটার পার্ক (পিকনিক স্পট)। আর সুযোগ থাকলে মাতৃভান্ডারের বিখ্যাত রসমালাই খেয়ে আসতে পারেন।


ড্রিম হলিডে পার্ক, নরসিংদী: নরসিংদী জেলার পাঁচদোনার চৈতাবাতে প্রায় ৬০ একর জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে ড্রিম হলিডে পার্ক। পার্কটিতে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় রাইড ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি, মায়াবি স্পট, কৃত্রিম অভয়্যারণ্য, ডুপ্লেক্স কটেজ এবং কৃত্রিম পর্বত যা এখানে আগত দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। এছাড়াও এই পার্কে রয়েছে ওয়াটার পুল যেখানে কান পাতলে সমুদ্রের গর্জন অনুভব করা যায়। ঢাকা টু সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পার্কটিতে আসতে হলে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া অথবা সিলেটের যেকোনো বাসে চড়ে সরাসরি পার্কের সামনে নামতে পারবেন।