২২, আগস্ট, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


তারাকান্দায় ৫ জয়িতার গল্প

রিপোর্টার নামঃ তৌকির আহম্মেদ শাহীন।। প্রতিদিনের কাগজ' | আপডেট: ১১ মে ২০১৯, ০৫:৫৫ পিএম

তারাকান্দায় ৫ জয়িতার গল্প
তারাকান্দায় ৫ জয়িতার গল্প

বাংলাদেশ সরকাররে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের  উদ্যোগে”জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ শীর্ষক আয়োজনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় ৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এরা হলেন আজিজা বেগম, হাসনা বেগম, সালমা আক্তার খাতুন, ছুলেমা খাতুন ও শিরিন সুলতানা। জীবন সংগ্রামে ও অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্যে তারা নির্বিক। পেয়েছেন তারা আজ জয়িতা নারী উপাধি। সমাজে হয়েছেন তারা স্বাবলম্বী এবং প্রতিষ্ঠিত। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী জীবন সংগ্রামে অসামান্য অবদান এবং সামাজিকভাবে এবং তারাকান্দা উপজেলাবাসীকে সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়েছে যে নারী। তিনি হলেন সালমা আক্তার খাতুন। তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বাধা পেরিয়ে আজ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন। জয় করে নিয়েছেন তারাকান্দা উপজেলাবাসীকে। তিনি বর্তমানে মহিলা যুবলীগের সভানেত্রী। 

তারাকান্দার সফল জননী...ছুলেমা খাতুন তিনি হলেন একজন সফল মাতা। তিনি তার দু:খে কষ্টে ৩ সন্তানকে আজ শিক্ষার আলো দিয়ে উচ্চশিক্ষিত করেছেন। বড় ছেলে আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে রসায়ন বিভাগে মাষ্টার্স শেষ করেন। ২ মেয়ে আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যায়নরত। এই শিক্ষার পেছনে ছুলেমা খাতুনের বিশেষ অবদানের জন্য তার কঠোর সংগ্রাম ও সামাজিক সাহায্যের কারণে  তাদের সন্তান আজ শিক্ষায় দীক্ষিত হয়েছে। অজপারাগায়ের দিন মুজুরের স্ত্রী হিসেবে তিনি যে আলোকিত কাজ করেছেন তিনি একজন সফল মাতা। সেই হিসেবে পেলেন তারাকান্দা উপজেলার জয়তীনারী পদক।

শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী...শিরিন সুলতানা মা বাবার তৃতীয় সন্তান শিরিন সুলতানা। স্বামী মারা যাওয়া পর জীবন সংগ্রামে তিনি একজন জয়ীতানারী। ২ সন্তানকে তিনি মানুষ করছেন। বর্তমানে তিনি রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। 

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন নারী..হাসনা বেগম ।জীবন সংগ্রামে এবং নির্যাতনের শিকারে অবহেলিত যে নারী তিনিই হলেন হাসনা বেগম। জীবন সংগ্রামে নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে আত্ম প্রত্যয় নিয়ে গড়েছেন নতুন সমাজ। বিয়ের অল্প কিছুদিন পর তিনি তালাকপ্রাপ্ত হন। ফিরে আসেন বাবার সংসারে। এই নির্যাতনের শোক বুকে পোষণ করে অল্প অল্প করে স্বপ বুনেছেন এই তার সংগ্রামী জীবন এবং গড়ে তুলেছেন উদ্যমে নতুন সমাজ। নারী সেবিকা হয়ে তিনি এখন গর্ভবতী মহিলাদেরকে নিয়ে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। এ সাফল্য ধরেই অর্জন করেছেন জয়ীতানারী পদক।

অর্থনৈতিক সাবলম্বী অর্জনকারী যে নারী.আজিজা বেগম । স্বামীর  সংসারে দু’বেলা অন্ন জুটতো না তার ভাগ্যে। সে নারী কঠোর সফলতা এবং নিজের মেধা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আজ অর্থনৈতিকভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তার স্বামী ছিলেন একজন ভ্যান চালক। তার এক মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর স্বামী মারা যায়। স্বামী হারা মেয়েকে নিয়ে তার সংসার জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। এ অন্ধকার জীবনকে আলোর পথে নিয়ে আসতে তিনি বেছে নেন দর্জি কাজ। দর্জির কাজ করে এবং এলাকায় অসহায়, দুস্ত মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেন তিনি। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে এবং অর্জন করে নিয়েছেন তারাকান্দা উপজেলার জয়িতা নারী পদক।

তারাকান্দা উপজেলায় নারী বিষয়ক কর্মকর্তা মুক্তি রানীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারাকান্দা এই ৫ জয়িতা নারীর সফলতা এবং সামাজিক উন্নয়নে তারা কঠোর পরিশ্রম করে সফলতার পথ দেখিয়েছে।

তারাকান্দায় ৫ জয়িতার গল্প

প্রতিবেদক নাম: তৌকির আহম্মেদ শাহীন।। প্রতিদিনের কাগজ' ,

প্রকাশের সময়ঃ ১১ মে ২০১৯, ০৫:৫৫ পিএম

বাংলাদেশ সরকাররে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের  উদ্যোগে”জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ শীর্ষক আয়োজনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় ৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এরা হলেন আজিজা বেগম, হাসনা বেগম, সালমা আক্তার খাতুন, ছুলেমা খাতুন ও শিরিন সুলতানা। জীবন সংগ্রামে ও অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্যে তারা নির্বিক। পেয়েছেন তারা আজ জয়িতা নারী উপাধি। সমাজে হয়েছেন তারা স্বাবলম্বী এবং প্রতিষ্ঠিত। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী জীবন সংগ্রামে অসামান্য অবদান এবং সামাজিকভাবে এবং তারাকান্দা উপজেলাবাসীকে সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়েছে যে নারী। তিনি হলেন সালমা আক্তার খাতুন। তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে বাধা পেরিয়ে আজ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন। জয় করে নিয়েছেন তারাকান্দা উপজেলাবাসীকে। তিনি বর্তমানে মহিলা যুবলীগের সভানেত্রী। 

তারাকান্দার সফল জননী...ছুলেমা খাতুন তিনি হলেন একজন সফল মাতা। তিনি তার দু:খে কষ্টে ৩ সন্তানকে আজ শিক্ষার আলো দিয়ে উচ্চশিক্ষিত করেছেন। বড় ছেলে আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে রসায়ন বিভাগে মাষ্টার্স শেষ করেন। ২ মেয়ে আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যায়নরত। এই শিক্ষার পেছনে ছুলেমা খাতুনের বিশেষ অবদানের জন্য তার কঠোর সংগ্রাম ও সামাজিক সাহায্যের কারণে  তাদের সন্তান আজ শিক্ষায় দীক্ষিত হয়েছে। অজপারাগায়ের দিন মুজুরের স্ত্রী হিসেবে তিনি যে আলোকিত কাজ করেছেন তিনি একজন সফল মাতা। সেই হিসেবে পেলেন তারাকান্দা উপজেলার জয়তীনারী পদক।

শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী...শিরিন সুলতানা মা বাবার তৃতীয় সন্তান শিরিন সুলতানা। স্বামী মারা যাওয়া পর জীবন সংগ্রামে তিনি একজন জয়ীতানারী। ২ সন্তানকে তিনি মানুষ করছেন। বর্তমানে তিনি রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। 

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন নারী..হাসনা বেগম ।জীবন সংগ্রামে এবং নির্যাতনের শিকারে অবহেলিত যে নারী তিনিই হলেন হাসনা বেগম। জীবন সংগ্রামে নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে আত্ম প্রত্যয় নিয়ে গড়েছেন নতুন সমাজ। বিয়ের অল্প কিছুদিন পর তিনি তালাকপ্রাপ্ত হন। ফিরে আসেন বাবার সংসারে। এই নির্যাতনের শোক বুকে পোষণ করে অল্প অল্প করে স্বপ বুনেছেন এই তার সংগ্রামী জীবন এবং গড়ে তুলেছেন উদ্যমে নতুন সমাজ। নারী সেবিকা হয়ে তিনি এখন গর্ভবতী মহিলাদেরকে নিয়ে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। এ সাফল্য ধরেই অর্জন করেছেন জয়ীতানারী পদক।

অর্থনৈতিক সাবলম্বী অর্জনকারী যে নারী.আজিজা বেগম । স্বামীর  সংসারে দু’বেলা অন্ন জুটতো না তার ভাগ্যে। সে নারী কঠোর সফলতা এবং নিজের মেধা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আজ অর্থনৈতিকভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তার স্বামী ছিলেন একজন ভ্যান চালক। তার এক মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর স্বামী মারা যায়। স্বামী হারা মেয়েকে নিয়ে তার সংসার জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার। এ অন্ধকার জীবনকে আলোর পথে নিয়ে আসতে তিনি বেছে নেন দর্জি কাজ। দর্জির কাজ করে এবং এলাকায় অসহায়, দুস্ত মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেন তিনি। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে এবং অর্জন করে নিয়েছেন তারাকান্দা উপজেলার জয়িতা নারী পদক।

তারাকান্দা উপজেলায় নারী বিষয়ক কর্মকর্তা মুক্তি রানীর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারাকান্দা এই ৫ জয়িতা নারীর সফলতা এবং সামাজিক উন্নয়নে তারা কঠোর পরিশ্রম করে সফলতার পথ দেখিয়েছে।