১৮, আগস্ট, ২০১৯, রোববার | | ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


১৩ মাস বেতন ছাড়াই আরবান স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা

সিস্টেম জটিলতায় ২৯০০ কর্মীর ভাগ্য

রিপোর্টার নামঃ প্রতিদিনের কাগজ' রিপোর্ট | আপডেট: ০৫ মে ২০১৯, ০৯:৪৯ পিএম

১৩ মাস বেতন ছাড়াই আরবান স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা
বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে গত ৩১ জানুয়ারি দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের কর্মীরা-ছবি সংগৃহীত

দিনের পর দিন বেতন না পেয়েই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিস ডেলিভারি প্রকল্পের প্রায় ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী। শহরে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষদের চিকিৎসাসেবা দেয়াই যাদের মূল উদ্দেশ্য। ১৩ মাস বেতন ছাড়া হতাশার মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন এসব কর্মী।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন সিটি করর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে এ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে কর্মীদের স্বাস্থ্য যদি ঠিক না থাকে, যদি বেতন না পেয়ে অভুক্ত থাকেন তাহলে নগরবাসীকে কিভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ হাজার ৯০০ কর্মী কাজ করেন। প্রায় ১৩ মাস বেতন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন এসব কর্মী। চলতি বছরের প্রথম ৪ মাস ধরে শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন কর্তারা। অভিযোগ উঠেছে এখন পর্যন্ত এর কোনো সমাধান দিতে পারছে না স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

দ্বিতীয় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ফাইল পড়ে আছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে। তবে এর অবস্থান প্রক্রিয়াগত কারণে ঝুলে আছে বলে এমনটাই অভিযোগ। এই প্রকল্পের মূল কার্যক্রম পরিচালিত হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে। প্রতি ৫ বৎসর পর পর নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে এনজিও নির্বাচিত করে প্রকল্পটি পরিচালিত করা হয়। সারাদেশের বেশকিছু সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে।

বিগত এক বছর বেতন ছাড়াই কাজ করছেন এ স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের অভাব-অভিযোগের শেষ নেই। আমলাতান্ত্রিক ও প্রক্রিয়াগত কারণে এই বেতন পরিশোধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেক কর্মী। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেশ কয়েকজন ডাক্তারের সাথে কথা হলে তারা এ প্রতিবেদককে নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, বেতন ছাড়া মানবেতর জীবন একটা অসহনীয় ব্যাপার।

এক এক করে আজ প্রায় ১৩ মাস পার হয়ে গেলো বেতনের কোনো হদিস নেই। তারা অভিযোগ করে বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে কিভাবে বেতন ছাড়া শ্রম দেয়া সম্ভব। যারা প্রকল্প পরিচালনা করেন তারা কি বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন না কিভাবে এ প্রকল্পের স্বাস্থ্য কর্মীরা চলছেন তারা কি এ বিষয়ে অবগত নয়। শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা আর মায়ায় আমরা কাজও ছাড়তে পারছি না। সেবা দিয়েই যাচ্ছি বলে জানান এসব স্বাস্থ্যকর্মী।

এ বিষয়ে কথা হলে প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল হাকিম মজুমদার আমার সংবাদকে বলেন, প্রক্রিয়াগত কারণে এ স্বাস্থ্য প্রকল্পের কর্মীরা প্রায় ১২ মাস বেতন পাচ্ছেন না। আসলে অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে আমাদের কর্মীরা একবছর বেতন পাচ্ছেন না। তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন নিঃসন্দেহে। এখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি তাড়াতাড়ি বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য।

গত ২৪ এপ্রিল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে এক বছরের বেতনের মধ্যে ৯ মাসের বেতন দেয়ার বিষয়টি উঠেছিলো। তবে এখনো সেই রেজুলেশনটি আমরা পাইনি। এখানে কিছু সিস্টেমের জটিলতা আছে। আমরা যদি রেজুলেশনটি পাই তবে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হবো।

এ বিষয়ে আমরা এবং মন্ত্রণালয় খুব তৎপর আছি। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে। আব্দুল হাকিম স্বীকার করে বলেন, ঠিকমত বেতন না দেয়ার কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বলেও জানান এ পরিচালক।

বেতনের এ দুর্গতি নিয়ে কথা হয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে। আরবান হেলথ কেয়ার প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ আমার সংবাদকে জানান, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য পাঠানো হয়েছে।

ওই কমিটি বিষয়টা অনুমোদন করলে নতুন করে চুক্তি হবে, এরপর বেতন পাবে। তবে কবে নাগাদ এ বেতন মিলবে এমন প্রশ্নের উত্তরে এ কর্মকর্তা সঠিক কোনো সময় জানাতে পারেননি। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ২০১৫ সালের পে স্কেল বহাল রাখা এবং দশ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন করেন আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের কর্মীরা।

মানববন্ধনে আরবান প্রাইমারি হেলথ কর্মীরা বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রতি পাঁচ বছর পর পর নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে এনজিও নির্বাচিত করে প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।

বিগত প্রতিটি ফেইজে দরপত্র প্রক্রিয়ায় কর্মীদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ করে এনজিওদের নিকট থেকে দরপত্র আহবান করা হয়। যেখানে প্রতিটি পার্টনারশিপ এলাকার কর্মীদের বেতন গ্রেড অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রায় সমান ছিল।

তবে দুঃখের বিষয়, বর্তমান দরপত্র আহবানের কর্মীদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ না করে প্রকল্পের অন্যান্য খরচের বিশাল বাজেট থেকে বরাদ্দ রেখে এনজিও দরপত্র আহবান করা হয়। ফলে অন্যান্য বাজেট কমানোর সুযোগ না থাকায় এনজিওরা সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ার জন্য কর্মীদের বেতন কমাতে চাইছে।

এমনকি এনজিওগুলো সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো বা আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের নিয়ম না মেনে কর্মীদের বর্তমান প্রাপ্য বেতনের অর্ধেক করে দরপত্র জমা দেয়। ফলে আরবানের কর্মীরা চরম বেতন বৈষম্যের শিকার হতে চলছে। মানববন্ধন থেকে আরবানের ২ হাজার ৯০০ কর্মীর দশ মাসের বকেয়া বেতন-বোনাস প্রদান ও ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল বহাল রেখে বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। 

১৩ মাস বেতন ছাড়াই আরবান স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা

প্রতিবেদক নাম: প্রতিদিনের কাগজ' রিপোর্ট ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৫ মে ২০১৯, ০৯:৪৯ পিএম

দিনের পর দিন বেতন না পেয়েই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিস ডেলিভারি প্রকল্পের প্রায় ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী। শহরে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষদের চিকিৎসাসেবা দেয়াই যাদের মূল উদ্দেশ্য। ১৩ মাস বেতন ছাড়া হতাশার মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন এসব কর্মী।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন সিটি করর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে এ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে কর্মীদের স্বাস্থ্য যদি ঠিক না থাকে, যদি বেতন না পেয়ে অভুক্ত থাকেন তাহলে নগরবাসীকে কিভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেবেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ হাজার ৯০০ কর্মী কাজ করেন। প্রায় ১৩ মাস বেতন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছেন এসব কর্মী। চলতি বছরের প্রথম ৪ মাস ধরে শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন কর্তারা। অভিযোগ উঠেছে এখন পর্যন্ত এর কোনো সমাধান দিতে পারছে না স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

দ্বিতীয় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ফাইল পড়ে আছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে। তবে এর অবস্থান প্রক্রিয়াগত কারণে ঝুলে আছে বলে এমনটাই অভিযোগ। এই প্রকল্পের মূল কার্যক্রম পরিচালিত হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে। প্রতি ৫ বৎসর পর পর নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে এনজিও নির্বাচিত করে প্রকল্পটি পরিচালিত করা হয়। সারাদেশের বেশকিছু সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হয়ে আসছে।

বিগত এক বছর বেতন ছাড়াই কাজ করছেন এ স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের অভাব-অভিযোগের শেষ নেই। আমলাতান্ত্রিক ও প্রক্রিয়াগত কারণে এই বেতন পরিশোধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেক কর্মী। এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেশ কয়েকজন ডাক্তারের সাথে কথা হলে তারা এ প্রতিবেদককে নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, বেতন ছাড়া মানবেতর জীবন একটা অসহনীয় ব্যাপার।

এক এক করে আজ প্রায় ১৩ মাস পার হয়ে গেলো বেতনের কোনো হদিস নেই। তারা অভিযোগ করে বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে কিভাবে বেতন ছাড়া শ্রম দেয়া সম্ভব। যারা প্রকল্প পরিচালনা করেন তারা কি বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন না কিভাবে এ প্রকল্পের স্বাস্থ্য কর্মীরা চলছেন তারা কি এ বিষয়ে অবগত নয়। শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা আর মায়ায় আমরা কাজও ছাড়তে পারছি না। সেবা দিয়েই যাচ্ছি বলে জানান এসব স্বাস্থ্যকর্মী।

এ বিষয়ে কথা হলে প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল হাকিম মজুমদার আমার সংবাদকে বলেন, প্রক্রিয়াগত কারণে এ স্বাস্থ্য প্রকল্পের কর্মীরা প্রায় ১২ মাস বেতন পাচ্ছেন না। আসলে অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে আমাদের কর্মীরা একবছর বেতন পাচ্ছেন না। তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন নিঃসন্দেহে। এখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি তাড়াতাড়ি বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য।

গত ২৪ এপ্রিল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে এক বছরের বেতনের মধ্যে ৯ মাসের বেতন দেয়ার বিষয়টি উঠেছিলো। তবে এখনো সেই রেজুলেশনটি আমরা পাইনি। এখানে কিছু সিস্টেমের জটিলতা আছে। আমরা যদি রেজুলেশনটি পাই তবে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হবো।

এ বিষয়ে আমরা এবং মন্ত্রণালয় খুব তৎপর আছি। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে। আব্দুল হাকিম স্বীকার করে বলেন, ঠিকমত বেতন না দেয়ার কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বলেও জানান এ পরিচালক।

বেতনের এ দুর্গতি নিয়ে কথা হয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে। আরবান হেলথ কেয়ার প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ আমার সংবাদকে জানান, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য পাঠানো হয়েছে।

ওই কমিটি বিষয়টা অনুমোদন করলে নতুন করে চুক্তি হবে, এরপর বেতন পাবে। তবে কবে নাগাদ এ বেতন মিলবে এমন প্রশ্নের উত্তরে এ কর্মকর্তা সঠিক কোনো সময় জানাতে পারেননি। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ২০১৫ সালের পে স্কেল বহাল রাখা এবং দশ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন করেন আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের কর্মীরা।

মানববন্ধনে আরবান প্রাইমারি হেলথ কর্মীরা বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রতি পাঁচ বছর পর পর নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে এনজিও নির্বাচিত করে প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।

বিগত প্রতিটি ফেইজে দরপত্র প্রক্রিয়ায় কর্মীদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ করে এনজিওদের নিকট থেকে দরপত্র আহবান করা হয়। যেখানে প্রতিটি পার্টনারশিপ এলাকার কর্মীদের বেতন গ্রেড অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রায় সমান ছিল।

তবে দুঃখের বিষয়, বর্তমান দরপত্র আহবানের কর্মীদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ না করে প্রকল্পের অন্যান্য খরচের বিশাল বাজেট থেকে বরাদ্দ রেখে এনজিও দরপত্র আহবান করা হয়। ফলে অন্যান্য বাজেট কমানোর সুযোগ না থাকায় এনজিওরা সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ার জন্য কর্মীদের বেতন কমাতে চাইছে।

এমনকি এনজিওগুলো সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়ার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো বা আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের নিয়ম না মেনে কর্মীদের বর্তমান প্রাপ্য বেতনের অর্ধেক করে দরপত্র জমা দেয়। ফলে আরবানের কর্মীরা চরম বেতন বৈষম্যের শিকার হতে চলছে। মানববন্ধন থেকে আরবানের ২ হাজার ৯০০ কর্মীর দশ মাসের বকেয়া বেতন-বোনাস প্রদান ও ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল বহাল রেখে বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।