১৮, আগস্ট, ২০১৯, রোববার | | ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


নজরুল আমার জীবন বন্দনা -সোমঋতা মল্লিক

রিপোর্টার নামঃ প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক: | আপডেট: ০৫ মে ২০১৯, ০৫:০২ পিএম

নজরুল আমার জীবন বন্দনা    -সোমঋতা মল্লিক
নজরুল আমার জীবন বন্দনা -সোমঋতা মল্লিক

তিনদিন ব্যাপী নজরুল সম্মেলনে যোগ দিতে পাবনায় এসেছিলেন কলকাতার নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও নজরুল গবেষক সোমঋতা মল্লিক।
কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গে নজরুল সঙ্গীত নিয়ে যে ক’জন কাজ করছেন তাদের মধ্যে সোমঋতা মল্লিক অন্যতম। কলকাতা ছায়ানটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
কথা হয় “প্রতিদিনের কাগজ”এর সম্পাদকের সাথে, এসময় তিনি বলেন বাংলাদেশ আমার পছন্দের একটি জায়গা। যেখানে বারবার আসতে ইচ্ছে করে। সময় পেলে চলেও আসি। এখানকার মানুষগুলো খুবই আন্তরিক ও অতিথি পরায়ণ।
তাছাড়া নজরুল দুই বাংলার প্রান পুরুষ। যেহেতু নজরুল সঙ্গীত নিয়ে কাজ করি সেখানে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে তো কিছু করার সুযোগ নেই। আমার বয়স যখন আড়াই বছর তখন আমি নজরুল সঙ্গীত প্রথম গেয়েছিলাম। আমার মা ছিলেন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী। নজরুল সঙ্গীত আমার হাতেখড়ি আমার মায়ের কাছ থেকেই।
তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের নজরুল সঙ্গীত চর্চাতে বেশ পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে নজরুলকে নিয়ে অনেক বেশি চর্চা হয়। চর্চার ধরনটাও ভিন্ন। সুর লয়ের মাঝেও অনেকটা পার্থক্য পাওয়া যায়। আমি বাংলাদেশের ধরনটাকে জানতে চাই। আর এজন্যই বারবার ছুটে আসি। আমি সব সময় জানতে চাই নজরুলের অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো। গানের ভিতরের ভাজগুলো। বলা যায় নজরুলের ওপর কিংবা নজরুল সঙ্গীতের ওপর আমার তৃঞ্চাটা অনেক বেশি। ২০১৭ সালের ১ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দুই বাংলার প্রায় দুই শতাধিক শিল্পীকে নিয়ে কলকাতার রবীন্দ্র সদন চত্বরে কলকাতা ছায়ানটের উদ্যোগে আমিই প্রথম নজরুল মেলার আয়োজন করি। তবে নজরুল জয়ন্তী আয়োজনের পর নজরুলকে নিয়ে কলকাতাবাসির আগ্রহটা দেখে খুব ভাল লেগেছিল। যেখানেই গিয়েছি সেখানেই ভাল সাড়া পেয়েছি। নজরুল মেলার বড় সার্থকতাটা হলো দুই বাংলার শিল্পীদের মিলন মেলা। নজরুল ও নজরুল সঙ্গীত নিয়ে বাংলাদেশে ঈর্ষণীয় কাজ হচ্ছে। দুই বাংলার মানুষের নজরুল ভাবনাকে বিশ্বব্যাপী এগিয়ে নিতে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
এছাড়াও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বিভিন্ন চিঠি নিয়ে আমি ‘ইতি নজরুল’ নামে এ্যালবাম তৈরী করেছি। এ্যালবামে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি জসীম উদ্দীন, কাজী মোতাহার হোসেন, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়সহ বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের কাছে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা চিঠি। এ্যালবামটির পরিকল্পনা ও পরিচালনা আমার নিজের। এই এ্যালবামের বিভিন্ন পাঠে অংশ নিয়েছেন কল্যানী কাজী, প্রদীপ ঘোষ, দেবাশীষ বসু, অলকানন্দা রায়, স্বাগতালক্ষী দাশগুপ্ত, মধুমিতা বসু, ঋতব্রত ভট্রাচার্য, দিলরুবা খানম, নাসিমা খান বকুল প্রমুখ। 
আমার এ্যালবাম গুলো হলো “তবুও ভালবাসি” “ঠাম্মা তোমার সঙ্গে” “বিরহ মধুর হলো আজ” “বুলবুল কাদেঁ গজল গানে” “মাটির কাছে” “রাঙ্গা মাটির পথে”।
এছাড়াও আমার পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সুমন্ত্র সেন গুপ্ত ও মধুুমিতা বসুর কন্ঠে এবং ডা. রফিকুল ইসলামের লেখনিতে কাজী নজরুল ইসলামের বহু জানা-অজানা তথ্য সমৃদ্ধ বিষয় নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে জানা-অজানা নজরুল। পাশাপাশি আমি ভারত-বাংলাদেশে বহু স্টেজ পারফর্ম করেছি।
মোট কথা নজরুল আমার জীবন বন্দনা। জাতীয় জাগরনের কবি কাজী নজরুল। মানবিক সমাজ গঠনে পাথেয় হয়ে থাকবে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক বানী। সেই সঙ্গে নজরুলের কবিতা, গদ্য এবং বৈচিত্র্যময় সুর-ঐশ্বর্যের সম্মোহন বাঙালীর হৃদয় থেকে কখনোই হারিয়ে যাবেনা। বরং তা নব নব ভাবনায় উদ্ভাসিত হবে। সাম্য, প্রেম ও দ্রোহের কবি নজরুল। গানের সুরে ও কবিতার ছন্দে নজরুলকে ধারণ করাই আমার বন্দনা। 

নজরুল আমার জীবন বন্দনা -সোমঋতা মল্লিক

প্রতিবেদক নাম: প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক: ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৫ মে ২০১৯, ০৫:০২ পিএম

তিনদিন ব্যাপী নজরুল সম্মেলনে যোগ দিতে পাবনায় এসেছিলেন কলকাতার নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ও নজরুল গবেষক সোমঋতা মল্লিক।
কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গে নজরুল সঙ্গীত নিয়ে যে ক’জন কাজ করছেন তাদের মধ্যে সোমঋতা মল্লিক অন্যতম। কলকাতা ছায়ানটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
কথা হয় “প্রতিদিনের কাগজ”এর সম্পাদকের সাথে, এসময় তিনি বলেন বাংলাদেশ আমার পছন্দের একটি জায়গা। যেখানে বারবার আসতে ইচ্ছে করে। সময় পেলে চলেও আসি। এখানকার মানুষগুলো খুবই আন্তরিক ও অতিথি পরায়ণ।
তাছাড়া নজরুল দুই বাংলার প্রান পুরুষ। যেহেতু নজরুল সঙ্গীত নিয়ে কাজ করি সেখানে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে তো কিছু করার সুযোগ নেই। আমার বয়স যখন আড়াই বছর তখন আমি নজরুল সঙ্গীত প্রথম গেয়েছিলাম। আমার মা ছিলেন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী। নজরুল সঙ্গীত আমার হাতেখড়ি আমার মায়ের কাছ থেকেই।
তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের নজরুল সঙ্গীত চর্চাতে বেশ পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে নজরুলকে নিয়ে অনেক বেশি চর্চা হয়। চর্চার ধরনটাও ভিন্ন। সুর লয়ের মাঝেও অনেকটা পার্থক্য পাওয়া যায়। আমি বাংলাদেশের ধরনটাকে জানতে চাই। আর এজন্যই বারবার ছুটে আসি। আমি সব সময় জানতে চাই নজরুলের অন্তর্নিহিত বিষয়গুলো। গানের ভিতরের ভাজগুলো। বলা যায় নজরুলের ওপর কিংবা নজরুল সঙ্গীতের ওপর আমার তৃঞ্চাটা অনেক বেশি। ২০১৭ সালের ১ জুন থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দুই বাংলার প্রায় দুই শতাধিক শিল্পীকে নিয়ে কলকাতার রবীন্দ্র সদন চত্বরে কলকাতা ছায়ানটের উদ্যোগে আমিই প্রথম নজরুল মেলার আয়োজন করি। তবে নজরুল জয়ন্তী আয়োজনের পর নজরুলকে নিয়ে কলকাতাবাসির আগ্রহটা দেখে খুব ভাল লেগেছিল। যেখানেই গিয়েছি সেখানেই ভাল সাড়া পেয়েছি। নজরুল মেলার বড় সার্থকতাটা হলো দুই বাংলার শিল্পীদের মিলন মেলা। নজরুল ও নজরুল সঙ্গীত নিয়ে বাংলাদেশে ঈর্ষণীয় কাজ হচ্ছে। দুই বাংলার মানুষের নজরুল ভাবনাকে বিশ্বব্যাপী এগিয়ে নিতে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
এছাড়াও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বিভিন্ন চিঠি নিয়ে আমি ‘ইতি নজরুল’ নামে এ্যালবাম তৈরী করেছি। এ্যালবামে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি জসীম উদ্দীন, কাজী মোতাহার হোসেন, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়সহ বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের কাছে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা চিঠি। এ্যালবামটির পরিকল্পনা ও পরিচালনা আমার নিজের। এই এ্যালবামের বিভিন্ন পাঠে অংশ নিয়েছেন কল্যানী কাজী, প্রদীপ ঘোষ, দেবাশীষ বসু, অলকানন্দা রায়, স্বাগতালক্ষী দাশগুপ্ত, মধুমিতা বসু, ঋতব্রত ভট্রাচার্য, দিলরুবা খানম, নাসিমা খান বকুল প্রমুখ। 
আমার এ্যালবাম গুলো হলো “তবুও ভালবাসি” “ঠাম্মা তোমার সঙ্গে” “বিরহ মধুর হলো আজ” “বুলবুল কাদেঁ গজল গানে” “মাটির কাছে” “রাঙ্গা মাটির পথে”।
এছাড়াও আমার পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সুমন্ত্র সেন গুপ্ত ও মধুুমিতা বসুর কন্ঠে এবং ডা. রফিকুল ইসলামের লেখনিতে কাজী নজরুল ইসলামের বহু জানা-অজানা তথ্য সমৃদ্ধ বিষয় নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে জানা-অজানা নজরুল। পাশাপাশি আমি ভারত-বাংলাদেশে বহু স্টেজ পারফর্ম করেছি।
মোট কথা নজরুল আমার জীবন বন্দনা। জাতীয় জাগরনের কবি কাজী নজরুল। মানবিক সমাজ গঠনে পাথেয় হয়ে থাকবে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক বানী। সেই সঙ্গে নজরুলের কবিতা, গদ্য এবং বৈচিত্র্যময় সুর-ঐশ্বর্যের সম্মোহন বাঙালীর হৃদয় থেকে কখনোই হারিয়ে যাবেনা। বরং তা নব নব ভাবনায় উদ্ভাসিত হবে। সাম্য, প্রেম ও দ্রোহের কবি নজরুল। গানের সুরে ও কবিতার ছন্দে নজরুলকে ধারণ করাই আমার বন্দনা।