২৫, এপ্রিল, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৯ শা'বান ১৪৪০

পূর্বধলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু

রিপোর্টার নামঃ নেত্রকোণা প্রতিনিধি: | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৭:৩৭ পিএম

পূর্বধলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু
পূর্বধলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রাপ্ত নূর উদ্দিন ওরফে রদ্দীন (৭০) নামের পলাতক আসামির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর দেড়টারদিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পূর্বধলা থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান। তার বাড়ি উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব মৌদাম গ্রামে।

স্থানীয়রা জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় নূর উদ্দিন ওরফে রদ্দীন পলাতক থাকা অবস্থায় প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন। 

উল্লেখ্য চলতি বছরের ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে  নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার পলাতক পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি  মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন। মামলায় মৃত্যুপ্রাপ্রাপ্তরা হলেন-পূর্বধলা উপজেলার খারছাইল গ্রামের আবদুল খালেক তালুকদার (৬৭) উপজেলা সদরের  মো. কবির খান (৭০), পূর্বমৌদাম গ্রামের শেখ আবদুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানা (৬৬), একই গ্রামের আবদুস সালাম বেগ (৬৮) ও  মো. নূরউদ্দিন ওরফে রদ্দীন (৭০)।

এই মামলায় প্রথমে সাতজন আসামি ছিল। সাত আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল তদন্ত সংস্থা। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১২ আগষ্ট সব আসামির বিরুদ্ধে  গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওইদিনই এক আসামি আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ট্রাইব্যুনালে এই মামলার যুক্তিতর্কের সময় গ্রেফতারকৃত আবদুর রহমান (৭০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এর আগে এক আসামি আহমদ আলী (৭৮) অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আগেই ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর মারা যান। 

 নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার বাড়হা গ্রামের আবদুল খালেককে হত্যার ঘটনায় খালেকের ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির ২০১৩ সালে এ মামলাটি করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ২১ আগষ্ট আবদুল খালেককে গুলি করে হত্যার পর কংস নদীতে লাশ ভাসিয়ে  দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয় ওই মামলায়। পরে মামলাটি ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে পরের বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। এরপর তিনি ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রসিকিউশন বিভাগ ২০১৬ সালের ২২ মে আসামিদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করে এবং একই বছর ১২ জুন অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা,অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রাজাকারদের বিরুদ্ধে একাত্তরে ডা. হেম সুন্দর বাগচী হত্যা, নির্যাতন, লুন্ঠণসহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের বাড়িতে নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লূটপাট চালায় বলে প্রসিকিউশনে অভিযোগ রয়েছে।

পূর্বধলা থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান আরো বলেন, স্বজনরা তার লাশ বাড়িতে আনার জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। লাশ বাড়িতে আসলে পুলিশ প্রশাসন যাবে ও পরে তার  মৃত্যুর বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে।