২৫, এপ্রিল, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৯ শা'বান ১৪৪০

পহেলা বৈশাখেও আন্দোলনে জাবি শিক্ষার্থীরা, মঙ্গল শোভাযাত্রা বাতিল

রিপোর্টার নামঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি: | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৭:৪২ পিএম

পহেলা বৈশাখেও আন্দোলনে জাবি শিক্ষার্থীরা, মঙ্গল শোভাযাত্রা বাতিল
পহেলা বৈশাখেও আন্দোলনে জাবি শিক্ষার্থীরা, মঙ্গল শোভাযাত্রা বাতিল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজী বিভাগের ৪৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান নিভৃত নামের এক শিক্ষার্থীর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় পহেলা বৈশাখের উৎসবকে উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নাই দাবি করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগ শনাক্ত করতে না পারায় সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার রাস্তায় শনিবার রাত ১০টার দিকে এই শিক্ষার্থী মারা যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকন্দ্রে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে রোববার বেলা ১টায় মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে একটি মৌন মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে যায় এবং সেখানে ৪ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

একই দাবিতে শহীদ মিনারের পাদদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে পাঁচ শিক্ষার্থী। অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন ইতিহাস বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের খান মোহাম্মদ রিফাত বিল্লাহ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের ইয়াসির আরাফাত বর্ণ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৪৩তম আবর্তনের আদীফ আরিফ, আইবিএ-জেইউ এর ৪৫তম আবর্তনের ফারহান রহমান এবং ইতিহাস বিভাগের ৪৬তম আবর্তনের জিসান।

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে খান মোহাম্মদ রিফাত বিল্লাহ ও ইয়াসির আরাফাত বর্ণ শহীদ মিনারের পাদদেশে অবস্থান নেয়। এরপরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের যাথে যুক্ত হন বাকি তিনজন।

বিকাল ৫টায় ধর্মঘট পালনকারী শিক্ষার্থীরা এক সংবাদ সম্মেলন করে জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল দাবি মেনে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে নুরুজ্জামানের পরিবারকে ক্ষতিপূরন  প্রদান, ২৪ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি ক্রয়, ১৩ এপ্রিলের মধ্যে আধূনিক সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স, সপ্তাহে সাতদিন চারজন করে চিকিৎসক সর্বক্ষনিক দায়িত্ব পালনসহ ১৩টি দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বর্ষবণের বিভিন্ন আয়োজন থাকলেও নুরুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের অনুষ্ঠানে গান-বাজনা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে প্রশাসন শোক জানিয়ে বাদ্যযন্ত্র বিহীন মঙ্গল শোভাযাত্রা করার পক্ষে থাকলেও পরবর্তীতে সেটিও আর হয়নি। দু একটি বিভাগে নিজ নিজ উদ্যোগে কালো ব্যাজ ধারণ করে নুরুজ্জামান নিভৃতকে উৎসর্গ করে শোভাযাত্রা করেছে তবে সেখানে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ছিলনা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রশাসন ও অনুষদগুলোর পক্ষ থেকে নেওয়া বৈশাখের সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে, তবে বিভাগগুলোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে।

সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবনের সামনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম শোক প্রকাশ করে মঙ্গল শোভাযাত্রা কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এসময় উপাচার্য বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র নূরুজ্জামানের অকালে চলে যাওয়া আমাদের সকলের জন্য একটি কষ্টের বিষয়। নূরুজ্জামানের অকাল প্রয়াণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও তার পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হলো। উপাচার্য নূরুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।’ নূরুজ্জামানের প্রতি শোক ও সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে নুরুজ্জামান সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসা কেন্দ্রে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. তরিকুল ইসলাম তাকে গ্যাস্ট্রিকের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এতে ব্যথা না কমলে তাকে সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পরে রাতে সোয়া নয়টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হরনাথ সরকার জানিয়েছেন শ্বাসকষ্ট থেকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নুরুজ্জামানের মৃত্যু হয়।

প্রতিদিনের কাগজ/আরিফুল ইসলাম আরিফ