২১, জুলাই, ২০১৯, রোববার | | ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০


গণমাধ্যম ও মুক্ত প্রকাশের স্বাধীনতা

রিপোর্টার নামঃ স্বাধীন চৌধুরী,প্রতিদিনের কাগজ' | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৩২ এএম

গণমাধ্যম ও মুক্ত প্রকাশের স্বাধীনতা
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ' এর উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক, সামজিক ব্যাক্তিত্ব, কবি- স্বাধীন চৌধুরী।

সমাজ-সভ্যতার ‘মিরর’ হচ্ছে গণমাধ্যম। এক কথায় জনমানুষের কণ্ঠস্বর সাংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম। ল্যাটিন প্রবাদে বলা হয় ‘জনগনের কণ্ঠস্বরই হচ্ছে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা দেশের  জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা, স্বাধীনতা, প্রয়োজন ও অভিব্যক্তি তথা অনিবার্য সামষ্টিক প্রত্যাশাগুলোই গণমাধ্যমের শিরোধার্য অনুষঙ্গ।

সাংবাদিকতার মৌল তিন নীতি অনেস্টি, অ্যাকিউরেসি এবং ফেয়ারনেস মেনেই একজন গণমাধ্যম কর্মীর চলা। কিন্তু সমাজ বাস্তবতায় আমাদের দেশে গণমাধ্যম-উন্নয়ন বিকাশ ধারা যেমন মানসূচকে এগিয়ে যাচ্ছে, তারপরও সময়ের প্রয়োজনে গণমাধ্যম শিল্প মালিক-মালিকানা, সম্পাদকীয় নীতিমালা, গণমাধ্যমকর্মীর দক্ষতা-যোগ্যতা-মূল্যবোধ এবং গণমাধ্যম ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব-পেশাদায়িত্বের বিকাশে আলোচনা-পর্যালোচনা-সমালোচনার দাবি রাখে।

নব্বইয়ের দশকে এদেশে মুদ্রণ গণমাধ্যম বেসরকারী বিনিয়োগে নতুন মাত্রা পেতে শুরু করে। মুদ্রণ প্রযুক্তির আধুনিকরণের ফলেও তা বিকাশমাত্রা পায়। ২০০০ সালে প্রথম সরকারি টিভি চ্যানেলে একুশে টিভির যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পথ চলা শুরু। এখনতো প্রায় ২০টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল কাজ করছে। আত্ম প্রকাশের অপেক্ষায় আরও বেশ ক’টি। অন্যদিকে দেশজুড়ে দৈনিক সংবাদপত্রের অন্ত নেই। জেলায়-জেলায়, উপজেলায়ও সংবাদপত্র হরদম ডিক্লারেশন পাচ্ছে এখন। লক্ষ্যণীয় হচ্ছে রাজধানী তথা ঢাকা কেন্দ্রিক সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেল-এর তৎপরতাই আমাদের দেশের গণমাধ্যম সংস্কৃতির মূল প্রেক্ষাপট দখল করে আছে এর কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের যে সকল শর্ত ও সূচক পুরণ করতে হয়, তা ঢাকা কেন্দ্রিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাণিজ্যিক কারণেই মেনে চলে। চলতে হয়। সেক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের সংবাদপত্রগুলোর অধিকাংশই যেন প্রতীকী শর্তে প্রকাশিত সংবাদপত্রমাত্র। এগুলো নামসর্বস্ব মুদ্রিত প্রচারপত্রের ভূমিকায় যেন রয়েছে। তাতেও ভুল-ভ্রান্তিতে পরিপুর্ণ। এইসব সংবাদপত্রের মালিক (প্রকাশক), সম্পাদক, সাংবাদিক এদের অধিকাংশই অদক্ষ ও অযোগ্যতায় বিবেচিত হবার দাবি রাখেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ যেমন, তাদের সংবাদপত্র কর্মীবলয়ও তেমন। এ প্রশ্নে বিদ্যমান আইন-কানুন, নীতিমালা, দায়বদ্ধতা সকল কিছুর ইতিবাচক প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জন্যে প্রয়োজন সময়োপযোগী গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। প্রয়োজন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দক্ষ গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা এবং গণমাধ্যমকর্মী তৈরী করার উদ্যোগ। সময়ের প্রয়োজনেই তা অনিবার্য। পিআইবি কেন্দ্রিক কিংবা রাজধানীর গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তক কর্মীদের শর্টকোর্স প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা খুবই অপ্রতুল।

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন গণমাধ্যম পড়ানো হয়। এর ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়ারাও পাঠ জীবন শেষ করে সংবাদপত্র পেশায় খুব একটা যুক্ত হচ্ছেনা। অন্যদিকে গণমাধ্যম গ্রাজুয়েট বা পোস্ট গ্রাজুয়েটও এ পেশায় সংখ্যায় কম। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গন সংশ্লিষ্ট তথা সহজাত লেখালেখির সৃজন কুশলীরাই আবহমান কাল ধরে গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত হয়েছেন। সংবাদপত্র বিকাশের ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকাই মুখ্য। ইতিহাস সে কথাই বলে।

বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ (২) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে- ‘প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারবে এবং সংবাদমাধ্যম সমূহও স্বাধীনভাবে দেশ-বিদেশের খবর এবং বিভিন্ন মতামতও প্রকাশ করতে পারবে’। এছাড়া সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদে বলা আছেÑ‘প্রত্যেকেরই মতামত পোষণ করা ও প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। বিনা হস্তক্ষেপে মতামত পোষণ করা এবং যে কোন উপায়ে রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত সংগ্রহ করা বা গ্রহণ করা বা জানার স্বাধীনতা এই অধিকারের অন্তর্ভূক্ত’। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বহুত্ত্ববাদ গণতন্ত্রায়নের পথ প্রসারে মৌলিক ভিত্তি। মুক্ত প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধানের মাধ্যমে গণতন্ত্র অর্জিত হয়। স্বাধীন গণমাধ্যম দ্বন্দ্ব বিক্ষুদ্ধ এলাকায় দ্বন্দ্ব প্রতিরোধ, শান্তি স্থাপন এবং সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শান্তি স্থাপনের সংস্কৃতির পথকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে দেখা যায় এদেশের সরকার কখনোই মুক্ত চিন্তার মতামত পোষণ ও প্রকাশের দ্বার উন্মুক্ত করেনি। বরং সময় সময় নানা রকম ধারা-উপধারা প্রণয়ন করে গণমাধ্যমের মুক্ত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে। সাম্প্রতিককালে ৫৭ ধারার কালাকানুন নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনা সমালোচনা হয়েছে, যা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

দুই হাজারের প্রথম দশক থেকে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং এই সময়ে তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম সংস্কৃতির বিস্তার-বিকাশে বিপুল পরিবর্তন এসেছে। মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ই-মেইল তথ্য জানার এবং জানানোর পথকে সুগম করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উৎকর্ষতা তথ্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং জনগণের তথ্যের অভিগম্যতার পথে  বিশেষ ভূমিকা রাখে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বত্র প্রসার ও যথাযথ ব্যবহার করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মোটকথা দক্ষ যোগ্য দায়িত্বশীল গণমাধ্যম পেশাজীবী তৈরী, গণমাধ্যম শিল্পের যথাযথ বিকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভিতকে শক্তশালী করার মধ্যদিয়ে কাঙ্খিত গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা তথা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত তৈরী খুব জরুরি। সার্বিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিকাশ কাঙ্খিত সেই স্বপ্নের পথ রচনা করতে পারে।

লেখক:উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ।

গণমাধ্যম ও মুক্ত প্রকাশের স্বাধীনতা

প্রতিবেদক নাম: স্বাধীন চৌধুরী,প্রতিদিনের কাগজ' ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৩২ এএম

সমাজ-সভ্যতার ‘মিরর’ হচ্ছে গণমাধ্যম। এক কথায় জনমানুষের কণ্ঠস্বর সাংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম। ল্যাটিন প্রবাদে বলা হয় ‘জনগনের কণ্ঠস্বরই হচ্ছে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর। অর্থাৎ রাষ্ট্র বা দেশের  জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খা, স্বাধীনতা, প্রয়োজন ও অভিব্যক্তি তথা অনিবার্য সামষ্টিক প্রত্যাশাগুলোই গণমাধ্যমের শিরোধার্য অনুষঙ্গ।

সাংবাদিকতার মৌল তিন নীতি অনেস্টি, অ্যাকিউরেসি এবং ফেয়ারনেস মেনেই একজন গণমাধ্যম কর্মীর চলা। কিন্তু সমাজ বাস্তবতায় আমাদের দেশে গণমাধ্যম-উন্নয়ন বিকাশ ধারা যেমন মানসূচকে এগিয়ে যাচ্ছে, তারপরও সময়ের প্রয়োজনে গণমাধ্যম শিল্প মালিক-মালিকানা, সম্পাদকীয় নীতিমালা, গণমাধ্যমকর্মীর দক্ষতা-যোগ্যতা-মূল্যবোধ এবং গণমাধ্যম ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব-পেশাদায়িত্বের বিকাশে আলোচনা-পর্যালোচনা-সমালোচনার দাবি রাখে।

নব্বইয়ের দশকে এদেশে মুদ্রণ গণমাধ্যম বেসরকারী বিনিয়োগে নতুন মাত্রা পেতে শুরু করে। মুদ্রণ প্রযুক্তির আধুনিকরণের ফলেও তা বিকাশমাত্রা পায়। ২০০০ সালে প্রথম সরকারি টিভি চ্যানেলে একুশে টিভির যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পথ চলা শুরু। এখনতো প্রায় ২০টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল কাজ করছে। আত্ম প্রকাশের অপেক্ষায় আরও বেশ ক’টি। অন্যদিকে দেশজুড়ে দৈনিক সংবাদপত্রের অন্ত নেই। জেলায়-জেলায়, উপজেলায়ও সংবাদপত্র হরদম ডিক্লারেশন পাচ্ছে এখন। লক্ষ্যণীয় হচ্ছে রাজধানী তথা ঢাকা কেন্দ্রিক সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেল-এর তৎপরতাই আমাদের দেশের গণমাধ্যম সংস্কৃতির মূল প্রেক্ষাপট দখল করে আছে এর কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের যে সকল শর্ত ও সূচক পুরণ করতে হয়, তা ঢাকা কেন্দ্রিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাণিজ্যিক কারণেই মেনে চলে। চলতে হয়। সেক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের সংবাদপত্রগুলোর অধিকাংশই যেন প্রতীকী শর্তে প্রকাশিত সংবাদপত্রমাত্র। এগুলো নামসর্বস্ব মুদ্রিত প্রচারপত্রের ভূমিকায় যেন রয়েছে। তাতেও ভুল-ভ্রান্তিতে পরিপুর্ণ। এইসব সংবাদপত্রের মালিক (প্রকাশক), সম্পাদক, সাংবাদিক এদের অধিকাংশই অদক্ষ ও অযোগ্যতায় বিবেচিত হবার দাবি রাখেন। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ যেমন, তাদের সংবাদপত্র কর্মীবলয়ও তেমন। এ প্রশ্নে বিদ্যমান আইন-কানুন, নীতিমালা, দায়বদ্ধতা সকল কিছুর ইতিবাচক প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জন্যে প্রয়োজন সময়োপযোগী গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। প্রয়োজন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দক্ষ গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা এবং গণমাধ্যমকর্মী তৈরী করার উদ্যোগ। সময়ের প্রয়োজনেই তা অনিবার্য। পিআইবি কেন্দ্রিক কিংবা রাজধানীর গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তক কর্মীদের শর্টকোর্স প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা খুবই অপ্রতুল।

আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন গণমাধ্যম পড়ানো হয়। এর ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়। বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়ারাও পাঠ জীবন শেষ করে সংবাদপত্র পেশায় খুব একটা যুক্ত হচ্ছেনা। অন্যদিকে গণমাধ্যম গ্রাজুয়েট বা পোস্ট গ্রাজুয়েটও এ পেশায় সংখ্যায় কম। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গন সংশ্লিষ্ট তথা সহজাত লেখালেখির সৃজন কুশলীরাই আবহমান কাল ধরে গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত হয়েছেন। সংবাদপত্র বিকাশের ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকাই মুখ্য। ইতিহাস সে কথাই বলে।

বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ (২) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে- ‘প্রত্যেক নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারবে এবং সংবাদমাধ্যম সমূহও স্বাধীনভাবে দেশ-বিদেশের খবর এবং বিভিন্ন মতামতও প্রকাশ করতে পারবে’। এছাড়া সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদে বলা আছেÑ‘প্রত্যেকেরই মতামত পোষণ করা ও প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। বিনা হস্তক্ষেপে মতামত পোষণ করা এবং যে কোন উপায়ে রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত সংগ্রহ করা বা গ্রহণ করা বা জানার স্বাধীনতা এই অধিকারের অন্তর্ভূক্ত’। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বহুত্ত্ববাদ গণতন্ত্রায়নের পথ প্রসারে মৌলিক ভিত্তি। মুক্ত প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধানের মাধ্যমে গণতন্ত্র অর্জিত হয়। স্বাধীন গণমাধ্যম দ্বন্দ্ব বিক্ষুদ্ধ এলাকায় দ্বন্দ্ব প্রতিরোধ, শান্তি স্থাপন এবং সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং শান্তি স্থাপনের সংস্কৃতির পথকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে দেখা যায় এদেশের সরকার কখনোই মুক্ত চিন্তার মতামত পোষণ ও প্রকাশের দ্বার উন্মুক্ত করেনি। বরং সময় সময় নানা রকম ধারা-উপধারা প্রণয়ন করে গণমাধ্যমের মুক্ত প্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে। সাম্প্রতিককালে ৫৭ ধারার কালাকানুন নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনা সমালোচনা হয়েছে, যা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

দুই হাজারের প্রথম দশক থেকে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং এই সময়ে তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম সংস্কৃতির বিস্তার-বিকাশে বিপুল পরিবর্তন এসেছে। মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ই-মেইল তথ্য জানার এবং জানানোর পথকে সুগম করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উৎকর্ষতা তথ্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং জনগণের তথ্যের অভিগম্যতার পথে  বিশেষ ভূমিকা রাখে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বত্র প্রসার ও যথাযথ ব্যবহার করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মোটকথা দক্ষ যোগ্য দায়িত্বশীল গণমাধ্যম পেশাজীবী তৈরী, গণমাধ্যম শিল্পের যথাযথ বিকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভিতকে শক্তশালী করার মধ্যদিয়ে কাঙ্খিত গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা তথা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত তৈরী খুব জরুরি। সার্বিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিকাশ কাঙ্খিত সেই স্বপ্নের পথ রচনা করতে পারে।

লেখক:উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ।