২৫, এপ্রিল, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৯ শা'বান ১৪৪০

ভোট শেষে যা বললেন বিজিএমইএর সাবেক নেতারা

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ০৬:১৩ পিএম

ভোট শেষে যা বললেন বিজিএমইএর সাবেক নেতারা
ভোট শেষে যা বললেন বিজিএমইএর সাবেক নেতারা

প্রায় ৬ বছর পর বহুল কাঙ্ক্ষিত ভোট হলো তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএতে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের (২০১৯-২১) জন্য নেতা নির্বাচিত করছেন পোশাক মালিকরা। দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পেরে খুশি ভোটাররা। সেই সঙ্গে খুশি সাবেক নেতারাও।

তারা বলছেন, যারাই নির্বাচিত হোক তারা মালিকদের জন্য সর্বোপরি তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়ন এবং বৃদ্ধমান সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন।

শনিবার (৬ এপ্রিল) বিজিএমইএর পুরনো ভবন কারওয়ানবাজারের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজিএমইএ ভবনে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয় আগে থেকেই। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে বিজিএমইএর নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড।

এদিকে বিকেল ৩টায় বিজিএমইএর নির্বাচনের ভোট দিতে আসেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত কমিটির কাছে প্রত্যাশা তারা যেন গার্মেন্ট সেক্টরের যে সমস্যা তা সমাধানে কাজ করেন। বর্তমানে এ খাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে পিছিয়ে পড়া।’

মেয়র বলেন, এখন বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দাম কমে গেছে। আমার প্রত্যাশা নতুন কমিটি দাম বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে। গার্মেন্ট সেক্টরে এমনিতেই উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, তাই পণ্যের দাম না বাড়াতে পারলে চলমান সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যাবে না।

আরেক ভোটার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা জরুরি। কারণ নির্বাচনবিহীন কমিটি হলে সেই কমিটির কোনো কমিটমেন্ট থাকে না। এতে মালিকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।’

তিনি বলেন, একটি নির্বাচিত কমিটি মালিকদের যেভাবে সুযোগ সুবিধা দেয় সিলেক্টেড কমিটি ওই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয় না।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমার মতে ভোটারদের ভোট দেয়ার অধিকার বাস্তবায়ন করা উচিত। এখানে যারা নির্বাচন করছেন তারা ব্যক্তিগতভাবে ও প্যানেলভিত্তিক আলাদা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে গার্মেন্ট সেক্টর আরও এগিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ১৫ এপ্রিল নতুন ভবনে যাচ্ছি। সেখানে নতুন কমিটি নতুন ভাবে কাজ শুরু করবে বলে প্রত্যাশা করি।’

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হওয়ায় আমরা খুশি। আশা করি ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

বিজিএমইএর নির্বাচনী বোর্ডের দায়িত্বে থাকা কমিশনার এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, ‘ভোট আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাররা উৎসবের আমেজে ভোট প্রদান করেছেন। আশা করি, সব কিছু ঠিক থাকলে ভোটগ্রহণ শেষে কম সময়ের মধ্যেই ফলাফল দিতে পারব।’

ভোট দিতে আশা নিজাম উদ্দিন নামের এক গার্মেন্ট মালিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বিজিএমইএর নির্বাচন হচ্ছে। ভোট দিতে এসে ভালোই লাগছে। ব্যস্ততার জন্য অনেকের সঙ্গে দেখা হয় না। ভোট উপলক্ষে সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, প্রতিটি সংগঠনের নির্বাচন হওয়া জরুরি। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমেই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেয়া সম্ভব। যারা আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করবে।

দুই বছর মেয়াদি এ নির্বাচনে পরিচালনা পর্ষদের ৩৫টি পরিচালক পদে ৪৪ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৯ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ২৬ পদে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। এর মধ্যে প্রার্থী সম্মিলিত পরিষদের ও ফোরামের ২৬ জন, স্বাধীনতা পরিষদের ১৮ জন। সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক। তিনি ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সহধর্মিণী।

অন্যদিকে স্বাধীনতা পরিষদের প্যানেল লিডার ডিজাইন অ্যান্ড সোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।