২২, আগস্ট, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


রাজধানীর রাস্তায় ময়লা পরিষ্কার করছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী

রিপোর্টার নামঃ প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক | আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:২৬ এএম

রাজধানীর রাস্তায় ময়লা পরিষ্কার করছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী
রাজধানীর রাস্তায় ময়লা পরিষ্কার করছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী

ঘটনাটি ২০১৬ সালের। ঢাকা শহরজুড়ে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন বসাল সিটি করপোরেশন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেগুলো ব্যবহার করছে না। ডাস্টবিনের জায়গায় ডাস্টবিন থাকছে, ময়লা ফেলছে তার চারপাশে। ফরিদ উদ্দিনকে মানুষের এই অবহেলা, অসচেতনতা খুবই পীড়া দিল। তিনি ভাবলেন, মানুষকে সচেতন করা উচিত। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেললেই শহরটা সুন্দর হয়। উৎকট গন্ধ থেকে বাঁচে পথচলতি মানুষ। পরিচিত কয়েকজনকে ডাকলেন। শাহবাগে বসে সবাই মিলে বুদ্ধি আঁটলেন দলেবলে কী করা যায়। নিজেরাই হাতে তুলে নিলেন ঝাড়ু। শুরু হলো পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।


বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক ফরিদ উদ্দিন ফিরে গেলেন সেদিনটিতে, ‘তারিখটা এখনো মনে আছে, ২০১৬ সালের ২ জুন। আমরা শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত রাস্তার পাশের ময়লা পরিষ্কার করেছিলাম।’ সেদিন ‘পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া ঢাকা ক্লিন সংগঠনটিই এখনকার বিডি ক্লিন।


৩৮ বছর বয়সী ফরিদ উদ্দিনের পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। এখন একটি অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ২৮ জানুয়ারি রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে তাঁর সঙ্গে আলাপ। পরে যোগ দিয়েছিলেন আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক।


চায়ে চুমুক দিয়েই ফরিদ উদ্দিন বললেন, ‘পথ চলতে অনেক অসংগতিই চোখে পড়ে। ছোটবেলা থেকে পরিচ্ছন্ন থাকার বিষয়টি আমি মেনে চলতাম। নিজের ঘরে যখন ময়লা সতর্কতার সঙ্গে ফেলি, কেন তাহলে পথে ময়লা ফেলব? যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ছুড়ে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার এই অভ্যাস তৈরির জন্যই আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।’


এ জন্য তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হন। সেখানকার ময়লা পরিষ্কার করেন। হাতমাইকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এই সচেতনতার কাজটি রাজধানী ছাড়াও সংগঠনটি বিডি ক্লিন-বরিশাল, বিডি ক্লিন-ময়মনসিংহ, বিডি ক্লিন-খুলনা, বিডি ক্লিন-গোপালগঞ্জ, বিডি ক্লিন-ফেনী, বিডি ক্লিন-নোয়াখালী, বিডি ক্লিন-টাঙ্গাইল, বিডি ক্লিন-চিটাগাং, বিডি ক্লিন-সিলেট নামে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে চলেছে। তাঁরা চেষ্টা করছেন দেশের সব কটি জেলায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে। ফরিদ উদ্দিন বললেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে প্রায় সাত হাজার স্বেচ্ছাসেবী সারা দেশে যুক্ত আছেন। পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।’


এই কাজটি তাঁরা নিজেদের খরচেই করেন। শুরুতে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য যে অর্থ ব্যয় হতো, সেটা ফরিদ উদ্দিন নিজেই বহন করতেন। এখন অনেক স্বেচ্ছাসেবী এগিয়ে এসেছেন। কেউ হয়তো ১০০ টি-শার্ট বানিয়ে দিচ্ছেন, কেউবা আনছেন ঝাড়ু। এভাবেই চলেছে এগিয়ে পরিচ্ছন্নতা যাত্রা।


রাজধানীর রাস্তায় ময়লা পরিষ্কার করছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী

প্রতিবেদক নাম: প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:২৬ এএম

ঘটনাটি ২০১৬ সালের। ঢাকা শহরজুড়ে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন বসাল সিটি করপোরেশন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেগুলো ব্যবহার করছে না। ডাস্টবিনের জায়গায় ডাস্টবিন থাকছে, ময়লা ফেলছে তার চারপাশে। ফরিদ উদ্দিনকে মানুষের এই অবহেলা, অসচেতনতা খুবই পীড়া দিল। তিনি ভাবলেন, মানুষকে সচেতন করা উচিত। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেললেই শহরটা সুন্দর হয়। উৎকট গন্ধ থেকে বাঁচে পথচলতি মানুষ। পরিচিত কয়েকজনকে ডাকলেন। শাহবাগে বসে সবাই মিলে বুদ্ধি আঁটলেন দলেবলে কী করা যায়। নিজেরাই হাতে তুলে নিলেন ঝাড়ু। শুরু হলো পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।


বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক ফরিদ উদ্দিন ফিরে গেলেন সেদিনটিতে, ‘তারিখটা এখনো মনে আছে, ২০১৬ সালের ২ জুন। আমরা শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত রাস্তার পাশের ময়লা পরিষ্কার করেছিলাম।’ সেদিন ‘পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া ঢাকা ক্লিন সংগঠনটিই এখনকার বিডি ক্লিন।


৩৮ বছর বয়সী ফরিদ উদ্দিনের পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। এখন একটি অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ২৮ জানুয়ারি রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে তাঁর সঙ্গে আলাপ। পরে যোগ দিয়েছিলেন আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক।


চায়ে চুমুক দিয়েই ফরিদ উদ্দিন বললেন, ‘পথ চলতে অনেক অসংগতিই চোখে পড়ে। ছোটবেলা থেকে পরিচ্ছন্ন থাকার বিষয়টি আমি মেনে চলতাম। নিজের ঘরে যখন ময়লা সতর্কতার সঙ্গে ফেলি, কেন তাহলে পথে ময়লা ফেলব? যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ছুড়ে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার এই অভ্যাস তৈরির জন্যই আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।’


এ জন্য তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো হন। সেখানকার ময়লা পরিষ্কার করেন। হাতমাইকে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এই সচেতনতার কাজটি রাজধানী ছাড়াও সংগঠনটি বিডি ক্লিন-বরিশাল, বিডি ক্লিন-ময়মনসিংহ, বিডি ক্লিন-খুলনা, বিডি ক্লিন-গোপালগঞ্জ, বিডি ক্লিন-ফেনী, বিডি ক্লিন-নোয়াখালী, বিডি ক্লিন-টাঙ্গাইল, বিডি ক্লিন-চিটাগাং, বিডি ক্লিন-সিলেট নামে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে চলেছে। তাঁরা চেষ্টা করছেন দেশের সব কটি জেলায় স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে। ফরিদ উদ্দিন বললেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে প্রায় সাত হাজার স্বেচ্ছাসেবী সারা দেশে যুক্ত আছেন। পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।’


এই কাজটি তাঁরা নিজেদের খরচেই করেন। শুরুতে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য যে অর্থ ব্যয় হতো, সেটা ফরিদ উদ্দিন নিজেই বহন করতেন। এখন অনেক স্বেচ্ছাসেবী এগিয়ে এসেছেন। কেউ হয়তো ১০০ টি-শার্ট বানিয়ে দিচ্ছেন, কেউবা আনছেন ঝাড়ু। এভাবেই চলেছে এগিয়ে পরিচ্ছন্নতা যাত্রা।