২২, আগস্ট, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের জন্য

রিপোর্টার নামঃ প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক | আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:২২ এএম

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের জন্য
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের জন্য

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর পেরোনোর সময় তাঁদের সঙ্গে দেখা। ২৫-৩০ জনের একটি দল। সবাই তরুণ। কেউ চত্বর ঝাড়ু দিচ্ছেন, কেউবা জমানো ময়লা ব্যাগে ভরছেন। ময়লার ব্যাগ সরিয়ে নেওয়ার কাজও করছেন কয়েকজন। বিশেষ কোনো আয়োজন নয়, নয় কোনো বিশেষ দিন। সে জন্যই পরিচ্ছন্নতার কাজ দেখে একটু খটকা লাগল।


তবে শহীদ মিনার চত্বরের পাশ দিয়ে নিয়মিত যাঁদের যাতায়াত কিংবা এই এলাকায় থাকেন, তাঁদের কাছে দৃশ্যটি চোখ সওয়া। কারণ, তরুণদের দলটি প্রতিদিন বিকেলে সময় মেনে শহীদ মিনার চত্বর পরিষ্কার করে। ২৮ জানুয়ারি কথা হলো তাঁদেরই কয়েকজনের সঙ্গে। জানা গেল, তাঁরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের সদস্য। তাঁরা শুধু শহীদ মিনার চত্বরই নয়, পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন সারা দেশেই। তাঁদেরই একজন ছন্দা মন্ডল বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করি। ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ।’


ছন্দা মন্ডল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। শহীদ মিনার পরিচ্ছন্ন রাখার কাজটি তাঁরা ২০১৭ সালের ২২ মে থেকে নিয়মিত করে আসছেন। স্বেচ্ছাসেবকদের আরেকজন কাজী হাসান আল মাহমুদ বললেন, ‘দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেকে শহীদ মিনারে আসেন। কিন্তু এখানকার পরিবেশ থাকত অপরিচ্ছন্ন। তাই আমরা স্বেচ্ছায় শহীদ মিনারকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কাজ করি।’ কাজী হাসান একজন চাকরিজীবী।


ছন্দা আর হাসানের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমরা শহীদ মিনারের সামনে রাস্তার পাশে চলে আসি। সেখানে ময়লা কুড়িয়ে একটা ঠোঙায় ভরছেন শাম্মী আক্তার। ইডেন মহিলা কলেজে পড়েন তিনি। বলছিলেন, ‘শুধু সচেতনতার অভাবে আমরা জুতা নিয়ে বেদিতে উঠি। ময়লা ফেলি যত্রতত্র। নিজে সচেতন থাকা এবং আরেকজন মানুষকে সচেতন করা আমার কর্তব্য। আমি আমার কর্তব্যটুকু করছি।’

ঘটনাটি ২০১৬ সালের। ঢাকা শহরজুড়ে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন বসাল সিটি করপোরেশন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেগুলো ব্যবহার করছে না। ডাস্টবিনের জায়গায় ডাস্টবিন থাকছে, ময়লা ফেলছে তার চারপাশে। ফরিদ উদ্দিনকে মানুষের এই অবহেলা, অসচেতনতা খুবই পীড়া দিল। তিনি ভাবলেন, মানুষকে সচেতন করা উচিত। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেললেই শহরটা সুন্দর হয়। উৎকট গন্ধ থেকে বাঁচে পথচলতি মানুষ। পরিচিত কয়েকজনকে ডাকলেন। শাহবাগে বসে সবাই মিলে বুদ্ধি আঁটলেন দলেবলে কী করা যায়। নিজেরাই হাতে তুলে নিলেন ঝাড়ু। শুরু হলো পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।


বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক ফরিদ উদ্দিন ফিরে গেলেন সেদিনটিতে, ‘তারিখটা এখনো মনে আছে, ২০১৬ সালের ২ জুন। আমরা শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত রাস্তার পাশের ময়লা পরিষ্কার করেছিলাম।’ সেদিন ‘পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া ঢাকা ক্লিন সংগঠনটিই এখনকার বিডি ক্লিন।

৩৮ বছর বয়সী ফরিদ উদ্দিনের পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। এখন একটি অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ২৮ জানুয়ারি রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে তাঁর সঙ্গে আলাপ। পরে যোগ দিয়েছিলেন আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক।

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের জন্য

প্রতিবেদক নাম: প্রতিদিনের কাগজ ডেস্ক ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:২২ এএম

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর পেরোনোর সময় তাঁদের সঙ্গে দেখা। ২৫-৩০ জনের একটি দল। সবাই তরুণ। কেউ চত্বর ঝাড়ু দিচ্ছেন, কেউবা জমানো ময়লা ব্যাগে ভরছেন। ময়লার ব্যাগ সরিয়ে নেওয়ার কাজও করছেন কয়েকজন। বিশেষ কোনো আয়োজন নয়, নয় কোনো বিশেষ দিন। সে জন্যই পরিচ্ছন্নতার কাজ দেখে একটু খটকা লাগল।


তবে শহীদ মিনার চত্বরের পাশ দিয়ে নিয়মিত যাঁদের যাতায়াত কিংবা এই এলাকায় থাকেন, তাঁদের কাছে দৃশ্যটি চোখ সওয়া। কারণ, তরুণদের দলটি প্রতিদিন বিকেলে সময় মেনে শহীদ মিনার চত্বর পরিষ্কার করে। ২৮ জানুয়ারি কথা হলো তাঁদেরই কয়েকজনের সঙ্গে। জানা গেল, তাঁরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের সদস্য। তাঁরা শুধু শহীদ মিনার চত্বরই নয়, পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন সারা দেশেই। তাঁদেরই একজন ছন্দা মন্ডল বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করি। ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ।’


ছন্দা মন্ডল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী। শহীদ মিনার পরিচ্ছন্ন রাখার কাজটি তাঁরা ২০১৭ সালের ২২ মে থেকে নিয়মিত করে আসছেন। স্বেচ্ছাসেবকদের আরেকজন কাজী হাসান আল মাহমুদ বললেন, ‘দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেকে শহীদ মিনারে আসেন। কিন্তু এখানকার পরিবেশ থাকত অপরিচ্ছন্ন। তাই আমরা স্বেচ্ছায় শহীদ মিনারকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কাজ করি।’ কাজী হাসান একজন চাকরিজীবী।


ছন্দা আর হাসানের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমরা শহীদ মিনারের সামনে রাস্তার পাশে চলে আসি। সেখানে ময়লা কুড়িয়ে একটা ঠোঙায় ভরছেন শাম্মী আক্তার। ইডেন মহিলা কলেজে পড়েন তিনি। বলছিলেন, ‘শুধু সচেতনতার অভাবে আমরা জুতা নিয়ে বেদিতে উঠি। ময়লা ফেলি যত্রতত্র। নিজে সচেতন থাকা এবং আরেকজন মানুষকে সচেতন করা আমার কর্তব্য। আমি আমার কর্তব্যটুকু করছি।’

ঘটনাটি ২০১৬ সালের। ঢাকা শহরজুড়ে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন বসাল সিটি করপোরেশন। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেগুলো ব্যবহার করছে না। ডাস্টবিনের জায়গায় ডাস্টবিন থাকছে, ময়লা ফেলছে তার চারপাশে। ফরিদ উদ্দিনকে মানুষের এই অবহেলা, অসচেতনতা খুবই পীড়া দিল। তিনি ভাবলেন, মানুষকে সচেতন করা উচিত। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেললেই শহরটা সুন্দর হয়। উৎকট গন্ধ থেকে বাঁচে পথচলতি মানুষ। পরিচিত কয়েকজনকে ডাকলেন। শাহবাগে বসে সবাই মিলে বুদ্ধি আঁটলেন দলেবলে কী করা যায়। নিজেরাই হাতে তুলে নিলেন ঝাড়ু। শুরু হলো পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।


বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক ফরিদ উদ্দিন ফিরে গেলেন সেদিনটিতে, ‘তারিখটা এখনো মনে আছে, ২০১৬ সালের ২ জুন। আমরা শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত রাস্তার পাশের ময়লা পরিষ্কার করেছিলাম।’ সেদিন ‘পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে’ স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া ঢাকা ক্লিন সংগঠনটিই এখনকার বিডি ক্লিন।

৩৮ বছর বয়সী ফরিদ উদ্দিনের পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। এখন একটি অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ২৮ জানুয়ারি রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে তাঁর সঙ্গে আলাপ। পরে যোগ দিয়েছিলেন আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক।