২৫, এপ্রিল, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৯ শা'বান ১৪৪০

অসহায় মুসল্লিদের কান্না কেউ শোনেন না

হজে পাঠাতে প্রতারণা

রিপোর্টার নামঃ ধর্ম ডেস্ক: | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৯, ০৪:০২ পিএম

অসহায় মুসল্লিদের কান্না কেউ শোনেন না
অসহায় মুসল্লিদের কান্না কেউ শোনেন না

হজে যেতে রাজধানীতে এসে প্রতি বছরই অনেক মুসল্লি প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হাতে বাড়ি ফেরেন। এসব মুসল্লিদের কান্না কেউ শোনেন না। হজ ক্যাম্প থেকে অসহায়ের মত বের হয়ে প্রতারকদের অফিসে কয়েকদিন ধর্ণা দিয়ে শরণাপন্ন হন থানা পুলিশের। সেখানেও অর্থ আর প্রতারণার বিচার না পেয়ে বুক চাপড়ে বাড়ি ফেরেন খালি হাতে। বিচার দেন আল্লাহর কাছে। 

দেশের অনেক সাধারণ মানুষ তার কর্মজীবনে আয়ের একটি অংশ জমানো শুরু করেন পবিত্র হজ পালনে মক্কা শরিফে যাওয়ার লক্ষে। এক সময় এই অর্থের অংক বড় হয়। জীবনের পরন্ত বেলায় সেই জমানো অর্থ নিয়ে ছুটে আসেন রাজধানীতে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে কোনো একটি হজ এজেন্সির হাতে তুলে দেন তিল তিল করে জমানো অর্থ। আশায় বুক বাধেন, হজ করবেন, মক্কার কাবা ঘরটি স্পর্শ করবেন। ওঠেন উত্তরার হজ ক্যাম্পে। 

এরই মাঝে অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। পাসপোর্ট, ভিসা, বিমানের টিকিট আর আসে না। বুঝতে পারেন কোনো প্রতারকের হাতে পড়েছেন তারা। অশ্রুসিক্ত নয়নে তখন শুধুই অন্ধকার আর অন্ধকার। এরপর যা হবার তাই... । 

হজ ক্যাম্প থেকে ফিরে প্রতারকদের খুঁজে ফেরেন। অফিসে কয়েকদিন ধর্ণা দিয়ে শরণাপন্ন হন থানা পুলিশের। সেখানেও হতাশ হন। অর্থ আর প্রতরণার বিচার না পেয়ে অবশেষে বুক চাপড়ে দেশে ফেরেন শুণ্য হাতে। বিচার দেন আল্লাহর কাছে। এমন সব ঘটনা নির্দিষ্ট কোনো একটি বছরের নয়। প্রতি বছরই অন্তত শতাধিক মুসল্লি হজ এজেন্সির কাছে প্রতারিত হন। এসব অসহায় মানুষের জীবনের শেষ ইচ্ছাটুকু ভুলুন্ঠিত হয় প্রতারকদের দৌরাত্মে। এজেন্সিগুলোকে দেয়া অর্থ আর ফেরত পাওয়া যায় না।

হজে পাঠানোর নামে  প্রতারণার অপরাধে গত বছর ২১টি এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এ বিষয়ে ঐ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। শুধু কারণ দর্শানোর নেটিশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ দৈনিক জাগরণকে বলেন, ‘আগে কী হয়েছে না হয়েছে, তার জবাব তো আর আমি দিতে পারবো না। তবে এটা জেনে রাখেন, আর কোনো মুসল্লি প্রতারিত হবেন না। প্রতারিত হবেন তো হজ এজেন্সি থাকবে না। এটা আমার সাফ কথা।’ 

এ বিষয়ে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম দৈনিক জাগরণকে বলেন, ‘প্রতারণা তো আর একটি পক্ষের দ্বারা হয় না। এর সঙ্গে সরকারের অসহযোগিতাও থাকে। তবে এ বিষয়ে সচ্ছতা আনতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’