১৯, মে, ২০১৯, রোববার | | ১৪ রমজান ১৪৪০

শিক্ষার মান ফিরিয়ে না আনলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৯, ০৪:৩২ পিএম

শিক্ষার মান ফিরিয়ে না আনলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার মান ফিরিয়ে না আনলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সব শিক্ষকদের মানবিকতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এসময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার মান ফিরিয়ে না আনলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার দুপুরের দিকে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস আশুলিয়ায় ৮ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘জয়-পরাজয় ভুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা সৌহার্দের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পাশাপাশি নির্বাচিতরা গণতন্ত্রের মূল্যবোধের চর্চা করবেন বলে আমি আশাবাদী।’

দীপু মনি বলেন, ‘২৮ বছর পরে হলেও ডাকসু নির্বাচন হওয়ায় আমরা আনন্দিত। আর ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গণতন্ত্রের চর্চা দেখতে পাবো। এমন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্কুল বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে চাই।’

‘ডাকসু নির্বাচন একটি হল ছাড়া সবগুলো হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে হলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সেটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ও তদন্তের পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে উচ্চ শিক্ষিত বেকারের হার ভীতিকরভাবে বাড়ছে। এ অবস্থা মোবাবেলার জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন থাইল্যান্ডের সিয়াম ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. পর্নচাই মঙ্গখোনভানিত।

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে পর্নচাই বলেন, ‘পৃথিবীতে বেকারত্ব সমস্যা দিনদিন প্রকট হচ্ছে। তুমি যত উচ্চ শিক্ষিত হবে, তোমার বেকার হওয়ার আশঙ্কা তত বেশি। উচ্চ শিক্ষিতরাই বেশি বেকার হয়ে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক এ পৃথিবীর মোকাবেলা করতে প্রধান অস্ত্র হবে জ্ঞান, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনী, তীক্ষ্ণতা এবং একটি স্মার্ট কর্মপরিকল্পনা।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদের উদ্যোক্তা হতে হবে। যদি উদ্যোক্ত হও তাহলে অনেক বেকারের কর্মস্থান করতে পারবে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করেই তোমাদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তোমরা নিশ্চয় কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে, জীবনে সাফল্যের উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠিত হবে, কিন্ত কখনোই তোমার দেশ, জাতি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান এবং মানব জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার কথা ভুলে যেও না। আমি বিশ্বাস করি তোমরা পরবর্তী প্রজন্মের পথ মসৃণ করার জন্য মানবিক স্বপ্ন দেখবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করবে।’

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে মোট ৫ হাজার ৬৩১ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। তার মধ্যে ১৫৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়াও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ১৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন। তার মধ্যে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক ছয়জন, চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পদক চারজন এবং সাতজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান, উপাচার্য ইউসুফ মাহাবুবুল।