১৯, মে, ২০১৯, রোববার | | ১৪ রমজান ১৪৪০

মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে, আসছে নতুন মুখ!

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ১০ মার্চ ২০১৯, ০৬:৪৬ পিএম

মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে, আসছে নতুন মুখ!
মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে, আসছে নতুন মুখ!

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এই সরকারের তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ হওয়ার আলোচনা চলছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় যোগ হতে পারে আরো নতুন মুখ। চমকের মন্ত্রিসভায় জনপ্রিয় ও নতুনদের দ্বিতীয় দফায় যোগ করে চমক দিতে চায় সরকার। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র এসব তথ্য জানায়।

মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ‘মন্ত্রিসভায় আরো আসছে নতুন মুখ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় সম্প্রসারণে অন্তত চার থেকে পাঁচজন যোগ হতে পারেন।

শনিবার (৯ মার্চ) সূত্রটি জানায়, এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকেই কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে এই সংখ্যা দশের বেশি হবে না। সেখানেও নতুনদের প্রাধান্য থাকবে বলে সূত্র উল্লেখ করে।

সূত্র মতে, চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার (১১ মার্চ) সংসদের অধিবেশন শেষ হচ্ছে। কোনো কারণে মার্চ মাসে নতুন মুখ যোগ না হলে আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশের আগে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ হবে, এমন কথাও বলছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। তবে চলতি মাসে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করার বিষয়টি নিয়েই বেশি আলোচনা চলছে।

মন্ত্রিসভায় নতুন করে কারা যোগ হতে পারেন- এ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, দলটির নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও ১৪-দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। নতুনরা কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন- এমন বিশ্লেষণ ও হিসাব-নিকাশও চলছে। আগের সরকারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করা ও নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়া কারো নতুন করে মন্ত্রিসভায় যোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, এমন আলোচনাও চলছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গত কয়েক দিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মন্ত্রিসভায় নতুন করে কারা স্থান পাচ্ছেন। তবে মন্ত্রিসভায় নতুন কারা স্থান পাচ্ছেন, তা একান্তই দলের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যাদের চাইবেন, তাদেরই জায়গা হবে নতুন করে। প্রধানমন্ত্রী ও তার দফতরই নির্ধারণ করবে কখন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ নেওয়া হবে। সংবিধানই প্রধানমন্ত্রীর এ ক্ষমতা নিশ্চিত করে।

আগের সরকারে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন আর একাদশ সংসদে যারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে ইতোমধ্যে দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের মধ্যে কারো মন্ত্রিসভায় নতুন করে যোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগের সরকারে মন্ত্রিসভায় যারা ছিলেন না, তাদের মধ্যে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পেয়ে থাকলেও চার-পাঁচজন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। জোটের শরিক দলের কেউ দ্বিতীয় দফায় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নও অনেকের। প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৭ সদস্যের বর্তমান মন্ত্রিসভার সবাই আওয়ামী লীগের। শরিক দলের কাউকে এবার মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। দ্বিতীয় দফায়ও ১৪ দলের কারো মন্ত্রিসভায় যোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

মার্চে মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্য যোগ হলেও নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত ক্রিকেটের বরপুত্র ও ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি শপথ নিয়ে মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন, এমনটিই ভাবা হচ্ছে। এখন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পেলে আসন্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলায় কোনো প্রভাব পড়ে কি না, সেজন্যই এমনটি ভাবা হচ্ছে। চলতি বছরের ৩০ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। মাশরাফির সঙ্গে ১৪ দলের কারো কারো মন্ত্রিসভায় যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্ত্রিসভায় যাদের নাম নতুন করে যোগ হতে পারে, তাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। তিনি কিশোরগঞ্জ-১ সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত। গত ৩ জানুয়ারি সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। সৈয়দা লিপিকে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে আপাতত থাকছে ছয়টি মন্ত্রণালয়। এগুলোর মধ্যে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও আছে।

সূত্র মতে, মন্ত্রিসভায় যোগ হওয়ার বিষয়ে জোর প্রচারণায় আছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ থেকে নির্বাচিত দলের কেন্দ্রীয় নেতা র আ ম উবায়দুল মুকতাদির চৌধুরীর নাম। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আসছেন- এমন আলোচনায় দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ছয়জন নেতা বিশেষভাবে এগিয়ে আছেন। তারা হলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মেসবাহ উদ্দিন ও বাহাউদ্দিন নাছিম। তাদেরকে সম্মানিত করা হবে বলে ইতোমধ্যে দলের এক যৌথসভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই জানান।

দলীয় প্রধানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দলের নীতিনির্ধারকরা ধরে নেন ওই ছয়জনের মধ্যে ‘টেকনোক্র্যাট কোটায়’ এক বা একাধিক জন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন। মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পেলে তারা দলের আরো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন। চলতি বছরই শেষ হচ্ছে আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ। আগামী ২৩ অক্টোবর দলটির তিন বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ শেষ হবে। তখন জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তাদেরকে দলের শীর্ষ পদের দায়িত্ব দিয়ে চমক দেখাতে পারে আওয়ামী লীগ।