২৪, মার্চ, ২০১৯, রোববার | | ১৭ রজব ১৪৪০

৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা!

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:১৩ পিএম

৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা!
৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা!

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্প্রসারিত ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন চলছে গণনা। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে।

সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল ভোটারশূন্য। সকালে বৃষ্টি থাকার কারণে ভোটার কম বলে প্রার্থীরা দাবি করলেও রোদ ওঠার পরেও কেন্দ্রগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা ছিল। তবে যেসব এলকায় কাউন্সিলর নির্বাচন ছিল, সেসব এলাকায় ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে, নির্বাচনও হয়েছে সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশে।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নিজেও একথা স্বীকার করেছেন। সকালে তিনি হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যাণ্ড কলেজে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ কেন্দ্রে তুলনামূলকভাবে ভোটার কম। এখানে শুধু মেয়রের ভোট রয়েছে। যেসব এলাকায় কাউন্সিলরদের ভোট রয়েছে, তাতে উপস্থিতি ভালো হবে।’

জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাফিন আহমেদ বলেন, জাতীয়সহ বেশ কয়েকটি নির্বাচনে অনিয়ম হওয়ায় ভোটাররা সিটি নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

মানারত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে নিজের ভোট দিয়ে বেরিয়ে শাফিন আহমেদ বলেন, কম ভোটার মানে নির্বাচনে মানুষের আস্থা কম। ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষনীয়ভাবে কম। গত নির্বাচনগুলোতে অনিয়ম হওয়ায় ভোটাররা ভোট দেওয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কিংবা হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমি সাড়ে ১২টায় ভোট দিয়েছি। তবে, এই কেন্দ্রে কোনো অনিয়ম দেখিনি।

তিনি আরো বলেন, আমি অনেকগুলো কেন্দ্র ঘুরেছি। অনিয়ম পেয়েছি। প্রমাণও পেয়েছি। সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে বিকেলে বলব। তবে কেন্দ্রে তার এজেন্টরা না থাকার বিষয়ে তিনি এড়িয়ে যান।

এদিকে, কেবল মেয়র নির্বাচন হচ্ছে এমন কেন্দ্রে ভোটার না থাকা নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে ভোটার না আসার দায় নির্বাচন কমিশনের নয়, রাজ‌নৈ‌তিক দলগু‌লোর এবং প্রার্থীদের।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করে দেই। রাজনৈতিক দলগুলো কিংবা প্রার্থীদের ভোটার নিয়ে আসতে হয়। আমরা বলে দেই পরিবেশ সুষ্ঠু আছে, সবকিছু নিরাপদ আছে এবং সবাই ভোট দিতে আসতে পারে।’

এদিকে বুধবার থেকে রাজধানীতে বৃষ্টি থাকায় ভোটার কম বলা হলেও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর নগরীতে রোদ ছিল, কিন্তু কেন্দ্রগুলোতে তেমন ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। সরেজমিনে মিরপুর, উত্তরা ও বনশ্রীর বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে পুরোকেন্দ্র খালি।

এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুলে দুপুর দেড়টার দিকে দেখা গেছে, সেখানে একজন ভোটারও নেই। রোদে ঝলমল স্কুলমাঠ লোকজন শূন্য। এই কলেজে ভোট কেন্দ্র চারটি। দুপুর দুটা পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোট পড়েছে একশোর কম। ভোটারের উপস্থিতি কম থাকায় গল্প করে সময় কাটছে নির্বাচনি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মেয়র নির্বাচনে ভোটার শূন্য কেন্দ্রের খবর এলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্ধিত অংশগুলোতে ভোটকেন্দ্রগুলোর চেহারা ছিল একেবারেই ভিন্ন। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। মূলত, এসব এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থী থাকায় নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর জন্য ভোট দিতে আসছেন তারা। দুই সিটি করপোরেশনের বর্ধিত ৩৬টি ওয়ার্ডের চিত্র ছিল এমনই। এসব কেন্দ্রগুলো উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার। ওই এলাকার চারটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, কাউন্সিলরের কর্মী-সমর্থকরা নির্বিঘ্নে কাজ করছেন। তাদের পরস্পর সহাবস্থানের মধ্যদিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও ভোটারের সংখ্যা কিছুটা কম। তবে মেয়র নির্বাচনের কেন্দ্রগুলোর চেয়ে এখানে উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। উত্তরা আনোয়ারা মডেল ইউনিভার্সিটি কলেজের মহিলা কেন্দ্রে ছয়টি বুথ। মোট ভোটার ২৭১৩। এখানে সব দলের এজেন্ট ছিল। কাউন্সিলরদের এজেন্টদেরও দেখা গেছে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দেবাশীষ কর্মকার বলেন, ‘এই কেন্দ্রে সব এজেন্ট আছে। এখন পর্যন্ত ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট গ্রহণ সম্ভব হয়েছে।’

এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদের উপনির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে প্রধান বিরোধী দলগুলো অংশ না নেওয়ায় এটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নয়।’ বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে তাতে ভোটারদের ভোট দিতে যেতে উৎসাহ দেখা যায় না।’

বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের নির্বাচন বর্জনে এমনিতেই এ উপ-নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ কম। তার মধ্যে সকালের বৃষ্টির কারণে ভোটের প্রথম ঘণ্টায় কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম।

ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ৩৮২ জন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৫ জন। দুই সিটিতে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিল পদে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৩১০ জন। উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ৬টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিল পদে প্রার্থীর সংখ্যা ৬৯ জন।

এর মধ্যে ডিএনসিসির ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১১৬ জন, সমসংখ্যক ওয়ার্ডে ডিএসসিসি’র সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ১২৫ জন। অন্যদিকে ডিএনসিসি’র ৬টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ৪৫ জন এবং ডিএসসিসিতে ২৪ জন।

এই নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও কাউন্সিলর পদে দলীয় স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন হয়। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

ডিএনসিসি উপনির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টি থেকে শাফিন আহমেদ, বাঘ প্রতীক নিয়ে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) থেকে শাহিন খান, আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির(এনপিপি) আনিসুর রহমান দেওয়ান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নর্থ সাউথ প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিমের প্রতীক টেবিল ঘড়ি।