১৯, ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০

পূর্বধলায় নৌকার বিরোধীতাকারীরা নৌকা প্রতীক পেলে নৌকায় ভোট নয়

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রির্পোটার | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:২২ পিএম

পূর্বধলায় নৌকার বিরোধীতাকারীরা নৌকা প্রতীক পেলে নৌকায় ভোট নয়
পূর্বধলায় নৌকার বিরোধীতাকারীরা নৌকা প্রতীক পেলে নৌকায় ভোট নয়

নেত্রকোণার পূর্বধলায় বিগত নির্বাচন গুলোতে যারা নৌকার বিরোধীতা করে নৌকা প্রতীককে পরাজিত করেছিল তারা নৌকা পেলে নৌকায় ভোট নয় বলে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। 

আর এমন একজনের মাঝে যিনি নেতৃত্বে ছিলেন তার পুরো নাম জাহিদুল ইসলাম সুজন। বর্তমানে পূর্বধলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে তার ক্ষমতার চাবুকের আঘাতে পূর্বধলার সাধারন মানুষকে নির্যাতন নিপীড়ন করে ঘুছিয়ে নিয়েছে নিজের আখের বলে জানান ভুক্তভোগী অনেকে।  

জানা যায়, সুজন স্থানীয় সাংসদ ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের দু:সম্পর্কে ভাগ্নে। মামার সাংসদের মাধ্যমেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সুজন। পিতার নাম মো. আতাউর রহমান। বেশ কিছুদিন আগে অভাবের তাড়নায়, নিজ এলাকা নেত্রকোনার, কলমাকান্দা উপজেলার বাসাটি গ্রাম ছেড়ে কাজলা গ্রামে মামার বাড়ীতে এসে আশ্রয় নেয় সুজন ও তার পরিবারের সদস্যরা। এসময় কাজলা ১৪ আনি এলাকায় দুচালা টিনের ঘরে বসবাস ছিল তাদের। এর আগে দাদার জমি বাড়ী ভিটা থাকলেও তার বাবা আতাউর রহমান জুয়া খেলে নেশা করে সমস্ত কিছু বিক্রি করে পারি জমান কাজলা গ্রামে। অভাব অনটনের সংসারে অন্যের কাজ করে সংসার চালাতো সুজন। ভাগ্য চক্রে মামা সাংসদ বেলালের করুনায় নেমে আসেন রাজনীতিতে। পর্যায়ক্রমে সময়ের পালা বদলে মামার সহযোগিতায় চলে আসেন উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃত্বে। এমনকি সাংসদ মামার বলয়ে হয়ে উঠেন উপজেলা চেয়ারম্যান। শুরু হলো নতুন অধ্যায়ের। মামার চোখে ধুলো দিয়ে নিজের আখের গোচাতে ব্যাস্ত সুজন। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। অল্প সময়ে তার সকল অপকর্ম নজর কাড়েন সাংসদের। শুরু হয় নতুন অধ্যায়ের। গ্রুপিং রাজনীতির কারনে সাংসদ মামাকে ছেড়ে চলে যান দলটির অন্য আরেকটি গ্রুপে যার নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীরীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। তিনি আবারও স্বপ্ন দেখছেন উপজেলা চেয়ারম্যান হবেন। তা এবার মামার বদৌলতে নয়, কেন্দ্রীয় নেতা আহমদ হোসেন এর বদৌলতে। একেই বলে রাজনীতিতে মুনাফেকি। দুইদিন আগেও যিনি আহমদ হোসেনকে রাস্তায় দাড়িয়ে গালি গালাজ করত সেই সুজনই আবার তার ছত্রছায়ায় দলীয় মনোনয়ন পাবার আশায় রয়েছেন প্রথম সারিতে। যে সুজন বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পরাজিত করার জন্য উঠে পরে লেগেছিল সেই কিনা আবার নৌকার মাঝি হওয়ার জন্য বেশ সুবিধা জনক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান স্থানীয় নেতা কর্মী অনেকে। এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকার সুবাদে ক্ষমতা ও অর্থ ব্যয় করে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন প্রার্থীকে পরাজিত করেন তিনি। নির্বাচন কালীন সময়ে একদিন রাতের বেলায় নৌকার কর্মীদের ধাওয়ার স্বীকারও হন এই সুজন। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস তিনিই না কি আবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক পাচ্ছেন এমন খবর এলাকায় শুনতে পেয়ে দলের দীর্ঘদিনের অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী হতাশার সুরে বলেন, এই যদি হয় বর্তমান সময়ের আওয়ামীলীগ তাহলে এই আওয়ামীলীগ করার কোন প্রয়োজন আমাদের নেই। 

আমাদের প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে জাহিদুল ইসলাম সুজন একদিন জানিয়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা আহমদ হোসেন কোয়ালিটি বিহীন নেতা। উনার মত নেতার গ্রুপ করার চেয়ে হাতে চুরি লাগিয়ে ঘরে বসে থাকা অনেক ভাল। আর আমি উনার গ্রুপ করতে যাব কেন! উনিই একদিন আমার গ্রুপ করবেন। কারন উনার আগে আমি দলীয় মনোনয়ন (নৌকা) পাব।