২৪, এপ্রিল, ২০১৯, বুধবার | | ১৮ শা'বান ১৪৪০

সাত মাসে ২ হাজার ৪১৮ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭:১৪ পিএম

সাত মাসে ২ হাজার ৪১৮ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি
সাত মাসে ২ হাজার ৪১৮ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি

চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) বাংলাদেশ থেকে ২ হাজার ৪১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। গতকাল রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশের রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। গত মাসে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৬৭ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রফতানি হয়েছিল ৩৪০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য।

অর্থবছরের প্রথম সাত মাস শেষে রফতানি খাতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এ সময়ে ২ হাজার ৪১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৩২ কোটি ৪৯ লাখ ডলার।

প্রাথমিক ও উৎপাদিত পণ্য— এ দুই ভাগে রফতানির মোট পরিমাণ প্রকাশ করে ইপিবি। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে উৎপাদিত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর প্রাথমিক পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

প্রাথমিক পণ্যের মধ্যে রয়েছে তাজা ও হিমায়িত মাছ এবং কৃষিজাত পণ্য। গত সাত মাসে তাজা ও হিমায়িত মাছের রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৬ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য। এছাড়া সাত মাসে কৃষিজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৬১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্লাস্টিক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, আসবাব ও প্রকৌশল পণ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে তৈরি পোশাক খাতে। সাত মাসে পণ্যটির রফতানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। এর মধ্যে ওভেন পণ্যের রফতানি ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ ও নিট পণ্যের রফতানি ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে।

আলোচ্য সময়ে প্লাস্টিক খাতের রফতানি বেড়েছে ১৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। প্রকৌশল পণ্যের রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তবে রফতানি কমেছে চামড়া ও চামড়াজাত এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের। গতবারের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি কমেছে ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমেছে ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

রফতানিকারকরা বলছেন, রফতানির খাতগুলো এখনো বহুমুখী হয়ে উঠতে না পারায় মোট রফতানির ৮৩ শতাংশের উৎস এখনো তৈরি পোশাক। এ খাতের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি ও রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রফতানি খাতকে টেকসই করতে পণ্য ও বাজারে বৈচিত্র্য আনার কোনো বিকল্প নেই। সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে পোশাক খাতের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। বর্তমানে বহুমুখী শিল্পায়ন নিশ্চিত করাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ।