১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


‘হ্যাশট্যাগ মিটু’তে ইটিভি’র রিপোর্টার

রিপোর্টার নামঃ নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:৩৬ পিএম

‘হ্যাশট্যাগ মিটু’তে ইটিভি’র রিপোর্টার
‘হ্যাশট্যাগ মিটু’তে ইটিভি’র রিপোর্টার

ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ মিটু-তে সামিল হলেন একুশে টেলিভেশনের (ইটিভি) প্রতিবেদক মিনালা দিবা। ইটিভির চিফ রিপোর্টার (প্রধান প্রতিবেদক) এম এম সিকান্দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

আজ সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘#Metoo অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমি মিডিয়ায় এসেছিলাম বড় একজন সাংবাদিক হব বলে। ভেবেছিলাম আকাশের তারা হবো। যুক্ত হয়েছিলাম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের সাথে। শুরুতে বেশ ভালই কাটছিল। সহকর্মী বড় ভাই ও আপুরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এই স্বপ্নের প্লাটফর্মে পা দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে পরিচিত হলাম মুখোশের অন্তরালে থাকা সমাজের এক নরপশুর সাথে। দুঃখজনক হলেও সত্য যাকে আমি বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতাম সে আমার কাছে উন্মুক্ত করলেন তার নোংরা রুচির নানা আবদারের ঝুলি। সেই নরপশুর নাম এম এম সেকান্দার। একুশে টেলিভিশনের বর্তমান চীফ রিপোর্টার ও প্ল্যানিং এডিটর।’

দিনের পর দিন তার অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের শিকার হতে হয়েছে এবং এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলেও দাবি কনে মিনালা দিবা। তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম সাংবাদিক হতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু আজ আমাকে এ ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হবে তা ভাবতেও পারিনি। আমি চাই আমার মতো কোন মেয়েকে যেন এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়। আমি বিচার চাই।’

এর আগে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী। রোববার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে র‍্যাব-২ এর একটি দল সেকান্দারকে তার বনশ্রীর বাসা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  আবু মোহাম্মদ ফজলুল করীম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় ভুক্তভোগী নারী মামলাটি করেছেন। মামলা নম্বর ৩। মামলায় সেকান্দার আলীকেই আসামি করা হয়েছে। মামলায় ওই তরুণী যৌন হয়রানি ও উত্যক্তের অভিযোগ এনেছেন। আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলা করার আগে ওই নারী ইটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে ‘এম এম সেকেন্দার কর্তৃক নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানি’ শিরোনামে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ২৮ জানুয়ারি চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর তিন পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে হয়রানির পুরো ঘটনা তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং কোর্স করার সময় সেকান্দারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই ইটিভিতে চাকরি পান। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সেকান্দার তাকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেছেন।

অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, নবীন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে কাজ শেখার শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। কিছুদিন যেতেই বুঝতে পরলাম চিফ রিপোর্টার এম এম সেকেন্দার আমার প্রতি লালসাপূর্ণ, অস্বাভাবিক। মাঝেমধ্যেই তিনি আকার ইঙ্গিতে কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিতে থাকেন। আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ ও বিভিন্ন ধরনের লিংক তিনি আমাকে মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠাতে থাকেন। এক সময় সরাসরি তিনি বলেই ফেলেন তার মনের কথা- ‘তোমাকে এখানে চাকরি দিয়েছি। স্ক্রিন টেস্ট করেছি কিন্তু স্ক্রিনের পরীক্ষা তো দাওনি।’

এ কথার প্রতিবাদ করলে দু’য়েকজন সহকর্মীকে দিয়ে ফাঁদে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন মিনালা। তিনি লিখেছেন, উনি আমাকে সাবধান করে এও বলেন যে, ‘কোথাও বিচার দিয়ে লাভ হবে না। কারণ, আমি ইটিভির চেয়ারম্যানের পালিতপূত্র। এখানে সিইও, হেড অব নিউজ, চিফ নিউজ এডিটর সবই আমার পোষা। অতএব বি কেয়ারফুল। তোমার বিচার দিতে যতো না দেরি তার চেয়ে আমাকে লাথি দিতে আমার কম সময় লাগবে।’

অভিযোগপত্রে মিনালা আরো দাবি করেছেন, এম এম সেকেন্দার তাকে বলেছেন, ‘এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসায় নাম লিখিয়েছ, ক্যারিয়ার গড়তে কারো না কারো কাছে তোমাকে উদার হতেই হবে। তাহলে আমার কাছে আসতে বা আমার একান্ত চাওয়াটা পূরণ করতে সমস্যা কোথায়?’

তার দাবি, কোনও কারণ ছাড়াই তাকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে বসিয়ে রাখতেন। এরপর সেকান্দার তার নিজের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতেও যৌন হয়রানি করতেন।

সেকেন্দারের এই কাজে নিউজের অনেক সিনিয়র ব্যক্তি সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেছেন মিনালা দিবা। তার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কথা বলতে গেলেও তিনি তাদের কাছে পাত্তা পাননি।

এ বিষয়ে চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলী শিকদার একটি অনলাইন পোর্টালকে বলেন, ‘আমি অভিযোগটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই বিষয়টি তদন্ত করতে অফিসে একটি কমিটি করে দিয়েছি। নারী সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কারণ ঘটনাটি ভয়াবহ। আমরা সেটি আঁচ করতে পেরেছি। এটা ফৌজদারি অপরাধ।  এরপর তিনি মামলা করেছেন। পাশাপাশি সেকান্দারকে শোকজ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ওই নারী সহকর্মীকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছি।  তার জন্য যা যা করার দরকার আমরা করবো।'

সেকান্দার আটক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘হ্যাশট্যাগ মিটু’তে ইটিভি’র রিপোর্টার

প্রতিবেদক নাম: নিজস্ব প্রতিবেদক ,

প্রকাশের সময়ঃ ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:৩৬ পিএম

ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ মিটু-তে সামিল হলেন একুশে টেলিভেশনের (ইটিভি) প্রতিবেদক মিনালা দিবা। ইটিভির চিফ রিপোর্টার (প্রধান প্রতিবেদক) এম এম সিকান্দারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

আজ সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘#Metoo অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমি মিডিয়ায় এসেছিলাম বড় একজন সাংবাদিক হব বলে। ভেবেছিলাম আকাশের তারা হবো। যুক্ত হয়েছিলাম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের সাথে। শুরুতে বেশ ভালই কাটছিল। সহকর্মী বড় ভাই ও আপুরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এই স্বপ্নের প্লাটফর্মে পা দিয়ে কিছুদিনের মধ্যে পরিচিত হলাম মুখোশের অন্তরালে থাকা সমাজের এক নরপশুর সাথে। দুঃখজনক হলেও সত্য যাকে আমি বড় ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করতাম সে আমার কাছে উন্মুক্ত করলেন তার নোংরা রুচির নানা আবদারের ঝুলি। সেই নরপশুর নাম এম এম সেকান্দার। একুশে টেলিভিশনের বর্তমান চীফ রিপোর্টার ও প্ল্যানিং এডিটর।’

দিনের পর দিন তার অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের শিকার হতে হয়েছে এবং এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলেও দাবি কনে মিনালা দিবা। তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম সাংবাদিক হতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু আজ আমাকে এ ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হবে তা ভাবতেও পারিনি। আমি চাই আমার মতো কোন মেয়েকে যেন এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়। আমি বিচার চাই।’

এর আগে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই নারী। রোববার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আড়াইটার দিকে র‍্যাব-২ এর একটি দল সেকান্দারকে তার বনশ্রীর বাসা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  আবু মোহাম্মদ ফজলুল করীম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় ভুক্তভোগী নারী মামলাটি করেছেন। মামলা নম্বর ৩। মামলায় সেকান্দার আলীকেই আসামি করা হয়েছে। মামলায় ওই তরুণী যৌন হয়রানি ও উত্যক্তের অভিযোগ এনেছেন। আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলা করার আগে ওই নারী ইটিভি কর্তৃপক্ষের কাছে ‘এম এম সেকেন্দার কর্তৃক নারী সহকর্মীদের যৌন হয়রানি’ শিরোনামে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ২৮ জানুয়ারি চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর তিন পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে হয়রানির পুরো ঘটনা তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং কোর্স করার সময় সেকান্দারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার মাধ্যমেই ইটিভিতে চাকরি পান। চাকরি পাওয়ার পর থেকেই সেকান্দার তাকে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানি করেছেন।

অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, নবীন গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে কাজ শেখার শুরুটা বেশ ভালোই ছিল। কিছুদিন যেতেই বুঝতে পরলাম চিফ রিপোর্টার এম এম সেকেন্দার আমার প্রতি লালসাপূর্ণ, অস্বাভাবিক। মাঝেমধ্যেই তিনি আকার ইঙ্গিতে কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিতে থাকেন। আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ ও বিভিন্ন ধরনের লিংক তিনি আমাকে মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠাতে থাকেন। এক সময় সরাসরি তিনি বলেই ফেলেন তার মনের কথা- ‘তোমাকে এখানে চাকরি দিয়েছি। স্ক্রিন টেস্ট করেছি কিন্তু স্ক্রিনের পরীক্ষা তো দাওনি।’

এ কথার প্রতিবাদ করলে দু’য়েকজন সহকর্মীকে দিয়ে ফাঁদে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন মিনালা। তিনি লিখেছেন, উনি আমাকে সাবধান করে এও বলেন যে, ‘কোথাও বিচার দিয়ে লাভ হবে না। কারণ, আমি ইটিভির চেয়ারম্যানের পালিতপূত্র। এখানে সিইও, হেড অব নিউজ, চিফ নিউজ এডিটর সবই আমার পোষা। অতএব বি কেয়ারফুল। তোমার বিচার দিতে যতো না দেরি তার চেয়ে আমাকে লাথি দিতে আমার কম সময় লাগবে।’

অভিযোগপত্রে মিনালা আরো দাবি করেছেন, এম এম সেকেন্দার তাকে বলেছেন, ‘এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসায় নাম লিখিয়েছ, ক্যারিয়ার গড়তে কারো না কারো কাছে তোমাকে উদার হতেই হবে। তাহলে আমার কাছে আসতে বা আমার একান্ত চাওয়াটা পূরণ করতে সমস্যা কোথায়?’

তার দাবি, কোনও কারণ ছাড়াই তাকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে বসিয়ে রাখতেন। এরপর সেকান্দার তার নিজের গাড়িতে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গাড়িতেও যৌন হয়রানি করতেন।

সেকেন্দারের এই কাজে নিউজের অনেক সিনিয়র ব্যক্তি সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেছেন মিনালা দিবা। তার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার টেলিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কথা বলতে গেলেও তিনি তাদের কাছে পাত্তা পাননি।

এ বিষয়ে চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলী শিকদার একটি অনলাইন পোর্টালকে বলেন, ‘আমি অভিযোগটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই বিষয়টি তদন্ত করতে অফিসে একটি কমিটি করে দিয়েছি। নারী সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কারণ ঘটনাটি ভয়াবহ। আমরা সেটি আঁচ করতে পেরেছি। এটা ফৌজদারি অপরাধ।  এরপর তিনি মামলা করেছেন। পাশাপাশি সেকান্দারকে শোকজ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ওই নারী সহকর্মীকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছি।  তার জন্য যা যা করার দরকার আমরা করবো।'

সেকান্দার আটক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।