১৯, ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪০

গার্মেন্টস শিল্পে শ্রম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে হেল্প লাইন চালু

রিপোর্টার নামঃ স্টাফ রিপোর্টার: | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৬ পিএম

গার্মেন্টস শিল্পে শ্রম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে হেল্প লাইন চালু
গার্মেন্টস শিল্পে শ্রম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে হেল্প লাইন চালু

শ্রম পরিস্থিতি, ঘোষিত মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নসহ যেকোনো পরিস্থিতি জানানোর জন্য ‘১৬৩৫৭’ হেল্প লাইন চালু করেছে সরকার। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘তৈরি পোশাক শিল্প খাতে সমন্বিত শ্রম ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান হেল্প লাইনটির উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, কারখানায় মজুরি কাঠামোর বাস্তবায়ন নিয়ে শ্রম পরিস্থিতি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ রাখার লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমরা কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সদস্য করে ২৯টি পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করেছি। কমিটির সদস্যরা ঘোষিত মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে মনিটরিং করবেন। কোনো কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই বা চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটলে তারা আইনানুগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবেন।

কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তারা কারখানায় যাবেন এবং মালিক-শ্রমিক নেতাদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবেন। এ কমিটির সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি কারখানায় ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করবেন এবং সামগ্রিক শ্রম পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠাবেন। মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে শ্রম পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে দেশের শ্রমঘন এলাকা ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে ২৯টি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন হেল্প লাইনটি কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর তত্ত্বাবধায়ন করবে। সম্পূর্ণ বিনা খরচে শ্রমিকরা যেকোনো সময় তাদের কর্মবিষয়ক যেকোনো ধরনের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। এটি ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। হেল্প লাইন নম্বরটি প্রতিটি কারখানায় বড় বড় অক্ষরে দর্শনীয় স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে।

অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএর ভাইস চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, এবারের মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা দিতে হবে। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও সহায়তা লাগবে। তিনি জানান, বিজিএমইএ সহায়তা চেয়ে সরকারকে লিখিত প্রস্তাব দেবে।

সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতির ঘটনার বিষয়ে  সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ৪৪ লাখ শ্রমিকের পোশাক খাতে পাঁচ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই বড় কোনো ঘটনা নয়। মালিকপক্ষকে তো সরকার বা শ্রমিক নেতারা জোর করে কারখানা চালাতে বাধ্য করতে পারবেন না। প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শ্রমিকদের বিদায় করে দেয়ার অধিকার রয়েছে মালিকদের।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে পোশাক খাত। ফলে বিভিন্ন চাপ মোকাবেলা করতে হয়। মজুরি কাঠামো সংশোধনের পর এখন তাই আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।