২৪, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০


হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলপথের কাজ কবে শেষ হবে?

রিপোর্টার নামঃ নীলফামারী প্রতিনিধি- | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৪৮ পিএম

হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলপথের কাজ কবে শেষ হবে?
হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলপথের কাজ কবে শেষ হবে?

ভারতের রেলওয়ে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পুরনো শিলিগুড়ি-শিয়ালদা রেলরুট পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে । এই রেললাইনটি পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হবে। তবে পরে এই পথে যাত্রী পরিবহনের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি কর্মকর্তারা। যদি তা-ই হয়, তাহলে এই রুটে সফরে সময় কমে লাগবে মাত্র ৭ ঘণ্টা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

রেলওয়ের মতে, শিলিগুড়ি থেকে শিয়ালদার মধ্যে বর্তমান যে রেলপথ রয়েছে তার দৈর্ঘ্য ৫৩৭ কিলোমিটার। তবে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রুটটি চালু হলে এ দূরত্ব কমে যাবে প্রায় ২০০ কিলোমিটার। রুটটি চালু হলে দেখা যাবে শিয়ালদা থেকে ট্রেন এসে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

আর তা চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে । অন্যদিকে শিলিগুড়ি থেকে ট্রেন হলদিবাড়ী অতিক্রম করে চিলাহাটি, ডোমার, তরুণবাড়ী, নীলফামারী, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, দর্শনা হয়ে পেট্রাপোলে প্রবেশ করবে। উভয় ক্ষেত্রেই ট্রেন বেনাপোল-পেট্রাপোল বা পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আসা-যাওয়া করবে।

এই রুটটি বাস্তবায়নে এর আগে রেলওয়ে বরাদ্দ করেছিল ৩১ কোটি রুপি। তার সঙ্গে হলদিবাড়ীতে অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ করা হয়েছে আরো ১১ কোটি রুপি। বলা হয়েছে, রেলপথের এই অংশের ৭.৫ কিলোমিটারে নতুন করে রেলপথ বসানোসহ আরো উন্নয়ন অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে বরাদ্দ করেছে ৮০ কোটি ১৭ লাখ রুপি। রেলের জলপাইগুড়ির কর্মকর্তা এডিআরএম প্রতীম রায় বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে। ট্রেন চলাচলের জন্য রেলপথ বসানোর কাজ চলছে।

হলদিবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার বলেছেন, হলদিবাড়ী স্টেশন থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পর্যন্ত ৩.০৫ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ৩ কিলোমিটারের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। একটি ফ্লাইওভারও নির্মাণ করা হচ্ছে। বসানো হচ্ছে ইলেকট্রিক সিগন্যালবাতি। ৫৬০ মিটার দীর্ঘ দুটি প্লাটফর্মের কাজ প্রায় শেষের পথে। পুরনো যেসব স্লিপার ৬০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ভার নিতে পারে তা সরিয়ে বসানো হয়েছে ৯০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম স্লিপার।

১৯৬৫ সালে এই রুটটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর প্রথমবারের মতো মার্চে হলদিবাড়ী চিলাহাটি রুটে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি ট্রেন ইঞ্জিন চালানো হয়। হলদিবাড়ী-কলকাতা সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, তিস্তা তোরসা এক্সপ্রেস এবং দার্জিলিং মেইলের মতো ট্রেনের টার্মিনাল স্টেশন হলো হলদিবাড়ী। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত হলদিবাড়ী দিয়ে ট্রেন প্রবেশ করে চিলাহাটি দিয়ে বেরিয়ে যেতো। তারপর তা ছুটে যেতো কলকাতা। কিন্তু ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে এই রেলপথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সময় ভারত সফরে ছিলেন। তখন সংস্কৃতি ও বিভিন্ন কর্মকা- বিনিময়ের অংশ হিসেবে এই নতুন রেলপথের বিষয়ে একমত হয় দুই দেশ।


হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলপথের কাজ কবে শেষ হবে?

প্রতিবেদক নাম: নীলফামারী প্রতিনিধি- ,

প্রকাশের সময়ঃ ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:৪৮ পিএম

ভারতের রেলওয়ে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পুরনো শিলিগুড়ি-শিয়ালদা রেলরুট পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে । এই রেললাইনটি পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা হবে। তবে পরে এই পথে যাত্রী পরিবহনের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি কর্মকর্তারা। যদি তা-ই হয়, তাহলে এই রুটে সফরে সময় কমে লাগবে মাত্র ৭ ঘণ্টা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

রেলওয়ের মতে, শিলিগুড়ি থেকে শিয়ালদার মধ্যে বর্তমান যে রেলপথ রয়েছে তার দৈর্ঘ্য ৫৩৭ কিলোমিটার। তবে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রুটটি চালু হলে এ দূরত্ব কমে যাবে প্রায় ২০০ কিলোমিটার। রুটটি চালু হলে দেখা যাবে শিয়ালদা থেকে ট্রেন এসে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

আর তা চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে । অন্যদিকে শিলিগুড়ি থেকে ট্রেন হলদিবাড়ী অতিক্রম করে চিলাহাটি, ডোমার, তরুণবাড়ী, নীলফামারী, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, দর্শনা হয়ে পেট্রাপোলে প্রবেশ করবে। উভয় ক্ষেত্রেই ট্রেন বেনাপোল-পেট্রাপোল বা পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আসা-যাওয়া করবে।

এই রুটটি বাস্তবায়নে এর আগে রেলওয়ে বরাদ্দ করেছিল ৩১ কোটি রুপি। তার সঙ্গে হলদিবাড়ীতে অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ করা হয়েছে আরো ১১ কোটি রুপি। বলা হয়েছে, রেলপথের এই অংশের ৭.৫ কিলোমিটারে নতুন করে রেলপথ বসানোসহ আরো উন্নয়ন অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে বরাদ্দ করেছে ৮০ কোটি ১৭ লাখ রুপি। রেলের জলপাইগুড়ির কর্মকর্তা এডিআরএম প্রতীম রায় বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে। ট্রেন চলাচলের জন্য রেলপথ বসানোর কাজ চলছে।

হলদিবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার বলেছেন, হলদিবাড়ী স্টেশন থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পর্যন্ত ৩.০৫ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ৩ কিলোমিটারের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। একটি ফ্লাইওভারও নির্মাণ করা হচ্ছে। বসানো হচ্ছে ইলেকট্রিক সিগন্যালবাতি। ৫৬০ মিটার দীর্ঘ দুটি প্লাটফর্মের কাজ প্রায় শেষের পথে। পুরনো যেসব স্লিপার ৬০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ভার নিতে পারে তা সরিয়ে বসানো হয়েছে ৯০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম স্লিপার।

১৯৬৫ সালে এই রুটটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর প্রথমবারের মতো মার্চে হলদিবাড়ী চিলাহাটি রুটে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি ট্রেন ইঞ্জিন চালানো হয়। হলদিবাড়ী-কলকাতা সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, তিস্তা তোরসা এক্সপ্রেস এবং দার্জিলিং মেইলের মতো ট্রেনের টার্মিনাল স্টেশন হলো হলদিবাড়ী। ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত হলদিবাড়ী দিয়ে ট্রেন প্রবেশ করে চিলাহাটি দিয়ে বেরিয়ে যেতো। তারপর তা ছুটে যেতো কলকাতা। কিন্তু ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে এই রেলপথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সময় ভারত সফরে ছিলেন। তখন সংস্কৃতি ও বিভিন্ন কর্মকা- বিনিময়ের অংশ হিসেবে এই নতুন রেলপথের বিষয়ে একমত হয় দুই দেশ।